বিশেষ প্রতিবেদন: ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) যমুনা ব্যাংক পিএলসি আর্থিক সূচকের প্রায় সব ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। বুধবার (২২ জুলাই) অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের ৪৮১তম সভায় দ্বিতীয় প্রান্তিকের (Q2) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদনের পর শেয়ারমূল্য সংবেদনশীল তথ্য (Price Sensitive Information) প্রকাশ করেছে ব্যাংকটি।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ব্যাংকটির সমন্বিত (Consolidated) কর-পরবর্তী নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৩,৭৮২.৯৭ মিলিয়ন টাকা, যা ২০২৫ সালের একই সময়ে ছিল ৩,১১২.৫৯ মিলিয়ন টাকা। অর্থাৎ এক বছরে নিট মুনাফা বেড়েছে প্রায় ২১.৫ শতাংশ।
একই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (EPS) বেড়ে ৪.০৩ টাকা হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩.৩১ টাকা। ফলে ইপিএসে প্রায় ২১.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
অন্যদিকে, শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ (NOCFPS) বেড়ে ৫২.৩৮ টাকা হয়েছে, যা ২০২৫ সালের একই সময়ে ছিল ৪৭.৩১ টাকা। এতে ব্যাংকটির নগদ প্রবাহ ও পরিচালন কার্যক্রমের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হয়েছে।
সম্পদমূল্যের দিক থেকেও ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেছে। ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সমন্বিত নেট অ্যাসেট ভ্যালু (NAV) দাঁড়িয়েছে ২৮,৬৮৫.৪৬ মিলিয়ন টাকা, যা ২০২৫ সালের ৩০ জুন ছিল ২৩,০৮৮.৫৮ মিলিয়ন টাকা। একই সঙ্গে শেয়ারপ্রতি নেট অ্যাসেট ভ্যালু (NAVPS) বেড়ে ৩০.৫৪ টাকা হয়েছে, যা এক বছর আগে ছিল ২৪.৫৮ টাকা।
ব্যাংকটির একক (Solo) আর্থিক ফলাফলেও একই ধরনের ইতিবাচক চিত্র দেখা গেছে। একক ভিত্তিতে কর-পরবর্তী নিট মুনাফা বেড়ে ৩,৭৬৫.৪৯ মিলিয়ন টাকা, ইপিএস ৪.০১ টাকা, এনওসিএফপিএস ৫২.৩০ টাকা এবং শেয়ারপ্রতি নেট অ্যাসেট ভ্যালু ৩০.৬১ টাকা হয়েছে।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিনিয়োগ আয় বৃদ্ধি, ঋণের বিপরীতে প্রভিশন ব্যয় কমে আসা এবং পরিচালন কার্যক্রমে উন্নতির ফলে কর-পরবর্তী নিট মুনাফা ও ইপিএস বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি গ্রাহক আমানত বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ থেকে অধিক আয় হওয়ায় পরিচালন নগদ প্রবাহও শক্তিশালী হয়েছে।
এছাড়া, অধিক নিট মুনাফা থেকে সৃষ্ট রিটেইনড আর্নিংস বৃদ্ধির কারণে শেয়ারহোল্ডারদের ইক্যুইটি বৃদ্ধি পাওয়ায় শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (NAVPS) আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সব মিলিয়ে দ্বিতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে যমুনা ব্যাংক পিএলসি মুনাফা, শেয়ারপ্রতি আয়, নগদ প্রবাহ ও সম্পদমূল্য—সব গুরুত্বপূর্ণ সূচকেই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। এটি ব্যাংকটির আর্থিক ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাকেও শক্তিশালী করেছে।
