Stock News BD | Latest Online Most Popular Newspaper
  • হোম
  • শেয়ার বাজার
    • আজকের লেনদেন
    • কোম্পানি সংবাদ
    • বোর্ড সভা
    • এজিএম / ইজিএম
    • আইপিও / রাইট
    • লভ্যাংশ
    • উপদেশ
    • পিএসআই
  • অনুসন্ধানী বিশ্লেষণ
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • খেলাধুলা
  • লাইফ স্টাইল
  • ইসলাম
  • বিনোদন
  • আরও
    • বিশেষ প্রতিবেদন
    • আইন-আদালত
    • গণমাধ্যম
    • চাকরি
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • স্বাস্থ্য
    • সংস্কৃতি
    • ভিডিও
    • অন্যান্য
Tag:

রাজনীতি

নিউইয়র্কে বিএনপি সমাবেশে রুহুল কুদ্দুস দুলু : জিয়া পরিবার দেশের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার রক্ষক

স্টক নিউজ বিডি September 26, 2025

স্টাফ রিপোর্টার আব্দুল মজিদ : বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, “জিয়া পরিবার বাংলাদেশের মাটিতে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে।”


তিনি বলেন, “১৯৭১ সালে জাতির ক্রান্তিলগ্নে যখন শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কাছে আত্মসমর্পণ করে এহিয়া খানের কাছে চলে গেলেন, তখন পুরো জাতি হতাশায় নিমজ্জিত হয়। সেসময় কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়া ঘোষণা দেন—‘আমি মেজর জিয়া বলছি’। সেই ঘোষণার পরই বাঙালি জাতি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতা অর্জন করে।”


তিনি আরও বলেন, “গর্বের সঙ্গে বলতে চাই আমরা বাংলাদেশের সন্তান। আগামী দিনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কোন ষড়যন্ত্র যাতে দানা বাঁধতে না পারে, সেজন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে এবং প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে।”


জাতিসংঘের ৮০তম অধিবেশনে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুসের ভাষণের পূর্বমুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রে এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত ১০টার দিকে নিউইয়র্ক শহরের জ্যাকসন হাইডসে মহানগর বিএনপি দক্ষিণ যুক্তরাষ্ট্র শাখার উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নিউইয়র্ক মহানগর বিএনপি দক্ষিণ যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ সোহরাব হোসেন। সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলমের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন আব্দুল লতিফ সম্রাট, গিয়াস আহম্মদ, মোস্তফা কামাল বাবুলসহ বিএনপির নেতাকর্মীরা।


সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, দেশে বর্তমানে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার হুমকির মুখে। তাঁরা দলীয় ঐক্য জোরদার করে বিদেশের মাটিতেও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনকে গতিশীল রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

নাটোরে জামায়াতের নির্বাচনী সভা অনুষ্ঠিত

স্টক নিউজ বিডি September 15, 2025

স্টাফ রিপোর্টার আব্দুল মজিদ: বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, নাটোর সুগার মিল শাখার উদ্যোগে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এক নির্বাচনী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে নাটোর সুগার মিলস্ ৯ নম্বর ওয়ার্ডে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।


সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নাটোর জেলা আমীর অধ্যাপক ড. মীর নূরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা শাখার নায়েবে আমীর ও নাটোর সদর-নলডাঙ্গা আসনে জামায়াতের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক মো: ইউনুছ আলী।


এছাড়া বক্তব্য রাখেন—বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নাটোর জেলা সভাপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান, নাটোর শহর শাখার আমীর অধ্যক্ষ মো: রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক মো. আলী আল মাসুদ মিলন, নাটোর সুগার মিল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. আইয়ুব আলী।

বক্তারা বলেন, দেশের শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তারা দাবি করেন, জনগণ পরিবর্তন চায় এবং আগামী নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থীদের বিজয় ঘটিয়ে সেই পরিবর্তনের পথ সুগম করতে হবে।
সভায় বক্তারা আরও বলেন, ইসলামি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষায় ও অধিকার আদায়ে জামায়াতের নেতৃত্বই একমাত্র ভরসা।
নির্বাচনী সভায় শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও স্থানীয় অঙ্গ-সংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

চোখের সামনেই ২৩৪ বিলিয়ন ডলার চুরি হাসিনার

স্টক নিউজ বিডি September 12, 2025

বিশেষ প্রতিবেদন: বাংলাদেশের হারানো বিলিয়ন: চোখের সামনেই চুরি’ নামে একটি তথ্যচিত্র প্রকাশ করেছে লন্ডনভিত্তিক ফিন্যান্সিয়াল টাইমস (এফটি)। তথ্যচিত্রে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে ২৩ হাজার ৪০০ কোটি (২৩৪ বিলিয়ন) ডলার পাচারের অভিযোগ করা হয়েছে। সেখানে দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার এবং তা পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে।

তথ্যচিত্রের শুরুতেই দেখানো হয়েছে শেখ হাসিনার পতনের প্রেক্ষাপট। ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে সরকারি চাকরিতে কোটা ঘিরে শেখ হাসিনার শাসন নিয়ে জমে থাকা ক্ষোভ ফেটে পড়ে। এ সময়ে হাসিনা ক্রমে আরও স্বৈরাচারী হয়ে উঠছিলেন; বিরোধীদের গণহারে কারাবন্দি করছিলেন। আর শেখ হাসিনা ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের দুর্নীতি এবং দেশের বিপুল অর্থ বিদেশে পাচারের খবর দেখে দেখে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছিল। পাচার হওয়া এই অর্থের বড় একটি অংশ যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছে।

এতে দেশটির লেবার পার্টির এমপি ও সাবেক মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিকসহ শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহানার পরিবারের কয়েক সদস্যও অভিযুক্ত। অবকাঠামো প্রকল্প থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় টিউলিপ সিদ্দিক ঘিরে অনেক প্রশ্ন উঠেছে। ফ্ল্যাট দুর্নীতিকে কেন্দ্র করে চলতি বছরের শুরুর দিকে টিউলিপ মন্ত্রীর পদ ত্যাগ করতে বাধ্য হন। এ ছাড়া এফটির সাংবাদিকরা সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীকে নিয়ে তদন্ত করতে গিয়ে দেখেন, তিনি যুক্তরাজ্যে ৩০০টির বেশি সম্পত্তির মালিক।

আর্থিক খাতের দুর্নীতি নিয়ে কাজ করা ব্রিটিশ সংস্থা স্পটলাইট অন করাপশনের উপপরিচালক হেলেন টেলর বলেন, পৃথিবীর অন্যতম দরিদ্র দেশের একজন মন্ত্রীর জন্য যুক্তরাজ্যে অন্তত ৩০০টি সম্পত্তি কেনা বিস্ময়কর। যেখানে এক ব্যক্তি বছরে দেশের বাইরে ১২ হাজার ডলারের বেশি নিতে পারেন না।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) ৩৫০টি সম্পত্তি শনাক্ত করে জব্দ করেছে, যা এফটির খোঁজ পাওয়া ৩০০টির বেশি সম্পত্তির সঙ্গে মিলে যায়। তথ্যচিত্রে জানানো হয়, ২০০৯ থেকে ’২৩ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ১ হাজার ৬০০ কোটি ডলার পাচার হয়েছে বলে অন্তর্বর্তী সরকার প্রাক্কলন করছে।

লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজের অর্থনীতির অধ্যাপক মোশতাক খান বলেন, ‘উন্নয়নশীল দেশে দুর্নীতির সাধারণ ধারা হলো, শাসক দলকে তার সমর্থকদের মধ্যে টাকা বিলাতে হয়। তা না হলে ক্ষমতায় টিকতে পারে না। আমার মনে হয়, শাসনামলের শেষ দিকে আওয়ামী লীগ অর্থনীতি ও নিজেদের দল– দুয়েরই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিল।’

প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার শাসনকালে শাসকদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইর সাহায্যে বিভিন্ন ব্যাংক নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার প্রসঙ্গটি তুলে ধরা হয়। বলা হয়, কিছু ব্যাংকের পরিচালককে গোয়েন্দারা অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে শেয়ার হস্তান্তর কাগজে সই করিয়ে পদত্যাগে বাধ্য করত। আর সেই শেয়ার যেত পুরোনো শাসকদের ঘনিষ্ঠদের হাতে। অন্তর্বর্তী সরকারের অনুমান, এস আলম ও তাঁর গ্রুপ বাংলাদেশ থেকে প্রায় এক হাজার কোটি ডলার, এমনকি তার চেয়েও বেশি অর্থ বের করে নিয়েছে।

দুর্নীতির বিষয়টি সবাই জানত

বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন খতিয়ে দেখছে, সাবেক শাসন-ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্প থেকে টাকা সরিয়েছেন কিনা। এর একটি হলো পদ্মা সেতু, যে প্রকল্পে দুর্নীতির শঙ্কায় বিশ্বব্যাংক ঋণ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। আরেকটি ছিল দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।

ড. মোশতাক খান বলেন, এগুলোর কিছুই গোপন ছিল না। পত্রপত্রিকায় ছিল, মিডিয়ায় আলোচনা হতো, দুর্নীতি ছিল প্রকাশ্য, চোখের সামনে; কিন্তু কিছু করার ক্ষমতা কারও ছিল না। অধিকাংশ মানুষ ছিল আতঙ্কে। তারা জানত, কথা বললে গায়েব হয়ে যেতে পারে। দুর্নীতির কথা সবাই জানত, তবু চুপ করে থাকত।

পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে চ্যালেঞ্জ

সম্পদ উদ্ধার টাস্কফোর্সের পরামর্শদাতা ইফতি ইসলাম বলেন, ‘আপনি যখন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার চুরি করেন, তখন আপনি বিশ্বের সেরা আর্থিক কাঠামোবিদ, পরামর্শক ও আইনজীবীদের ভাড়া করতে পারেন, যারা আপনার টাকা সরানো ও লুকাতে সাহায্য করেন। এটা সম্পদ উদ্ধারে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। আপনি টাকার হদিস না পেলে তা ফেরত আনতে পারবেন না।’

সম্পদ উদ্ধারের আরেক সমস্যা হলো, এতে প্রায়ই সমঝোতা করা লাগে। অর্থাৎ যে ব্যবসায়ী বা ধনকুবের টাকা চুরি করে দেশ থেকে পাচার করেছে, তার সঙ্গে চুক্তি করা। তখন একদিকে টাকা ফেরত আনা, অন্যদিকে বাংলাদেশিদের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে হয়।

প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, মানুষ বলে, সব টাকা আদায় সম্ভব নয়। আমরা যেটুকু পারি, তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। কিন্তু তার জন্য কঠিন প্রমাণ খুঁজে বের করতে হবে, পথ অনুসরণ করতে হবে; সংশ্লিষ্ট বিদেশি সরকারের সহযোগিতা পেতে হবে।

এফটির এগ্রিকালচার ও কমোডিটি করেসপনডেন্ট সুজ্যানা স্যাভিজ বলেন, যদি ইউনূস প্রশাসন অন্য দেশের সরকারগুলোকে যেমন যুক্তরাজ্যে এনসিএ যা করেছে, তেমন পদক্ষেপে রাজি করাতে পারে, তাহলে চাকা ঘুরতে শুরু করবে এবং থামানো কঠিন হবে। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে। যারা শেখ হাসিনার আমলে অর্থ পাচার করেছে, তারা ভবিষ্যতের সরকারের ওপর কতটা প্রভাব বিস্তার করবে, তার ওপরেই নির্ভর করবে দেশে দুর্নীতি কতটা ব্যাপক থাকবে।

সংস্কারের ভবিষ্যৎ

এফটির দক্ষিণ এশিয়া ব্যুরোপ্রধান জন রিড বলেন, বাংলাদেশের ‘বিপ্লব’ একটি টার্নিং পয়েন্ট বলে মনে হয়েছে। তবে এমনও হতে পারে, দেশ আবার এমন এক অবস্থায় ফিরে যাবে, যেখানে এক দল রাজনৈতিক শক্তির হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকবে।

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

সরকার আমাদের সংসদে নিয়ে গেছে এটা আংশিক সত্য: জিএম কাদের

স্টক নিউজ বিডি February 3, 2024

স্টক নিউজ বিডি অনলাইন ডেস্ক: জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের বলেছেন, নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগ একটা বিভ্রান্তিমূলক স্টেটমেন্ট দিয়েছে। আওয়ামী লীগ বলেছে, ২৬টা সিট জাতীয় পার্টির ফেভারে ছেড়েছে। আওয়ামী লীগের এ স্টেটমেন্টের কারণে ভোটে জাতীয় পার্টির চরম ক্ষতি হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের বদান্যতায় সংসদে গেছি বা সরকার সংসদে নিয়ে গেছে এটা আংশিক সত্য। সামগ্রিকভাবে এটা সত্য নয়। আমরা ফাইট করে এসেছি, উনারা শুধু নৌকা তুলে নিয়েছেন।

শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাপা চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

জিএম কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ একটা সিটও আমাদের ফেভারে ছাড়েনি। সব জায়গায় তাদের লোক দিয়েছে, ফাইট করেছে। আমাদের প্রার্থীদের যে কোনোভাবে পরাজিত করা হয়েছে। অনেকেই বলেছেন মহাজোট, অনেকেই বলেছেন সিট ভাগাভাগি হয়েছে। এ বিভ্রান্তি আওয়ামী লীগ ইচ্ছা করে করেছে অথবা ভুলে করেছে। তবে আমাদের চরম ক্ষতি হয়েছে। আমরা ৩০০ আসনে ফাইট দিয়েছি। যদি ৩০০ আসনে ফাইট একেবারে নিশ্চিতভাবে করতে পারতাম, তাহলে ফলাফল এর চেয়ে ভালো হতো। বিভ্রান্তির কারণে জাপা প্রার্থীরা নির্বাচনী পোস্টারে ‘সরকারদলের প্রধানের’ ছবি দিয়েছেন।

দলের সাম্প্রতিক সময়ের সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকে বলছেন আমাদের দল ভাগ হয়ে যাবে। এ মুহূর্তে দল ভাগ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখছি না। আরেকটা দল গঠন হতে পারে। এরশাদ সাহেবের নাম নিয়ে, আদর্শ নিয়ে আরও ১০টা দল গঠন হতে পারে। সেটার একটা প্রক্রিয়া আছে, যে কোনো লোক করতে পারে। তবে আমাদের যে দলের কাঠামোতে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, সেখান থেকে নতুন করে দল গঠন করার কোনো পরিবেশ বা পরিস্থিতি দেখতে পারছি না। দলের ব্যাপারে মানুষের ধারণা খুব একটা ভালো নয়।

জাপা চেয়ারম্যান বলেন, সরকারের বদান্যতায় আমরা সংসদে গেছি বা সরকার আমাদের সংসদে নিয়ে গেছে এটা আংশিক সত্য। সামগ্রিকভাবে এটা সত্য নয়। আমরা ফাইট করে এসেছি, উনারা শুধু নৌকা তুলে নিয়েছেন। আরেজন বলছেন আমরা পরের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এটাও আংশিক সত্য। আমরা চেষ্টা করছি এটা থেকে বেরিয়ে আসতে। আমি বলছি না, দল ভাঙবে। তবে দলের মধ্যে সংশোধন হওয়ার দরকার আছে। সংশোধন করতে না পারলে আগামীতে দলের প্রতি মানুষের আস্থা ভালোবাসা থাকবে না।

স্টক নিউজ বিডি.কম/এসএম

আরও পড়তে পারেন…

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

বেনাপোল এক্সপ্রেসে আগুনের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক

স্টক নিউজ বিডি January 6, 2024

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল শুক্রবার (৫ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর গোপীবাগ এলাকায় বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনের চারটি বগিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হতাহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নাশকতা কি না তা খতিয়ে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন।

বেনাপোল এক্সপ্রেসে আগুনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

এর আগে গতকাল শুক্রবার রাত ৯টা ৫ মিনিটে বেনাপোল এক্সপ্রেসে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। রাত ১০টা ২২ মিনিটে ট্রেনের আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, ট্রেনটি চলন্ত অবস্থায় ছিল। ট্রেনের চারটি বগি পুড়ে গেছে।

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

বুধবার অবরোধ বৃহস্পতিবার হরতাল

স্টক নিউজ বিডি November 27, 2023

স্টক নিউজ বিডি অনলাইন ডেস্ক: টানা অষ্টম দফায় আরও দুদিনের হরতাল-অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী বুধবার (২৯ নভেম্বর) সকাল ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত সারাদেশে অবরোধ কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি ও সরকারবিরোধী সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো।

সপ্তম দফা অবরোধের শেষ দিনে সোমবার (২৭ নভেম্বর) বিকেলে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী নতুন এ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ২৯ নভেম্বর বুধবার ভোর ৬টা থেকে ৩০ নভেম্বর বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা পর্যন্ত অষ্টম দফায় ২৪ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে। দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) সকাল-সন্ধ্যা হরতাল কর্মসূচি পালন করা হবে।

রিজভী জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে বিএনপির ৩৮৫ জন নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছে। এসময়ে ১৩টি মামলায় আসামি হয়েছে এক হাজার ৪৮০ জনকে।

এর আগে সপ্তম দফায় বিএনপির ডাকা অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয় গতকাল রোববার সকাল ৬টায়। যা শেষ হবে আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ৬টায়।

সংবাদপত্রের গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স, অক্সিজেন সিলিন্ডারবাহী গাড়ি ও জরুরি ওষুধ পরিবহন এসব কর্মসূচির আওতামুক্ত রাখা হচ্ছে।

বর্তমান সরকারের পতন ও নির্দলীয় সরকারের দাবিতে গত ২৮ অক্টোবর ঢাকায় মহাসমাবেশ পণ্ড হওয়ার পর থেকে ধারাবাহিকভাবে হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি দিয়ে আসছে বিএনপি। তাদের জোটসঙ্গীসহ সরকারবিরোধী অন্য দলগুলোও একযোগে এসব কর্মসূচি পালন করছে।

গত ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশে বাধা ও নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে ২৯ অক্টোবর সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দেয় বিএনপি। গত ৩১ অক্টোবর ভোর ৬টা থেকে প্রথম দফায় সারাদেশে তিনদিনের সড়ক, রেল ও নৌপথ অবরোধ শুরু করে বিএনপিসহ সরকারবিরোধী অন্য দলগুলো। পরের দফায় ৫ ও ৬ নভেম্বর ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ চলে।

তৃতীয় দফায় ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ ৮ নভেম্বর সকাল ৬টায় শুরু হয়ে ১০ নভেম্বর সকাল ৬টায় শেষ হয়। চতুর্থ দফার অবরোধ শুরু হয় ১২ নভেম্বর সকাল ৬টা থেকে, যা শেষ হয় ১৪ নভেম্বর সকাল ৬টায়। পঞ্চম দফায় ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ চলে ১৫ ও ১৬ নভেম্বর।

এরপর নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল প্রত্যাখ্যান করে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর ডাকা টানা ষষ্ঠ দফায় ৪৮ ঘণ্টার হরতালের কর্মসূচি চলে ২১ ও ২২ নভেম্বর।

স্টক নিউজ বিডি.কম/এসএম

আরও পড়তে পারেন…

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

তবে কি নৌকায় উঠছেন রওশন এরশাদ!

স্টক নিউজ বিডি November 25, 2023

স্টক নিউজ বিডি অনলাইন ডেস্ক: দ্বন্দ্বের শুরু ঠিক কবে, তা সঠিকভাবে জানা নেই কারও। তবে বারবার ভিন্ন ভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনায় আসেন তারা। এসব অবস্থান কখনো রহস্য বাড়ায়, কখনো হাসির খোরাক জোগায় রাজনৈতিক অঙ্গনে। সর্বশেষ দেবর-ভাবির দ্বন্দ্ব সামনে আসে গত ১৮ নভেম্বর, নির্বাচন কমিশনে (ইসি) চিঠি দেওয়া নিয়ে। সেদিন ইসিতে চিঠি দিয়ে রওশন এরশাদ বলেন, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নেবেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য প্রার্থীরা। অন্যদিকে জিএম কাদেরের পক্ষে দলের মহাসচিব চিঠি দিয়ে জানান, জাতীয় পার্টির ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি হিসেবে দলের প্রার্থী মনোনয়ন ও প্রতীক বরাদ্দ করবেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের, এমপি।

দেবর-ভাবির এ দ্বৈরথ চলছে এখনো। নির্বাচন কমিশনে দলীয় প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা দিতে হবে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে। তারই আলোকে ২০ নভেম্বর থেকে মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু করে জাতীয় পার্টি। চার দিনব্যাপী মনোনয়ন ফরম বিতরণ শেষ হয় ২৩ নভেম্বর। এ চারদিনে দলটির মনোনয়ন ফরম নেন ১ হাজার ৭৩৭ জন। তবে তাদের মধ্যে ছিলেন না রওশন এরশাদ ও ছেলে সাদ এরশাদ। ছিলেন না দলের বহিষ্কৃত প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা বা রওশনপন্থি অন্য নেতারা।

এ অবস্থায় বাধ্য হয়ে রওশন এরশাদ ও তার অনুসারীদের জন্য একদিন সময় বাড়ায় জাতীয় পার্টি। ২৪ নভেম্বর (শুক্রবার) থেকে শুরু হয় দলটির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার। একই সঙ্গে উন্মুক্ত থাকে মনোনয়নপত্র বিতরণের প্রক্রিয়া। তাতে বিশেষ কাজ হয়নি। বর্ধিত দিনে ১৫টি মনোনয়ন ফরম বিতরণ হলেও ফরম নেননি আলোচিত ওই নেতারা।

সব মিলিয়ে শুক্রবার থেকেই আলোচনা ডালপালা মেলতে থাকে, রওশন এরশাদ নিজে এবং তার অনুসারীরা কি তবে নৌকা মার্কায় নির্বাচন করতে যাচ্ছেন? জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের পত্নী রওশন এরশাদ কি তবে এবার লাঙ্গল ছেড়ে নৌকায় উঠতে যাচ্ছেন?

শুক্রবার বিকেলে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। রওশন এরশাদের মনোনয়ন নেওয়া না নেওয়া নিয়ে তিনি বলেন, বেগম রওশন এরশাদের জন্য কোনো সময়ের বাধ্যবাধকতা নেই, তিনি যখন বলবেন তখনই মনোনয়ন ফরম দেওয়া হবে। বেগম রওশন এরশাদ চাইলে মনোনয়ন ফরম তার বাসায় পৌঁছে দেবো। তিনি আমাদের শ্রদ্ধার পাত্র।

শুক্রবার বিকেলে বলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের প্রেস সেক্রেটারি খন্দকার দেলোয়ার জালালী। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত রওশনপন্থি কেউ মনোনয়ন নেয়নি। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে সময় শেষ হলেও রওশন এরশাদ ও সাদ এরশাদ যে কোনো সময় দলের মনোনয়ন ফরম নিতে পারবেন।

শনিবার খবর আসে, দলের মনোনয়ন ফরম চেয়েছেন রওশন এরশাদ। মহাসচিবকে ফোন করে তিনি তিনটি মনোনয়ন ফরম চেয়েছেন। একটি তার নিজের জন্য, আরেকটি ছেলে সাদ এরশাদের জন্য। অন্যটি ময়মনসিংহ বিভাগের জাপা নেতা ডা. কে আর ইসলামের জন্য।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শনিবার চুন্নু বলেন, আমাদের সম্মানিত প্রধান পৃষ্ঠপোষক বেগম রওশন এরশাদ গতকালও আমাকে ব্যক্তিগতভাবে ফোন করেছিলেন। তিনি তার পুত্র সাদ এরশাদ এবং ডা. কে আর ইসলামের জন্য তিনটি মনোনয়ন ফরম চেয়েছেন। আজ তার (বেগম রওশন এরশাদ) লোক এলে আমরা মনোনয়ন ফরম দেবো। বেগম রওশন এরশাদ বললে, আমরা তার মনোনয়ন ফরম পাঠিয়ে দেবো। প্রয়োজন হলে আমি নিজে গিয়ে পৌঁছে দেবো। আমার মনে হচ্ছে, আজ হয়তো মনোনয়নের জন্য লোক পাঠাবেন।

তবে শনিবার বিকেল ৪টা পেরিয়ে গেলেও মনোনয়ন ফরম তারা নেননি বা তাদের দিয়ে আসা হয়নি। সাধারণত প্রতিদিন বিকেল ৪টা পর্যন্ত দলটির অফিসিয়াল কার্যক্রম চলে।

এরই মধ্যে খবর বেরিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদের। সাক্ষাৎ করবেন রওশন এরশাদ নিজেও। তারা একসঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন নাকি আলাদা আলাদা ভাবে, সেটিও এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি গণমাধ্যমকে বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা না চাইলে কিছুই সম্ভব নয়। সমঝোতা তো হবেই। চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের নেতৃত্বে আমরা সিনিয়র নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবো। রওশন এরশাদ ও জিএম কাদের মিলে গেলে ৩৫-৪০টি আসনে ছাড় দেবে আওয়ামী লীগ। তা না হলে আসন কমতে পারে।

জাপার এই জ্যেষ্ঠ নেতার কথা ধরে কেউ কেউ হিসাব মেলাচ্ছেন, রওশন এরশাদ ও জিএম কাদের এখন পর্যন্ত মিলে যাওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। তারা না মিলে গেলে আসন ভাগাভাগির হিসাব কী হবে, কে কোন প্রতীকে নির্বাচন করবেন সেটিও এখন পর্যন্ত স্পষ্ট নয়।

সূত্র জানায়, মসিউর রহমান রাঙ্গাসহ বহিষ্কৃত নেতারা জিএম কাদেরের কাছে ক্ষমা চেয়ে আবেদন করতে পারবেন। চেয়ারম্যান ক্ষমা করলে, মনোনয়ন ফরম নিতে পারবেন তারা। মূলত রওশনপন্থি যে নেতাদের বহিষ্কার করা হয়েছে তারা মনোনয়ন ফরম নিতে পারছেন না বলেই তিনি নিজেও মনোনয়ন ফরম গ্রহণ করছেন না।

এ বিষয়ে রওশনপন্থি নেতা, জাপার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব (বর্তমানে বহিষ্কৃত) ইকবাল হোসেন রাজু জাগো নিউজকে বলেন, রওশন ম্যাডাম কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। উনি প্রধানমন্ত্রীর সময় চেয়েছেন। সময় এখনো পাননি। রওশন ও সাদ এরশাদকে মনোনয়ন দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। তারা আমাদের বাদ দিয়ে ভোট করবেন না। করলে তো আরও আগেই মনোনয়ন নিতেন। আমাদের দিক থেকে ম্যাডাম, সাদ এরশাদ ও রাঙ্গাসহ ২০-২২ জন আছে। জিএম কাদের যদি অনড় থাকেন, তাহলে সিদ্ধান্ত তো একটা নিতেই হবে। আমাদের কাউন্সিল হলে এ সমস্যাটা হতো না। কাউন্সিল উপর মহলের নির্দেশে হলো না। এখন কী হবে, ম্যাডাম কী করবেন, এটা প্রধানমন্ত্রী ও ম্যাডামের ব্যাপার। আবার নৌকা থেকেও পাওয়া কঠিন। তবে প্রধানমন্ত্রী চাইলে সেটা ব্যাপার নয়।

তিনি আরও বলেন, আমরা অনেক আগে থেকেই বলে আসছি, নির্বাচনে যাবো। তখন জিএম কাদের যাবেন না বলেছেন। এখন তো তারাও যাচ্ছেন। সমন্বয় তো হয়েছে। এখন শুধু অ্যাডজাস্টমেন্টের ব্যাপার। সেটা কীভাবে হবে তা প্রধানমন্ত্রীর ওপর নির্ভর করছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ২০১৮ সালের ২৪ ডিসেম্বর রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে নির্বাচনী শেষ জনসভা করেন প্রধানমন্ত্রী। সেদিন তিনি জাতীয় পার্টির প্রার্থী ঢাকা-৬ আসনের কাজী ফিরোজ রশিদের জন্য লাঙ্গলে ভোট চান।

কাজী ফিরোজ রশীদকে পরিচয় করিয়ে দিতে গিয়ে তিনি বলেন, যদিও তিনি ছাত্রলীগ করেছিলেন, এখন করেন জাতীয় পার্টি। চলে গেছেন এরশাদ সাহেবের সঙ্গে। জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবেই লাঙ্গল মার্কা নিয়ে তিনি এখন নির্বাচন করছেন। ছিলেন নৌকা মার্কায়, গেছেন লাঙ্গল মার্কায়। কোনো অসুবিধা নেই, ভবিষ্যতে আমরা লাঙ্গল নৌকায় তুলে নেবো। তবে এখন লাঙ্গল মার্কায় ঢাকা-৬ আসনে কাজী ফিরোজ রশীদের জন্য আমরা ভোট চাচ্ছি।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, রোববারের মধ্যে তিনশ আসনের প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। নতুন মুখও এসেছে, কিছু বাদও পড়েছে। বিজয়ী হতে পারেন এমন প্রার্থীদের বাদ দেয়নি আওয়ামী লীগ। মনোনয়নে ভুলত্রুটিও থাকতে পারে। একসঙ্গে তিনশ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।

ফলে রোববারই বোঝা যাবে, কারা উঠছেন নৌকায়। কারা বাদ পড়ছেন আর কারা অন্য প্রতীকে প্রার্থী হচ্ছেন।

স্টক নিউজ বিডি.কম/এসএম

আরও পড়তে পারেন…

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

নিবন্ধন ছাড়াই ‘বিকল্প পন্থায়’ নির্বাচনে যাবে জামায়াত

স্টক নিউজ বিডি November 25, 2023

স্টক নিউজ বিডি অনলাইন ডেস্ক: সবশেষ ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এর পরপরই দেশের স্থানীয় পর্যায়ে উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন নির্বাচনেও অংশগ্রহণ ছিল দলটির। কিন্তু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী ২০১০ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার বিচারকাজ শুরু হলে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়ে জামায়াত।

এরপর সংক্ষুব্ধদের দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে ২০১৩ সালের ১ আগস্ট রায় দেন হাইকোর্ট। ২০১৮ সালের ৭ ডিসেম্বর দলটির নিবন্ধন বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সবশেষ গত ১৯ নভেম্বর রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতকে দেওয়া নিবন্ধন অবৈধ মর্মে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ করে দেন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বেঞ্চ।

নিবন্ধন বাতিল হওয়ার পর জাতীয় কিংবা স্থানীয় কোনো নির্বাচনে দলীয়ভাবে অংশ নিতে পারেনি জামায়াতে ইসলামী। এরই মধ্যে দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গী বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট থেকেও দূরত্বে ছিল দলটি। তবে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে এখন আবারও সরকার পতনের এক দফা ও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিএনপির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আন্দোলন করছে জামায়াত।

তবে এই সবকিছুকে ছাপিয়ে দীর্ঘ প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ভোটের রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় থাকা জামায়াত গত ১০ জুন ঢাকায় প্রকাশ্য সমাবেশ করে নতুনভাবে আলোচনায় আসে। বিশেষত, নিবন্ধন জটিলতায় থাকা জামায়াতকে হঠাৎই ঢাকায় সমাবেশ করার জন্য সরকারের অনুমতি দেওয়া নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয় নানা তর্ক-বিতর্ক ও গুঞ্জন। এর প্রায় সাড়ে চার মাস পর গত ২৮ অক্টোবর অনেকটা আনুষ্ঠানিক অনুমতি ছাড়াই ঢাকায় জমায়েত করে দলটি।

নির্বাচন ও ভোট নিয়ে কী ভাবছে জামায়াত? দলটির নেতারা কি ভোটে অংশ নিতে আগ্রহী? যদি তেমনটি হয়ে থাকে তাহলে নিবন্ধন ও দলীয় প্রতীক ছাড়া কোন প্রক্রিয়ায় ভোটে আসবে জামায়াত? নিবন্ধন ও প্রতীকবিহীন একটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পদ্ধতি কী হতে পারে

কিন্তু নিবন্ধন বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে গত ১৯ নভেম্বর আবেদন খারিজের পর আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ভোট নিয়ে কী ভাবছে জামায়াত? দলটির নেতারা কি ভোটে অংশ নিতে আগ্রহী? যদি তেমনটি হয়ে থাকে তাহলে নিবন্ধন ও দলীয় প্রতীক ছাড়া কোন প্রক্রিয়ায় ভোটে আসবে জামায়াত? কী নামেইবা জনগণের সামনে দাঁড়াবে? নিবন্ধন ও প্রতীকবিহীন একটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পদ্ধতি কী হতে পারে, এ প্রশ্নটিও এখন উঁকি দিচ্ছে জনমনে।

নিবন্ধন বাতিল হওয়ার পর জামায়াত নেতারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন কি না, করলে কীভাবে করবেন, এসব প্রশ্ন নিয়ে দলটির একাধিক দায়িত্বশীল নেতার মুখোমুখি হলে তারা জানিয়েছেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বা অন্য কোনো প্রতীক নিয়ে ভোটে অংশ নিতে পারবেন জামায়াত নেতারা। নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হলে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনেও সেটি দেখা যেতে পারে। তবে কোনো কিছুই এখনো চূড়ান্ত নয়।

আইনজীবীদের ভাষ্য, নিবন্ধনের জন্য জামায়াত চাইলে এখনো আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে পারে। এছাড়া অন্য কোনো ত্রুটি থাকলে সেগুলো নিরসন করেও নিবন্ধনের জন্য নতুন করে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে তাদের। তবে এ মুহূর্তে জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াত কোন পথে ও কী কৌশলে এগোবে, এ বিষয়ে শিগগির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে দলটির বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

গত ২৮ অক্টোবর ঢাকায় মহাসমাবেশ পণ্ড হওয়ার পর লাগাতার সর্বাত্মক হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচি দিচ্ছে বিএনপি। তাদের সঙ্গে মিল রেখে জামায়াতও ধারাবাহিকভাবে এসব কর্মসূচি দিয়ে যাচ্ছে। জোটসঙ্গীসহ সরকারবিরোধী অন্য অনেক দলকেও এখন রাজপথের আন্দোলনে পাশে পাচ্ছে বিএনপি-জামায়াত। যদিও বিএনপি নেতারা বলছেন, অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন চান তারা। এক্ষেত্রে ভোটাধিকারের বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি হাইলাইটস করা হচ্ছে।

বিএনপি মনে করে, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের যে দাবি সেটি দেশের মানুষের পাশাপাশি বিদেশি রাষ্ট্রগুলোও গ্রহণ করেছে। এখন ধৈর্য, সততা ও ঐক্যই হচ্ছে তাদের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ। এছাড়া রাজনীতি ও ভোটের হিসাব- এ দুটি বিষয় পাশাপাশি রেখে সামনে এগোতে চাচ্ছেন তারা। আর ভোটের হিসাবে ইসলামী দলগুলো যে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর সেটিও অজানা নয় বিএনপির। দলটি এখন পর্যন্ত বিশ্বাস করছে, জনভিত্তি আছে এমন ইসলামী দলগুলো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না।

তবে সাম্প্রতিককালে রাজনীতির মাঠে জামায়াতকে নিয়ে রয়েছে চমকপ্রদ তথ্য। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভেতরে ভেতরে দল গোছানোর পাশাপাশি নির্বাচনে অংশ নেওয়ারও প্রস্তুতি রয়েছে নিবন্ধনহীন দলটির। নেতাদের দাবি, জামায়াতের প্রতি জনগণের সমর্থন রয়েছে। নিবন্ধন বাতিল হলেও তারা সব ধরনের নির্বাচনে অংশ নিতে চান। সেদিক থেকে বিকল্প পন্থাও খুঁজে নেওয়া হচ্ছে। জামায়াত নেতারা বলছেন, নিবন্ধন ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত দলীয় সমর্থনের প্রার্থী স্বতন্ত্র বা অন্য কোনো প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেবেন। যদিও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে দলটি এখনো অনড়। এ-ও বলা হচ্ছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া তারা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে না। এ অবস্থায় শেষ পর্যন্ত দলটি কী করে তা-ই এখন দেখার পালা।

জামায়াত নেতাদের অনেকে বলছেন, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিবেশ তৈরি হলে নিবন্ধন না থাকলেও বিকল্প পন্থায় (স্বতন্ত্র বা অন্য কোনো প্রতীকে) নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি রয়েছে তাদের। তারা মনে করেন, জামায়াত নির্বাচনমুখী দল। ফলে নির্বাচনী প্রস্তুতি তাদের নিয়মিত কাজেরই অংশ। শুধু সরকার পতন বা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতেই আন্দোলন করছেন না তারা, বরং দেশের মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনাই তাদের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য-উদ্দেশ্য।

জানা গেছে, তৃণমূলে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন জামায়াত নেতারা। দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় যাচ্ছেন, নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করছেন। আগামী দিনের আন্দোলন ও চ্যালেঞ্জগুলো নেতাকর্মীদের সামনে তুলে ধরছেন।

জামায়াতপন্থি একাধিক আইনজীবী নেতা জানিয়েছেন, তারা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে তা শুধু আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে নয়। কারণ, তারা মনে করেন এ সরকারের অধীনে বিগত দুটি সংসদ নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারেনি। আগামী নির্বাচনও দলীয় সরকারের অধীনে হলে জনরায়ের প্রতিফলন ঘটবে না। সেজন্য তারা বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে যেতে রাজি নয়। তারা মনে করছেন, নির্বাচনের প্রস্তুতি যে কোনো দলই নিতে পারে, এটি কোনো অস্বাভাবিক বিষয় নয়। জামায়াত নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবিতে আন্দোলন করছে। এ আন্দোলন সফল করার পর নির্বাচনের প্রসঙ্গটি সামনে আসবে।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ৭ জানুয়ারি। জোরেশোরে নির্বাচনী প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে জামায়াত নেতারা বলছেন, জামায়াত নির্বাচনমুখী একটি রাজনৈতিক দল। সব সময়ই মাঠপর্যায়ে প্রার্থী যাচাই-বাছাই চলে। এরই মধ্যে শতাধিক আসনে প্রার্থীও চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছিল। কিন্তু এই সরকারের অধীনে জামায়াত নির্বাচনে যাবে না।

নিবন্ধন অবৈধ মর্মে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে জামায়াতের করা লিভ টু আপিল খারিজ করে গত ১৯ নভেম্বর আপিল বিভাগ রায় দেন। ওইদিন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, আদালতে আপিলকারীর পক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ লিভ টু আপিল খারিজ করে দেন। এ আদেশের ফলে জামায়াত দলীয়ভাবে কিংবা দলীয় প্রতীক নিয়ে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না।

বাংলাদেশের গণপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী, রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন না থাকলে কোনো দল নির্বাচনে অংশ নিতে পারে না। তবে সংগঠন হিসেবে সক্রিয় থাকতে পারে দলটি।

নিবন্ধন নিয়ে হাইকোর্টের রায় আপিল বিভাগে বহাল থাকায় আইনগতভাবে (দলীয় প্রতীকে) এখন নির্বাচন করতে পারবে না জামায়াত। কিন্তু দলের যে কোনো নেতা যে কোনো কর্মী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। তাতে কোনো সমস্যা নেই। দল যখন নিবন্ধন পাবে তখন আবার দলীয় প্রতীকেই নির্বাচনে অংশ নেওয়া হবে

রায়ের পর জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার বঞ্চিত হয়েছে তার দল। রায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হতে পারে সে সম্পর্কে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরে জানানো হবে। এক্ষেত্রে নিবন্ধন বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে আবেদন খারিজের পর দলটি আপিল বিভাগের লিখিত রায়ের অপেক্ষায় বলে জানা গেছে।

গত ১৯ নভেম্বরের রায়ের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, জামায়াত তাহলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কী ভাবছে? এছাড়া দলীয়ভাবে কিংবা দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারেইবা তাদের বক্তব্য কী?

এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, নিবন্ধন নিয়ে হাইকোর্টের রায় আপিল বিভাগে বহাল থাকায় আইনগতভাবে (দলীয় প্রতীকে) এখন নির্বাচন করতে পারবে না জামায়াত। কিন্তু দলের যে কোনো নেতা যে কোনো কর্মী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। তাতে কোনো সমস্যা নেই। দল যখন নিবন্ধন পাবে তখন আবার দলীয় প্রতীকেই নির্বাচনে অংশ নেওয়া হবে।

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত অংশ নেবে কি না- সে বিষয়ে পরিষ্কার করে কিছু না বললেও তিনি বলেন, নিবন্ধন ছাড়া দলের নেতাকর্মীরা নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না সেটা এখনো নিশ্চিত করেননি। বাংলাদেশে ২০১৪ এবং ২০১৮ ছাড়া সব নির্বাচনে অংশ নিয়েছে জামায়াত। কিন্তু নির্দলীয় তথা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবো না।

এর আগে দলটির নেতারা জানিয়েছিলেন, বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে তাদের। সে অনুযায়ী, স্বতন্ত্র বা অন্য কোনো প্রতীকে জামায়াত নির্বাচনে অংশ নিলেও নির্বাচনটি হতে হবে নির্দলীয় সরকারের অধীনে।

এদিকে তফসিল ঘোষণার পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে এরই মধ্যে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিতরণ করেছে। চলছে প্রার্থী যাচাই-বাছাইয়ের কাজ। সংসদে বিরোধীদল জাতীয় পার্টি (জাপা) নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। তারাও মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করেছে। এছাড়া তৃণমূল বিএনপিসহ আরও কিছু দল একক বা জোটগতভাবে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে বিএনপি ও জামায়াতসহ সরকারবিরোধী বেশ কিছু দল ও জোট এখনো সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বিলুপ্তি এবং নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে অনড়। তারা একসঙ্গে ধারাবাহিকভাবে হরতাল-অবরোধ কর্মসূচিও দিয়ে যাচ্ছে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন, আনুষ্ঠানিক অবস্থান প্রকাশ না করলেও নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের হয়তো ‘বিকল্প চিন্তা’ আছে। যে কারণে তারা সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে আন্দোলন করছে।

জামায়াতের রাজনীতির পর্যবেক্ষক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিভাগের সাবেক শিক্ষক ড. আব্দুল লতিফ মাসুম বলেন, জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন থাকুক আর না-ই থাকুক, তাদের নেতাকর্মীরা দেশের নাগরিক হিসেবে স্বতন্ত্র বা অন্য কোনো প্রতীক নিয়ে আগামীতে নির্বাচনে যেতে পারেন। এজন্য ভিন্ন ধরনের বিকল্প হাতে রেখেছে দলটি।

তিনি বলেন, জামায়াতের বিকল্প ভাবনার মধ্যে নির্বাচনে অংশগ্রহণ বা নির্বাচন বর্জনের উভয় দিক থাকতে পারে। তবে দলটির সব সিদ্ধান্তই নির্ভর করবে পরিবেশ-পরিস্থিতির ওপর। আপাতত বিকল্প হিসেবে জামায়াত নেতাকর্মীরা অন্য কোনো দলের প্রতীক বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটে অংশ নিতে পারেন।

আওয়ামী লীগ নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে এরই মধ্যে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিতরণ করেছে। চলছে প্রার্থী যাচাই-বাছাইয়ের কাজ। সংসদে বিরোধীদল জাতীয় পার্টি (জাপা) নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। তারাও মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করেছে। এছাড়া তৃণমূল বিএনপিসহ আরও কিছু দল একক বা জোটগতভাবে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে

ড. আব্দুল লতিফ মাসুম মনে করেন, যদি দেশে নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি হয় এবং জোটমিত্র বিএনপি জোটগত নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে জামায়াতও নির্বাচনে যাওয়া-না যাওয়ার বিষয়টি অন্যভাবে বিবেচনা করতে পারে। এক্ষেত্রে হয়তো সবচেয়ে ভালো ও সুবিধাজনক বিকল্পটিই বেছে নেবে জামায়াত।

বিএনপি-জামায়াতপন্থি আইনজীবীদের সংগঠন ইউনাইটেড লইয়ার্স ফ্রন্টের কো-কনভেনর সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী বলেন, জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় তারা দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করতে পারবে না। অন্যদিকে নির্বাচনে যাওয়া-না যাওয়ার বিষয়টি তাদের একান্ত দলীয় সিদ্ধান্তের ব্যাপার। তবে তারাও বিএনপি বা জোটের সঙ্গে আছে। দলের নিবন্ধন না থাকলেও জামায়াত চাইলে বিকল্প পন্থায় নির্বাচনে যেতে পারে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বা অন্য কোনো দলের প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে কোনো বাধা নেই। এর আগেও আমরা জোট-মহাজোটের অনেক নেতাকে এ ধরনের পন্থায় ভোটে যেতে দেখেছি।

সুব্রত চৌধুরী মনে করেন, বিএনপির প্রতিপক্ষ হিসেবে জামায়াতকে মাঠে রাখার একটা চেষ্টা থাকতে পারে আওয়ামী লীগের। হয়তো এ কারণেই গত ২৮ অক্টোবর আনুষ্ঠানিক অনুমতি ছাড়াও বাধাহীনভাবে সমাবেশ করতে পেরেছে দলটি।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সমিতির সাবেক নেতা ও জামায়াতপন্থি আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. সাইফুর রহমান বলেন, আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। তবে তা আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে নয়। কারণ, বর্তমান সরকারের অধীনে বিগত দুটি সংসদ নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারেনি। আগামী নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনে হলে সেটিরই পুনরাবৃত্তি হবে। সে কারণে আমরা এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবো না।

তিনি বলেন, এ সিদ্ধান্ত আমাদের দলের আমির ও সেক্রেটারি জেনারেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত পরিষ্কার। তবে দেশে যদি নির্বাচনের পরিবেশ সরকার তৈরি করতে পারে বা তত্ত্বাবধায়কের আদলে কোনো সরকার আসে এবং বিএনপিসহ সমমান দলগুলো সেই নির্বাচনে অংশ নেয় তাহলে জামায়াতও অংশ নেবে।

‘নির্বাচনের জন্য যতটুকু প্রস্তুতি দরকার আমার বিশ্বাস এবং জানা মতে তা সর্বাত্মকভাবে নিয়ে রেখেছে দল। পরিবেশ তৈরি হলে জামায়াত স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে’- বলেন অ্যাডভোকেট সাইফুর।

রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতকে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া নিবন্ধনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০০৯ সালে রিট করেন বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের নেতা সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরীসহ ২৫ ব্যক্তি। রিটের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে ২০১৩ সালের ১ আগস্ট রায় দেন হাইকোর্ট। ওই বছরই হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে জামায়াত।

২০১৮ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২-এর আওতায় রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর জামায়াতে ইসলামীকে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছিল। সেখানে বলা হয়, দলটির নিবন্ধন নম্বর ছিল ১৪। ২০০৯ সালে হাইকোর্টে দায়ের করা ৬৩০ নম্বর রিট পিটিশনের রায়ে আদালত জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করায় গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৯০এইচ ধারা অনুযায়ী দলটির নিবন্ধন বাতিল করা হলো।

গত ১০ জুন রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জামায়াত যে সমাবেশ করে সেখান থেকে দলটির নেতারা বেশ কিছু দাবি তুলে ধরেন। যার মধ্যে অন্যতম দাবি ছিল দলের নিবন্ধন ফিরিয়ে দেওয়া। এছাড়া দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদ, আটক নেতাকর্মীদের মুক্তি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবি জানানো হয় সেই সমাবেশ থেকে।

২০১৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি মতিঝিলে বিক্ষোভ মিছিল করেছিল জামায়াত। এর পর ১০ বছরের বেশি সময় দলটি কোনো কর্মসূচি দিয়ে দাঁড়াতে পারেনি। গত ১০ জুনের সমাবেশ থেকে সরকার এবং সব দলকে নিয়ে আলোচনা এবং সরকার ও বিরোধীদের ঐক্যের আহ্বান জানায় জামায়াত। দলটি ঐক্যের ভিত্তিতে একটি ‘সঠিক বাংলাদেশ’ গড়ার কথাও বলে।

জিয়া-পরবর্তী এরশাদ সরকারের শাসনামলেও এদেশে নির্বিঘ্নে রাজনীতি করেছে জামায়াত। পরবর্তীকালে খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ও দলীয় মন্ত্রী-এমপি পেয়েছে তারা। আওয়ামী লীগ সরকারে ফেরার পর ২০১০ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকাজ শুরু হলে চাপ বাড়তে থাকে জামায়াতের ওপর

মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের পক্ষে অস্ত্র ধরে মুক্তিযুদ্ধের পর নিষিদ্ধ হওয়া জামায়াতে ইসলামী বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের বদান্যতায় রাজনীতিতে ফেরার পর এতটা দুর্দশায় আর পড়েনি।

১৯৮৬ সালের ৭ মে তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৭৬টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল জামায়াত। যেখানে দলটি ১০টি আসনে জয় পায়। ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচনে ২২২ জন দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দিয়ে ১৮টি আসনে জয় পায় জামায়াত। ১৯৯৬ সালের ১২ জুন সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনটি আসন পায় দলটি। ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের নির্বাচনে জামায়াত ১৭টি আসন পায় জামায়াত। সেবার সংরক্ষিত নারী আসন থেকেও চারটি আসনে জয়ী হয় তারা। সবশেষ ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুটি আসনে জয় পায় জামায়াত। ওই নির্বাচনে দলটি জোটগতভাবে ৩৯টি ও চারটিতে এককভাবে নির্বাচন করে। এরপর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে জামায়াত।

একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধের পর নিষিদ্ধ হওয়া জামায়াত বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের আমলে রাজনীতি ফেরে। জিয়া-পরবর্তী এরশাদ সরকারের শাসনামলেও এদেশে নির্বিঘ্নে রাজনীতি করেছে জামায়াত। পরবর্তীকালে খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ও দলীয় মন্ত্রী-এমপি পেয়েছে তারা। আওয়ামী লীগ সরকারে ফেরার পর ২০১০ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকাজ শুরু হলে চাপ বাড়তে থাকে জামায়াতের ওপর। তখন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দলটির শীর্ষস্থানীয় অধিকাংশ নেতার মৃত্যুদণ্ড বা আমৃত্যু কারাদণ্ড কার্যকর হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরের ২ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামীর ২০২৩-২৫ মেয়াদে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হয়। এরই মধ্যে ৮৬টি সাংগঠনিক জেলা শাখা ও এর অধীনে উপজেলা, থানা, পৌরসভা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড পর্যায়ের সব কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত বেশ কয়েক বছর ধরে প্রকাশ্য তৎপরতা দেখা না গেলেও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের আড়ালে অনেকটা গোপনে দলটি সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাচ্ছে বলেও জানা যায়।

স্টক নিউজ বিডি.কম/এসএম

আরও পড়তে পারেন…

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

বিভিন্ন দল থেকে নেতা কিনতে গরুর হাটের মতো দরদাম চলছে: রিজভী

স্টক নিউজ বিডি November 22, 2023

স্টক নিউজ বিডি অনলাইন ডেস্ক: বিভিন্ন দল থেকে নেতা কিনতে সরকার গরুর হাটের মতো দরদাম করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, ‘দেশের জনগণ তফসিল প্রত্যাখ্যান করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন ফখরুদ্দীন-মঈনউদ্দিনের মতো তথাকথিত কিংস পার্টি, ভুঁইফোড় পার্টি, ড্রিংকস পার্টি, ছিন্নমূল পার্টি তৈরি করে তাদের দিয়েই তামাশার নির্বাচন মঞ্চস্থ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।’

বুধবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ষষ্ঠ দফা অবরোধের সার্বিক চিত্র তুলে ধরতে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন করেন রিজভী। এসময় তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘শেখ হাসিনা তার এজেন্সিগুলো মাঠে নামিয়ে দিয়েছেন তথাকথিত কিংস পার্টি গঠনের জন্য। বিভিন্ন দল থেকে নেতা কিনতে গরুর হাটের মতো দরদাম চলছে। আওয়ামী সরকারের কিংস পার্টিতে যোগ দিতে দেশপ্রেমিক বহু নেতাকে চাপ-প্রলোভন-ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। ছলে বলে কৌশলে, টোপ দিয়ে কাউকে কাউকে বাগানো হচ্ছে।

‘আবার কেউ কেউ জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে না গিয়ে বিরোধীদলের লেবাসে ফ্যাসিবাদের দোসর হয়ে তথাকথিত এইসব কিংস পার্টি, ভুঁইফোড় পার্টি, ছিন্নমূল পার্টি হালুয়া-রুটির ভাগ পাওয়ার লালসায় ফ্যাসিস্টদের বর্তমান আস্তানা গণভবন-বঙ্গভবনে ছুটোছুটি করছেন।’

রিজভী বলেন, ‘দেশের কৃষক-শ্রমিক, দিনমজুর, স্বল্প আয়ের মানুষ, শ্রমজীবী-কৃষিজীবী, পেশাজীবী, আলেম-ওলামাসহ সব শেণি-পেশার মানুষ এখন মাফিয়া চক্রের শৃঙ্খলে বন্দি। দেশের সব নাগরিক বর্তমানে মানবিক মর্যাদা হারিয়ে, রাজনৈতিক অধিকার হারিয়ে, ভোট প্রয়োগের অধিকার হারিয়ে নিজ দেশেই যখন মাফিয়া চক্রের শৃঙ্খলে বন্দি, তখন কিছু লোক সামান্য খুদ-কুড়ার লোভে তারা বিবেক বিবেচনাহীনভাবে তামাশার নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এইসব বেইমান দলছুটরা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবেন। কিন্তু এসব রং বদলানো পরজীবী রাজনীতিবিদরা জনগণের সংকেতবার্তা টের পাচ্ছেন না। জনগণ খুব দ্রুতগতিতে ধেয়ে যাচ্ছে সরকারের সিংহাসন ধুলোয় লুটিয়ে দিতে। জনগণের সেই পদচিহ্ন লক্ষ্য করতে পারছে না এই নব্য রাজাকারেরা।’

স্টক নিউজ বিডি.কম/এসএম

আরও পড়তে পারেন…

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে বিএনপির ৩১০ নেতাকর্মী গ্রেফতার

স্টক নিউজ বিডি November 18, 2023

স্টক নিউজ বিডি অনলাইন ডেস্ক: গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে বিএনপি এবং এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনের ৩১০ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এসময়ের মধ্যে সাতটি মামলায় ৯৭৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ক্ষমতাসীন নেতাকর্মীদের হামলায় বিভিন্ন জায়গায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন রিজভী।

শনিবার (১৮ নভেম্বর) বিকেলে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।

রিজভী জানান, ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে মহাসমাবেশের ৪/৫ দিন আগ থেকে এ পর্যন্ত মোট ১৩ হাজার ২১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসময়ে ২৯৬টি মামলা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন ৪ হাজার ১৩৩ জন এবং ১৪ জনের (সাংবাদিক ১ জন) মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৮ ও ২৯ জুলাই থেকে এ পর্যন্ত বিএনপির কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দেশে মোট ১৬ হাজার ১৯১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মোট ৬৮৯টি মামলায় ৫৭ হাজার ৫২৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। এসময়ে ৬ হাজার ২২৪ জন নেতাকর্মী আহত ১৪ জনের (সাংবাদিক ১ জন) মৃত্যু হয়েছে।

এছাড়াও ১৮টি মামলায় ৯ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ ও ১৩৫ জন নেতাকর্মীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

স্টক নিউজ বিডি.কম/এসএম

আরও পড়তে পারেন…

1 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail
পরবর্তী সংবাদ
পূর্ববর্তী সংবাদ

সর্বশেষ খবর

  • বাগাতিপাড়ায় ইয়াবাসহ দুই যুবক আটক, মাদক আইনে মামলা

  • এনআরবি ব্যাংক পিএলসি এবং হলিডে ইন ঢাকা সিটি সেন্টারের মধ্যে কৌশলগত চুক্তি স্বাক্ষর

  • প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকা অনুদান, নিজ হাতে ফাতেমার হাতে তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

  • ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বাগাতিপাড়ায় আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল

  • গত ৬ মাসের ফৌজদারি মামলায় প্রায় সব আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সর্বাধিক পঠিত

  • শমরিতা হসপিটালের লভ্যাংশ ঘোষণা

  • ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বাগাতিপাড়ায় আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল

  • প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকা অনুদান, নিজ হাতে ফাতেমার হাতে তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

  • বাগাতিপাড়ায় ইয়াবাসহ দুই যুবক আটক, মাদক আইনে মামলা

  • রাষ্ট্রপতিকে মেজর মান্নানের শুভেচ্ছা জ্ঞাপন

  • অমিত শাহর পদত্যাগের দাবি রাহুলের, সমর্থন জানাল ‘তেলাপোকারা’

  • গোপনীয়তা নীতি
  • নীতিমালা
  • যোগাযোগ

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোঃ শামীম রেজা
মোবাইল নাম্বারঃ ০১৫২১৩৬৫৭২৩
ই-মেইলঃ stocknewsbd24@gmail.com
মোবাইল নাম্বারঃ ০১৫২১৩৬৭৫২২
অফিসঃ হাউজ নংঃ ১০১, রোড নংঃ ৩, সেক্টরঃ ৬, উত্তরা ঢাকা-১২৩০।
স্বত্ব © ২০২৬ স্টক নিউজ বিডি।


Back To Top
Stock News BD | Latest Online Most Popular Newspaper
  • হোম
  • শেয়ার বাজার
    • আজকের লেনদেন
    • কোম্পানি সংবাদ
    • বোর্ড সভা
    • এজিএম / ইজিএম
    • আইপিও / রাইট
    • লভ্যাংশ
    • উপদেশ
    • পিএসআই
  • অনুসন্ধানী বিশ্লেষণ
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • খেলাধুলা
  • লাইফ স্টাইল
  • ইসলাম
  • বিনোদন
  • আরও
    • বিশেষ প্রতিবেদন
    • আইন-আদালত
    • গণমাধ্যম
    • চাকরি
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • স্বাস্থ্য
    • সংস্কৃতি
    • ভিডিও
    • অন্যান্য