স্টক নিউজ বিডি অনলাইন ডেস্ক: গত ২০২০ এবং ২০২১ সালে যমুনা লাইফ ইন্সুরেন্সের চট্টগ্রাম মডেল সার্ভিস সেন্টার চট্টগ্রামের গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ৩ কোটি টাকা এফডিআর সংগ্রহ করে।এফডিআর এর প্রমাণ স্বরুপ গ্রাকদের নীল কালারের রশিদ এবং কোম্পানির অনলাইন রশিদ প্রদান করেন।তৈমাসিক,মাসিক মুনাফা দেওয়ার শর্তে গ্রাহকের কাছ থেকে এফডিআরগুলো সংগ্রহ করা হয়।গ্রাহকদের মাসিক এবং তৈমাসিক মুনাফা ও প্রদান করা হয়। এর মধ্য কিছু গ্রাহকের টাকা ফেরত ও প্রদান করা হয়।
মূল ঘটনা শুরু হয় ফেব্রুয়ারি ২০২২ সালে।এফডিআর এর মেয়াদপূর্তিতে গ্রাহক মুনাফাসহ আসল টাকা ফেরত চাইতে গেলে-যমুনা লাইফ ইন্সুরেন্সের চট্টগ্রাম মডেল সার্ভিস সেন্টার এর কর্মকর্তারা বিভিন্নভাবে গ্রাহকদের ঘুরাতে থাকেন।
যমুনা লাইফ ইন্সুরেন্সের চট্টগ্রাম মডেল সার্ভিস সেন্টার এর কর্মকর্তাদের এহেন কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে গ্রাহকগণ তাদের এফডিআর এর টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য যমুনা লাইফ ইন্সুরেন্সের হেড অফিসে-এডিশনাল এমডি এবং চট্টগ্রাম মডেল সার্ভিস সেন্টারের সংগঠন প্রধান জসিম উদ্দিন এর সাথে যোগাযোগ করেন।প্রথমে জসিম উদ্দিন গ্রাহকের টাকা ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করবেন বললেও পরবর্তীতে ফল্টি মারেন।পরবর্তীতে প্রতারিত গ্রাহকগণ কোম্পানির সিইও এবং এমডি-কামরুল হাসান খন্দকার,চেয়ারম্যান-বদরুল আলম খান এবং ভাইস চেয়ারম্যান-বুলবুল জয়নব আক্তারের শরণাপন্ন হন।এমডি-কামরুল হাসান খন্দকারের মাধ্যমে জানতে পারেন গ্রাহকের এফডিআরগুলো বিভিন্ন মেয়াদের বীমা পলিসি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।এই বিষয়ে এমডি বলেন চট্টগ্রামের জিএম-সাজ্জাদ,রায়হান এবং আতিক গ্রাহকদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে টাকা সংগ্রহ করে ভূয়া বেতন বিল এবং মেডিকেল সার্টিফিকেট বানিয়ে গোপনে বীমা হিসেবে কোম্পানিতে জমা দিয়েছে।তারা বীমা হিসেবে জমা দিয়ে মোটা অংকের কমিশন তুলে খেয়ে ফেলেছে।গ্রাহকের ফাইনাল রশিদ,দলিল এবং আইডিআরএতে তথ্য প্রদানের বিষয়ে প্রশ্ন করলে এমডি কোন সঠিক উত্তর দিতে পারে নাই।এছাড়াও চট্টগ্রাম মডেল সার্ভিস সেন্টার এর লাইন বস কোম্পানির সহকারী এডিশনাল এমডি-রবিউল ইসলামের বরখাস্তের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন রবিউল গ্রাহকের নিকট হইতে ভূয়া রশিদ দিয়ে টাকা আত্নসাত করেছে।তার বিরুদ্ধে কোন আইনি পদক্ষেপ গ্রহন করে নাই এমডি। এই প্রতারণার বিষয়ে এমডি আরো বলেন এই শাখার সংগঠন প্রধান ছিলেন এডিশনাল এমডি জসিমউদ্দিন।
চট্টগ্রাম মডেল সার্ভিস সেন্টারের জিএম-সাজ্জাদ জানান, হেড অফিসের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী আমরা গ্রাহকের নিকট হইতে এফডিআর সংগ্রহ করি এবং প্রস্তাবপত্রগুলো এফডিআর হিসেবে হেড অফিসে পাঠায়। হেড অফিসের এমডি,এডিশনাল এমডি এবং রবিউল মিলে আমার গ্রাহকের এফডিআরগুলোকে গোপনে বীমা বানিয়ে ফেলে।আমরা যদি বীমা করতাম তাহলে আমি এবং আমার কর্মীরা নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে বীমার কমিশন পেতাম। এই চক্র আমার কর্মী এবং গ্রাহকের স্বাক্ষর জাল করে এহেন কর্মকান্ড করেছে।তারা গ্রাহকের স্বাক্ষর জাল করেছে,প্রস্তাবপত্রে কাটা-কাটি করেছে এমনকি গ্রাহকের এনআইডি বদল করে বয়স কমিয়েছে।
প্রতারিত কর্মীদের কান্না, চট্টগ্রাম মডেল সার্ভিস সেন্টারের প্রতারিত কর্মী সাজু,রহিম,রুবেল দত্ত,সরওয়ার,মহসিন,সাইফুল,কান্তা দত্ত এবং সালমা আক্তার জানান-আমরা আমাদের নিকট আত্নীয়ের কাছ থেকে এফডিআর সংগ্রহ করে যমুনা লাইফে জমা দিয়েছি। আমাদের অধিকাংশ গ্রাহক সরাসরি যমুনা লাইফের ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা দিয়েছে।গ্রাহেকর টাকার চাপে আমরা এখন দিশেহারা। আমরা কোম্পানি থেকে কোন কমিশন পাই নাই।আমরা কোম্পানির চেয়ারম্যান,এমডি,এডিশনাল এমডি,সহকারী এডিশনাল এমডি, হিসাব বিভাগের প্রধানসহ জড়িত সবার শাস্তি দাবি করছি এবং গ্রাহকের টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি করছি। প্রতারিত কর্মী কান্তা দত্ত বলেন,যমুনা লাইফের দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আমি মামলা করেছি।মামলাটি সিআইডিতে তদন্তে আছে।
প্রতারিত গ্রাহকের কান্না, চট্টগ্রাম মডেল সার্ভিস সেন্টারের প্রতারিত গ্রাহক নাজিম,হাবিবুর,বদিউল আলম,রিপন,নেওয়াজ বলেন আমরা আমাদের সঞ্চিত অর্থ মুনাফার আশায় যমুনা লাইফে এফডিআর করেছিলাম। তারা আমাদের টাকা মেরে দিয়েছে।আমরা যমুনা লাইফ ইন্সুরেন্সের ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা দিয়েছি। যমুনা লাইফ বলতেছে আমাদের পলিসিগুলো বীমা হয়ে গেছে কিন্তু এর স্বপক্ষে কোন প্রমাণ দেখাতে পারে নাই।কারণ আইডিআরএ এর ইউএমপি এ্যাপে আমাদের পলিসির তথ্য নাই।এই চক্র আমাদের টাকাগুলো অবৈধভাবে কমিশন হিসেবে তুলে খেয়ে ফেলেছে। আমাদের প্রশ্ন ২৫ বছরের অভিজ্ঞ এমডি কিভাবে কমিশনের চেকে স্বাক্ষর করল।এছাড়াও সহকারী এডিশনাল এমডি রবিউলকে জাল রিসিটের মাধ্যমে গ্রাহকের টাকা আত্নসাতের জন্য বরখাস্ত করা হলে ও তার বিরুদ্ধে কোন মামলা করা হয় নাই।
প্রতারিত গ্রাহক রেজাউলের বক্তব্য, যমুনা লাইফ ইন্সুরেন্সের এডিশনাল এমডি জসিম উদ্দিন,সহকারী এডিশনাল এমডি রবিউল ইসলাম আমার বাড়িতে গিয়ে আমাকে যমুনা লাইফ ইন্সুরেন্সে কাজ করার অফার করে।আমাকে ছেলেকে ব্রাঞ্চ ম্যানেজার বানাবে বলে প্রতিজ্ঞা করে।আমি যমুনা লাইফ ইন্সুরেন্সের হেড অফিসে জসিম উদ্দিনের চেম্বারে বসে এফডিআর এর ফরম পূরণ করেছি এবং চেক দিয়েছি।এক বছর পর জানতে পারি আমার এফডিআরটি বীমাতে রূপান্তর হয়েছে। আমি হেড অফিসে গিয়ে এমডির নিকট অভিযোগ করি এবং আমার পলিসির ফাইনাল রশিদ এবং দলিল দিতে বলি। কারণ আমার এফডিআর যদি বীমা হয়ে যায় তাহলে এটার ফাইনাল রশিদ এবং দলিল থাকবে। এমডি আমাকে কোন কিছু দিতে পারে নাই।আমি বীমা নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং দুদকে অভিযোগ করেছি।গত ৯ মে ২০২৩ তারিখে আইডিআরএ তদন্ত দলের নিকট সমস্ত তথ্য উপস্থাপন করেছি।আমাদের সাথে যমুনা লাইফের সবাই মিলে জালিয়াতি করেছে।তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হওক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকে রক্ষিত কোম্পানির এফডিআর ভেঙ্গে আমাদের টাকা বুঝিয়ে দেএয়া হওক।
আইডিআরএ র তদন্ত, গত ৯ মে ২০২৩ তারিখে আইডিআরএ তদন্ত দল চট্টগ্রামে গিয়ে সরেজমিনে বিষয়টি তদন্ত করেন এবং গ্রাহক ও কর্মীদের সাথে কথা বলেন।
সোহেল রানা
স্টক নিউজ বিডি.কম/এসএম
আরও পড়তে পারেন…
