বিশেষ প্রতিবেদন: শেয়ারবাজারে কারসাজি, প্রতারণা ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে করা বহুল আলোচিত মামলায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও মাগুরা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু এদিন দুদক প্রতিবেদন দাখিল করতে ব্যর্থ হওয়ায় ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ নতুন তারিখ হিসেবে আগামী ৩ মার্চ ২০২৬ নির্ধারণ করেন।
২৫৬ কোটি টাকার আত্মসাতের অভিযোগে মামলা
এর আগে গত ১৭ জুন শেয়ারবাজার কারসাজি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সাকিব আল হাসান, সমবায় অধিদপ্তরের উপনিবন্ধক মো. আবুল খায়ের (হিরু)সহ মোট ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। মামলাটি করেন সংস্থাটির সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন।
মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন—
আবুল খায়েরের স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসান, আবুল কালাম মাদবর, কনিকা আফরোজ, মোহাম্মদ বাশার, সাজেদ মাদবর, আলেয়া বেগম, কাজি ফুয়াদ হাসান, কাজি ফরিদ হাসান, জাভেদ এ মতিন, জাহেদ কামাল, হুমায়ূন কবির ও তানভীর নিজাম।
কারসাজির পদ্ধতি: সিরিজ ট্রানজেকশন থেকে গেম্বলিং
দুদকের অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে—
আসামিরা নিজেদের স্বার্থে একাধিক বিও একাউন্ট ব্যবহার করে কৃত্রিমভাবে শেয়ারদর বাড়ানোর জন্য সিরিজ ট্রানজেকশন, একটিভ ট্রেডিং, গেম্বলিং ও বিভিন্ন স্পেকুলেটিভ কৌশল প্রয়োগ করেন।
এই পদ্ধতিতে বাজারে অস্বাভাবিক প্রবণতা সৃষ্টি করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করা হয়। এতে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে হারান বিপুল পরিমাণ অর্থ।
দুদকের হিসাব অনুযায়ী, এসব কারসাজির মাধ্যমে ২৫৬ কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজার ৩০৪ টাকা আত্মসাৎ করা হয়, যা অপরাধলব্ধ অর্থ হিসেবে বিবেচিত।
আবুল খায়ের পরিবারের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের অস্বাভাবিক লেনদেন
মামলার অন্যতম প্রধান আসামি আবুল খায়ের হিরুর বিরুদ্ধে ২৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকার বেশি অর্থের উৎস গোপন করে স্থানান্তরের অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া তার নামে পরিচালিত ১৭টি ব্যাংক একাউন্টে মোট ৫৪২ কোটি টাকার বেশি অস্বাভাবিক লেনদেন পাওয়া গেছে—যা তদন্তকারীদের কাছে অত্যন্ত সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
সাকিব আল হাসানের বিনিয়োগ ও অভিযোগ
দুদকের অভিযোগে আরও বলা হয়েছে—
আবুল খায়ের হিরুর কারসাজি করা প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স এবং সোনালী পেপারস—এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে বিনিয়োগ করেছিলেন সাকিব আল হাসান।
ফলে বাজার কারসাজিতে তার বিনিয়োগ পরোক্ষভাবে সহায়তা করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এর মাধ্যমে তিনি ২ কোটি ৯৫ লাখ টাকার বেশি রিয়ালাইজড ক্যাপিটাল গেইন হিসেবে লাভ পান, যা দুদকের ভাষায় ‘আত্মসাৎকৃত অর্থ।
তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় মামলার কার্যক্রম আরও ৩ মাস পিছিয়ে গেল।
আগামী ৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে দুদক নতুন করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে কিনা—সেদিকে এখন সবার নজর।
