স্টক নিউজ বিডি: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইনটেক লিমিটেড আবারও লোকসানি পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। কোম্পানিটি ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকের (অক্টোবর’২৫-ডিসেম্বর’২৫) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করলেও সেখানে বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো ইতিবাচক বার্তা নেই।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদনের পর তা প্রকাশ করা হয়। তবে প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, চলতি হিসাববছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি ১০ পয়সা লোকসান করেছে। যদিও আগের বছরের একই সময়ে লোকসান ছিল ১১ পয়সা, তবুও ধারাবাহিক লোকসান থেকে বের হতে না পারায় কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
আরও উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে ছয় মাসের সমন্বিত ফলাফলে। চলতি হিসাববছরের প্রথম দুই প্রান্তিক মিলিয়ে (জুলাই’২৫-ডিসেম্বর’২৫) কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছে ১৮ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে লোকসান ছিল ১৯ পয়সা। অর্থাৎ সামান্য উন্নতি দেখা গেলেও বাস্তবে কোম্পানি এখনো লোকসানের দুষ্টচক্রে বন্দী।
নগদ অর্থের প্রবাহ পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও বড় সতর্ক সংকেত। আলোচিত ছয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নগদ অর্থের প্রবাহ ছিল মাইনাস ৮ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল মাইনাস ৪ পয়সা। নগদ প্রবাহের এই অবনতি কোম্পানির দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা ও ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ সক্ষমতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
এছাড়া, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট দায় দাঁড়িয়েছে ৬২ পয়সা, যা প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক কাঠামোর দুর্বলতাকেই স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। দীর্ঘদিন ধরে লোকসান, নেতিবাচক ক্যাশ ফ্লো এবং ক্রমবর্ধমান দায়—সব মিলিয়ে ইনটেক লিমিটেডের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম ও শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কার্যকর ব্যবসায়িক পুনর্গঠন ও লাভে ফেরার স্পষ্ট রোডম্যাপ ছাড়া কোম্পানিটির আর্থিক সংকট আরও গভীর হতে পারে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য উচ্চ ঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করছে।


