বিশেষ প্রতিবেদন: পুঁজিবাজারে আলোচিত দুই প্রতিষ্ঠান শাইনপুকুর সিরামিকস পিএলসি এবং বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি পিএলসি (বেক্সিমকো)-এর পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ১০৩তম কমিশন সভায় কোম্পানি দুটির প্রস্তাবিত পরিচালনা পর্ষদ গঠনে অনাপত্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
শাইনপুকুর সিরামিকসে নতুন পর্ষদ কাঠামো
বিএসইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শাইনপুকুর সিরামিকস পিএলসির প্রস্তাবিত পরিচালনা পর্ষদে এএসএফ রহমান চেয়ারম্যান ও স্পনসর হিসেবে থাকছেন। এছাড়া পর্ষদে পরিচালক হিসেবে থাকছেন ওকে চৌধুরী, ইকবাল আহমেদ, আযমাল কবির এবং কওমরুন নাহার আহমেদ।
পর্ষদে দুইজন স্বাধীন পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হবে। করপোরেট গভর্ন্যান্স কোড, ২০১৮-এর বিধান অনুযায়ী এসব স্বাধীন পরিচালক নিয়োগের কথা রয়েছে।
কমিশনের সভায় কোম্পানির দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের শর্তে পূর্বে জারি করা সংশ্লিষ্ট আদেশ প্রত্যাহারের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বেক্সিমকোর পর্ষদেও পরিবর্তন
একই কমিশন সভায় বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি পিএলসি (বেক্সিমকো)-এর প্রস্তাবিত পরিচালনা পর্ষদ গঠনের ক্ষেত্রেও অনাপত্তি দিয়েছে বিএসইসি।
প্রস্তাবিত পর্ষদে এএসএফ রহমান চেয়ারম্যান ও স্পনসর এবং ওকে চৌধুরী ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে থাকছেন। পরিচালক হিসেবে রয়েছেন ইকবাল আহমেদ, আযমাল কবির ও কওমরুন নাহার আহমেদ।
এছাড়া শাহ মঞ্জুরুল হক-কে স্বাধীন পরিচালক হিসেবে রাখা হয়েছে। করপোরেট গভর্ন্যান্স কোড, ২০১৮ অনুযায়ী আরও একজন স্বাধীন পরিচালক নিয়োগ দেওয়ার কথা জানিয়েছে কমিশন।
বিনিয়োগকারীদের জন্য কী অর্থ বহন করছে?
বিএসইসির এই সিদ্ধান্তকে দুই কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে কোম্পানি দুটির পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা কাঠামো নিয়ে যে অনিশ্চয়তা ছিল, নতুন পর্ষদ কাঠামো সেই পরিস্থিতিতে পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
তবে বিএসইসির অনাপত্তি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক বা আর্থিক অবস্থার উন্নতির নিশ্চয়তা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কোম্পানির ভবিষ্যৎ কার্যক্রম, আর্থিক পারফরম্যান্স, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ এবং সংশ্লিষ্ট আইনগত বিষয়গুলোর অগ্রগতি আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে।
সামনে কী?
বিএসইসির সিদ্ধান্তের পর এখন সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর পর্ষদ পুনর্গঠন ও পরবর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রম এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে করপোরেট গভর্ন্যান্স কোড অনুযায়ী স্বাধীন পরিচালক নিয়োগসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে।
বিশেষ করে বেক্সিমকো ও শাইনপুকুর সিরামিকসের মতো পুঁজিবাজারে গুরুত্বপূর্ণ কোম্পানির পর্ষদ পুনর্গঠন বিনিয়োগকারীদের নজরদারির মধ্যে থাকবে। পরবর্তী সময়ে কোম্পানি দুটির কার্যক্রম, আর্থিক অবস্থা এবং পুঁজিবাজারে লেনদেনের ওপর এর কী প্রভাব পড়ে—সেটিই এখন দেখার বিষয়।
