স্টক নিউজ বিডি বিশেষ প্রতিবেদন: ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ইতিবাচক গতি ধরে রেখে ২০২৫ সালে মুনাফায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সাধারণ বীমা কোম্পানি ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স পিএলসি। কোম্পানিটির সর্বশেষ প্রকাশিত নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কর-পরবর্তী নিট মুনাফা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএসেও শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালে ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের নিট মুনাফা হয়েছে ১২ কোটি ৪২ লাখ ২৪ হাজার ৭৩২ টাকা। ২০২৪ সালে এই মুনাফার পরিমাণ ছিল ১০ কোটি ৪৫ লাখ ৮৪ হাজার ১০৩ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির নিট মুনাফা বেড়েছে প্রায় ১ কোটি ৯৬ লাখ ৪১ হাজার টাকা বা ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ।
মুনাফা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শেয়ারপ্রতি আয়ও বেড়েছে। ২০২৫ সালে কোম্পানিটির ইপিএস দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ৮৮ পয়সা, যা ২০২৪ সালে ছিল ২ টাকা ৪৩ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরে ইপিএস বেড়েছে ৪৫ পয়সা বা প্রায় ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ। বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিতে এটি কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় সক্ষমতার উন্নতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
কর-পূর্ব মুনাফাতেও ছিল ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি। ২০২৫ সালে কোম্পানিটির কর-পূর্ব মুনাফা হয়েছে ১৬ কোটি ২১ লাখ ৭২ হাজার ৬৩১ টাকা, যেখানে ২০২৪ সালে ছিল ১৪ কোটি ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৪৪৯ টাকা। ফলে কর-পূর্ব মুনাফা বেড়েছে প্রায় ২ কোটি ১১ লাখ টাকা বা ১৫ শতাংশ।
আয় বৃদ্ধির পেছনে বিনিয়োগ ও অন্যান্য আয়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ২০২৫ সালে কোম্পানিটির সুদ ও লভ্যাংশ আয় হয়েছে ১৫ কোটি ৬২ লাখ ৩৯ হাজার ৪৪০ টাকা, যা আগের বছর ছিল ১৬ কোটি ৯৭ লাখ ৬৬ হাজার ৬৮৬ টাকা। তবে ফায়ার, মেরিন, মোটর ও বিবিধ বীমা ব্যবসার রেভিনিউ অ্যাকাউন্ট থেকে স্থানান্তরিত মুনাফা এবং শেয়ার ও অন্যান্য সম্পদ বিক্রয়জনিত আয়সহ মোট আয় কাঠামোয় পরিবর্তন দেখা গেছে।
আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫ সালে কোম্পানিটির মোট আয় ১৯ কোটি ২২ লাখ ১৪ হাজার ৯৭০ টাকা, যা ২০২৪ সালের ১৬ কোটি ৮৭ লাখ ১৭ হাজার ৩৬৩ টাকা থেকে প্রায় ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কর-পূর্ব ও কর-পরবর্তী মুনাফায় ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
ব্যয় ব্যবস্থাপনাতেও কোম্পানিটির নিয়ন্ত্রিত অবস্থান লক্ষ করা যায়। ২০২৫ সালে ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ কোটি ২ লাখ টাকা, যেখানে আগের বছর ছিল প্রায় ২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। ব্যয় কিছুটা বাড়লেও আয়ের প্রবৃদ্ধির তুলনায় মুনাফা বৃদ্ধির হার বেশি হওয়ায় কোম্পানিটির সামগ্রিক লাভজনকতায় ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালের শেষে ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের মোট শেয়ারহোল্ডারদের ইক্যুইটি দাঁড়িয়েছে ২০৭ কোটি ৭৭ লাখ ১৮ হাজার ৪৯১ টাকা। ২০২৪ সালের শেষে যা ছিল ২১২ কোটি ৮৮ লাখ ৫৩ হাজার ৪৭ টাকা। একই সময়ে মোট সম্পদের পরিমাণ ২৬৪ কোটি ৯২ লাখ ৭ হাজার ৬১৮ টাকা থেকে কমে ২৬৪ কোটি ৯২ লাখ ৭ হাজার ৬১৮ টাকা? Wait — correction: 2024 total assets ছিল ২৭১ কোটি ৫৬ লাখ ৯৫ হাজার ৯৭১ টাকা, যা ২০২৫ সালে কমে ২৬৪ কোটি ৯২ লাখ ৭ হাজার ৬১৮ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
কোম্পানিটির সম্পদ কাঠামোয় সবচেয়ে বড় অংশ রয়েছে ব্যাংকে স্থায়ী আমানত ও অন্যান্য বিনিয়োগে। ২০২৫ সালের শেষে নগদ ও নগদ সমতুল্য সম্পদের পরিমাণ ছিল ১২৪ কোটি ৫৩ লাখ ১২ হাজার ৬১০ টাকা। এর মধ্যে ব্যাংকে স্থায়ী আমানতের পরিমাণই ছিল ১২২ কোটি ২ লাখ ৯১ হাজার ৪৮৪ টাকা।
তবে বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়—২০২৫ সালে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বা এনএভি কিছুটা কমেছে। ২০২৪ সালের ৫০ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে ২০২৫ সালে এনএভি দাঁড়িয়েছে ৫০ টাকা ১৩ পয়সায়।
এছাড়া শেয়ার ও সিকিউরিটিজে বিনিয়োগের বাজারমূল্য পরিবর্তনের কারণে ২০২৫ সালে ৩ কোটি ২২ লাখ ৫৯ হাজার ১২৩ টাকার ফেয়ার ভ্যালু ক্ষতি হয়েছে। এর প্রভাবে নিট মুনাফা বাড়লেও মোট ব্যাপক আয় বা Total Comprehensive Income ২০২৫ সালে ৯ কোটি ১৯ লাখ ৬৫ হাজার ৯০৯ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যেখানে ২০২৪ সালে তা ছিল ১০ কোটি ৪৫ লাখ ৮৪ হাজার ১০৩ টাকা।
সব মিলিয়ে, ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের ২০২৫ সালের আর্থিক চিত্রে সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো নিট মুনাফা, কর-পূর্ব মুনাফা এবং ইপিএসে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি। বিশেষ করে প্রায় ১৯ শতাংশ নিট মুনাফা বৃদ্ধি এবং ১৮ শতাংশের বেশি ইপিএস প্রবৃদ্ধি কোম্পানিটির মূল আয়ের সক্ষমতায় উন্নতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে একই সঙ্গে এনএভি ও মোট ব্যাপক আয়ের পরিবর্তন এবং বিনিয়োগের ফেয়ার ভ্যালু ক্ষতির বিষয়টিও বিনিয়োগকারীদের জন্য আর্থিক প্রতিবেদন মূল্যায়নের সময় বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
স্টক নিউজ বিডির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আর্থিক প্রতিবেদনে ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের মুনাফা ও শেয়ারপ্রতি আয়ের প্রবৃদ্ধিই কোম্পানিটির পারফরম্যান্সের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক দিক হিসেবে সামনে এসেছে।
