স্টক নিউজ বিডি: সম্প্রতি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) পিএলসি.-এর কয়েকজন কর্মচারীর চাকরির অবসান (Termination) নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার পর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ডিএসইর দাবি, সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এবং প্রতিষ্ঠানের সার্ভিস রুল অনুসরণ করে আইনসম্মতভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
ডিএসই জানায়, কর্মী নিয়োগের মতো প্রয়োজনের ভিত্তিতে চাকরির অবসানও একটি স্বাভাবিক ও আইনসম্মত ব্যবস্থাপনা-প্রক্রিয়া। বিশ্বের বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্যবসায়িক বাস্তবতা, সাংগঠনিক পুনর্গঠন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের প্রয়োজনে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে।
প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২২ সাল থেকে চলমান দীর্ঘমেয়াদি সাংগঠনিক রূপান্তর কর্মসূচির অংশ হিসেবে কিছু পদ পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় মোট ৩৫০ জন কর্মীর মধ্যে ১৭ জনের চাকরির অবসান ঘটানো হয়েছে, যা মোট জনবলের ৫ শতাংশেরও কম।
ডিএসই আরও জানায়, সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোনো ব্যক্তিগত বিবেচনা বা বৈষম্য করা হয়নি। প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি প্রয়োজন, কার্যকারিতা এবং ব্যবসায়িক স্বার্থ বিবেচনায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২৬ অনুযায়ী নোটিশ অথবা নোটিশের পরিবর্তে ক্ষতিপূরণ প্রদান করে চাকরির অবসান ঘটানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিদায়ী কর্মীদের মানবিক বিবেচনায় আইনে নির্ধারিত চার মাসের পরিবর্তে মোট ছয় মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ প্রদান করা হয়েছে।
এছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্মীদের চাকরির মেয়াদ অনুযায়ী প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি, অব্যবহৃত ছুটির নগদায়নসহ অন্যান্য সব আইনগত পাওনা পরিশোধ করা হবে বলে জানিয়েছে ডিএসই। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ইতোমধ্যে কর্মীদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করে দ্রুত প্রাপ্য অর্থ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ডিএসই আরও জানায়, পুরো প্রক্রিয়ায় বিদায়ী কর্মীদের ব্যক্তিগত মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে এবং তাদের যথাযথ অভিজ্ঞতা সনদ (Experience Certificate) প্রদানসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা হবে।
একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি অভিযোগ করেছে, চাকরির অবসানের পর কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন মাধ্যমে অসম্পূর্ণ তথ্য বা প্রেক্ষাপট ছাড়া বক্তব্য দিচ্ছেন, যা বিভ্রান্তির সৃষ্টি করতে পারে। ডিএসই মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তথ্য যাচাই করে মন্তব্য করার আহ্বান জানিয়েছে।
বিবৃতির শেষাংশে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ জানায়, তারা আইনের শাসন, সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। ভবিষ্যতেও একটি দায়িত্বশীল ও ভবিষ্যতমুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে আইন ও পেশাদার মান বজায় রেখে কার্যক্রম পরিচালনা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ।


