নিজস্ব প্রতিবেদক | স্টক নিউজ বিডি: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত জিকিউ বলপেন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য সব শেয়ারহোল্ডারের অনুকূলে ১২.৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার সুপারিশ করেছে। একই সঙ্গে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) আগের অর্থবছরের ঋণাত্মক অবস্থা থেকে ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে। প্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্যে (পিএসআই) এসব তথ্য জানিয়েছে কোম্পানিটি।
কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ গত ৮ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত সভায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আর্থিক ফলাফল পর্যালোচনা করে এ লভ্যাংশের সুপারিশ করে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১২ পয়সা। আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ১ টাকা ৮৩ পয়সা। অর্থাৎ লোকসান থেকে মুনাফায় ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছে কোম্পানিটির আর্থিক ফলাফল।
এদিকে, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৪৩ টাকা ৬০ পয়সা, যা আগের অর্থবছরের ১৩৫ টাকা ৮১ পয়সার তুলনায় ৭ টাকা ৭৯ পয়সা বেশি।
অন্যদিকে, পরিচালন কার্যক্রম থেকে শেয়ারপ্রতি নিট নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) বেড়ে ৫৮ পয়সা হয়েছে। আগের অর্থবছরে এ সূচকটি ঋণাত্মক ৩১ পয়সা ছিল। ফলে পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ প্রবাহের ক্ষেত্রেও উন্নতির চিত্র উঠে এসেছে।
কোম্পানির ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য সব শেয়ারহোল্ডারকে ১২.৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। আগের অর্থবছরে স্পন্সর ও পরিচালক বাদে অন্যান্য শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছিল।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ছিল ৮ কোটি ৯২ লাখ ৮০ হাজার ৯১০ টাকা। মোট শেয়ারসংখ্যা ৮৯ লাখ ২৮ হাজার ৯১টি। এর মধ্যে স্পন্সর ও পরিচালকদের হাতে রয়েছে ৩৩ লাখ ৭২ হাজার ৩৪০টি শেয়ার এবং সাধারণ জনগণ, প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থার হাতে রয়েছে ৫৫ লাখ ৫৫ হাজার ৭৫১টি শেয়ার।
কোম্পানিটির হিসাব অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ১২.৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের বিপরীতে মোট লভ্যাংশের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ১ কোটি ১১ লাখ ৬০ হাজার ১১৪ টাকা।
জিকিউ বলপেন ইন্ডাস্ট্রিজের ৪৪তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ৩০ নভেম্বর ২০২৬ সকাল ১১টায় হাইব্রিড প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এজিএমে অংশগ্রহণ ও লভ্যাংশের যোগ্যতা নির্ধারণের রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ নভেম্বর ২০২৬।
ইপিএস ও পরিচালন নগদ প্রবাহের ঋণাত্মক অবস্থা থেকে ইতিবাচক ধারায় ফেরা কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থার উন্নতির সম্ভাবনা নির্দেশ করে। পাশাপাশি শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বৃদ্ধি ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে ইপিএস মাত্র ১২ পয়সা হওয়ায় ঘোষিত নগদ লভ্যাংশের স্থায়িত্ব, ভবিষ্যৎ মুনাফার প্রবৃদ্ধি এবং নগদ প্রবাহের ধারাবাহিকতা বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
উল্লেখ্য, ১২.৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশটি পরিচালনা পর্ষদের সুপারিশ; চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য এটি বার্ষিক সাধারণ সভায় উপস্থাপন করা হবে।
