স্টক নিউজ বিডি অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর কলাবাগান থানার সেন্ট্রাল রোডের ভূতের গলির ৭৭ নম্বর বাসার কোনো এক ফ্ল্যাটে এক গৃহকর্মীর মরদেহ পড়ে আছে। শুক্রবার দিনগত রাত ১টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে এমন তথ্য জানান অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি। পরে রাতেই কলাবাগান থানা পুলিশ আসে ওই বাসায়। কিন্তু ঘটনাটি কোন ফ্ল্যাটে ঘটেছে সে বিষয়ে সঠিক তথ্য না থাকায় ফিরে যায় পুলিশ।
পরদিন অর্থাৎ আজ শনিবার সকাল সাতটার দিকে কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সদস্য পুরো বাসা খোঁজ করেন। এসময় ভবনের দ্বিতীয় তলা (ই-১ নম্বর ফ্ল্যাট) থেকে নিহত এক শিশু গৃহকর্মীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
শনিবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কলাবাগান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বিজন দাস।
তিনি বলেন, গতকাল রাতে ৯৯৯ এর মাধ্যমে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি কল করে ওই ভবনে গৃহকর্মীর মরদেহ থাকার তথ্য দেন। কিন্তু মধ্যরাতে গিয়ে ৬ তলা ভবনের ৪৪টি ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের ডাকা সম্ভব ছিল না। তাই সকাল ৭টার দিকে আমরা আবারও সেখানে যাই। পরে বাসার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ম্যানেজারের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে ৭টি বাসায় নক করি। এসময় দ্বিতীয় তলায় ই-১ এ নক করা হলে কেউ দরজা খুলছিল না। বাসায় সাথী আক্তার পারভীন নামের এক নারী ও তার সন্তান থাকেন বলে জেনেছি। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে কেউ দরজা না খোলায় আমরা ওসি ও বাসার মালিক সমিতির সদস্যদের উপস্থিতিতে দরজা ভেঙে বিছানায় গৃহকর্মীর মরদেহ পাই। নিহত গৃহকর্মীর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
এরপর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
তথ্য দেওয়া নম্বরের বিষয়ে জানতে চাইলে পরিদর্শক বিজন দাস বলেন, নম্বরটি এখন বন্ধ। তার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছি।
এ বিষয়ে ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, শিশুটিকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। তার শরীরের অনেক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মেয়েটির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বয়স সাত/আট বছরের মতো হবে। ওই বাসায় থাকতেন সাথী আক্তার পারভীন নামের এক নারী। ডিভোর্সি এ নারী এর আগেও শিশুটিকে মারধর করতেন। প্রতিবেশীরা মারধরের কথা পুলিশকে জানিয়েছেন। শিশুটিকে হত্যা করে ২৪ আগস্ট সকালে সাথী আক্তার তার বাচ্চাসহ বাসা থেকে বের হয়ে যান। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে তা দেখা গেছে।
সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, গত ২৪ আগস্ট সকাল ৯টা ৪ মিনিটে নিজের শিশু সন্তানকে নিয়ে হেঁটে বের হয়ে যান সাথী। এর ৫ মিনিট পর ৯টা ৯ মিনিটে আবারও ফিরে আসেন। পরবর্তীতে ৮ মিনিট পরে বের হয়ে যান। এরপর আর তিনি ফেরেননি।
ভবনের সার্বিক দেখভাল করেন মফিজুর রহমান। দুই বছর ধরে ওই ভবনে দায়িত্ব পালন করা মফিজুর বলেন, ২০১৬ সাল থেকে সাথী ও তার স্বামী ডা. শহীদুল হক রাহাত এখানে বসবাস করতেন। কিন্তু তার স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় তাদের ডিভোর্স হয়। এরপর তারা ফ্ল্যাটটি বিক্রি করে দেন।
ভবনের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাথীর গ্রামের বাড়ি পাবনায়। নিহত গৃহকর্মীও একই এলাকার। তবে তার নাম-পরিচয় জানা যায়নি। সাথী ও ডা. শহীদুলের ছিল দ্বিতীয় বিয়ে। তবে বর্তমানে তারা আলাদা থাকেন। তাদের তিন বছরের একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। তাদের ডিভোর্সের বিষয়ে পারিবারিক আদালতে একটি মামলা বিচারাধীন।
স্টক নিউজ বিডি.কম/এসএম
আরও পড়তে পারেন…
