অনুসন্ধানধর্মী প্রতিবেদন: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বীমা কোম্পানি প্যারামাউন্ট ইন্সুরেন্সের পিএলসি ২০২৫ অর্থবছরের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ সুপারিশ করেছে। তবে কোম্পানির প্রকাশিত প্রাইস সেনসিটিভ ইনফরমেশন (PSI) এবং সর্বশেষ আর্থিক সূচক বিশ্লেষণ করলে আয়, নগদ প্রবাহ ও বিনিয়োগ কাঠামো নিয়ে একাধিক প্রশ্ন সামনে আসছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কোম্পানিটির প্রতি শেয়ারে আয় (EPS) কমে দাঁড়িয়েছে ২.১৯ টাকায়, যা ২০২৪ সালে ছিল ২.২৩ টাকা। অর্থাৎ আয়ের সূচকে সামান্য হলেও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রতি শেয়ারে অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো (NOCFPS)। ২০২৪ সালে যেখানে এটি ছিল ২.৯১ টাকা, সেখানে ২০২৫ সালে তা নেমে এসেছে ১.৭৯ টাকায়। এক বছরে এই সূচকে উল্লেখযোগ্য হ্রাস বিশ্লেষকদের নজর কেড়েছে। তাদের মতে, অপারেটিং ক্যাশ ফ্লোর এমন পতন কোম্পানির নগদ প্রবাহ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।
অন্যদিকে একই সময়ে কোম্পানির প্রতি শেয়ারে নেট সম্পদ মূল্য (NAV) কিছুটা বেড়ে ২৮.১৬ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছর ছিল ২৭.২৬ টাকা। তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সম্পদমূল্য কিছুটা বাড়লেও আয় ও নগদ প্রবাহ কমে যাওয়া দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে সতর্ক সংকেত দিতে পারে।
কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ আগামী ১৮ মে ২০২৬ তারিখে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে বার্ষিক সাধারণ সভা (AGM) আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং ২১ এপ্রিল ২০২৬ রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিনিয়োগ ও নগদ অবস্থানেও পরিবর্তন
কোম্পানিটির সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে বিনিয়োগ ও নগদ অবস্থানেও কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেয়ার ও সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ কমে দাঁড়িয়েছে ৯৫.৫৭ কোটি টাকায়, যা ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে ছিল ১০৫.৬৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ এই খাতে প্রায় ১০ কোটি টাকার বিনিয়োগ কমেছে। বিশ্লেষকদের মতে, শেয়ারবাজারে কোম্পানিটির এক্সপোজার কমে যাওয়া বিনিয়োগ কৌশল নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিতে পারে।
এছাড়া কোম্পানির ব্যাংকে জমা নগদ অর্থও কমেছে। ২০২৪ সালের শেষে ব্যাংকে নগদ ছিল ৪ কোটি ৯৭ লাখ টাকার বেশি, যা ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে কমে ২ কোটি ৮৬ লাখ টাকায় নেমে এসেছে। একই সময়ে মোট ক্যাশ ও ক্যাশ ইকুইভ্যালেন্টও কমে দাঁড়িয়েছে ৬০.০৫ কোটি টাকা, যেখানে আগের সময়ে এটি ছিল ৬২.১১ কোটি টাকা।
ব্যয় ও দায়ের অবস্থান
অন্যদিকে কোম্পানির কারেন্ট লায়াবিলিটিজ কিছুটা কমলেও সেটি এখনও উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে। সর্বশেষ হিসাবে কোম্পানিটির দায় রয়েছে ৩৩.৩৯ কোটি টাকা, যদিও আগের সময়ে এটি ছিল ৩৬.৪৬ কোটি টাকা।
এছাড়া বিল্ডিং আন্ডার কনস্ট্রাকশন খাতে ব্যয় বেড়ে ১৪.৩২ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা আগের সময়ে ছিল ১১.১৭ কোটি টাকা। বিশ্লেষকদের মতে, স্থায়ী সম্পদে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ভবিষ্যতে সম্পদমূল্য বাড়াতে সহায়ক হলেও স্বল্পমেয়াদে নগদ প্রবাহের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
বিনিয়োগকারীদের প্রশ্ন
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, আয় ও অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো কমে যাওয়ার পরও নগদ লভ্যাংশ সুপারিশের বিষয়টি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই জানতে চাইছেন—কোম্পানির নগদ প্রবাহের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব কী হতে পারে এবং ভবিষ্যতে এই প্রবণতা অব্যাহত থাকবে কি না।
তবে এসব বিষয়ে কোম্পানির পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। বিনিয়োগকারীদের মতে, কোম্পানির আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগ কৌশল সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হলে বাজারে আস্থা বজায় রাখতে তা সহায়ক হতে পারে।


