Stock News BD | Latest Online Most Popular Newspaper
  • হোম
  • শেয়ার বাজার
    • আজকের লেনদেন
    • কোম্পানি সংবাদ
    • বোর্ড সভা
    • এজিএম / ইজিএম
    • আইপিও / রাইট
    • লভ্যাংশ
    • উপদেশ
    • পিএসআই
  • অনুসন্ধানী বিশ্লেষণ
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • খেলাধুলা
  • লাইফ স্টাইল
  • ইসলাম
  • বিনোদন
  • আরও
    • বিশেষ প্রতিবেদন
    • আইন-আদালত
    • গণমাধ্যম
    • চাকরি
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • স্বাস্থ্য
    • সংস্কৃতি
    • ভিডিও
    • অন্যান্য
Tag:

বিনিয়োগ

চাঁদা দেওয়ায় এগিয়ে ঢাকা, পিছিয়ে সিলেট বিভাগ

স্টক নিউজ বিডি August 22, 2023

স্টক নিউজ বিডি অনলাইন ডেস্ক: দেশের সব শ্রেণি-পেশার জনগণকে টেকসই ও সুসংগঠিত সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় আনতে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচি চালু করেছে সরকার। প্রাথমিকভাবে প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা এবং সমতা— এই চার স্কিম নিয়ে চালু হয়েছে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচি। শুরুতেই এ পেনশন কর্মসূচিতে মানুষের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিদিনই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ নিবন্ধন শেষ করে চাঁদা পরিশোধ করছেন।

শুরুতে নিবন্ধন সম্পন্ন করে চাঁদা দেওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবীরা। আর সব থেকে কম নিবন্ধন করে চাঁদা দিয়েছেন প্রবাসীরা। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবীদের জন্য চালু করা হয়েছে প্রগতি স্কিম। অপরদিকে বিদেশিদের জন্য চালু করা হয়েছে প্রবাস স্কিম।

পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পেনশন স্কিমের আওতায় আসাদের মধ্যে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবীরা রয়েছেন অর্ধেকের বেশি। তাদের জন্য চালু করা প্রগতি স্কিমে নিবন্ধন করে চাঁদা পরিশোধ করেছেন ৩ হাজার ২৫২ জন।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার পর্যন্ত চাঁদা পরিশোধসহ যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন ৬ হাজার ১০৩ জন। তাদের জমা দেওয়া চাঁদার পরিমাণ ৩ কোটি টাকার ওপরে।

পেনশন স্কিমে নিবন্ধনের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চাঁদা পরিশোধের ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছেন ঢাকা বিভাগের বাসিন্দারা। আর সব থেকে কম চাঁদা পরিশোধ করেছেন সিলেট বিভাগের বাসিন্দারা।

পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পেনশন স্কিমের আওতায় আসাদের মধ্যে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবীরা রয়েছেন অর্ধেকের বেশি। তাদের জন্য চালু করা প্রগতি স্কিমে নিবন্ধন করে চাঁদা পরিশোধ করেছেন ৩ হাজার ২৫২ জন।

দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সুরক্ষা স্কিম। অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত বা স্বকর্মে নিয়োজিত ব্যক্তিরা যেমন- কৃষক, রিকশাচালক, শ্রমিক, কামার, কুমার, জেলে, তাঁতি ইত্যাদি পেশার ব্যক্তিদের জন্য এই স্কিম চালু করা হয়েছে। এই স্কিম গ্রহণ করে চাঁদা পরিশোধ করেছেন এক হাজার ৮২৮ জন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো কর্তৃক প্রকাশিত আয় সীমার ভিত্তিতে দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাসকারী আয়ের ব্যক্তিদের (যার বর্তমান আয় সীমা বাৎসরিক সর্বোচ্চ ৬০ হাজার টাকা) জন্য চালু হওয়া সমতা স্কিমে চাঁদা দিয়েছেন ৮৭৫ জন। এছাড়া প্রবাসীদের জন্য চালু করা প্রবাসী স্কিমে ১৪৮ জন চাঁদা দিয়েছেন।

চাঁদা দেওয়ায় এগিয়ে ঢাকা বিভাগ
পেনশন স্কিমে নিবন্ধন সম্পন্ন করে চাঁদা দেওয়ার ক্ষেত্রে এখনো পর্যন্ত শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিভাগ। ঢাকা বিভাগের এক হাজার ৮৩৯ জন চাঁদা পরিশোধ করেছেন। পরের স্থানে থাকা চট্টগ্রাম বিভাগের এক হাজার ৬৫৪ জন চাঁদা দিয়েছেন। তৃতীয় স্থানে রয়েছে খুলনা বিভাগ, চাঁদা দিয়েছেন ৭৩১ জন। এছাড়া রাজশাহী বিভাগের ৫৪৪, রংপুর বিভাগের ৩৯০, বরিশাল বিভাগের ৩৮৮, ময়মনসিংহ বিভাগের ৩৫২ এবং সিলেট বিভাগের ২০৫ জন চাঁদা দিয়েছেন।

চাঁদা দেওয়ায় শীর্ষে ৩১-৪০ বছর বয়সীরা
পেনশন স্কিমে এখনো পর্যন্ত সব থেকে বেশি চাঁদা দিয়েছেন ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সীরা। চাঁদা পরিশোধকারীদের মধ্যে ২ হাজার ৬৫৪ জন রয়েছেন ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সী। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সী রয়েছেন এক হাজার ৮৩৭ জন।

এছাড়া ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সী রয়েছেন এক হাজার ১৯৮ জন। ১৮ থেকে ২০ বছর বয়সী ৭৬ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সী রয়েছেন ৩১৩ জন। এছাড়াও বয়স ৬০ পেরোলেও বিশেষ বিবেচনায় পেনশন স্কিমে অংশ নিয়ে চাঁদা দিয়েছেন ২৫ জন।

১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী সব বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য সর্বজনীন এই পেনশন স্কিম চালু করেছে সরকার। তবে বিশেষ বিবেচনায় ৫০ বছরের বেশি বয়সীরাও পেনশন স্কিমে আসার সুযোগ পাচ্ছেন।

এদিকে, পেনশনের আওতায় আসাদের জমা দেওয়া চাঁদা ঝুঁকিমুক্ত ও নিরাপদ খাতে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে এই টাকা কোন কোন খাতে বিনিয়োগ করা হবে, তা এখনো ঠিক করা হয়নি। এ লক্ষ্যে একটি বিনিয়োগ নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই মধ্যে নীতিমালা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। নীতিমালা তৈরি হয়ে গেলে সেই অনুযায়ী পেনশন স্কিমের টাকা বিনিয়োগ করা হবে।

অবশ্য এই বিনিয়োগ নীতিমালা তৈরি করার আগেই প্রাথমিকভাবে জমা হওয়া চাঁদার টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সরকারি সিকিউরিটিজে বা ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করা হতে পারে।

এ বিষয়ে সর্বজনীন পেনশন কর্তৃপক্ষের সদস্য গোলাম মোস্তফা জাগো নিউজকে বলেন, জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে। এই জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর করবে। সেখানে একটা বোর্ড আছে, বোর্ড গাইডলাইন তৈরি করবে। আমরা একটা বিনিয়োগ বিধিমালাও তৈরি করবো। সেটার কাজ চলছে।

সুষ্ঠু বিনিয়োগ করে যাতে ফান্ডটা সেভ ফাইন্যান্সিং হয়, সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে। বিনিয়োগটা যাতে লাভজনক হয় তার ব্যবস্থাও করতে হবে। বিনিয়োগ থেকে যেন অবশ্যই ভালো রিটার্ন পাওয়া যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

তিনি বলেন, বিনিয়োগ ছাড়া চলবে কীভাবে? বিনিয়োগ করতেই হবে। আমরা চাচ্ছি খুব দ্রুত বিনিয়োগ করতে। আমরা ফান্ড পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগের উদ্যোগ নেবো। গাইডলাইন তৈরির আগে যদি আমি সরকারি কোনো… বিনিয়োগ করি তাতেও সমস্যা নেই। যেমন আমি যদি ট্রেজারি বিল কিনি, ট্রেজারি বিলের থেকে নিরাপদ তো কিছু নেই। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ যদি মনে করে ট্রেজারি বিল কিনবে, তাতে কোনো সমস্যা নেই। তবে এখানে একটা প্রভিশন রাখা হয়েছে, তা হলো নিরাপদ বিনিয়োগের বাইরে আমরা কোনো বিনিয়োগ করবো না।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্ট ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, আমি মনে করি উদ্যোগটা (সর্বজনীন পেনশন) প্রশংসনীয়। তবে কথা হচ্ছে কাভারেজ কতটুকু হয়। কেননা, যারা ইনফরমাল সেক্টরে (অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে) কাজ করেন তারা কি প্রিমিয়াম দিতে পারবেন? প্রিমিয়াম দিতে না পারলে এর আওতায় আসতে পারবেন না। তারপরের বিষয় এই ফান্ড ফাইন্যান্সিং হবে, নাকি এখানে আবার সরকারকে ভর্তুকি দিতে হবে? এভাবে কতগুলো বিষয় আছে।

ফান্ডের টাকা কোথায় বিনিয়োগ করা যেতে পারে? এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, সুষ্ঠু বিনিয়োগ করে যাতে ফান্ডটা সেভ ফাইন্যান্সিং হয়, সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে। বিনিয়োগটা যাতে লাভজনক হয় তার ব্যবস্থাও করতে হবে। বিনিয়োগ থেকে যেন অবশ্যই ভালো রিটার্ন পাওয়া যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

সরকারি বন্ডের সমস্যা হচ্ছে, তা বাজার ভিত্তিক না। ব্যাংকাররা রাখেন শুধু একটা কারণে, সেটা হলো এসএলআর শর্ত পূরণ করার জন্য। অনেকটা ‘যা-ই পাই তাই ভালো’। তবে যা-ই পাই তাই দিয়ে তো আর পেনশন ফান্ড চলবে না। লিকুইডিটি ম্যানেজমেন্ট চলবে।

সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে এই ফান্ডের অর্থ বিনিয়োগ করা উচিত হবে কি না? এমন প্রশ্নে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, সরকারের প্রকল্প থেকে আয় কেমন আসবে সেটা দেখতে হবে। সব প্রকল্প থেকে তো আয় হয় না। পদ্মা সেতু থেকে আয় হচ্ছে, কিন্তু অনেক প্রকল্প থেকে তো আয় হয় না। এগুলো দেখে-শুনে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, সর্বজনীন পেনশন সরকার চালু করেছে ঠিকই, কিন্তু এটার পরিচালন ব্যবস্থা, প্রশাসনিক ব্যবস্থা, বিনিয়োগ পলিসি, বিনিয়োগ টিম- এগুলোর কোনো কিছু ঠিক করা হয়নি। একটা সিস্টেমের মাধ্যমে (সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচি) করা হয়েছে, তবে এটা হিউজ ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট ইস্যু। সেটাও ঠিক করা হয়নি।

বিশেষ করে সমতা অর্থাৎ দরিদ্রদের জন্য যে স্কিম করা হয়েছে, সেখানে কীভাবে সিলেকশনটা (দরিদ্র কি না যাচাই) হবে? আমি কি আবেদন করলেই আমাকে নেবে? তা তো হওয়ার কথা না। আমাকে তো নিজেকে দরিদ্র হিসেবে প্রমাণ করতে হবে। সেটা কিসের ভিত্তিতে হবে, এ বিষয়ে বলা হয়নি। কে সার্টিফাই করবে, কিসের ভিত্তিতে? এগুলো না করে এখন যদি আমাকে (দরিদ্র হিসেবে) দিয়ে দেয় তাহলে তো মুশকিল হয়ে যাবে। সরকারকে তো মাসে মাসে প্রচুর টাকা দিতে হবে। এছাড়া ফেক অ্যাকাউন্ট থাকতে পারে, সেগুলো দূর করবে কীভাবে? সুতরাং এখানে অনেক চ্যালেঞ্জ আছে, যোগ করেন বিশিষ্ট এই অর্থনীতিবিদ।

তিনি আরও বলেন, একটা বড় অফিস লাগবে। শত শত কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকবে। সেখানে বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট থাকবে। অর্গানোগ্রাম থাকতে হবে। এগুলোর কিছুই করা হয়নি। অফিসটাও ভাড়া করা হয়নি।

পেনশনের চাঁদার টাকা সরকারি ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করা যাবে কি না? এমন প্রশ্নে আহসান এইচ মনসুর বলেন, এটা (ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ) খুব বেশি করা ঠিক হবে না। এতে নিরাপত্তা থাকবে, কিন্তু রিটার্ন সেভাবে আসবে না। কারণ সরকারি সিকিউরিটিজে ৫-৬ শতাংশের মতো মুনাফা পাওয়া যায়। সরকারি বন্ডের সমস্যা হচ্ছে, তা বাজার ভিত্তিক না। ব্যাংকাররা রাখেন শুধু একটা কারণে, সেটা হলো এসএলআর শর্ত পূরণ করার জন্য। অনেকটা ‘যা-ই পাই তাই ভালো’। তবে যা-ই পাই তাই দিয়ে তো আর পেনশন ফান্ড চলবে না। লিকুইডিটি ম্যানেজমেন্ট চলবে।

পেনশন স্কিমে জমা হওয়া চাঁদা কোথায় বিনিয়োগ করা যেতে পারে? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্য এটা একটা চ্যালেঞ্জ। আমাদের স্টক মার্কেট খুবই আন্ডার ডেভলপ, খুবই করাপশন। তবু বলা যায় অল্প কিছু স্টক আছে, যেগুলো রিলায়েবল। স্টক মার্কেটে কিছু বিনিয়োগের সুযোগ রাখা উচিত। এটা পৃথিবীর সব দেশেই রাখে। তবে এই বিনিয়োগ শুধু ট্রিপল ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানিতে করার সুযোগ রাখা যেতে পারে, তার বাইরে না।

শেয়ারবাজারের বাইরে কোথায় বিনিয়োগ করা যেতে পারে? এমন প্রশ্নে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, বন্ড মার্কেটে বিনিয়োগ করা যেতে পারে। সরকারি বন্ডের কথা যেটা বলা হলো, সেটা করা যেতে পারে। এর বাইরে ভালো কোম্পানি যদি বাজারে বন্ড ছাড়ে, সেখানে বিনিয়োগ করা যেতে পারে। এছাড়া সরকার যদি ভালো প্রকল্প নিয়ে আসে, সেখানে বিনিয়োগ করা যেতে পারে। যেমন- দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বা প্রথম পদ্মা সেতু থেকে একটা বন্ড ইস্যু করলো, ৯-১০ শতাংশ মুনাফা দেয়, সেটাতে বিনিয়োগ করা যেতে পারে। তাহলে সরকারও কিছু ফান্ড পেয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, বিনিয়োগটা ভালো জায়গায় না হলে চালান গায়েব হয়ে যাবে। এটা খুবই চ্যালেঞ্জিং। এই ফান্ড যেন যেনতেনভাবে যে কোনো জায়গায় সরকারের ইচ্ছেমতো ব্যয় না হয়। রিজার্ভে যেমন হয়েছে- এই পয়রা বন্দরকে দিয়ে দাও, অমুককে দিয়ে দাও। দিয়ে দেখা গেলো ৭ বিলিয়ন ডলার নাই হয়ে গেছে। সেটা করা যাবে না।

অর্থনীতিবিদ ড. জায়েদ বখত বলেন, সর্বজনীন পেনশন খুবই ভালো পদক্ষেপ। এটা সামাজিক নিরাপত্তাকে মাথায় রেখে করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে শুরু করা হয়েছে, দেখা যাক কীভাবে যায়। এমনিতে ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। পরবর্তীতে এতে যদি কোনো কিছু সংযোজন করতে হয়, করা যাবে।

পেনশন স্কিমে জমা হওয়া চাঁদা কোথায় বিনিয়োগ করা যেতে পারে? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সরকারি বিনিয়োগ দেশের উন্নয়নের জন্য, সেদিক থেকে এগুলো কোনো ব্যবসায়িক বিনিয়োগ না। এগুলো (পেনশনের চাঁদার টাকা) দেশের উন্নয়নে ব্যবহার হবে। সরকার যেখানে দরকার মনে করবে, সেখানে ব্যবহার করবে। আমি এটাকে অত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছি না।

স্টক নিউজ বিডি.কম/এসএম

আরও পড়তে পারেন…

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

সর্বজনীন পেনশনের টাকা কোথায় যাবে?

স্টক নিউজ বিডি August 22, 2023

স্টক নিউজ বিডি অনলাইন ডেস্ক: সর্বস্তরের জনগণকে টেকসই ও সুসংগঠিত সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় আনতে প্রাথমিকভাবে প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা এবং সমতা- এই চার স্কিম নিয়ে সরকার সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচি চালু করেছে। শুরুতেই সর্বজনীন পেনশনে মানুষের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিদিনই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নিবন্ধন সম্পন্ন করে চাঁদা পরিশোধ করছেন। এরই মধ্যে পেনশনের আওতায় আসা ব্যক্তিরা তিন কোটি টাকার ওপরে চাঁদা জমা দিয়েছেন।

সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালুর পর এ নিয়ে দেসবাসীর মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে এই স্কিম নিরাপদ কি না, চাঁদার টাকা কী করা হবে, নিজেদের কষ্টের টাকায় পরিশোধ করা চাঁদার পেনশন সুবিধা ভোগ করতে পারবেন কি না- এমন কিছু প্রশ্নও করছেন অনেকে। তবে এই পেনশন স্কিম যে নিরাপদ এবং নাগরিকদের কল্যাণেই যে তা ব্যবহৃত হবে- তা নিশ্চিত করেছে সরকার।

পেনশনের আওতায় আসাদের জমা দেওয়া এই চাঁদা ঝুঁকিমুক্ত নিরাপদ খাতে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে এই টাকা কোন কোন খাতে বিনিয়োগ করা হবে, তা এখনো ঠিক করা হয়নি। এ লক্ষ্যে একটি বিনিয়োগ নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে এই নীতিমালা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। নীতিমালা তৈরি হয়ে গেলে সেই অনুযায়ী পেনশন স্কিমের টাকা বিনিয়োগ করা হবে।

অবশ্য এই বিনিয়োগ নীতিমালা তৈরির আগেই প্রাথমিকভাবে জমা হওয়া চাঁদার টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সরকারি সিকিউরিটিজে বা ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।

এই টাকা কোন কোন খাতে বিনিয়োগ করা হবে, তা এখনো ঠিক করা হয়নি। এ লক্ষ্যে একটি বিনিয়োগ নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে নীতিমালা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে

সূত্র জানিয়েছে, সরকার চাচ্ছে যারা পেনশন স্কিম গ্রহণ করে চাঁদা দেওয়া শুরু করবেন, তারা যেন তা মেয়াদ পূর্ণ পর্যন্ত চালিয়ে যান। এজন্য স্কিম পরিবর্তন এবং চাঁদা বকেয়া পড়লে তা পরবর্তীতে পরিশোধ করার সুযোগ রাখা হয়েছে। এরপরও যদি কেউ মেয়াদ পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত চাঁদা দিতে না পারেন, তাহলেও মুনাফাসহ জমা দেওয়া অর্থ ফেরত পাবেন।

এমনকি চাঁদার এক কিস্তি দেওয়ার পর যদি আর না দেন তাহলেও তিনি মুনাফাসহ জমা দেওয়া টাকা ফেরত পাবেন। তবে যখন খুশি তখন চাইলেই টাকা ফেরত পাওয়া যাবে না। যিনি পেনশন স্কিম গ্রহণ করবেন তার বয়স কেবল ৬০ বছর পূর্ণ হলেই চাঁদার অর্থ মুনাফাসহ ফেরত পাবেন।

সূত্রটি জানিয়েছে, পেনশন স্কিমের আওতায় চাঁদা বাবদ জমা হওয়া টাকা ফেলে রাখলে তা থেকে কোনো মুনাফা আসবে না। এজন্য চাঁদার টাকা বিনিয়োগ করা হবে। কীভাবে এবং কোথায় কোথায় এই অর্থ বিনিয়োগ করা হবে সেজন্য একটি নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে। ওই নীতিমালা অনুযায়ী পেনশন স্কিমের টাকা বিনিয়োগ করা হবে। তবে বিনিয়োগ নীতিমালা হওয়ার আগেও এই অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ আছে। এক্ষেত্রে সরকারি সিকিউরিটিজের মতো নিরাপদ লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করা হবে।

এদিকে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, পেনশন স্কিমের আওতায় চাঁদা বাবদ জমা হওয়া অর্থ বিনিয়োগের বিষয়টি খুবই চ্যালেঞ্জিং। বিনিয়োগটা ভালো জায়গায় না হলে চালান গায়েব হয়ে যাবে। এটা অবশ্যই ভালো রিটার্ন পাওয়া যাবে- এমন খাতে বিনিয়োগ করতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারি বন্ড, ভালো কোম্পানির বন্ড এবং শেয়ারবাজারের ভালো কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা যেতে পারে। পাশাপাশি পদ্মা সেতুর মতো প্রকল্পে অথবা এ ধরনের প্রকল্পের বন্ডে বিনিয়োগ করা যেতে পারে।

পেনশনের চাঁদার টাকা কোথায় বিনিয়োগ করা হবে- জানতে চাইলে সর্বজনীন পেনশন কর্তৃপক্ষের সদস্য গোলাম মোস্তফা জাগো নিউজকে বলেন, ‘জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে। এই জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ অ্যাডমিনিস্ট্রেট (পরিচালনা) করবে। সেখানে একটা বোর্ড আছে, বোর্ড গাইডলাইন তৈরি করবে এবং আমরা একটা বিনিয়োগ বিধিমালাও তৈরি করবো। সেটার কাজ চলছে।’

তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগ ছাড়া চলবে কীভাবে? বিনিয়োগ করতেই হবে। আমরা চাচ্ছি খুব দ্রুত বিনিয়োগ করতে। আমরা ফান্ড পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগের উদ্যোগ নেবো। গাইডলাইন তৈরির আগে যদি আমি সরকারি কোনো…(খাতে) বিনিয়োগ করি তাতেও সমস্যা নেই। যেমন আমি যদি ট্রেজারি বিল কিনি, ট্রেজারি বিলের থেকে নিরাপদ তো কিছু নেই। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ যদি মনে করে ট্রেজারি বিল কিনবো, তাতে কোনো সমস্যা নেই। তবে এখানে একটা প্রভিশন রাখা হয়েছে, তা হলো নিরাপদ বিনিয়োগের বাইরে আমরা কোনো বিনিয়োগ করবো না।’

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্ট ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘আমি মনে করি উদ্যোগটা (সর্বজনীন পেনশন) প্রশংসনীয়। তবে কথা হচ্ছে কাভারেজ কতটুকু হয়। কেননা, যারা ইনফরমাল সেক্টরে কাজ করে তারা কি প্রিমিয়াম দিতে পারবে? প্রিমিয়াম দিতে না পারলে এর আওতায় আসতে পারবে না। তারপর এই ফান্ড ফাইন্যান্সিং হয়, নাকি এখানে আবার সরকারকে ভর্তুকি দিতে হবে। এসব কতগুলো বিষয় আছে।’

বিনিয়োগটা যাতে লাভজনক হয় তার ব্যবস্থা করতে হবে। বিনিয়োগ থেকে যেন অবশ্যই ভালো রিটার্ন পাওয়া যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে

ফান্ডের টাকা কোথায় বিনিয়োগ করা যেতে পারে? এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘সুষ্ঠু বিনিয়োগ করে যাতে ফান্ডটা সেভ ফাইন্যান্সিং হয়, সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে। বিনিয়োগটা যাতে লাভজনক হয় তার ব্যবস্থা করতে হবে। বিনিয়োগ থেকে যেন অবশ্যই ভালো রিটার্ন পাওয়া যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’

সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে এই ফান্ডের অর্থ বিনিয়োগ করা উচিত হবে কি না- এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, সরকারের প্রকল্প থেকে ইনকাম কেমন আসবে সেটা দেখতে হবে। সব প্রকল্প থেকে তো ইনকাম আসে না। পদ্মা সেতু থেকে ইনকাম হচ্ছে, কিন্তু অনেক প্রকল্প থেকে তো ইনকাম হয় না। এগুলো দেখেশুনে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।’

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘সর্বজনীন পেনশন সরকার চালু করেছে ঠিকই, কিন্তু এটার পরিচালন ব্যবস্থা, প্রশাসনিক ব্যবস্থা, বিনিয়োগ পলিসি, বিনিয়োগ টিম এগুলোর কোনো কিছু ঠিক করা হয়নি। একটা সিস্টেমের মাধ্যমে করা হয়েছে, তবে এটা হিউজ ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট ইস্যু। সেটাও ঠিক করা হয়নি।’

‘বিশেষ করে সমতা অর্থাৎ গরিবদের জন্য যে স্কিম করা হয়েছে, সেখানে কীভাবে সিলেকশনটা হবে? আমি কি অ্যাপ্লাই করলেই আমাকে নেবে? তা তো হওয়ার কথা না। আমাকে তো গরিব হিসেবে প্রমাণ করতে হবে। সেটা কিসের ভিত্তিতে হবে, সেগুলো বলা হয়নি। কে সার্টিফাই করবে, কিসের ভিত্তিতে? এগুলো না করে এখন যদি আমি দিয়ে দেই তাহলে তো মুসকিল হয়ে যাবে। সরকারকে তো প্রতি মাসে প্রচুর পয়সা দিতে হবে। ফেক অ্যাকাউন্ট থাকতেই পারে, সেগুলো দূর করবো কীভাবে? সুতরাং এখানে অনেক চ্যালেঞ্জ আছে।’ বলেন বিশিষ্ট এই অর্থনীতিবিদ।

ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘একটা বড় অফিস লাগবে। শত শত কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকবে। সেখানে বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট থাকবে। অর্গানোগ্রাম থাকতে হবে। এগুলোর কিছুই করা হয়নি। অফিসটাও ভাড়া করা হয়নি।’

পেনশনের চাঁদার টাকা সরকারি ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করা যায় কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা (ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ) খুব বেশি করা ঠিক হবে না। এতে নিরাপত্তা থাকবে, কিন্তু রিটার্ন সেভাবে আসবে না। কারণ সরকারি সিকিউরিটিজে ৫-৬ শতাংশের মতো মুনাফা পাওয়া যায়। সরকারি বন্ডের সমস্যা হচ্ছে, তা বাজারভিত্তিক না। ব্যাংকাররা রাখে শুধু একটা কারণে, সেটা হলো এসএলআর শর্ত পূরণ করার জন্য, যা পাই তাই ভালো। যা পাই তাই দিয়ে তো আর পেনশন ফান্ড চলবে না। লিকুইডিটি ম্যানেজমেন্ট চলবে।’

পেনশন স্কিমে জমা হওয়া চাঁদা কোথায় বিনিয়োগ করা যেতে পারে? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্য এটা একটা চ্যালেঞ্জ। আমাদের স্টক মার্কেট খুবই আন্ডার ডেভেলপ, খুবই করাপশন। তবু বলা যায় অল্পকিছু স্টক আছে, যেগুলো রিলায়েবল। স্টক মার্কেটে কিছু বিনিয়োগের সুযোগ রাখা উচিত। এটা পৃথিবীর সব দেশেই রাখে। তবে এই বিনিয়োগ শুধু ট্রিপল ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানিতে করার সুযোগ রাখা যেতে পারে, তার বাইরে না।’

শেয়ারবাজারের বাইরে কোথায় বিনিয়োগ করা যেতে পারে? এমন প্রশ্ন করা হলে এ অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘বন্ড মার্কেটে বিনিয়োগ করা যেতে পারে। সরকারি বন্ডের কথা যেটা বলা হলো, সেটা করা যেতে পারে। এর বাইরে ভালো কোম্পানি যদি বাজারে বন্ড ছাড়ে, সেখানে বিনিয়োগ করা যেতে পারে। এছাড়া সরকার যদি ভালো প্রজেক্ট নিয়ে আসে, সেখানে বিনিয়োগ করা যেতে পারে। যেমন- দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বা প্রথম পদ্মা সেতু থেকে একটা বন্ড ইস্যু করলো, ৯-১০ শতাংশ মুনাফা দেয়, সেটাতে বিনিয়োগ করা যেতে পারে। তা হলে সরকারও কিছু ফান্ড পেয়ে যায়।’

বিনিয়োগটা ভালো জায়গায় না হলে চালান গায়েব হয়ে যাবে। এটা খুবই চ্যালেঞ্জিং। এই ফান্ড যেন যেনতেনভাবে যেকোনো জায়গায় সরকারের ইচ্ছামতো ব্যয় না হয়। রিজার্ভে যেমন হয়েছে

তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগটা ভালো জায়গায় না হলে চালান গায়েব হয়ে যাবে। এটা খুবই চ্যালেঞ্জিং। এই ফান্ড যেন যেনতেনভাবে যেকোনো জায়গায় সরকারের ইচ্ছামতো ব্যয় না হয়। রিজার্ভে যেমন হয়েছে- এই পয়রা বন্দরকে দিয়ে দাও, অমককে দিয়ে দাও। দিয়ে দেখা গেলো ৭ বিলিয়ন ডলার নাই হয়ে গেছে। সেটা করা যাবে না।’

আরেক অর্থনীতিবিদ ড. জায়েদ বখত বলেন, ‘সর্বজনীন পেনশন খুবই ভালো পদক্ষেপ। এটা সামাজিক নিরাপত্তাকে মাথায় রেখে করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে শুরু করা হয়েছে, দেখা যাক কীভাবে যায়। এমনিতে ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। পরে এতে যদি কোনো কিছু সংযোজন করতে হয়, করা যাবে।’

পেনশন স্কিমে জমা হওয়া চাঁদা কোথায় বিনিয়োগ করা যেতে পারে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সরকারি বিনিয়োগ দেশের উন্নয়নের জন্য, সেদিক থেকে এগুলো কোনো ব্যবসায়িক বিনিয়োগ না। এগুলো (পেনশনের চাঁদার টাকা) দেশের উন্নয়নে ব্যবহার হবে। সরকার যেখানে দরকার মনে করবে, সেখানে ব্যবহার করবে। আমি এটাকে অত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছি না।’

স্টক নিউজ বিডি.কম/এসএম

আরও পড়তে পারেন…

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail
orion_infusion

বিনিয়োগকারীদের পছন্দের শীর্ষে ওরিয়ন ইনফিউশন

স্টক নিউজ বিডি August 26, 2022

স্টক নিউজ বিডি অনলাইন ডেস্ক: গেলো সপ্তাহ কিছুটা ঊর্ধ্বমুখীতার মধ্যদিয়ে পার করেছে দেশের শেয়ারবাজার। এ ঊর্ধ্বমুখী বাজারে সপ্তাহজুড়েই দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখিয়েছে ওরিয়ন ইনফিউশন। এ কোম্পানিটির শেয়ার এক শ্রেণির বিনিয়োগকারীদের পছন্দের শীর্ষে থাকায় সপ্তাহজুড়েই দাম বেড়েছে। ফলে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দাম বাড়ার শীর্ষ স্থানটি দখল করেছে কোম্পানিটি।

গেলো সপ্তাহজুড়ে ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ার দাম বেড়েছে ৫০ দশমিক ৮৯ শতাংশ। টাকার অঙ্কে বেড়েছে ৭৪ টাকা ২০ পয়সা। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শেষে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম দাঁড়িয়েছে ২২০ টাকা, যা আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ১৪৫ টাকা ৮০ পয়সা।

কোম্পানিটির শেয়ারের এ দাম বাড়ানোকে অস্বাভাবিক বলছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসই। এ জন্য বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে প্রতিষ্ঠানটি বার্তাও প্রকাশ করেছে। কিন্তু তারপরও কোম্পানিটির শেয়ার দাম বাড়ার প্রবণতা থামেনি।

গত ৪ আগস্ট ডিএসই থেকে বিনিয়োগকারীদের জানানো হয়, কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বাড়ার কারণ জানতে চেয়ে নোটিশ পাঠানো হয়। তার উত্তরে কোম্পানিটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে— সম্প্রতি কোম্পানিটির শেয়ারের যে অস্বাভাবিক দাম বেড়েছে এবং লেনদেন বেড়েছে তার পেছনে কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদশীল তথ্য নেই।

ডিএসই থেকে যখন বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে বার্তা প্রকাশ করা হয়, সেসময় কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিল ১২৫ টাকা ৫০ পয়সা। অর্থাৎ ডিএসই থেকে সতর্ক বার্তা প্রকাশের পর কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম বেড়েছে ৯৪ টাকা ৫০ পয়সা।

শেয়ারের এমন দাম বাড়া কোম্পানিটি সর্বশেষ ২০২১ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত বছরের জন্য বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। এর আগে ২০২০ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত বছরেও কোম্পানিটি ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়। তার আগে ২০১৯ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত বছরে বিনিয়োগকারীদের ১৪ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয় কোম্পানিটি।

সর্বশেষ প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোম্পানিটি ২০২১ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত নয় মাসের ব্যবসায় শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ১২ পয়সা মুনাফা করেছে। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয় ২৬ পয়সা।

এদিকে দাম বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ তাদের কাছে থাকা কোম্পানিটির শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন। ফলে সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১১১ কোটি ৪৮ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। আর প্রতি কার্যদিবসে গড়ে লেনদেন হয়েছে ২২ কোটি ২৯ লাখ ৭২ হাজার টাকা।

২০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের এ কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ২ কোটি ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬০টি। এর মধ্যে ৪০ দশমিক ৬১ শতাংশ শেয়ার আছে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে। বাকি শেয়ারের মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে আছে ৩৯ দশমিক ৮২ শতাংশ। আর ১৯ দশমিক ২৮ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী এবং দশমিক ২৯ শতাংশ আছে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে।

গেলো সপ্তাহে দাম বাড়ার শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা মেট্রো স্পিনিংয়ের শেয়ার দাম বেড়েছে ৫০ দশমিক ৩৯ শতাংশ। ৩১ দশমিক ৫৯ শতাংশ দাম বাড়ার মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে পেপার প্রসেসিং অ্যান্ড প্যাকেজিং।

এছাড়া দাম বাড়ার শীর্ষ দশে স্থান করে নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ইউনিয়ন ক্যাপিটালের ২৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ, বাংলাদেশ মনোস্পুল পেপার প্রসেসিং ২৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ, রতনপুর স্টিল রি-রোলিং মিলসের ২৪ দশমিক ১২ শতাংশ, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্টের ২৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ, আইপিডিসি ফাইন্যান্সের ২৩ দশমিক ১০ শতাংশ, অ্যাপেক্স ফুডসের ২২ দশমিক ৩৩ শতাংশ এবং ফারইস্ট নিটিংয়ের ২২ দশমিক ২২ শতাংশ দাম বেড়েছে।

স্টক নিউজ বিডি.কম/এসএম

আরও পড়তে পারেন…

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail
বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদির ৩০ কোম্পানি

বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদির ৩০ কোম্পানি

স্টক নিউজ বিডি November 29, 2021

স্টক নিউজ বিডি অনলাইন ডেস্ক: সৌদি আরবের সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ, বন্দর, জ্বালানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন দেশটির পরিবহন ও লজিস্টিক সেবা মন্ত্রী প্রকৌশলী সালেহ বিন নাসের আল-জাসের।

রোববার (২৮ নভেম্বর) গণভবনে শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতকালে সৌদি মন্ত্রী এ কথা বলেন বলে প্রধানমন্ত্রী প্রেস উইং জানিয়েছে।

সাক্ষাতকালে সৌদি মন্ত্রী শেখ হাসিনাকে খাদেমুল হারামাইন শরিফাইন বাদশাহ সালমানের শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন।এ সময় প্রধানমন্ত্রী সৌদি মন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের জন্য ধন্যবাদ জানান।

সৌদি মন্ত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা দেখে তিনি অত্যন্ত মুগ্ধ হয়েছেন।বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে সৌদি আরবকে বাংলাদেশের সমর্থনের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।

এ সময় শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের জন্য বিনিয়োগের দুয়ার উন্মুক্ত করেছে।সাক্ষাতকালে বাংলাদেশ সরকারের নীতির প্রশংসা করেন সৌদি মন্ত্রী।

সৌদি মন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবের কিছু প্রধান কোম্পানি নির্মাণ ও বিদ্যুৎ খাতে খুব ভালো কাজ করছে। ৩০টিরও বেশি সৌদি কোম্পানি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চায়।

বাংলাদেশের উন্নয়নে গতিশীল ভূমিকার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে সৌদি মন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ শীর্ষ সম্মেলন, বাংলাদেশে অংশগ্রহণের জন্য মন্ত্রী ও তার প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ জানান।আগামী দিনে উভয় দেশই তাদের পারস্পরিক উন্নয়নের জন্য একসঙ্গে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

স্টক নিউজ বিডি.কম/এসএম

আরও পড়তে পারেন……

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail
বিকাশে সফটব্যাংকের বিনিয়োগের খবরে শেয়ারের দাম বাড়ছে ব্র্যাক ব্যাংকের

বিকাশে সফটব্যাংকের বিনিয়োগের খবরে শেয়ারের দাম বাড়ছে ব্র্যাক ব্যাংকের

স্টক নিউজ বিডি November 11, 2021

স্টক নিউজ বিডি অনলাইন ডেস্ক: মোবাইল ফোনে আর্থিক সেবা কোম্পানি বিকাশের ২০ শতাংশ শেয়ার কিনে জাপানের প্রযুক্তি খাতের বৃহত্তম বিনিয়োগ কোম্পানি সফটব্যাংক আসছে বাংলাদেশে। বিকাশের অধিকাংশ শেয়ারের মালিক ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ ইতোমধ্যে বর্তমান শেয়ারহোল্ডারদের সাথে সফটব্যাংকের শেয়ার হস্তান্তরের চুক্তি অনুমোদন করেছে।

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্র্যাক ব্যাংক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তথ্যটি প্রকাশ করেছে বুধবার তবে সেখানে আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ প্রকাশ করা হয়নি। বিকাশের প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি দুই ধরনের শেয়ারেই সফটব্যাংক বিনিয়োগ করবে বলে জানিয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক। নতুন বিনিয়োগের ফলে বিকাশে ব্র্যাক ব্যাংকের অংশীদারিত্বে কোনো পরিবর্তন আসছে না। অর্থাৎ সফটব্যাংক বিকাশের বর্তমান বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে শেয়ার কেনার এবং নতুন ইস্যু করা শেয়ারও পাবে। তবে ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ারে পরিবর্তন না আসায় বিকাশের অন্য শেয়ার হোল্ডারদের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি হবে সফটব্যাংকের কাছে। তবে কারা শেয়ার বিক্রি করছে সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি ব্র্যাক ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে।

আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে ব্র্যাক ব্যাংক বিকাশের ৫১ শতাংশের মালিক। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ কোম্পানি মানি ইন দ্য মোশশের হাতে ২৯ শতাংশ, বিশ্ব ব্যাংকের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান আইএফসির হাতে ৯ দশমিক ৯ শতাংশ এবং আলিবাবা গ্রুপের কোম্পানি আলিপের কাছে বাকি ১০ দশমিক ১০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। এছাড়া বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন এবং আলিপে সিংগাপুর প্রেফারেন্স শেয়ার আকারেও বিকাশে বিনিয়োগ করেছে।

বিকাশে সফটব্যাংকের বিনিয়োগের খবরে শেয়রবাজারে বৃহস্পতিবার ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ারের দাম বেড়ে সার্কিট ব্রেকার স্পর্শ করেছে। বৃহস্পতিবার ১০ টা ৪৯ মিনিটে ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ারের দাম ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ বেড়ে ৪৮ টাকা ৭০ পয়সা হয়। যা আগের দিন ছিল ৪৪ টাকা ৩০ পয়সা। কোম্পানিটি ৪৫২ বারে ১৭ লাখ ২৮ হাজার ৪৯০টি শেয়ার লেনদেন করে।

জাপান ভিত্তিক বহুজাতিক বিনিয়োগ কোম্পানি সফটব্যাংক ১০০ বিলিয়ন ডলারের ভিশন ফান্ড পরিচালনা করে। ভিশন ফান্ডের মাধ্যমে তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তথ্য প্রযুক্তি কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে।

বিকাশ বিনিয়োগ পাচ্ছে সফটব্যাংকের ভিশন ফান্ডের একটি অংশের (ভিশন ফান্ড-২ বিম (ডিই) এলএলসি)। এর আগে তারা ভারতের ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ফ্লিপকার্টে বিনিয়োগ করেছে। বাংলাদেশের মোবাইল ফোনে আর্থিক সেবার (এমএফএস) বিকাশ ২০১১ সাল থেকে কাজ করছে। ২০২০ সালে তাদের লোকসানের পরিমাণ ছিল ৬৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। অন্যদিকে ব্র্যাক ব্যাংক ২০২০ অর্থবছরে মুনাফা করেছে ৪৪১ কোটি ৩৪
স্টক নিউজ বিডি.কম/এসএম

আরও পড়তে পারেন……

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail
শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের প্রধান ৫ পরামর্শ?

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের প্রধান ৫ পরামর্শ?

স্টক নিউজ বিডি August 26, 2021

স্টক নিউজ বিডি ডেস্ক: শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ সব সময়ই ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে যদি না জেনে, না বুঝে কেউ বিনিয়োগ করেন, তাহলে তাতে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। শেয়ারবাজারের এ ঝুঁকি টাকা হারানোর। এই ঝুঁকির বিপরীতে আছে বেশি মুনাফার সম্ভাবনাও। সেই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে বিনিয়োগের আগে জানতে হবে কিছু বিষয়ে। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের আগে একজন বিনিয়োগকারীর কোন বিষয়গুলো জানা দরকার। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধান পাঁচটি পরামর্শ হলো—

১. কোম্পানির সুনাম ও সুশাসন

শেয়ারবাজারে কোনো কোম্পানিতে বিনিয়োগের আগে একজন বিনিয়োগকারীকে সবার আগে দেখতে হবে ওই কোম্পানির সুনাম ও সুশাসন পরিস্থিতি। কোম্পানিটি নিয়মনীতি মেনে চলছে কি না, মানলে কী ধরনের নিয়মনীতিগুলো মানছে, তা জানতে হবে। আবার কোম্পানিটির মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার ধরন কেমন, সেটি দেখতে হবে। কোম্পানি পরিচালনার ক্ষেত্রে পেশাদারি আছে কি না, সেটা জানা খুব জরুরি। আবার মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের জন্য আলাদা আলাদা দায়দায়িত্ব নির্ধারিত আছে কি না, সেটিও দেখতে হবে। আমাদের দেশে দেখি, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কোম্পানির মালিকেরাই কোম্পানির ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত। এ ক্ষেত্রে দেখতে হবে মালিকেরা যথেষ্ট শেয়ার ধারণ করছেন কিনা। এর বাইরে কোম্পানিগুলো তাদের হিসাব নিরীক্ষার জন্য কী ধরনের নিরীক্ষক নিয়োগ করছে, সেটি দেখেও কোম্পানিটির সুশাসনের বিষয়ে ধারণা পাওয়া যায়।

যদি দেখা যায় প্রতিষ্ঠিত নিরীক্ষক দিয়ে নিরীক্ষা করানো হয়, তাহলে ওই কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্বাস করা যায়। অখ্যাত বা নামডাক নেই, এমন নিরীক্ষক দিয়ে যদি কোনো কোম্পানি বছরের পর বছর নিরীক্ষক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে, তাহলে ওই কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকে।

২. শেয়ারের দাম অতিমূল্যায়িত না অবমূল্যায়িত

কোম্পানির সুনাম ও সুশাসন পরিস্থিতি দেখার পর বিনিয়োগের আগে দেখতে হবে, বাজারে ওই শেয়ারের দাম কত। বাজারে শেয়ারের দাম বিনিয়োগযোগ্য কি না, বিনিয়োগের আগে সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে। শেয়ারের দাম বিনিয়োগযোগ্য কি না, সেটা বোঝার বা জানার জন্য অনেক পন্থা আছে। মূল্য আয় অনুপাত বা পিই রেশিওর ভিত্তিতে সহজেই বোঝা যায়, শেয়ারের দাম অতিমূল্যায়িত নাকি অবমূল্যায়িত অবস্থায় আছে। এ ক্ষেত্রে খাতভিত্তিক পিই রেশিওকে বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে। ধরা যাক, ওষুধ খাতের কোম্পানিগুলোর গড় পিই রেশিও ১৫। এর মধ্যে ওই খাতের একটি কোম্পানির পিই রেশিও যদি ৩০ হয়, তাহলে সেটা হুট করে সেই শেয়ারে বিনিয়োগ করা মোটেই যুক্তিসংগত হবে না। বরং খুঁজে দেখতে হবে পিইও বেশি হওয়ার কারণ।

কোনো কোম্পানির একটি প্রান্তিকে আয় দেখে ওই কোম্পানিতে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। ৩ থেকে ৫ বছরের আয়ের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখতে হবে। এ ছাড়া দেখতে হবে কোম্পানির শেয়ারের বাজারমূল্য ওই কোম্পানির এনএভির (প্রকৃত সম্পদমূল্য) তুলনায় কত গুণ বেশি। মনে রাখতে হবে, এনএভির তুলনায় যে শেয়ারের দাম যত বেশি হবে, সেই শেয়ারে ঝুঁকিও তত বেশি। এর বাইরে বিনিয়োগের আগে ওই কোম্পানির কয়েক বছরের গড় বাজারমূল্যও দেখা উচিত।

৩. আয় প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা

একটি কোম্পানির শেয়ারের বাজারমূল্য অনেকটাই নির্ভর করে তার ভবিষ্যৎ আয় প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনার ওপর। যদি একটি কোম্পানির আয়ে চলতি বছর ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয় এবং ভবিষ্যতেও এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে ওই কোম্পানির শেয়ারের বাজারমূল্যের ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি যৌক্তিক। অন্যদিকে একটি কোম্পানির বার্ষিক আয় ৫ শতাংশ বাড়লে ওই কোম্পানির বাজারমূল্য ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়া যৌক্তিক নয়। অন্যদিকে এককালীন মুনাফা বা কোনো এক প্রান্তিকের মুনাফার প্রবৃদ্ধির কারণে শেয়ারের বাজারমূল্যে বড় পরিবর্তন হওয়াটাও যথাযথ না। কারণ, এক প্রান্তিক বা এককালীন মুনাফা বা আয় স্থায়ী না। এ ছাড়া কোম্পানির ভবিষ্যৎ আয় প্রবৃদ্ধি নিরূপণ করার জন্য ওই কোম্পানির অতীতের কয়েক বছরের আয় প্রবৃদ্ধির তথ্যও যাচাই–বাছাই করে দেখতে হবে।

৪. বিনিয়োগ থেকে মুনাফার সম্ভাবনা

আপনি যে কোম্পানিতে বিনিয়োগ করবেন, বিনিয়োগ করার আগে সেই কোম্পানির লভ্যাংশ দেওয়ার সক্ষমতা যাচাই করতে হবে। এ জন্য ডিভিডেন্ড ইল্ডও বিবেচনায় নেওয়া দরকার। ধরা যাক, আপনি বাজার থেকে কোনো কোম্পানির শেয়ার ২০ টাকায় কিনেছেন। ওই কোম্পানি বছর শেষে ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিল। তাহলে কোম্পানিটির ডিভিডেন্ড ইল্ড দাঁড়াবে ১০ শতাংশে। এখন যদি দেখা যায়, বাজারের অন্য সুদহারের চেয়ে ওই কোম্পানির ডিভিডেন্ড ইল্ড বেশি, তাহলে ওই কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা লাভজনক। এর বাইরে মূলধনি মুনাফার সম্ভাবনাও রয়েছে।

৫. ব্যবসা টেকসই কি না

আপনি যে কোম্পানিতে বিনিয়োগ করবেন, বিনিয়োগের আগে সেই কোম্পানির ব্যবসা সম্পর্কে জানাটা খুবই জরুরি। শুধু ব্যবসা সম্পর্কে জেনে থেমে থাকলেই চলবে না। জানতে হবে ওই ব্যবসা কতটা টেকসই, ব্যবসা সম্প্রসারণের সক্ষমতা কেমন। প্রতিযোগীদের তুলনায় বাজারে অবস্থান কেমন, তা–ও জানতে হবে। দেখা গেল, এমন এক কোম্পানিতে বিনিয়োগ করছেন, যে কোম্পানির ব্যবসার ভবিষ্যৎ ভালো নয়। তাহলে ওই কোম্পানি থেকে আপনার মুনাফা করা কঠিন হবে। যে কোম্পানিতে বিনিয়োগ করবেন, সেই কোম্পানি ব্যবসায় আগামী পাঁচ–সাত বছর টিকবে কি না, সেটি যাচাই করে দেখা জরুরি।তবে মনে রাখতে হবে, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে হলে দীর্ঘ সময় বিনিয়োগ ধরে রাখার ইচ্ছে থাকতে হবে। বিনিয়োগ করার পর থেকেই মুনাফার চিন্তা করলে হবে না। বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ও পরে ধৈর্য ধারণ করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যেকোনো সম্পদ কিনতে হবে কম দামে, বিক্রি করতে হবে বেশি দামে। শেয়ারবাজারে শেয়ার কেনার ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য।

স্টক নিউজ বিডি.কম

আরও খবর পড়ুন……

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

সর্বশেষ খবর

  • ৪০০ মেগাওয়াট সক্ষমতা নিয়ে আইপিওতে কনফিডেন্স পাওয়ার, লক্ষ্য ২ হাজার

  • বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা প্রদানে মিডল্যান্ড ব্যাংক ও প্ল্যান মেডি ট্রিপ লিমিটেডের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

  • নেসকোর এমডির বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ, ব্যাহত হচ্ছে এইচটি বিদ্যুৎ সংযোগ!

  • ইবনে সিনা ন্যাচারাল মেডিসিনের কারখানায় আগুন, ক্ষতি ২০–২৫ কোটি টাকা

  • ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসে আগুন: ৩০–৪০ কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা

সর্বাধিক পঠিত

  • শমরিতা হসপিটালের লভ্যাংশ ঘোষণা

  • ৪০০ মেগাওয়াট সক্ষমতা নিয়ে আইপিওতে কনফিডেন্স পাওয়ার, লক্ষ্য ২ হাজার

  • নেসকোর এমডির বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ, ব্যাহত হচ্ছে এইচটি বিদ্যুৎ সংযোগ!

  • বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা প্রদানে মিডল্যান্ড ব্যাংক ও প্ল্যান মেডি ট্রিপ লিমিটেডের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

  • স্যালভো অর্গানিক ইন্ডাস্ট্রিজের ২.৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা

  • ওয়ালটন হাই-টেকের ১৯০ শতাংশ লভ্যাংশ অনুমোদন

  • গোপনীয়তা নীতি
  • নীতিমালা
  • যোগাযোগ

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোঃ শামীম রেজা
মোবাইল নাম্বারঃ ০১৫২১৩৬৫৭২৩
ই-মেইলঃ stocknewsbd24@gmail.com
মোবাইল নাম্বারঃ ০১৫২১৩৬৭৫২২
অফিসঃ হাউজ নংঃ ১০১, রোড নংঃ ৩, সেক্টরঃ ৬, উত্তরা ঢাকা-১২৩০।
স্বত্ব © ২০২৬ স্টক নিউজ বিডি।


Back To Top
Stock News BD | Latest Online Most Popular Newspaper
  • হোম
  • শেয়ার বাজার
    • আজকের লেনদেন
    • কোম্পানি সংবাদ
    • বোর্ড সভা
    • এজিএম / ইজিএম
    • আইপিও / রাইট
    • লভ্যাংশ
    • উপদেশ
    • পিএসআই
  • অনুসন্ধানী বিশ্লেষণ
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • খেলাধুলা
  • লাইফ স্টাইল
  • ইসলাম
  • বিনোদন
  • আরও
    • বিশেষ প্রতিবেদন
    • আইন-আদালত
    • গণমাধ্যম
    • চাকরি
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • স্বাস্থ্য
    • সংস্কৃতি
    • ভিডিও
    • অন্যান্য