মাত্র ১৪ কার্যদিবসে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কে অ্যান্ড কিউ’র শেয়ারের দাম বেড়েছে প্রায় ৭০ টাকা। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের এই দাম বৃদ্ধিকে অস্বাভাবিক বলছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (২৩ আগস্ট) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে জানানো হয়েছে- কে অ্যান্ড কিউ’র শেয়ারের দাম বাড়ার পিছনে কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই।
ডিএসই জানিয়েছে, কোম্পানিটির শেয়ারের অস্বাভাবিক দাম বাড়ার কারণ জানাতে ডিএসই থেকে নোটিশ পাঠানো হয়। জবাবে কোম্পানিটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে সম্প্রতি শেয়ারের যে অস্বাভাবিক দাম বেড়েছে এবং লেনদেন বেড়েছে তার জন্য কোন অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই।
তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ২৮ জুলাই কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিল ২৩৫ টাকা ৮০ পয়সা। সেখান থেকে বাড়তে বাড়তে সোমবার (২২ আগস্ট) লেনদেন শেষে ৩০৪ টাকা দাঁড়ায়।
এরপর মঙ্গলবার ডিএসই থেকে সতর্ক বার্তা আসলো। অবশ্য ডিএসইর সতর্ক বার্তার পরও প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আগের দিনের তুলনায় কোম্পানিটির শেয়ার দাম বেড়েছে ৮ টাকা।
শেয়ারের এমন দাম বাড়া কোম্পানিটি সর্বশেষ ২০২১-২২ হিসাব বছরের প্রথম নয় মাসের (২০২১ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত) আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে ৫ শতাংশ নগদ অন্তর্বতী লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।
এর আগে ২০২১ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত বছরে কোম্পানিটি ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ দেয়। তার আগে ২০২০ সালে বিনিয়োগকারীদের ৪ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয় কোম্পানিটি। এছাড়া ২০১৯ সালে সাড়ে ৭ শতাংশ এবং ২০১৮ সালে ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয় কোম্পানিটি।
সর্বশেষ প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোম্পানিটি ২০২১ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত নয় মাসের ব্যবসায় শেয়ারপ্রতি ৬৯ পয়সা মুনাফা করেছে। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয় ৬০ পয়সা।
মাত্র ৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের এই কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ৫১ লাখ ৪৭ হাজার ৬৫৭টি। এর মধ্যে ৩১ দশমিক ৭৭ শতাংশ শেয়ার আছে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে। বাকি শেয়ারের মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে আছে ৬০ দশমিক ১৯ শতাংশ। আর ৮ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ আছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে।
