Stock News BD | Latest Online Most Popular Newspaper
  • হোম
  • শেয়ার বাজার
    • আজকের লেনদেন
    • কোম্পানি সংবাদ
    • বোর্ড সভা
    • এজিএম / ইজিএম
    • আইপিও / রাইট
    • লভ্যাংশ
    • উপদেশ
    • পিএসআই
  • অনুসন্ধানী বিশ্লেষণ
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • খেলাধুলা
  • লাইফ স্টাইল
  • ইসলাম
  • বিনোদন
  • আরও
    • বিশেষ প্রতিবেদন
    • আইন-আদালত
    • গণমাধ্যম
    • চাকরি
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • স্বাস্থ্য
    • সংস্কৃতি
    • ভিডিও
    • অন্যান্য
Tag:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সক্ষম হয়েছি: প্রধানমন্ত্রী

স্টক নিউজ বিডি November 26, 2022

স্টক নিউজ বিডি অনলাইন ডেস্ক: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের একটি টিউবের পূর্তকাজ সমাপ্তির উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনা ভাইরাস ও বিশ্বমন্দা পরিস্থিতির মধ্যেও আমরা আমাদের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সক্ষম হয়েছি।

জমকালো উদ্বোধনের আগে শনিবার (২৬ নভেম্বর) সরকার টানেলের দক্ষিণ টিউবের নির্মাণ কাজের সমাপ্তি উদযাপন করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এ কথা বলেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের পতেঙ্গা প্রান্তে শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

যদিও টানেলের পুরো কাজ এখনো শেষ হয়নি। সম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে আগামী ডিসেম্বর পুরো মাস লাগতে পারে। এরপর যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

তবে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, সব কাজ শেষ করে টানেল প্রস্তুত হতে ২০২৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। সব ঠিক থাকলে আগামী ফেব্রুয়ারিতে টানেল দিয়ে যান চলাচল করতে পারবে।

স্টক নিউজ বিডি.কম/এসএম

আরও পড়তে পারেন…

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

যশোরে প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় জনসমুদ্র

স্টক নিউজ বিডি November 24, 2022

স্টক নিউজ বিডি অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভাকে কেন্দ্র করে শহরের চারিদিক থেকে লাখো মানুষের স্রোত যাচ্ছে যশোর স্টেডিয়ামের দিকে। সকাল থেকে বিশাল বিশাল মিছিল নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আসছেন যশোরের শামস্-উল হুদা স্টেডিয়ামে। ইতোমধ্যে জনসভাস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে।

আনন্দ-উচ্ছ্বাসের সঙ্গে বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) সকাল থেকেই জনসভাস্থলে মানুষ আসা শুরু করেন। বেলা ১২টার মধ্যে জনসভাস্থল জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

জনসভাস্থল পেরিয়ে আশপাশের এলাকা লোকে-লোকারণ্য হয়ে উঠেছে। উৎসবমুখর হয়েছে উঠেছে পুরো শহর। স্লোগানে স্লোগানে ঢাক-ঢোল বাজিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানানোর অপেক্ষার প্রহর গুনছে লাখো জনতা।

ঐতিহাসিক এই ভেন্যুসহ পুরো শহরকেই সমাবেশস্থলে পরিণত করতে গত সাত দিন ধরে প্রস্তুতি নিয়েছেন দলটির নেতারা। তারা বলছেন, এই জনসভায় স্মরণকালের জনসমাগম ঘটাবে। শেখ হাসিনার আগমনকে কেন্দ্র করে উৎসাহ-উদ্দীপনা এখন যশোরজুড়ে।

স্টক নিউজ বিডি.কম/এসএম

আরও পড়তে পারেন…

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর স্থগিত

স্টক নিউজ বিডি November 24, 2022

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাপান সফর স্থগিত করা হয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শাহরিয়ার আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য নতুন তারিখ শিগগিরই ঘোষণা করা হবে।

সূত্র জানায়, জাপানে কোভিড পরিস্থিতি অবনতি ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফর আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।

তিন দিনের দ্বিপক্ষীয় সফরে আগামী ২৯ নভেম্বর জাপান যাওয়ার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করতে জাপানের সহকারী মন্ত্রী দুই দিনের সফরে অক্টোবরে বাংলাদেশে আসেন। তিনি ২৭ অক্টোবর সকালে পররাষ্ট্র সচিব রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

ওই দিনই প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সফরকালে জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ পর্যায়ে উন্নীত করা হবে।

ওই বৈঠকে উভয়পক্ষ দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের মধ্যে সম্পর্ক অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। এতে ২০১৪ সালের মে মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাপান সফরের বিষয়ে আলোকপাত করা হয়। ওই সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাপানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ‘কমপ্রিহেনসিভ পার্টনারশিপ’ পর্যায়ে উন্নীত করেছিলেন। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। ওই সময়ে দুই দেশ ‘বিগ-বি’-এর অধীনে অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে আরও গভীর করার সংকল্প ব্যক্ত করা হয়েছিল। জাপানের সহকারী মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, দুই দেশের সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাপান সফর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে।

উভয়পক্ষ আশা করে যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন জাপান সফরকালে উন্নয়ন সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি, শিক্ষা, প্রতিরক্ষা সংলাপ ও বিনিময়, জনগণের পর্যায়ে যোগাযোগ, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অংশীদারত্ব আরও জোরদার করবে। উভয়পক্ষ জলবায়ু পরিবর্তন, জাতিসংঘ সংস্কার, নিরস্ত্রীকরণ ও পরমাণু অস্ত্রের বিস্তার রোধসহ আন্তর্জাতিক ফোরামেও উভয় দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

বিকেলে বসছে সংসদের ২০তম অধিবেশন

স্টক নিউজ বিডি October 30, 2022

স্টক নিউজ বিডি অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদের ২০তম অধিবেশন রোববার (৩০ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টায় শুরু হবে। এর আগে বিকেল ৩টায় কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত থাকবেন। এই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে অধিবেশন কতদিন চলবে।

অধিবেশনের শুরুতেই সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন দেওয়া হবে। তারা স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সংসদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন। এরপর আনা হবে শোক প্রস্তাব। গত দুই মাসে যেসব বিশিষ্ট ব্যক্তি মারা গেছেন, তাদের নামে শোক প্রস্তাব আনার পর এক মিনিট নিরবতা পালন শেষে মরহুমদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হবে। তবে চলমান সংসদের সংসদ সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী মারা যাওয়ায় তার জীবনী নিয়ে আলোচনা শেষে সংসদের বৈঠক মুলতবি করা হবে।

এ কারণে মন্ত্রীদের জন্য প্রশ্ন জিজ্ঞাসা এবং উত্তর টেবিলে উত্থাপন হবে। এদিন জননিরাপত্তা বিভাগ, সুরক্ষাসেবা বিভাগ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা বিভাগ, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ, বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওপর প্রশ্নোত্তর রয়েছে।

সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, এই অধিবেশনে গণমাধ্যমকর্মী (চাকরি শর্তাবলি) বিল-২০২২ ছাড়াও বেশ কয়েকটি বিল উত্থাপন ও পাস হতে পারে। এবারের অধিবেশনে ১৭টি বিল রয়েছে। এসব বিলের মধ্যে কমিটিতে পরীক্ষাধীন ৮টি, পাসের অপেক্ষায় ২টি, উত্থাপনের অপেক্ষায় ৭টি রয়েছে।

গত ১ সেপ্টেম্বর সংসদের ১৯তম অধিবেশন শেষ হয়। ২৮ আগস্ট শুরু হয়ে এই অধিবেশন চলে ৫ কার্যদিবস। শুরুর দিন নতুন ডেপুটি স্পিকার হিসেবে শামসুল হক টুকুকে নির্বাচিত করেন সংসদ সদস্যরা। সংবিধান অনুযায়ী একটি অধিবেশন শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে পরবর্তী অধিবেশন আহ্বানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

স্টক নিউজ বিডি.কম/এসএম

আরও পড়তে পারেন…

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

রাজশাহীতে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতাকর্মীদের গণ অনশন ভাঙালেন রাসিক মেয়র

স্টক নিউজ বিডি October 22, 2022

স্টক নিউজ বিডি অনলাইন ডেস্ক: ৭ দফা দাবিতে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, রাজশাহী মহানগর ও জেলা কমিটির নেতাকর্মীদের চলমান গণ অনশন ভাঙালেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন।

আজ শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজশাহী মহানগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে এ কর্মসূচি চলাকালে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতাকর্মীদের জুস পান করিয়ে গণ অনশন ভাঙান রাসিক মেয়র লিটন।

এ সময় বক্তব্যকালে রাসিক মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সারা জীবনের সাধনা একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। দেশটা আমাদের সকলের। এখানে সকল ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্ম পালন করেন। আপনারা কখনও নিজেদের ছোট মনে করবেন না। আমি সব সময় আপনার সঙ্গে আছি এবং থাকব। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশে^র অন্যতম ধনী দেশে পরিণত হবে।

উল্লেখ্য, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা চিরতরে বন্ধসহ সরকারি দলের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ রাজশাহী মহানগর ও জেলা কমিটির আয়োজনে শনিবার সকাল ১১টা থেকে রাজশাহী মহানগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে গণ অনশন কর্মসূচি পালন করছিল। তাদের দাবিসমূহ হলো- সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন বৈষশ্য বিলোপ আইন প্রণয়ন, দেবোত্তর সম্পত্তি সংরক্ষণ আইন প্রণয়ন, জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন যথাযথ বাস্তবায়ন, পার্বত্য শান্তিচুক্তি ও পার্বত্য ভূমি কমিশন আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন, সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ রাজশাহী মহানগরের সভাপতি ড. সুজিত সরকারের সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও বাগমারা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অনীল কুমার সরকার।

অনশনে আরও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ রাজশাহী মহানগরের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুমার ঘোষ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ রাজশাহী মহানগরের সভাপতি শরৎচন্দ্র সরকারসহ অন্যান্য নেত্রীবৃন্দ।

স্টক নিউজ বিডি.কম/এসএম

আরও পড়তে পারেন…

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

শার্শায় যুব মহিলালীগের ত্রি-বার্ষিক সন্মেলণে শত শত মানুষের ঢল

স্টক নিউজ বিডি October 19, 2022

স্টক নিউজ বিডি অনলাইন ডেস্ক: ২০০২ সালের ৬ জুলাই আওয়ামী লীগ সভাপতি ও তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের একঝাঁক সাবেক নেত্রীদেরকে নিয়ে যুব মহিলা লীগ গঠন করেন। বর্তমানে যুব মহিলালীগ আওয়ামীলীগের একটি সহযোগী সংগঠন। দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলায় সংগঠনটির শাখা কমিটি রয়েছে। বুধবার(১৯ অক্টোবর) সংগঠনটির যশোর জেলার শার্শা উপজেলা শাখার আজ ত্রি-বার্ষিক সন্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

শার্শা উপজেলা কলেজ প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত এক বিশাল জনসমাবেশের মাধ্যমে যুব-মহিলালীগের ত্রি-বার্ষিক সন্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন,মোছাঃ শিরিনা আক্তার(আহবায়ক,যুব মহিলালীগ,শার্শা উপজেলা শাখা)। সন্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৮৫,যশোর-১ শার্শা আসনের এমপি শেখ আফিল উদ্দিন। সন্মেলনে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নাজমা আকতার(সাবেক সংসদ সদস্য ও সভাপতি,বাংলাদেশ যুব মহিলালীগ।

অনুষ্ঠান শুরুতেই প্রধান অতিথিকে নিয়ে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে যুব মহিলালীগের অতিথি নেতৃবৃন্দ। এরপর মঞ্চে প্রধান অতিথি এবং অন্যান্য অতিথিবৃন্দকে উত্তোরিও পরিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।

ত্রি-বার্ষিক সন্মেলনের উদ্বোধনী শেষে উদ্বোধক নাজমা আকতার বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নিজ হাতে
যুব মহিলালীগ গঠনের পর থেকে সংগঠনটি আ.লীগের সহযোগী সংগঠন হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় থাকাকালীন সময় রাজপথে আওয়ামী লীগের সব কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পাশাপাশি যুব মহিলা লীগের নেতাকর্মীরা বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের বিরুদ্ধে জোরদার আন্দোলন গড়ে তুলে দেশব্যাপী পরিচিতি লাভ করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি শেখ আফিল উদ্দিন বলেন,২০০২ সালের ৬ জুলাই আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের সাবেক নেত্রীদের সমন্বয়ে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন।
যুব মহিলা লীগ প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য ছিল নারী সমাজকে এই সংগঠনের পতাকাতলে একত্রিত করে সব বাধা জয় করে রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির পথে এগিয়ে যাওয়া। একই সঙ্গে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতিসহ সব অত্যাচার-অনিয়মের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করা। প্রধান অতিথি বাংলাদেশ যুব মহিলালীগের সভাপতি নাজমা আকতার এর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন,যশোর জেলায় কিছু সমস্যার কারনে যুব মহিলালীগের কমিটি গতিশীল হয়ে উঠছেনা,বিষয়টির দিকে লক্ষ্য দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি বর্গের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক মঞ্জু(সভাপতি,শার্শা উপজেলা আ.লীগ ও চেয়ারম্যান,শার্শা উপজেলা পরিষদ। অধ্যক্ষ ইব্রাহীম খলিল(যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক,শার্শা উপজেলা আ.লীগ ও সাবেক সদস্য,যশোর জেলা পরিষদ),শারমিন সুলতানা শর্মি(সাংগঠনিক সম্পাদক-দায়িত্ব প্রাপ্ত,যুব মহিলালীগ,যশোর জেলা শাখা)। এ ছাড়াও অত্র উপজেলার বর্তমান এবং সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানবৃন্দ ও মেম্বরগণ সহ অত্র উপজেলার আ.লীগ অঙ্গ সংগঠনের সকল স্তরের শত শত নারী-পুরুষ নেতা-কর্মীগণ সন্মেলনে অংশ নেন।

প্রধান বক্তা:-মঞ্জুন্নাহার নাজনীন সোনালী(সভাপতি,যুব মহিলালীগ,যশোর জেলা শাখা)।
বিশেষ বক্তা:- শামীমা আলম সালমা(সাধারণ সম্পাদক,যুব মহিলালীগ,যশোর জেলা শাখা)।

অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনের দায়িত্বে ছিলেন,লিলিফুন নাহার লিলি(যুগ্ম আহবায়ক,যুব মহিলালীগ,শার্শা উপজেলা শাখা)।

স্টক নিউজ বিডি.কম/এসএম

আরও পড়তে পারেন…

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

কাল মধুমতি ও তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

স্টক নিউজ বিডি October 9, 2022

স্টক নিউজ বিডি অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল সোমবার নড়াইলে দেশের প্রথম ছয় লেনের মধুমতি সেতু এবং নারায়ণগঞ্জে তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর উদ্বোধন করবেন। তিনি দুপুর ১২টায় তার কার্যালয় থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই সেতু দু’টি উদ্বোধন করবেন।

জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) অর্থায়নে ৯৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে মধুমতি নদীর উপর ৬৯০ মিটার দীর্ঘ মধুমতি সেতু নির্মিত হয়েছে যা স্থানীয়ভাবে কালনা সেতু নামে পরিচিত।

এটি নড়াইল, গোপালগঞ্জ, খুলনা, মাগুরা, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, যশোর এবং ঝিনাইদহ জেলাকে সংযুক্ত করেছে।

প্রকল্প কর্মকর্তাদের মতে, সেতুটি চালু হওয়ার মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের মানুষ দ্রুত সড়ক যোগাযোগ সুবিধা পাবে। কারণ, সেতুটি কালনাঘাট থেকে রাজধানী ঢাকা পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরত্ব কমিয়ে দেবে।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্তত ১০টি জেলার মানুষ কম সময়ে বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করতে পারবে। এটি দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল, যশোর থেকে ঢাকা পর্যন্ত ভ্রমণের সময়ও কমিয়ে দেবে, কারণ, এতে ঢাকা থেকে দূরত্ব হবে মাত্র ১৩০ কিলোমিটার।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলা এবং নড়াইল জেলার অন্তর্গত লোহাগড়া উপজেলার মধ্যে মধুমতি সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

এ অঞ্চলের মানুষ এখন পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট হয়ে ঢাকা-যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক ব্যবহার করে যার অর্থ তারা যশোর থেকে ঢাকায় পৌঁছাতে আরও ১০০ কিলোমিটার বেশি ভ্রমণ করে।

প্রকল্পের কর্মকর্তাদের মতে, সেতুটি এশিয়ান হাইওয়ের একটি অংশ যা রাজধানীকে দেশের বৃহত্তম বেনাপোল স্থলবন্দরসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে সংযুক্ত করবে।

২৭.১ মিটার চওড়া সেতুটিতে চারটি উচ্চ গতির লেন ৪.৩০ কিলোমিটার অ্যাপ্রোচ রোড এবং দুটি সার্ভিস লেনসহ ছয়টি লেন রয়েছে।

যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম মিলন বলেন, সেতুটি এ অঞ্চলের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যাপকভাবে সহজ করবে।

বেনাপোল স্থলবন্দর, মংলা সমুদ্র বন্দর ও নোয়াপাড়া নদী বন্দরের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ অঞ্চলের বাসিন্দারা একদিনের মধ্যে ঢাকায় তাদের কাজ শেষ করে ঘরে ফিরতে পারবেন। সেতুটি চালু হলে কালনা ফেরি ঘাট হয়ে যেতে তাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হবে বলে জানান কয়েকজন যাত্রী।

৩য় শীতলক্ষ্যা সেতু, যা বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম নাসিম ওসমানের নামে নামকরণ করা হয়েছে, এটি নারায়ণগঞ্জ শহরকে বন্দর উপজেলার সাথে সংযুক্ত করবে, অর্থনীতি চাঙ্গা করবে, পদ্মা সেতুর মাধ্যমে চট্টগ্রাম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলার মধ্যে যোগাযোগ সহজতর করবে।

সেতুটির প্রকল্প পরিচালক শোয়েব আহমেদ বাসসকে বলেন, ১.২৯ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে চট্টগ্রাম অঞ্চলগামী যানবাহন এবং একইভাবে চট্টগ্রাম থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলগামী যানবাহন যানজট এড়াতে এবং সময় বাঁচাতে নারায়ণগঞ্জ শহরকে বাইপাস করতে সক্ষম করবে।

তিনি বলেন, এতে দেশের অর্থনীতি উল্লেখযোগ্যভাবে চাঙ্গা হবে। কারণ, এটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে যানবাহনের ভ্রমণের সময় কমিয়ে দেবে।

সেতুটির সঙ্গে নতুন সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠলে পদ্মা সেতু থেকে জনগণ সর্বোচ্চ সুবিধা পাবে বলেও জানান তিনি।

সেতুটি পূর্বে বন্দর উপজেলার মদনগঞ্জকে পশ্চিমে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সৈয়দপুরের সঙ্গে যুক্ত করবে। এখন মোটরচালিত নৌযানই নদীর দুই পাড়ের মানুষ ও অন্যান্য এলাকার জনসাধারণের জন্য পারাপারের প্রধান মাধ্যম।

বাসসের সঙ্গে আলাপকালে মদনগঞ্জের বাসিন্দা গার্মেন্টস কর্মী তানিয়া জানান, প্রতিদিন সকালে তাকে পায়ে হেঁটে গুদারাঘাটে আসতে হয় এবং তার কর্মস্থলে যেতে নৌকায় নদী পার হতে হয়।

তিনি বলেন, প্রায়ই বড় জাহাজের সঙ্গে নৌকার সংঘর্ষে যাত্রীদের মৃত্যু হয়। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল অনেক বেড়েছে।

তিনি বলেন, ‘এখন নৌকায় করে নদী পারাপার করা আমাদের জন্য ভীতিকর হয়ে পড়েছে। বর্ষাকালে ভয় বেড়ে যায়। সেতুটি চালু হলে আমাদের চলাচল সহজ ও নিরাপদ হবে।’

বন্দর উপজেলার বাসিন্দা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ইউসুফ আতিক মালিক বলেন, সেতুটি স্থানীয় এবং জাতীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হবে।

তিনি বলেন, এখন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যানবাহন ঢাকার যাত্রাবাড়ী রুট ব্যবহার করে পোস্তগোলা ব্রিজ হয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলে যায় অথবা চাষাঢ়া ও সাইনবোর্ড রুট ব্যবহার করে গন্তবে পৌঁছায়।

শীতলক্ষ্যা সেতু চালু হলে পঞ্চবটি বিসিক শিল্প এলাকা, পঞ্চবটি মোড়, চাষাঢ়া মোড়, সাইনবোর্ড, নারায়ণগঞ্জের চট্টগ্রাম সড়ক বা ঢাকার পোস্তগোলা ও শনির আখড়া রুটে যানবাহনকে তীব্র যানজটের সম্মুখীন হতে হবে না বলে জানান শোয়েব আহমেদ।

যানবাহনগুলো রাজধানীর পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ শহরকে বাইপাস করতে পারবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে রাজধানী ও নারায়ণগঞ্জ শহরের ওপর চাপও কমবে।

প্রকল্পটি ২০১০ সালে একনেকে অনুমোদন পেলেও ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি নির্মাণকাজ শুরু হয়।

প্রকল্প পরিচালক বলেন, সেতু নির্মাণে ৬০৮.৫৬ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে এর মধ্যে ২৬৩.৩৬ কোটি টাকা বাংলাদেশ সরকারের তহবিল থেকে এবং ৩৪৫.২০ কোটি টাকা সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট (এসএফডি) থেকে এসেছে।

ওয়াকওয়েসহ সেতুটিতে ৩৮টি স্প্যান রয়েছে – পাঁচটি নদীতে এবং ৩৩টি পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে। হাঁটার পথসহ সেতুটির প্রস্থ ২২.১৫ মিটার। এছাড়া, ছয় লেনের টোল প্লাজা এবং দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ অ্যাপ্রোচ রোডও নির্মাণ করা হচ্ছে।

শীতলক্ষ্যা নদী বন্দর উপজেলা ও সোনারগাঁ উপজেলাকে জেলা সদও থেকে পৃথক করেছে। এ দুটি উপজেলা সরাসরি সড়কপথে জেলা সদরের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল না। দুই উপজেলা থেকে জেলা সদওে যেতে কাঁচপুর ব্রিজ (শীতলখ্যা-১ সেতু) ব্যবহার করতে হতো, যার জন্য নৌকায় নদী পথের মাত্র ৩ থেকে ৫ কিলোমিটার দূরত্ব সড়ক পথে প্রায় ৩০ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হতো।

বন্দর উপজেলায় বসবাসকারী কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জে কাজের জন্য নৌকায় করে শীতলক্ষ্যা নদী পাড় হয়। একইভাবে নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ থেকেও মানুষ নৌকায় শীতলক্ষ্যা নদী পাড়ি দিয়ে বন্দর বা সোনারগাঁ উপজেলায় আসে। নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার ৩য় শীতলক্ষ্যা সেতুটি বন্দর উপজেলা ও জেলা সদরের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করবে।

স্টক নিউজ বিডি.কম/এসএম

আরও পড়তে পারেন…

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান চাই : জাতিসংঘে শেখ হাসিনা

জাতিসংঘের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া পূর্ণাঙ্গ ভাষণ

স্টক নিউজ বিডি September 24, 2022

স্টক নিউজ বিডি অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছেন। বাংলাদেশ সময় শনিবার ভোররাতে (স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেলে) তিনি এ ভাষণ দেন। ভাষণে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পূর্ণ বিবরণ-

‘‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
মাননীয় সভাপতি,
আসসালামু আলাইকুম এবং শুভ অপরাহ্ন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমি আশ্বাস দিচ্ছি, সাধারণ পরিষদের পুরো অধিবেশন জুড়েই আমার প্রতিনিধি দল আপনাকে পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা দিয়ে যাবে। একইসঙ্গে আপনার পূর্বসূরি জনাব আবদুল্লাহ শহীদকেও অভিনন্দন জানাই। জাতিসংঘ মহাসচিব জনাব আন্তোনিও গুতেরেসকে আমি সাধুবাদ জানাই জাতিসংঘকে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আরও প্রাণবন্ত করে তোলার লক্ষ্যে তাঁর দৃঢ় প্রতিশ্রুতির জন্য।

এ বছরের সাধারণ বিতর্কের প্রতিপাদ্য: ‘একটি সঙ্কটপূর্ণ সন্ধিক্ষণ: আন্তঃসংযুক্ত প্রতিকূলতাসমূহের রূপান্তরমূলক সমাধান।’ জলবায়ু পরিবর্তন, সহিংসতা ও সংঘাত, কোভিড-১৯ মহামারির মত একাধিক জটিল এবং বহুমাত্রিক প্রতিকূলতায় পৃথিবী নামক আমাদের এই গ্রহ আজ জর্জরিত। এবারের প্রতিপাদ্যটি এ সকল প্রতিকূলতা মোকাবিলায় এবং আমাদের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করে শান্তিপূর্ণ ও টেকসই পৃথিবী গড়ে তোলার উপায় খুঁজে বের করার জন্য সকলের ঐক্যবদ্ধ আকাঙ্খার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। আর এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য আমাদের এখনই সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে হবে।

জনাব সভাপতি,
গত আড়াই বছরেরও বেশি সময় ধরে করোনাভাইরাসের মহামারির মারাত্মক প্রভাব বিশ্ব যখন সামলে উঠতে শুরু করেছে, তখনই রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত বিশ্বকে নতুন করে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা, জ্বালানি এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের ক্ষেত্রে সহায়তা-প্রার্থী ঝঁকিপূর্ণ দেশগুলো এখন আরও প্রতিকূলতার মুখে পড়েছে। বর্তমানে আমরা এমন একটি সঙ্কটময় সময় অতিক্রম করছি, যখন অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে অধিক পারস্পরিক সংহতি প্রদর্শন করা আবশ্যক।

আমাদের প্রমাণ করতে হবে যে, সঙ্কটের মুহূর্তে বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হলো জাতিসংঘ। তাই, সর্বস্তরের জনগণের বিশ্বাস ও আস্থা অর্জনের জন্য জাতিসংঘকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে সকলের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে হবে।

যুদ্ধ বা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, পাল্টা-নিষেধাজ্ঞার মত বৈরীপন্থা কখনও কোন জাতির মঙ্গল বয়ে আনতে পারে না। পারস্পরিক আলাপ-আলোচনাই সঙ্কট ও বিরোধ নিষ্পত্তির সর্বোত্তম উপায়।

এই পরিপ্রেক্ষিতে, ‘গ্লোবাল ক্রাইসিস রেসপন্স গ্রুপ’ গঠন করায় জাতিসংঘের মহাসচিবকে আমি ধন্যবাদ জানাই। এই গ্রুপের একজন চ্যাম্পিয়ন হিসেবে, আমি বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব ও সঙ্কটের গভীরতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি বৈশ্বিক সমাধান নিরূপণ করতে অন্যান্য বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি।

জনাব সভাপতি,
বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রণীত পররাষ্ট্রনীতির মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে “সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরীতা নয়”। বাংলাদেশ জন্মলগ্ন থেকেই এই প্রতিপাদ্য-উদ্ভূত জোটনিরপেক্ষ নীতি অনুসরণ করে আসছে। ১৯৭৪ সালের ২৫-এ সেপ্টেম্বর এই মহান পরিষদে তিনি তাঁর প্রথম ভাষণে বলেছিলেন: কোট “শান্তির প্রতি যে আমাদের পূর্ণ আনুগত্য তা এই উপলব্ধি থেকে জন্মেছে যে, একমাত্র শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই আমরা আমাদের কষ্টার্জিত জাতীয় স্বাধীনতার ফল আস্বাদন করতে পারবো এবং ক্ষুধা, দারিদ্র্য, রোগ-শোক, অশিক্ষা ও বেকারত্বের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করার জন্য আমাদের সকল সম্পদ ও শক্তি নিয়োগ করতে সক্ষম হবো।

সুতরাং আমরা স্বাগত জানাই সেই সকল প্রচেষ্টাকে, যার লক্ষ্য বিশ্বে উত্তেজনা হ্রাস করা, অস্ত্র প্রতিযোগিতা সীমিত করা, এশিয়া, আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকাসহ পৃথিবীর প্রত্যেকটি স্থানে শান্তিপূর্ণ সহ-অবস্থান নীতি জোরদার করা।” আনকোট।

বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এই বক্তব্য এখনও সমভাবে প্রাসঙ্গিক। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্বাস করতেন যে, শান্তি হলো বিশ্বের সকল নারী-পুরুষের আশা-আকাক্সক্ষার বাস্তব প্রতিরূপ। যুদ্ধের ফলে মানবজাতি, বিশেষ করে শিশু ও নারীরা চরম কষ্ট ভোগ করে। কত মানুষ রিফিউজি হয়ে পড়ে।

সভাপতি মহোদয়,
বাংলাদেশে কোভিড-১৯ মহামারির শুরু থেকে এ সঙ্কট মোকাবেলায় আমরা মূলত তিনটি বিষয়ের দিকে লক্ষ্য রেখে কৌশল নির্ধারণ করেছি।

প্রথমত, মহামারি সংক্রমণ ও বিস্তাররোধ করতে আমরা জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রসারিত করেছি;

দ্বিতীয়ত, আমাদের অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখতে কৌশলগত আর্থিক প্রণোদনা প্রদান করেছি; এবং তৃতীয়ত, আমরা জনগণের জীবিকা সুরক্ষিত রেখেছি। এসব উদ্যোগ মহামারিজনিত মৃত্যুর সংখ্যা হ্রাস করার পাশাপাশি মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সাহায্য করেছে।

মহামারি থেকে আমাদের নিরাপদ উত্তরণের মূল চাবিকাঠি হলো টিকা। এই টিকা সরবরাহের জন্য আমরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও এর কোভ্যাক্স ব্যবস্থা এবং আমাদের সহযোগী দেশগুলোকে ধন্যবাদ জানাই। ২০২২ সালের আগস্ট পর্যন্ত, বাংলাদেশে টিকা পাওয়ার যোগ্য শতভাগ মানুষকে আমরা টিকা দিয়েছি।

জনাব সভাপতি,
একটি টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শান্তিপূর্ণ সমাজ এবং সামাজিক সম্প্রীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

বাংলাদেশ এখন বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল পাঁচটি অর্থনীতির মধ্যে অন্যতম।

জিডিপির হিসাবে আমাদের অবস্থান ৪১তম। বিগত এক দশকে আমরা দারিদ্র্যের হার ৪১ শতাংশ থেকে ২০.৫ শতাংশে নামিয়ে এনেছি। আমাদের মাথাপিছু আয় মাত্র এক দশকে তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়ে ২,৮২৪ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

কোভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাবের পূর্বে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক এক পাঁচ শতাংশ। এর আগে, আমরা টানা তিন বছর ৭ শতাংশের বেশি জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি। মহামারি চলাকালেও ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি ৬ দশমিক নয় চার শতাংশ হারে প্রসারিত হয়েছে।

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা নিষেধাজ্ঞার ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাঘাত এবং জ্বালানি, খাদ্যসহ নানা ভোগ্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে আমাদের মত অর্থনীতি মারাত্মক চাপের মুখে পড়েছে। মুল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থা কাটিয়ে ওঠার জন্য আমরা বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছি।

২০২৬ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ হতে উন্নয়নশীল দেশে উত্তীর্ণ হতে যাচ্ছে। আমরা ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি জ্ঞানভিত্তিক উন্নত দেশে রূপান্তরিত করার জন্য এবং ২১০০ সালের মধ্যে একটি সমৃদ্ধ ও জলবায়ু-সহিষ্ণু বদ্বীপে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।

সভাপতি মহোদয়,
সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা, খাদ্য নিরাপত্তা, মা ও শিশু মৃত্যু হ্রাস, লিঙ্গ বৈষম্য, নারীর ক্ষমতায়ন ইত্যাদি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। গত এক দশকে সাক্ষরতার হার ৫০ শতাংশ থেকে ৭৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। আমরা তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিতকরণের ওপর অধিক গুরুত্বারোপ করেছি।

আমাদের শিশুমৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ২১ জনে এবং প্রতি লাখ জীবিত জন্মে মাতৃমৃত্যু হার ১৭৩ জনে নেমে এসেছে। মানুষের গড় আয়ু এখন ৭৩ বছরের অধিক।

আমরা সমাজের সবচেয়ে দুর্বল ব্যক্তিদের প্রতি বিশেষ মনযোগ দিয়েছি যাতে সমাজের কেউ পিছিয়ে না থাকে। স্বামী-পরিত্যাক্তা নারী, বিধবা, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, তৃতীয় লিঙ্গ এবং অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠির সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিদ্যমান সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতা বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ মানুষ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় উপকৃত হচ্ছেন।

উন্নত ভৌত অবকাঠামো মজবুত অর্থনৈতিক কাঠামোর ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। এজন্য আমরা নদীর তলদেশের টানেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট সিস্টেমসহ টেকসই বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণ করছি। আমাদের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত “পদ্মা বহুমুখী সেতু”। এটি বাংলাদেশের স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে সহজতর করবে এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধি করবে। এই সেতু জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ১ দশমিক দুই-তিন শতাংশ হারে অবদান রাখবে।

জনাব সভাপতি,
মানবজাতির জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হলো জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব। জলবায়ু নিয়ে প্রতিশ্রুতি দেওয়া আর ভাঙার একটি দুষ্টচক্র আমরা অতীতে দেখেছি। আমাদের এখনই এই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নের সঙ্গে এবং টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ঠ অর্জনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অসংখ্য পদক্ষেপ নিয়েছে। ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের সভাপতি থাকাকালে আমরা ‘মুজিব ক্লাইমেট প্রস্পারিটি প্লান’ গ্রহণ করি, যার লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে “ঝুঁকির পথ থেকে জলবায়ু সহনশীলতা ও জলবায়ু সমৃদ্ধির টেকসই পথের” দিকে নিয়ে যাওয়া।

জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ সম্পর্কিত আমাদের জাতীয় পরিকল্পনা এবং নীতিগুলো জেন্ডার সংবেদনশীল করে তৈরি করা হয়েছে।

ঝুঁকিতে থাকা অন্যান্য দেশগুলোকে তাদের নিজস্ব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা প্রণয়ণে সহায়তা করতে আমরা প্রস্তুত আছি। অন্তর্ভুক্তিমূলক জলবায়ু কার্যক্রমের প্রসারের জন্য আমি বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে আহ্বান জানাই।

সভাপতি মহোদয়,
অভিবাসীরা এখনও তাদের অভিবাসন যাত্রায় অনিশ্চিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। তারা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটাতে আমাদের অবশ্যই বিশ্বব্যাপী অংশীদারিত্ব এবং সংহতি বাড়াতে হবে। এ বিষয়ে ‘গ্লোবাল কমপ্যাক্ট অন মাইগ্রেশন’ এবং এর “অগ্রগতি ঘোষণা” আমাদের এ বিষয়ে একটি চমৎকার রোডম্যাপ দিয়েছে।

বর্তমানে, এসব জটিল বৈশ্বিক সঙ্কট অনেক উন্নয়নশীল দেশের বিগত কয়েক দশকের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে স্থবির করে দিচ্ছে। এই মুহূর্তে ২০৩০-এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা তাদের অনেকের কাছেই একটি অধরা স্বপ্ন বলে মনে হচ্ছে। তাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং কৃষিসহ মারাত্মভাবে প্রভাবিত ক্ষেত্রগুলোতে সুনির্দিষ্ট সহায়তা প্রয়োজন। এখন বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে।

আমরা দেখছি, কীভাবে নিত্য-নতুন প্রযুক্তি বিশ্বকে দ্রুত পরিবর্তন করে ফেলছে। এই প্রযুক্তিগুলো ব্যবহারের সকলের ন্যায্য এবং সমান সুযোগ পাওয়া অপরিহার্য। ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিগত বিভাজন অবশ্যই দূর করতে হবে।

বাংলাদেশসহ ১৬টি দেশ এখন স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নীত হওয়ার পথে। তবে ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক সঙ্কট আমাদের টেকসই উত্তরণের পথে গুরুতর প্রতিকূলতা সৃষ্টি করেছে। আমাদের উন্নয়নের অংশীজনদের কাছে বর্ধিত এবং কার্যকর সহযোগিতার আহ্বান জানাই। এ বিষয়ে দোহা কর্মসূচিকে আমরা স্বাগত জানাই।

জনাব সভাপতি,
প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমুদ্রসীমার শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তির পর সুনীল অর্থনীতি বাংলাদেশের উন্নয়নের নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে।

আমরা আর্থ-সামাজিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে আমাদের সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার, সংরক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনার জন্য বিশ্বব্যাপী অংশীজনদের সঙ্গে একযোগে কাজ করার দৃঢ় ইচ্ছা পোষণ করি।

সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনার জন্য সমুদ্র আইন সম্পর্কিত জাতিসংঘের কনভেনশনের বিধানগুলির কার্যকর বাস্তবায়ন অপরিহার্য।

এ বিষয়ে যেকোন দুর্বলতা উত্তরণের জন্য ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার এবং জাতীয় এখতিয়ারের বাইরের অঞ্চলে সামুদ্রিক জীববৈচিত্রের সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবহারের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক আইন যা “বি বি এন জে” নামে পরিচিত, সেটি প্রণয়নে আরও তৎপর হওয়ার জন্য সদস্য দেশগুলোকে আহ্বান জানাই।

সভাপতি মহোদয়,
পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তাররোধসহ সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের জন্য আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা ২০১৯ সালে পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ বিষয়ক ঐতিহাসিক চুক্তি অনুস্বাক্ষর করি।

আমরা ধারাবাহিকভাবে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে আমাদের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করে আসছি। আমাদের শান্তি-কেন্দ্রিক পররাষ্ট্রনীতির প্রতিফলন হিসেবে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সৈন্য ও পুলিশ প্রেরণকারী দেশগুলোর মধ্যে আমরা বর্তমানে শীর্ষে অবস্থান করছি।

শান্তিরক্ষাসহ, জাতীয় ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা প্রদান, নারী ও অন্যান্য পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে একটি টেকসই সমাজ গঠন করতে এ সকল অঞ্চলের জনগণকে তাঁরা সাহায্য করে যাচ্ছেন। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমাদের অনেক শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন।

আমরা বিশ্বাস করি যে, দ্বন্দ্ব-সংঘাতের মূল কারণগুলোর সমাধান ব্যতিত টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। জাতিসংঘ শান্তি বিনির্মাণ কমিশনের বর্তমান সভাপতি হিসেবে আমরা সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে সহযোগিতার উদ্দেশ্যে বহুমাত্রিক অংশীজনদের একসঙ্গে কাজ করার একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরিতে চেষ্টা করে যাচ্ছি। নারী, শিশু, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডাকে আরও শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতেও আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বাংলাদেশে সন্ত্রাস ও সহিংস উগ্রপন্থার বিষয়ে আমরা ‘শূণ্য সহনশীলতা’ নীতি গ্রহণ করেছি। বাংলাদেশের ভূখ-ে কোনোরূপ সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বা জনগণের ক্ষতি হয় এমন কোন কর্মকা- সংঘটিত হতে দেই না।

এ ছাড়া সাইবার-অপরাধ এবং সাইবার সহিংসতা মোকাবিলা করার লক্ষ্যে একটি আন্তর্জাতিক বাধ্যতামূলক চুক্তি প্রণয়ণে একসঙ্গে কাজ করার জন্য আমি সদস্য দেশগুলোকে আহ্বান জানাই।

জনাব সভাপতি,
একটি দায়িত্বশীল সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে, বাংলাদেশ তার জনগণের মানবাধিকার সংরক্ষণ ও উন্নয়নে অঙ্গীকারাবদ্ধ। জনগণের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য আমরা একটি সামগ্রিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক পন্থা অবলম্বন করেছি।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আমরা হিজড়া জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনীয় অধিকার ও কল্যাণ সাধনের জন্য সংশ্লিষ্ট আইনি বিধি-বিধান প্রণয়ন করেছি।

দেশের সকল ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য বিনামূল্যে আবাসন প্রদানের লক্ষ্যে ‘আশ্রয়ণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প আমরা বাস্তবায়ন করছি। ১৯৯৭ সাল থেকে আমার নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে বিগত ১৮ বছরে প্রায় ৩৫ লাখেরও বেশি মানুষের আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সভাপতি মহোদয়,
অধিকৃত ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি আমাদের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। ১৯৬৭ সালের পূর্বের সীমান্তের ভিত্তিতে দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধান ও রাজধানী হিসেবে পূর্ব জেরুজালেমকে নির্ধারণ করে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতি বাংলাদেশের দ্ব্যর্থহীন সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছি।

জনাব সভাপতি,
আমি এখন আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করবো মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দিকে। গত মাসে ২০১৭ সালে স্বদেশ থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে তাদের গণহারে বাংলাদেশে প্রবেশের পাঁচ বছর পূর্ণ হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে প্রত্যাবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরিতে দ্বিপাক্ষিক, ত্রিপাক্ষিক এবং জাতিসংঘসহ অন্যান্য অংশীজনদের নিয়ে আলোচনা সত্ত্বেও একজন রোহিঙ্গাকেও তাদের মাতৃভূমিতে ফেরত পাঠানো যায়নি। মিয়ানমারে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সশস্ত্র সংঘাত বাস্তচ্যূত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনকে আরও দুরূহ করে তুলেছে। আশা করি, এ বিষয়ে জাতিসংঘ কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘায়িত উপস্থিতি বাংলাদেশের অর্থনীতি, পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। তাদের প্রত্যাবাসনের অনিশ্চয়তা সর্বস্তরে ব্যাপক হতাশার সৃষ্টি করেছে। মানবপাচার ও মাদক চোরাচালানসহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এমনকি এ পরিস্থিতি উগ্রবাদকেও ইন্ধন দিতে পারে। এ সঙ্কট প্রলম্বিত হতে থাকলে তা এই উপমহাদেশসহ বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর মারাতœক প্রভাব ফেলতে পারে।

জনাব সভাপতি,
কোভিড-১৯ মহামারি হতে আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় শিক্ষণীয় বিষয় হলো ‘যতক্ষণ পর্যন্ত সবাই নিরাপদ নয়, ততক্ষণ পর্যন্ত কেউই নিরাপদ নয়’। এই অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে জাতিসংঘসহ আমাদের অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর বাস্তবিক ও অত্যাবশ্যক সংস্কার করা উচিত যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য আরও কার্যকর প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হয়।

আমরা দারিদ্র্য বিমোচন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রশমন, সংঘাত প্রতিরোধ এবং আর্থিক, বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি সঙ্কটের মত বৈশ্বিক প্রতিকূলতাগুলোর রূপান্তরমূলক সমাধান খুঁজতে আগ্রহী। তবে আমাদের উপলব্ধি করতে হবে যে, শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা ব্যতিত আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।

আমরা ইউক্রেন ও রাশিয়ার সংঘাতের অবসান চাই। নিষেধাজ্ঞা, পাল্টা-নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে একটি দেশকে শাস্তি দিতে গিয়ে নারী, শিশুসহ ও গোটা মানবজাতিকেই শাস্তি দেওয়া হয়। এর প্রভাব কেবল একটি দেশেই সীমাবদ্ধ থাকে না বরং সকল মানুষের জীবন-জীবিকা মহাসঙ্কটে পতিত হয়। মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়। খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়। বিশেষ করে, শিশুরাই বেশি কষ্ট ভোগ করে। তাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে হারিয়ে যায়।

বিশ্ব বিবেকের কাছে আমার আবেদন, অস্ত্র প্রতিযোগিতা, যুদ্ধ, স্যাংশন বন্ধ করুন। শিশুকে খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা দিন। শান্তি প্রতিষ্ঠা করুন।

আমরা দেখতে চাই, একটি শান্তিপূর্ণ বিশ্ব- যেখানে থাকবে বর্ধিত সহযোগিতা, সংহতি, পারস্পরিক সমৃদ্ধি এবং ঐকবদ্ধ প্রচেষ্টা। আমাদের একটি মাত্র পৃথিবী এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এই গ্রহকে আরও সুন্দর করে রেখে যাওয়া আমাদের দায়িত্ব।

জনাব সভাপতি,
এখন আমি এক নিদারুণ ট্রাজেডির কথা বলবো।

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট আমার পিতা, জাতির পিতা, বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। একইসঙ্গে আমার মা ফজিলাতুন নেছা মুজিব, আমার ছোট তিন ভাই – মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল ও তাঁর নবপরিণীতা স্ত্রী সুলতানা কামাল, মুক্তিযোদ্ধা লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল, তাঁর নবপরিণীতা স্ত্রী পারভিন রোজী, আমার দশ বছরের ছোট ভাই শেখ রাসেলকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

আমার চাচা মুক্তিযোদ্ধা শেখ আবু নাসের, ফুফা আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তাঁর কন্যা

১৩ বছরের বেবী সেরনিয়াবাত, ১০ বছরের আরিফ সেরনিয়াবাত এবং ৪ বছরের সুকান্ত, আমার ফুফাত ভাই মুক্তিযোদ্ধা শেখ ফজলুল হক মনি ও তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি, ব্রিগেডিয়ার জামিল, পুলিশ অফিসার সিদ্দিকুর রহমানসহ ঘাতকেরা ১৮ জন মানুষকে হত্যা করে। আমি তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।

১৯৭৫ সালে ১৫ই আগস্ট জার্মানিতে ছিলাম বলে আমার ছোটবোন শেখ রেহানা ও আমি বেঁচে যাই। ৬ বছর রিফিউজি হিসেবে বিদেশে থাকতে হয়।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশে হানাদার পাকিস্তানী সেনাবাহিনী ত্রিশ লাখ মানুষকে হত্যা করে। দুই লাখ মাবোনের উপর পাশবিক অত্যাচার চালায়। তাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।

১৯৭১ সালে আমার পিতাকে গ্রেফতার করার পর পাকিস্তানের অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। ঢাকায় আমার মা, দুই ছোটভাই শেখ রাসেল ও শেখ জামাল, ছোটবোন শেখ রেহানা ও আমাকে গ্রেফতার করে একটি একতলা স্যাতসেতে বাড়িতে রাখে। আমার প্রথম সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয় ঐ বন্দিখানায় জন্মগ্রহণ করে। আমাদের ঘরে কোন ফার্নিচার দেওয়া হয়নি। সুচিকিৎসার কোন ব্যবস্থা ছিল না। দৈনন্দিন খাবার পাওয়াও ছিল অনিশ্চিত।

কাজেই যুদ্ধের ভয়াবহতা, হত্যা-ক্যু-সংঘাতে মানুষের যে কষ্ট-দুঃখ-দুর্দশা হয়, ভুক্তভোগী হিসেবে আমি তা উপলদ্ধি করতে পারি। তাই যুদ্ধ চাই নে, শান্তি চাই; মানবকল্যাণ চাই। মানুষের অর্থনৈতিক উন্নতি চাই। আগামী প্রজন্মের জন্য শান্তিময় বিশ্ব, উন্নত-সমৃদ্ধ জীবন নিশ্চিত করতে চাই। আমার আকুল আবেদন, যুদ্ধ, অস্ত্র প্রতিযোগিতা বন্ধ করুন। সমুন্নত হোক মানবিক মূল্যবোধ।

স্টক নিউজ বিডি.কম/এসএম

আরও পড়তে পারেন…

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা বজায় রাখতে ভারতের সঙ্গে একমত : প্রধানমন্ত্রী

স্টক নিউজ বিডি September 6, 2022

বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ‘প্রতিবেশী কূটনীতির’ রোল মডেল হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহযোগিতামূলক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে ভারতের সঙ্গে একমত।

মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমি এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে এবং আমাদের দুই দেশ এবং আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহযোগিতামূলক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে একমত হয়েছি।

যৌথ বিবৃতির আগে দুই দেশের মধ্যে কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত এক দশকে বাংলাদেশ ও ভারত বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার চেতনায় দুই দেশ অনেকগুলো অমীমাংসিত ইস্যু সমাধান করেছে।

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

ভারত সফরকালে শেখ হাসিনাকে নাগরিক সংবর্ধনার আমন্ত্রণ

স্টক নিউজ বিডি August 27, 2022

স্টক নিউজ বিডি অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ৫ সেপ্টেম্বর চারদিনের সরকারি সফরে ভারতে যাচ্ছেন। এ সফরকালে শেখ হাসিনাকে নাগরিক সংবর্ধনা দিতে আগ্রহী এনআরবি ওয়ার্ল্ড ফ্রেন্ডশিপ ফোরাম।

সংগঠনটির সভাপতি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক ড. পবিত্র সরকার কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনে একটি আবেদনও পাঠিয়েছেন।

নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ ও টেকসই উন্নয়নের ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ব্যাপক উন্নয়নের কথা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার ও ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করায় শেখ হাসিনার সরকারের ভূয়সী প্রশংসাও করা হয়।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, শেখ মুজিুবর রহমান পশ্চিমবঙ্গবাসীর আপনজন ছিলেন। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বরাবরই শেখ হাসিনাকে ভালোবাসেন। তাই তারা নাগরিক সংবর্ধনা দিতে আগ্রহী।

সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক সাহানারা খাতুন বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনেকদিন পর রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে আসছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর ও ভারতের স্বাধীনতার ৭৫ বছরপূর্তির সময়ে এ সফর নানা কারণে ঐতিহাসিক। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী যেভাবে সহায়তা করেছিলেন, সেটাও ইতিহাস।’

তিনি বলেন, ‘ভারতবর্ষের মানুষ তখন বাংলাদেশে পাকিস্তানিদের যুদ্ধাপরাধের প্রতিবাদে এক জোট হয়েছিলেন। পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরায় দুই কোটির বেশি মানুষ শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছিলেন। আমরা তখন যেমনভাবে ওপারের মানুষের পাশে ছিলাম, এখনো পাশে আছি। শেখ হাসিনা হচ্ছেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা। তিনি সময় দিলে আমরা ভারতের বাঙালিরা ওনাকে নাগরিক সংবর্ধনা জানাতে চাই।’

স্টক নিউজ বিডি.কম/এসএম

আরও পড়তে পারেন…

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail
পরবর্তী সংবাদ
পূর্ববর্তী সংবাদ

সর্বশেষ খবর

  • বাগাতিপাড়ায় ইয়াবাসহ দুই যুবক আটক, মাদক আইনে মামলা

  • এনআরবি ব্যাংক পিএলসি এবং হলিডে ইন ঢাকা সিটি সেন্টারের মধ্যে কৌশলগত চুক্তি স্বাক্ষর

  • প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকা অনুদান, নিজ হাতে ফাতেমার হাতে তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

  • ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বাগাতিপাড়ায় আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল

  • গত ৬ মাসের ফৌজদারি মামলায় প্রায় সব আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সর্বাধিক পঠিত

  • শমরিতা হসপিটালের লভ্যাংশ ঘোষণা

  • ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বাগাতিপাড়ায় আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল

  • প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকা অনুদান, নিজ হাতে ফাতেমার হাতে তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

  • বাগাতিপাড়ায় ইয়াবাসহ দুই যুবক আটক, মাদক আইনে মামলা

  • রাষ্ট্রপতিকে মেজর মান্নানের শুভেচ্ছা জ্ঞাপন

  • অমিত শাহর পদত্যাগের দাবি রাহুলের, সমর্থন জানাল ‘তেলাপোকারা’

  • গোপনীয়তা নীতি
  • নীতিমালা
  • যোগাযোগ

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোঃ শামীম রেজা
মোবাইল নাম্বারঃ ০১৫২১৩৬৫৭২৩
ই-মেইলঃ stocknewsbd24@gmail.com
মোবাইল নাম্বারঃ ০১৫২১৩৬৭৫২২
অফিসঃ হাউজ নংঃ ১০১, রোড নংঃ ৩, সেক্টরঃ ৬, উত্তরা ঢাকা-১২৩০।
স্বত্ব © ২০২৬ স্টক নিউজ বিডি।


Back To Top
Stock News BD | Latest Online Most Popular Newspaper
  • হোম
  • শেয়ার বাজার
    • আজকের লেনদেন
    • কোম্পানি সংবাদ
    • বোর্ড সভা
    • এজিএম / ইজিএম
    • আইপিও / রাইট
    • লভ্যাংশ
    • উপদেশ
    • পিএসআই
  • অনুসন্ধানী বিশ্লেষণ
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • খেলাধুলা
  • লাইফ স্টাইল
  • ইসলাম
  • বিনোদন
  • আরও
    • বিশেষ প্রতিবেদন
    • আইন-আদালত
    • গণমাধ্যম
    • চাকরি
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • স্বাস্থ্য
    • সংস্কৃতি
    • ভিডিও
    • অন্যান্য