স্টক নিউজ বিডি: দেশের পুঁজিবাজারে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস মিলছে। প্রধান নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-এর চেয়ারম্যান পদ থেকে খন্দকার রাশেদ মাকসুদকে সরানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। তবে সরাসরি অপসারণ নয়—এর আগে আইন সংশোধনের মাধ্যমে পথ তৈরি করা হচ্ছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে কার্যকর ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩’-এ চেয়ারম্যানের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৬৫ বছর নির্ধারিত থাকলেও সেটি কমিয়ে ৬০ বছর করার চিন্তাভাবনা চলছে। একইসঙ্গে কমিশনারদের ক্ষেত্রেও একই বয়সসীমা প্রযোজ্য হতে পারে।
শুধু বিএসইসি নয়, বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)-এর ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইডিআরএ চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বয়সসীমা ৬৭ বছর থাকলেও সেটি কমিয়ে ৬০ বছরে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট চার বছরের জন্য বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান। তাকে অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ-এর ঘনিষ্ঠ হিসেবে দেখা হয়।
তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই শেয়ারবাজারে টানা দরপতন শুরু হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা একাধিকবার বিক্ষোভ, এমনকি মতিঝিলে ‘কাফন মিছিল’ও করেন। বিনিয়োগকারীদের বড় একটি অংশ তার অপসারণ ও দুর্নীতির তদন্ত দাবি করে আসছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ২০২৪ বাংলাদেশ-এর পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মাধ্যমে মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসে। পরে জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হলে আর্থিক খাতের শীর্ষ পদগুলোতে পরিবর্তনের গুঞ্জন জোরালো হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পরিবর্তনের পর বিএসইসি নিয়েও একই ধরনের পদক্ষেপের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। ইতোমধ্যে আইডিআরএ চেয়ারম্যান এম আসলাম আলম পদত্যাগ করায় সেখানে নতুন নিয়োগের প্রস্তুতিও চলছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সরাসরি অপসারণের বদলে আইনের মাধ্যমে বয়সসীমা কমিয়ে পরিবর্তন আনা হলে বিতর্ক কম হবে। তাই দ্রুত আইন সংশোধনের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী—
বিএসইসি চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের বয়সসীমা হতে পারে সর্বোচ্চ ৬০ বছর
আইডিআরএ চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ক্ষেত্রেও একই সীমা প্রযোজ্য হতে পারে
আইন পাসের পরই নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হবে
সরকারের অভিমত, পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীল ও বিনিয়োগবান্ধব করতে কাঠামোগত পরিবর্তন জরুরি। বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের দাবি এবং সাম্প্রতিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি—আলোচনার মাধ্যমে বয়সসীমা ও অন্যান্য শর্তে পরিবর্তন আসতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


