Stock News BD | Latest Online Most Popular Newspaper
  • হোম
  • শেয়ার বাজার
    • আজকের লেনদেন
    • কোম্পানি সংবাদ
    • বোর্ড সভা
    • এজিএম / ইজিএম
    • আইপিও / রাইট
    • লভ্যাংশ
    • উপদেশ
    • পিএসআই
  • অনুসন্ধানী বিশ্লেষণ
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • খেলাধুলা
  • লাইফ স্টাইল
  • ইসলাম
  • বিনোদন
  • আরও
    • বিশেষ প্রতিবেদন
    • আইন-আদালত
    • গণমাধ্যম
    • চাকরি
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • স্বাস্থ্য
    • সংস্কৃতি
    • ভিডিও
    • অন্যান্য
Tag:

পাকিস্তান-ক্রিকেট

রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে শেষ ওভারে পাকিস্তানকে হারালো ভারত

স্টক নিউজ বিডি August 29, 2022

স্টক নিউজ বিডি অনলাইন ডেস্ক: টানটান উত্তেজনা। পুরো স্টেডিয়ামে পিনপতন নীরবতা। কি হতে কী হয়! কোন দল জিতবে, শেষ ওভার পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছিল না। যদিও ভারতের পাল্লাই ভারি ছিল শেষ দিকে এসে।

তবে লড়াইটা শেষ ওভারের চতুর্থ বল পর্যন্ত উম্মুক্তই ছিল দুই দলের জন্য। শেষ পর্যন্ত এই লড়াইয়ে হাসলো ভারত। হার্দিক পান্ডিয়ার ছক্কায় ভাঙলো পাকিস্তানের স্বপ্ন। দুবাইয়ে এশিয়া কাপের বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর ৫ উইকেট আর ২ বল হাতে রেখে জিতেছে ভারত।

১৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই ধাক্কা খায় ভারত। অভিষিক্ত নাসিম শাহর করা দ্বিতীয় বলে বোল্ড হন লোকেশ রাহুল। কাট করতে গিয়ে বল উইকেটে টেনে আনেন রাহুল (১ বলে ০)।

এরপর বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা বেশ কয়েকবার পরাস্ত হয়েছেন। তবে ভাগ্যগুণে আউট হওয়া থেকে বেঁচে গেছেন দুজনই। ৬ ওভারের পাওয়ার প্লেতে ভারত তোলে ১ উইকেটে ৩৮ রান।

সপ্তম ওভারে শাদাব খান দেন মাত্র ৩ রান। রানের চাপ কমাতে পরের ওভারে মোহাম্মদ নেওয়াজের ওপর চড়াও হন রোহিত। লংঅনের ওপর দিয়ে হাঁকান বিশাল এক ছক্কা। তবে এক বল পর আরেকটি ছক্কা হাঁকাতে গিয়েই বিপদ ডেকে এনেছেন ভারতীয় দলপতি।

মিডঅফে তুলে মারতে গিয়ে ঠিকমতো ব্যাটে-বলে করতে না পেরে লংঅনে ক্যাচ হন রোহিত। তাতেই থামে তার ১৮ বলে ১২ রানের ধীরগতির ইনিংসটি। এক ওভার পর আরেক সেট ব্যাটার কোহলিকেও ফেরান নেওয়াজ। ৩৪ বলে ৩৫ করে লংঅফে ধরা পড়েন কোহলি।

১১ থেকে ১৪-চার ওভারে মাত্র ২৭ রান তুলতে পারে ভারত। সেই চাপ থেকে সূর্যকুমার ১৫তম ওভারে চড়াও হতে চান নাসিম শাহর ওপর। কিন্তু ওভারের দ্বিতীয় বলটি ক্রস খেলতে গিয়ে পুরোপুরি মিস করে বসেন ডানহাতি এই ব্যাটার, বোল্ড হয়ে ফেরেন ১৮ বলে ১৮ করে।

এর আগে ভুবনেশ্বর-হার্দিকদের তোপে ইনিংসের এক বল বাকি থাকতে ১৪৭ রানেই অলআউট হয়ে গেছে পাকিস্তান। অর্থাৎ জিততে হলে ভারতকে করতে হবে ১৪৮।

দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে পাকিস্তানকে প্রথমে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছে ভারত। অধিনায়ক রোহিত শর্মা অভিজ্ঞ ভুবনেশ্বর কুমারের হাতে তুলে দেন প্রথম ওভার।

অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রথম ওভারেই পাকিস্তানকে চেপে ধরেন এই পেসার। ওভারের দ্বিতীয় বলেই আবেদন। ভুবনেশ্বরের বাউন্সারটি গিয়ে আঘাত করে রিজওয়ানের ভেতরের পায়ে। আবেদনে সাড়াও দেন বাংলাদেশের আম্পায়ার মাসুদুর রহমান।

আম্পায়ার আঙুল তুলে দিলে সঙ্গে সঙ্গেই রিভিউ নেন রিজওয়ান। রিভিউতে দেখা যায়, বল চলে যেতো স্টাম্পের অন্তত তিন থেকে চার ইঞ্চি ওপর দিয়ে। সুতরাং, নট আউট। রিভিউ নিয়ে এ যাত্রায় বেঁচে যান মোহাম্মদ রিজওয়ান।

ওভারের শেষ বলে আবারও ব্যাটার রিজওয়ান। অফ স্টাম্পের বাইরে বলটি খেলতে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বল ব্যাটকে ফাঁকি দিয়ে চলে যায় উইকেটরক্ষক দিনেশ কার্তিকের হাতে। ফের আউটের আবেদন তোলে ভারতীয়রা। আম্পায়ার মাসুদুর থাকেন নির্বিকার। এবার ভারত নেয় রিভিউ।

এবারও বেঁচে যায় পাকিস্তান। রিভিউতে দেখা যায়, বল ব্যাটকে ছুঁয়ে যায়নি, একেবারে কাছ ঘেঁষে চলে যায়। ফলে দুই দুইবার আউটের খুব কাছে এসেও আউট হননি রিজওয়ান।

এক ওভার পর এসে ভুবনেশ্বরই ভারতকে প্রথম সাফল্য এনে দেন। ইনিংসের তৃতীয় ওভারের চতুর্থ বলে ভুবনেশ্বরের বাউন্সার পুল করতে গিয়ে শর্ট ফাইন লেগে ক্যাচ তুলে দেন বাবর। ৯ বলে তিনি করেন মাত্র ১০ রান।

এরপর মোহাম্মদ রিজওয়ানের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেট জুটিটি যখন থিতু হওয়ার পথে, তখনই ফাখরকেও হারিয়ে বসেছে পাকিস্তান। ষষ্ঠ ওভারের পঞ্চম বলে আভেশ খানের বেরিয়ে যাওয়া ডেলিভারিতে ব্যাট চালিয়ে আউট হন ফাখর (৬ বলে ১০)।

অবশ্য বলটি গ্লাভসে নিলেও ব্যাটে লেগেছে কিনা নিশ্চিত ছিলেন না উইকেটরক্ষক দিনেশ কার্তিক। আবেদন করেননি ভারতীয় ফিল্ডাররাও। ফাখরই নিজে বেরিয়ে যান ক্রিজ থেকে। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ২ উইকেটে ৪৩ রান তোলে পাকিস্তান।

এরপর ৩৮ বলে ৪৫ রানের জুটি গড়েন ইফতিখার আহমেদ আর রিজওয়ান। ১৩তম ওভারে জুটিটি ভাঙেন হার্দিক পান্ডিয়া। তার বাউন্সার হুক করতে গিয়ে উইকেটরক্ষক কার্তিকের গ্লাভসবন্দী হন ইফতিখার (২২ বলে ২৮)।

নিজের পরের ওভারে এসে জোড়া শিকার করেন হার্দিক। সেট ব্যাটার রিজওয়ান (৪২ বলে ৪৩) আর খুশদিল শাহকে (২) ফিরিয়ে পাকিস্তানকে চাপে ফেলে দেন ভারতীয় অলরাউন্ডার।

সেখান থেকে দ্রুত আরও দুই উইকেট হারায় পাকিস্তান। ভুবনেশ্বরের লেগকাটারে আসিফ আলি (৭ বলে ৯) জোরে হাঁকাতে গিয়ে ক্যাচ হন বাউন্ডারিতে। পরের ওভারে মোহাম্মদ নেওয়াজকে (১) তুলে নেন অর্শদীপ সিং।

১১৪ রানে ৭ উইকেট হারানো পাকিস্তান এরপর লড়াকু পুঁজি পর্যন্ত গেছে শেষ উইকেট জুটির কল্যাণে। হারিস রউফ আর শাহনেওয়াজ দাহানি ৮ বলে যোগ করে দেন মূল্যবান ১৯ রান। রউফ ৭ বলে ১৩ আর দাহানি ৬ বলেই ২ ছক্কায় করেন ১৬ রান।

১৯তম ওভারে জোড়া উইকেট শিকার করা ভুবনেশ্বরই ছিলেন ভারতের পক্ষে সবচেয়ে সফল। ৪ ওভারে মাত্র ২৬ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করেন এই পেসার। ৩টি উইকেট নেন হার্দিক পান্ডিয়া।

স্টক নিউজ বিডি.কম/এসএম

আরও পড়তে পারেন…

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

বাঁহাতি পেসার ছাড়া ভারতীয়দের বুকে কাঁপন ধরাতে পারবে পাকিস্তান

স্টক নিউজ বিডি August 28, 2022

স্টক নিউজ বিডি অনলাইন ডেস্ক: হোক তা ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টি সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের সঙ্গে সেভাবে পেরে ওঠে না পাকিস্তান। আইসিসি ইভেন্টে আরও নাজেহাল অবস্থা। এমনিতে গত কয়েক বছর দুই দেশের পারস্পরিক মোকাবিলাতেও ভারতের প্রাধান্য এখন অনেক বেশি।

ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, গত ৫-৬ বছরে বছরে চির প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের সাফল্য হাতেগোনা। ভারতের সাফল্য একচেটিয়া। এর মধ্যে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে দুটি স্মরণীয় জয় আছে পাকিস্তানের। একটি ২০১৭ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে, অন্যটি গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে।

২০১৭ সালেরর ১৮ জুন ইংল্যান্ডের লন্ডনের ওভালে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে ভারতকে ১৮০ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল পাকিস্তান। দারুণ সেঞ্চুরি (১০৬ বলে ১১৪) করে পাকিস্তানের জয়ের রুপকার ও ম্যাচসেরা হয়েছিলেন বাঁহাতি ওপেনার ফাখর জামান।

একইভাবে গত বছর ২১ অক্টোবর দুবাইয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতীয়দের ১০ উইকেটে উড়িয়ে দেওয়ার ম্যাচে জোড়া হাফসেঞ্চুরি উপহার দিয়ে দল জিতিয়ে বিজয়ীর বেশে সাজঘরে ফিরেছিলেন পাকিস্তানের দুই ওপেনার অধিনায়ক বাবর আজম (৫২ বলে ৬৮) ও উইকেটরক্ষক ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান (৫৫ বলে ৭৯)।

কিন্তু দুই ম্যাচের চালচিত্র পরিস্কার জানান দিচ্ছে, দুইবারই পাকিস্তান জিতেছে তাদের নাম্বার ওয়ান স্ট্রাইক বোলার মোহাম্মদ আমির ও শাহিন শাহ আফ্রিদির বিধ্বংসী প্রথম স্পেলের কারণে। বলার অপেক্ষা রাখে না, আমির ও শাহিন- দুজনই বাঁহাতি পেসার। তাদের বারুদে প্রথম স্পেলে লন্ডভন্ড হয়েছে ভারতের টপঅর্ডার।

অর্থাৎ ব্যাটারদের অতি কার্যকর পারফরম্যান্সের পরও ভারত বধে পাকিস্তানের ‘ট্রাম্পকার্ড’ ছিলেন দুই বাঁহাতি পেসার আমির ও শাহিন। পাঁচ বছর আগে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ফাখর জামানের সেঞ্চুরির পাশাপাশি আজহার আলি (৫৯) ও মোহাম্মদ হাফিজের (৫৭) জোড়া ফিফটিতে পাকিস্তান পেয়েছিল ৩৩৮ রানের বড় পুঁজি।

কিন্তু বোলিংয়ে কাজের কাজ করে দিয়েছিলেন মোহাম্মদ আমির। তার বাঁহাতের আড়াআড়ি বা কৌণিক সুইংয়ের পাশাপাশি ভেতরে আসা ডেলিভারি সামলাতে গিয়ে চরমভাবে পর্যুদস্ত হন ভারতের তিন বাঘা ব্যাটার রোহিত শর্মা (০), শিখর ধাওয়ান (২১) ও বিরাট কোহলি (৫)। আমিরের বোলিং তোড়ে ৬ রানে ২ ও ৩৩ রানে তিন ব্যাটিংস্তম্ভকে হারিয়ে সেই যে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে ভারত আর সামনে এগোতে পারেনি।

একইভাবে গতবছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেই বাঁহাতি ফাস্টবোলিং দিয়েই ভারতীয়দের কাবু করেছে পাকিস্তানিরা। আরেক বাঁহাতি শাহিন আফ্রিদির প্রচন্ড গতি ও ধাঁরালো সুইংয়ের মুখে আরও একবার শুরুতে মুখ থুবড়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায় ভারত।

প্রথম স্পেলে দুই ওপেনার লোকেশ রাহুল (৩) ও রোহিত শর্মাকে (০) প্রথম দুই ওভারে আউট করে পাকিস্তানকে এগিয়ে দেন শাহিন। পরে এসে অধিনায়ক বিরাট কোহলিকেও (৫৭) আউট করেন, ১৫১ রানেই থেমে যায় ভারত।

সময়ের প্রবাহে আমির এখন দলেই নেই। আর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আমিরাতের দুবাই স্টেডিয়ামে ভারতের ব্যাটিং মেরুদন্ড ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া শাহিন আফ্রিদি চোটের কারণে মাঠের বাইরে। তাই জাগে প্রশ্ন, আবার সেই দুবাই স্টেডিয়ামে আজ ভারত বধে অধিনায়ক বাবর আজমের ‘তুরুপের তাস’ হবেন কে?

ইতিহাস-পরিসংখ্যান সাক্ষী দিচ্ছে, সেই ওয়াসিম আকরামের আমল থেকে থেকে শুরু, তারপর আমির ও শাহিন- বরাবরই ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের বাঁহাতি ফাস্ট বোলারদের জয়জয়কার। বারবার এই বাঁহাতি পেসাররা গড়ে দিয়েছেন ম্যাচের ভাগ্য। তাদের প্রথম স্পেলেই নিশ্চিত হয়েছে ম্যাচ।

অথচ এবার এশিয়া কাপে চির প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে সেই অতি কার্যকর ও ধাঁরালো বোলিং অস্ত্রই নেই পাকিস্তানের। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পাকিস্তান ফ্রন্টলাইন বোলিংয়ে নেই কোন বাঁহাতি পেসার। অফস্টাম্পের বাইরে বাড়তি গতি, একটু বেশি উচ্চতায় লাফিয়ে ওঠা কৌণিক ডেলিভারির সঙ্গে দ্রুতগতিতে ভেতরে আসা বিপজ্জনক ডেলিভারি ছোড়ার মতো বাঁহাতি পেসার নেই পাকিস্তানের।

ডানহাতি হাসান আলি, হারিস রউফ, নাসিম শাহ, মোহাম্মদ হাসনাইন ও শাহনাজ দাহানিরা কি বাঁহাতি শাহিন আফ্রিদির অভাব পূরণ করতে পারবেন? তাদের ডানহাতি বোলিং কি ভারতীয় টপঅর্ডারের ওপর ততটা প্রভাব ফেলতে পারবে? আজ রাতেই তা জানা হয়ে যাবে।

স্টক নিউজ বিডি.কম/এসএম

আরও পড়তে পারেন…

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

পাকিস্তানের বিপক্ষেই পুরনো বিরাটকে দেখতে চান শাস্ত্রি-আক্রাম

স্টক নিউজ বিডি August 24, 2022

স্টক নিউজ বিডি অনলাইন ডেস্ক: আরও একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট এবং আরও একবার মুখোমুখি ভারত এবং পাকিস্তান। এবারের টুর্নামেন্টটিকে স্রেফ বৈশ্বিক বলা যাবে না। মহাদেশীয় বলাই স্রেয়। এশিয়া কাপ ক্রিকেটে আগামী রোববারই মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ক্রিকেটের দুই মহাপ্রতিদ্বন্দ্বী। ম্যাচটি ঘিরে উত্তেজনার কমতি নেই ভারত এবং পাকিস্তানে।

ভারতীয় তারকা বিরাট কোহলি দীর্ঘদিন ভুগছেন অফ ফর্ম আর রান খরায়। কিন্তু এবার পাকিস্তানের বিপক্ষেই যেন নিজের স্বরূপে আবির্ভূত হতে পারেন বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা এই ব্যাটার- সে কামনাই করছেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসার ওয়াসিম আকরাম এবং ভারতের সাবেক কোচ এবং অধিনায়ক রবি শাস্ত্রি।

শনিবার থেকেই সংযুক্ত আরব আমিরাতে শুরু হতে যাচ্ছে এশিয়া কাপের আসর। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এবারের আসরে ২৮ তারিখ তথা রোববারই মুখোমুখি হচ্ছে ভারত এবং পাকিস্তান। সম্প্রচারকারী চ্যানেল স্টার স্পোর্টসে ধারাভাষ্য দিতে দেখা যাবে বিখ্যাত ‘শ্যাজ-ওয়াজ’ জুটিকে। অর্থাৎ, রবি শাস্ত্রি এবং ওয়াসিম আক্রামকে।

মঙ্গলবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আসন্ন ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট মহারণ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অনেক কথাই বলেছেন শাস্ত্রি এবং আক্রাম…

ভারত-পাক দ্বৈরথ

রবি শাস্ত্রি: ভারত-পাকিস্তান লড়াই মানেই একটা অন্য ম্যাচ। ক্রিকেটারদের কাছেও। তবে চাপটা কিন্তু আসে বাইরে থেকে। যেখানেই যাবেন, পাক-ভারত ম্যাচ নিয়ে কথা চলবে। তাই বাইরে কী হচ্ছে না হচ্ছে, ভুলে গিয়ে নিজের খেলাটার উপরে জোর দিতে হবে। পাকিস্তান বলে চাপ নিলে চলবে না। এখন গণমাধ্যমের ব্যাপারটাও আছে। তাই ম্যাচের দু’দিন আগে এবং একদিন পরে গণমাধ্যম থেকে দূরে থাকতে হবে।

ওয়াসিম আক্রাম: ভারত-পাক দ্বৈরথের আগে সমর্থকদের একটা কথা বলতে চাই। ভুলে যাবেন না এটা কিন্তু আর একটা ক্রিকেট ম্যাচ। কেউ জিতবে, কেউ হারবে। ম্যাচটা যদি দারুণ জমে যায়, তা হলেই সবার খুশি হওয়া উচিত।

বিরাট কোহলির ফর্ম

শাস্ত্রি: আমার সঙ্গে বিরাটের কথা হয়নি। কিন্তু জানি, বিশ্রাম নিয়ে তরতাজা হয়ে মাঠে ফিরতে তৈরি সে। মাঠের বাইরে যে সময়টা সে পেয়েছে, তাতে নিঃসন্দেহে ভেবেছে কী করা উচিত ছিল, এখন কিভাবে খেলা উচিত। আমি নিশ্চিত, বিরাট অত্যন্ত শান্ত মনে খেলতে নামবে। আর প্রথম ম্যাচে হাফসঞ্চুরি পুরো ছবিটা বদলে দিতে পারে। সবার মুখ বন্ধ করে দেবে। বিরাটকে শান্ত মনে খেলতে হবে। সে নিঃসন্দেহে সেরা ফর্মে ফিরবে। বলে দিচ্ছি, বিরাট কিন্তু ক্ষুধার্ত।

আক্রাম: প্রথমেই বলি, ভারতীয় সমর্থকদের বিরাটের সমালোচনা করার কোনও মানে হয় না। সে সর্বকালের অন্যতম সেরা। বিরাটের বয়স এখন ৩৩। তার মতো ফিট ক’জন আছে! সেই চিরাচরিত কথাটা মনে পড়ে যাচ্ছে। ফর্ম সাময়িক; কিন্তু জাতটা চিরকালীন। আমি নিশ্চিত সে ফিরে আসবে। (হাসতে হাসতে) আমি শুধু চাইব, পাকিস্তানের সঙ্গে যাতে রানটা না করে বিরাট।

বাবর-বিরাট তুলনা

আক্রাম: এই তুলনাটা ওঠা স্বাভাবিক। অতীতে শচিন টেন্ডুলকারের সঙ্গে ইনজামাম-উল-হকের হত। সুনিল গাভাস্কারের সঙ্গে জাভেদ মিয়াঁদাদের হত। বাবরের টেকনিক খুব ভাল বলে সে এত ধারাবাহিক। সে ঠিক রাস্তাতেই যাচ্ছে; কিন্তু বিরাটের সঙ্গে বাবরের এখনই তুলনা করার সময় আসেনি।

দু’দলের অবস্থান

শাস্ত্রি: ভারত এখন শুরুতে যে আগ্রাসী ক্রিকেটটা খেলছে, সেটাই খেলা উচিত। আমি কোচ থাকার সময় একবার ড্রেসিংরুমে আলোচনা করেছিলাম যে, আমাদের শুরুটা সে রকম দাপটের সঙ্গে হচ্ছে না। ভারতীয় দলে এখন অনেক বিধ্বংসী ক্রিকেটার আছে। যেমন রিশাভ পান্থ, হার্দিক পান্ডিয়া, রবিন্দ্র জাদেজা। তাই শুরুতে ও রকম আগ্রাসী মানসিকতা দেখানো যেতেই পারে। শুরুতে বাড়তি ঝুঁকি নেওয়া যেতেই পারে।

আক্রাম: গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতকে হারানোর পরে পাকিস্তানের মানসিকতা বদলে গিয়েছে। ওই ম্যাচের পরে পাকিস্তান বিশ্বাস করতে শুরু করেছে যে, বিশ্বমঞ্চে ভারতকে হারানোর ক্ষমতা ওদের আছে। তবে পাকিস্তানের এই দলটার একটা ব্যাপার নিয়ে চিন্তায় আছি। মাঝের সারির ব্যাটিং। সে রকম কোনও অভিজ্ঞ ব্যাটার নেই বাবরদের হাতে।

শাহিন আফ্রিদির না থাকা

আক্রাম: শাহিনের অভাব ভিষণভাবে টের পাবে পাকিস্তান। সে নতুন বলে উইকেট নেয়। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে রান ওঠার গতি আটকাতে গেলে উইকেট নিতে হবে। শাহিন সেটাই করে। উল্টো দিকে কে আছে না দেখে স্টাম্পে আক্রমণ করে যায়। শাহিন না থাকা মানে পাকিস্তান বোলিং আক্রমণে সবাই ডানহাতি পেসার। কোনো বৈচিত্র্য থাকছে না।

শাস্ত্রি: ভারত যে সব ম্যাচ হেরেছে, তার অনেকগুলোর পিছনেই কিন্তু বিপক্ষের বাঁ-হাতি পেসারের অবদান আছে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ফাইনালে মোহাম্মদ আমির, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শাহিন। আবার কখনও বা ট্রেন্ট বোল্ট সংহারক হয়েছে। বাঁ-হাতি পেসাররা দু’-তিন ওভারে খেলা ঘুরিয়ে দিতে পারে। ১৯৯২ বিশ্বকাপ ফাইনালে ওয়াসিম আক্রাম করে দেখিয়েছিল। ২০১৫ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার মিচেল স্টার্ক প্রথম ওভারেই ব্রেন্ডন ম্যাককালামের স্টাম্প ছিটকে দিয়ে নিউজিল্যান্ডের স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দেয়। বাঁ-হাতি থাকা মানেই বোলিং আক্রমণে বৈচিত্র্য আসা।

দু’দলের প্রধান অস্ত্র

আক্রাম: ভারতীয় দলে অনেকেই আছে। রোহিত শর্মা, লোকেশ রাহুল, কোহলি। তবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এই মুহূর্তে আমার পছন্দের ক্রিকেটার হল সূর্যকুমার যাদব। সূর্যকে প্রথম দেখি কলকাতা নাইট রাইডার্সে। তখন বেশ কয়েকটা দারুণ ইনিংস খেলেছিল। আর ভারতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার পর থেকে তো চোখ ধাঁধানো ব্যাটিং করছে।

অফ-মিডল স্টাম্পে সরে গিয়ে লেগসাইডে সূর্য একটা ফ্লিক শট মারে। ওই রকম শট খেলা প্রচণ্ড কঠিন। কিন্তু ও খুব স্বাভাবিক ভাবেই শটটা খেলে। ও খুব বিপজ্জনক ব্যাটার। সূর্যকে ৩৬০ ডিগ্রি ব্যাটসম্যান বলাই যায়। উইকেটের যে কোনো দিকে শট খেলতে পারে। পেস-স্পিন দু’ধরনের বোলিংয়ের বিরুদ্ধেই সাবলীল।

আর পাকিস্তানের সেরা অস্ত্র হল বাবর-রিজওয়ান। ওরা কিন্তু পিঞ্চহিটার নয়। পিঞ্চহিটারদের আউট করার সুযোগ পাওয়া যায়। রাহুল-রোহিতের মতো বাবর-রিজওয়ানও টেকনিক্যালি খুব ভাল। আউট হওয়ার সুযোগ দেয় না। ভাল বলেও শট খেলে। তাই ভারতকে ওদের নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

হার্দিক পান্ডিয়ার উপস্থিতি

শাস্ত্রি: হার্দিক হল ভারতীয় দলটার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ। সে না খেললেই ভারসাম্য নষ্ট হবে। তখন হয় একজন বাড়তি বোলার বা বাড়তি ব্যাটার খেলাতে হবে। গত বছর বিশ্বকাপে হার্দিক বল করতে পারেনি। যেটা আমাদের ভীষণ ভুগিয়েছিল। আর ওই জায়গায় খেলার মতো হার্দিকের বিকল্প কোনও ক্রিকেটারই নেই। ওকে নিয়ে খুব সতর্ক থাকতে হবে। বিশ্বকাপের আগে বেশি ম্যাচ খেলতে গিয়ে চোট না পেয়ে যায়।

এশিয়া কাপ কে জিতবে

শাস্ত্রি: এবার দারুণ একটা প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। আমরা ভারত-পাকিস্তানের কথা বলছি ঠিকই; কিন্তু মনে রাখতে হবে, এশীয় ক্রিকেট এখন খুবই শক্তিশালি। শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ বা আফগানিস্তানকে হাল্কাভাবে নেওয়ার প্রশ্নই নেই। একটা টস হারা কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ফেভারিট অবশ্যই ভারত-পাকিস্তান। কিন্তু এই ফর্ম্যাটে যে কোনও দল যে কাউকে হারানোর ক্ষমতা রাখে।

আক্রাম: ঠিক। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে কী হবে, বলতে পারব না। তবে ‘শ্যাজ’-এর মতোই বলব, দলগুলোর মধ্যে পার্থক্য কমে আসছে। শ্রীলঙ্কা খুবই বিপজ্জনক দল। বাংলাদেশকে আমি ইদানিং সেভাবে দেখিনি। আফগানিস্তানের হাতে ম্যাচ জেতানো বোলার আছে। এমন সব ব্যাটার আছে যারা আউট হতে ভয় পায় না। মনে হচ্ছে এবারই সেরা এশিয়া কাপ দেখতে যাচ্ছি।

স্টক নিউজ বিডি.কম/এসএম

আরও পড়তে পারেন…

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

সর্বশেষ খবর

  • প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকমের ঋণখেলাপি মামলায় ৫ পরিচালকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

  • আইসিবি ইসলামি ব্যাংকের বার্ষিক সাধারণ সভা  অনুষ্ঠিত

  • রবির তিন মাসেই ১,৫৮০ কোটি টাকা নগদ অর্থ উধাও, স্বল্পমেয়াদি ঋণ বেড়েছে ৩৬০ কোটি টাকা

  • ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের নিট মুনাফা ১২ কোটি ৪২ লাখ, বেড়েছে ইপিএসও

  • যমুনা ব্যাংকের আয়োজনে পিডিবিএলের ৬৫তম পর্ষদ ও ৮৪তম দ্বিমাসিক সভা অনুষ্ঠিত

সর্বাধিক পঠিত

  • শমরিতা হসপিটালের লভ্যাংশ ঘোষণা

  • রবির তিন মাসেই ১,৫৮০ কোটি টাকা নগদ অর্থ উধাও, স্বল্পমেয়াদি ঋণ বেড়েছে ৩৬০ কোটি টাকা

  • ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের নিট মুনাফা ১২ কোটি ৪২ লাখ, বেড়েছে ইপিএসও

  • প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকমের ঋণখেলাপি মামলায় ৫ পরিচালকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

  • বেক্সিমকো ফার্মার পর্ষদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন সালমান এফ রহমান

  • ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল অর্থায়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৫,০০০ কোটি টাকার তহবিলে যুক্ত হলো এমটিবি

  • গোপনীয়তা নীতি
  • নীতিমালা
  • যোগাযোগ

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোঃ শামীম রেজা
মোবাইল নাম্বারঃ ০১৫২১৩৬৫৭২৩
ই-মেইলঃ stocknewsbd24@gmail.com
মোবাইল নাম্বারঃ ০১৫২১৩৬৭৫২২
অফিসঃ হাউজ নংঃ ১০১, রোড নংঃ ৩, সেক্টরঃ ৬, উত্তরা ঢাকা-১২৩০।
স্বত্ব © ২০২৬ স্টক নিউজ বিডি।


Back To Top
Stock News BD | Latest Online Most Popular Newspaper
  • হোম
  • শেয়ার বাজার
    • আজকের লেনদেন
    • কোম্পানি সংবাদ
    • বোর্ড সভা
    • এজিএম / ইজিএম
    • আইপিও / রাইট
    • লভ্যাংশ
    • উপদেশ
    • পিএসআই
  • অনুসন্ধানী বিশ্লেষণ
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • খেলাধুলা
  • লাইফ স্টাইল
  • ইসলাম
  • বিনোদন
  • আরও
    • বিশেষ প্রতিবেদন
    • আইন-আদালত
    • গণমাধ্যম
    • চাকরি
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • স্বাস্থ্য
    • সংস্কৃতি
    • ভিডিও
    • অন্যান্য