মেগাওয়াট৪০০ কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা, সম্প্রসারণে সৌরবিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো; ২০৩৪ সালে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া বড় বিবেচ্য বিষয়
নিজস্ব প্রতিবেদক | স্টক নিউজ বিডি: প্রতিষ্ঠার মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে প্রায় ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তুলেছে কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি পিএলসি। উত্তরবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনা, জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জনের অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে এবার পুঁজিবাজার থেকে ৪০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে চায় কোম্পানিটি। বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে তালিকাভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য ২০৩৫ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি উন্নীত করা।
তবে কোম্পানিটির সম্প্রসারণ পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ আয়ের সম্ভাবনার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হচ্ছে—ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তির মেয়াদ, আইপিওর অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনা, প্রস্তাবিত প্রকল্প বাস্তবায়নের ঝুঁকি এবং ভবিষ্যৎ মুনাফার প্রক্ষেপণ কতটা বাস্তবসম্মত। বিশেষ করে বিদ্যমান কেন্দ্রগুলোর উল্লেখযোগ্য অংশের বিদ্যুৎ বিক্রির চুক্তির মেয়াদ ২০৩৪ সালে শেষ হওয়ার বিষয়টি কোম্পানিটির দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক পরিকল্পনা মূল্যায়নে গুরুত্ব পাবে।
রোড শোতে উৎপাদন সক্ষমতা ও সম্প্রসারণ পরিকল্পনা তুলে ধরল কোম্পানি
রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি পিএলসির আইপিও-সংক্রান্ত রোড শো অনুষ্ঠিত হয়। এতে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক খালেদ ইসলাম, চেয়ারম্যান ইমরান করিম, পরিচালক রেজাউল করিম, জহির উদ্দিন আহমেদ ও সালমান করিমসহ বিনিয়োগকারী, সাংবাদিক এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণ সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
রোড শোতে কোম্পানির উৎপাদন সক্ষমতা, বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা, জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক খালেদ ইসলাম বলেন, কোম্পানিটি যাত্রা শুরুর দুই বছরের মধ্যে চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করতে সক্ষম হয়। উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন জার্মান প্রযুক্তির ইঞ্জিন এবং কো-জেনারেশন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।
তিনি জানান, কো-জেনারেশন প্রযুক্তিতে ইঞ্জিন থেকে নির্গত তাপ ব্যবহার করে স্টিম টারবাইনের মাধ্যমে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। এতে প্রায় ২৪ থেকে সাড়ে ২৪ মেগাওয়াট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে বলে কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে জ্বালানির কার্যকর ব্যবহার বাড়ানো এবং সামগ্রিক উৎপাদন দক্ষতা উন্নত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
আইপিও থেকে ৪০০ কোটি টাকা, অর্থ যাবে সৌরবিদ্যুৎ ও ঋণ পরিশোধে
কোম্পানিটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, আইপিওর মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ কক্সবাজারে ১০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় করা হবে। পাশাপাশি সহযোগী প্রতিষ্ঠান কনফিডেন্স ডরিন পাওয়ার লিমিটেডে ইক্যুইটি বিনিয়োগ এবং ঋণের একটি অংশ পরিশোধের পরিকল্পনাও রয়েছে।
এই অর্থায়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে একদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে প্রবেশ এবং অন্যদিকে আর্থিক কাঠামো পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নিয়েছে কোম্পানিটি।
চার সহযোগী প্রতিষ্ঠান, বর্তমান সক্ষমতা ৩৯৩.১৬ মেগাওয়াট
কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি পিএলসি একটি হোল্ডিং কোম্পানি। এর অধীনে চারটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান রয়েছে—কনফিডেন্স পাওয়ার বগুড়া লিমিটেড, কনফিডেন্স পাওয়ার রংপুর লিমিটেড, জোডিয়াক পাওয়ার চিটাগং লিমিটেড এবং কনফিডেন্স ডরিন পাওয়ার লিমিটেড।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, কনফিডেন্স পাওয়ার বগুড়া লিমিটেড ও কনফিডেন্স পাওয়ার রংপুর লিমিটেডের উৎপাদন সক্ষমতা যথাক্রমে ১১৩ মেগাওয়াট। জোডিয়াক পাওয়ার চিটাগং লিমিটেডের সক্ষমতা ৫৪.৩৬ মেগাওয়াট। অন্যদিকে কনফিডেন্স ডরিন পাওয়ার লিমিটেডে কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জির মালিকানা ৬০ শতাংশ। কোম্পানিটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যমান বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৩৯৩.১৬ মেগাওয়াট। প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে এর সঙ্গে আরও ২৬০ মেগাওয়াট সক্ষমতা যুক্ত হতে পারে।
২০৩৫ সালের লক্ষ্য ২ হাজার মেগাওয়াট, ৭০ শতাংশ পরিচ্ছন্ন জ্বালানি
কোম্পানিটির চেয়ারম্যান ইমরান করিম জানান, ২০৩৫ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি করার লক্ষ্য রয়েছে। এ জন্য সৌরবিদ্যুৎ, এলএনজি অবকাঠামো, কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ব্যাটারিভিত্তিক জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিচালক সালমান করিম বলেন, দীর্ঘমেয়াদে দেশের অন্যতম লাভজনক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি কোম্পানি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে চায় কনফিডেন্স গ্রুপ। এ লক্ষ্য অর্জনে প্রস্তাবিত উৎপাদন সক্ষমতার ৭০ শতাংশ পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎস থেকে অর্জনের পরিকল্পনা রয়েছে।
কোম্পানির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, কক্সবাজারের লংলা এলাকায় ১০০ মেগাওয়াট এবং পঞ্চগড়ে ২০০ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে কোম্পানিটির জ্বালানি মিশ্রণে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের অংশ বাড়তে পারে।
তবে পরিকল্পিত প্রকল্পের সম্ভাব্যতা, জমি ও অবকাঠামোর প্রাপ্যতা, অর্থায়ন, সরকারি অনুমোদন, বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি এবং বাস্তবায়নের সময়সীমা—সবকিছুই ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের আর্থিক ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
আর্থিক সূচকে মুনাফা, তবে ভবিষ্যৎ প্রক্ষেপণ যাচাই জরুরি
কোম্পানিটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৩১ টাকা ৮৩ পয়সা। আগের দুই অর্থবছরে সমন্বিত ইপিএস ছিল যথাক্রমে ৩২ টাকা ৪৩ পয়সা ও ৩১ টাকা ৩৩ পয়সা।
অর্থাৎ, সর্বশেষ অর্থবছরে ইপিএস আগের বছরের তুলনায় কিছুটা কমেছে। যদিও আগের দুই বছরের তুলনায় মুনাফার সূচক কাছাকাছি পর্যায়ে রয়েছে, তবু ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা মূল্যায়নে পরিচালন আয়, জ্বালানি ব্যয়, ঋণের সুদ, অবচয় এবং কর-পরবর্তী মুনাফার গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
৩০ জুন ২০২৬ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ১৯৩ টাকা ২৩ পয়সা। আগের বছর তা ছিল ১৬১ টাকা ৪৯ পয়সা। অর্থাৎ, শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বেড়েছে। তবে এনএভিপিএস বেশি হলেই শেয়ারটি বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয়—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। আইপিওতে শেয়ারের চূড়ান্ত মূল্য, শেয়ারসংখ্যা, ভবিষ্যৎ মুনাফা, নগদ প্রবাহ ও ঋণের দায় বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
রোড শোতে চেয়ারম্যান ইমরান করিমের বক্তব্য অনুযায়ী, কোম্পানিটির প্রক্ষেপণে ২০৩০-৩১ অর্থবছরে ইপিএস প্রায় ৬৩ টাকা এবং এনএভিপিএস ৪১৩ টাকায় উন্নীত হতে পারে। তবে এসব ভবিষ্যৎ হিসাব কোম্পানির প্রক্ষেপণ; এগুলো নিশ্চিত ফল নয়। প্রক্ষেপণ বাস্তবায়নের জন্য কী পরিমাণ নতুন বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে এবং কোন অনুমানের ভিত্তিতে আয় ও সম্পদের প্রবৃদ্ধি নির্ধারণ করা হয়েছে,।
২০৩৪ সালে বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তির মেয়াদ শেষ: গুরুত্বপূর্ণ দীর্ঘমেয়াদি বিবেচনা
কোম্পানিটির বিদ্যমান ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তির মেয়াদ ২০৩৪ সালে শেষ হওয়ার বিষয়টি বিনিয়োগ বিশ্লেষণে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। চুক্তির মেয়াদ শেষে কেন্দ্রগুলো কীভাবে পরিচালিত হবে, সরকারের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন হবে কি না এবং নবায়ন না হলে বিকল্প বাজারে বিদ্যুৎ বিক্রি করা সম্ভব হবে কি না—এসব প্রশ্ন কোম্পানিটির দীর্ঘমেয়াদি আয়ের ধারাবাহিকতার সঙ্গে সম্পর্কিত।
কোম্পানির বর্ণনায়, চুক্তি নবায়ন না হলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোর জন্য ‘নো ইলেকট্রিসিটি, নো পেমেন্ট’ ব্যবস্থায় পরিচালনা অথবা মার্চেন্ট পাওয়ার নীতিমালার আওতায় অন্য গ্রাহকের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রির সম্ভাবনা থাকতে পারে। তবে এসব বিকল্পের বাস্তব প্রয়োগ সংশ্লিষ্ট নীতিমালা, অনুমোদন, বাজারের চাহিদা, উৎপাদন ব্যয় এবং বিদ্যুৎ বিক্রির শর্তের ওপর নির্ভর করবে।
জ্বালানি সরবরাহে নিজস্ব ব্যবস্থা, পরিচালন দক্ষতার দাবি
ব্যবস্থাপনা পরিচালক খালেদ ইসলাম জানান, উত্তরবঙ্গের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সচল রাখতে কোম্পানি নিজস্ব জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি সংগ্রহ, চট্টগ্রামে পরিবহন, সেখান থেকে ট্যাংকারে নির্ধারিত স্থানে নেওয়া এবং পরবর্তী সময়ে সড়কপথে বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছানোর সমন্বিত ব্যবস্থা রয়েছে।
কোম্পানির দাবি অনুযায়ী, এ ব্যবস্থায় বছরে প্রায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি পরিবহনের সক্ষমতা রয়েছে। বড় ইঞ্জিন পরিবহন, সংযোজন ও রক্ষণাবেক্ষণেও নিজস্ব প্রকৌশল দক্ষতা তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি।
কোম্পানির পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, ২০১৭ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে যাত্রা শুরু করার পর আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা তাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়িয়েছে। অন্যদিকে পরিচালক জহির উদ্দিন আহমেদ বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন ও দূরবর্তী স্থানে জ্বালানি পরিবহনের অভিজ্ঞতাকে গ্রুপটির অন্যতম শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
এসব পরিচালন সক্ষমতা কোম্পানির প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান শক্তিশালী করতে পারে।
সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে নতুন সম্ভাবনা, বাস্তবায়নই বড় পরীক্ষা
পরিচালক সালমান করিমের বক্তব্য অনুযায়ী, কনফিডেন্স গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান কনফিডেন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার পিএলসি সোনাগাজীতে ২২০ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের নকশা, সরবরাহ, স্থাপন, পরীক্ষা ও চালুকরণ-সংক্রান্ত কাজের জন্য ইজিসিবির অধীনে সর্বনিম্ন দরদাতা নির্বাচিত হয়েছে।
এই অভিজ্ঞতা সৌরবিদ্যুৎ খাতে গ্রুপটির প্রকৌশল ও প্রকল্প বাস্তবায়ন সক্ষমতার সম্ভাবনা তুলে ধরে। তবে সর্বনিম্ন দরদাতা নির্বাচিত হওয়া এবং চূড়ান্তভাবে কার্যাদেশ পাওয়া বা প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্পন্ন হওয়া এক বিষয় নয়। তাই সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের চুক্তি, কার্যাদেশ, অর্থায়ন ও বাস্তবায়নের অবস্থা যাচাই করা প্রয়োজন।
কোম্পানির ‘ভিশন ২০৩৫’ পরিকল্পনায় পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবে কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নির্ভর করবে প্রকল্প নির্বাচন, বিনিয়োগের দক্ষতা এবং প্রত্যাশিত মুনাফা অর্জনের ওপর।
আইপিও বিনিয়োগে কোন বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে
কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জির আইপিও বিনিয়োগকারীদের কাছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অংশগ্রহণের একটি সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিদ্যমান উৎপাদন সক্ষমতা, পরিচালন অভিজ্ঞতা, সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা এবং সম্পদের প্রবৃদ্ধি কোম্পানিটির ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি পিএলসি বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে এবং আইপিওর মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগ সংগ্রহ করে সৌরবিদ্যুৎসহ জ্বালানি খাতে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে। প্রায় ৪০০ মেগাওয়াট বর্তমান সক্ষমতা থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে ২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি উৎপাদন সক্ষমতায় পৌঁছানোর লক্ষ্য উচ্চাভিলাষী।
তবে পুঁজিবাজারে একটি কোম্পানির সম্ভাবনা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শুধু উৎপাদন সক্ষমতা বা সম্প্রসারণের ঘোষণা যথেষ্ট নয়। আইপিওর অর্থের কার্যকর ব্যবহার, প্রকল্প বাস্তবায়নের বাস্তবতা, ঋণের চাপ, নগদ প্রবাহ এবং বিদ্যমান বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর চুক্তির মেয়াদ—সবকিছু মিলিয়েই কোম্পানিটির দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সক্ষমতা বিচার করতে হবে।
সুতরাং, কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জির আইপিও বিনিয়োগকারীদের জন্য কতটা আকর্ষণীয় হবে, তা নির্ভর করবে শেয়ারের চূড়ান্ত মূল্যায়ন, প্রকাশিত আর্থিক তথ্যের স্বচ্ছতা এবং ঘোষিত সম্প্রসারণ পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয় তার ওপর।
স্টক নিউজ বিডির বিশেষ পর্যবেক্ষণ: উৎপাদন সক্ষমতা ও প্রবৃদ্ধির পরিকল্পনার পাশাপাশি চুক্তির মেয়াদ-পরবর্তী আয়, ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা এবং আইপিওর অর্থ ব্যবহারের স্বচ্ছতা—এই তিনটি বিষয় কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জির দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ মূল্যায়নে বিশেষ গুরুত্ব পাওয়া উচিত।


