এক বছর আগেও কেউ জানত না জোহরান মানদানী কে। তার নামও ছিল অচেনা। নিউইয়র্কের ৯৮ শতাংশ মানুষও হয়তো কখনো তার কথা শোনেনি। অথচ আজ সেই জোহরান মানদানীই নিউইয়র্কের নির্বাচিত মেয়র—যাকে এখন চিনে সারা বিশ্ব। প্রশ্ন জাগে, কীভাবে সম্ভব হলো এই বিস্ময়কর পরিবর্তন?
বিশ্বাস করুন, এমনকি স্কুলপড়ুয়া ছেলেমেয়েরাও—যাদের ভোট দেওয়ার অধিকার নেই—দল বেঁধে কাজ করেছে মানদানীর প্রচারণায়। কেন করেছে? কারণ তারা বিশ্বাস করেছে পরিবর্তনের স্বপ্নে। মানদানী শুধু কথা বলেননি, তিনি মানুষকে একটি স্বপ্ন দেখিয়েছেন—একটি নতুন নিউইয়র্কের স্বপ্ন।
এই নির্বাচনে শুধু এশিয়ান বা অভিবাসী সম্প্রদায় নয়, বরং সব ধর্ম, বর্ণ, জাতি ও গোত্রের মানুষ একত্র হয়েছে তার পাশে। কারণ তিনি ছিলেন সবার প্রার্থী—জনগণের প্রার্থী।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বহুবার হুমকি দিয়েছেন, আর অ্যান্ড্রু কুমো তার বিপক্ষে মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছেন। তবুও জনতার মন পরিবর্তন হয়নি। দুই দলের সব শক্তি একত্র হয়েও মানদানীর অগ্রযাত্রা থামাতে পারেনি। কেউ সুষ্ঠু ভোটপ্রক্রিয়া রোধ করতে পারেনি, কারণ জনগণ একবার যখন সিদ্ধান্ত নেয়, তখন কোনো শক্তিই তা বদলাতে পারে না।
গত এক বছরে জোহরান মানদানী মানুষের মাঝে ছিলেন—প্রতিটি ভোটারের দরজায় গেছেন, প্রতিটি মসজিদ, মন্দির, গির্জায় গিয়েছেন। তিনি ঘুরেছেন গ্রোসারি, রেস্টুরেন্ট, কফিশপ—নিউইয়র্কে এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে তার পদচিহ্ন পড়েনি।
মানুষ দেখেছে তার পরিশ্রম, অনুভব করেছে তার আন্তরিকতা—আর তাই তারা তাকে বেছে নিয়েছে।
অ্যান্ড্রু কুমো ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো প্রভাবশালী দুই রাজনীতিককে হারিয়ে মানদানী প্রমাণ করেছেন—ক্ষমতার চাকা ঘুরাতে বেশি সময় লাগে না, যদি মানুষ আপনার পাশে থাকে।
জনগণের ভালোবাসাই রাজনীতির আসল শক্তি। জনগণের কাছে থাকতে হবে, জনগণের পাশে থাকতে হবে—না হলে অ্যান্ড্রু কুমোর মতো ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে যেতে সময় লাগবে না।
লেখক: শামীম রেজা
