ফজলুর রহমান,নিজস্ব সংবাদদাতাঃ
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উপজেলা শাখার ইউনিট দায়িত্বশীলদের নিয়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৯ মে বুধবার বিকেলে উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভাসহ সকল ইউনিটের দায়িত্বশীলদের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাস্টার জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় ও উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা এ কে এম আফজাল হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাটোর জেলা জামায়াতে আমীর অধ্যাপক ড. মীর নুরুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতে নায়েব আমির অধ্যাপক ইউনুস আলী, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আতিকুল ইসলাম রাসেল, নাটোর জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মোস্তাফিজ রহমান, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর আনোয়ার হোসেন মুজাহিদসহ আরো অনেকেই।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক ড মীর নুরুল ইসলাম বলেন, ইউনিট সংগঠনই হচ্ছে ইসলামী আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি। তাই ইউনিটগুলোকে সক্রিয় ও গতিশীল করার জন্য ইউনিট দায়িত্বশীলদের সকল প্রকার মেধা, যোগ্যতা, প্রজ্ঞা ও কর্মতৎপরতা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। তিনি ইসলামী আন্দোলনের যেকোন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ইউনিট দায়িত্বশীলদের সব সময় প্রস্তুত থাকার আহবান জানান।
তিনি আরো বলেন,, ইসলামী আন্দোলনের পথ কখনোই ফুল বিছানো ছিল না; এখনো নয়। যুগে যুগে যারাই মানুষের মাঝে দ্বীনে হক্বের দাওয়াত দিয়েছেন তাদের ওপরই নেমে এসেছে অবর্ণনীয় জুলুম-নির্যাতন। নবী-রাসূলগণও এ থেকে আলাদা ছিলেন না। বিশ্বনবী (সা.)-এর ওপর চালানো হয়েছে নির্মম জুলুম-নির্যাতন। এমনকি শিয়াবে আবি তালিবে তাকে দীর্ঘদিন অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। তাই অতীতের ধারাবাহিকতায় সকল জুলুম-নির্যাতন ও বাধা-প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করেই ইসলামকে গালেব করার প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। তিনি দ্বীন প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে সকলকে ময়দানে আপোষহীন ভূমিকা পালনের আহবান জানান।
অনুষ্ঠানে জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আতিকুল ইসলাম রাসেল ইক্বামাতের দ্বীনের দায়িত্ব কোন নফল ইবাদত নয় বরং আল্লাহর খলিফা হিসাবে আমাদের প্রত্যেকের ওপরই অপরিহার্য। প্রত্যেক নবী-রাসূলগণই একই দায়িত্ব নিয়ে দুনিয়াতে প্রেরীত হয়েছিলেন। বিশ্বনবী (সা.) ও একই দায়িত্ব নিয়ে প্রেরীত হয়ে সফলভাবে সে দায়িত্ব পালন করে গেছেন। তাই আমরাও এ দায়িত্ব থেকে মুক্ত নই বরং জীবনের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা করার প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালানো আমাদের ওপর ফরজ। একাজে আঞ্জাম দেওয়ার জন্য ইউনিট সংগঠন থেকে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এজন্য প্রতিটি ঘরে দাওয়াত পৌঁছানোর কোন বিকল্প নেই। ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের গণসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে এবং সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলী চিহ্নিত করে সেসবের সাধ্যমত সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। তাহলে দ্বীনের বিজয় সহজ থেকে সহজতর হয়ে উঠবে।
সদস্যদের মাঝে রাজনৈতিক ও আদর্শিক চেতনা জাগিয়ে তোলার একটি কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে সভাপতির বক্তব্য রেখে অনুষ্ঠান পরিসমাপ্তি ঘোষণা করেন অনুষ্ঠানের সভাপতি ও থানা আমীর মাওলানা এ কে এম আফজাল হোসেন।
