নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৬ জুলাই, জুলাই শহীদ দিবস হিসেবে সারাদেশে গভীর আবেগের সাথে পালিত হবে আগামীকাল। বাংলাদেশের ইতিহাসে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া ছাত্র-জনতার ওই গণঅভ্যুত্থান সারা বিশ্বের কাছে এক অনন্য সংগ্রামের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বিকল্পধারা বাংলাদেশের মহাসচিব ওবায়দুর রহমান মৃধা গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন,মানুষের জীবন-ধারণ তার এক নম্বর মৌলিক অধিকার। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার কাছে প্রতিটি নাগরিকের স্বাভাবিক দাবি ন্যায্য অধিকার প্রাপ্তি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থায় – এদেশের তরুণ সমাজ তাদের মেধা অনুযায়ী কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। কোটার নামে বিভিন্ন সুবিধাভোগী গোষ্ঠীকে সুবিধা দিয়ে শেখ হাসিনা তার সৈরাচারী শাসন ব্যবস্থা এদেশের মানুষের উপর চাপিয়ে টিকে থাকতে চেয়েছিলেন। রাষ্ট্রের অর্থ অস্বাভাবিক দুর্নীতির মাধ্যমে দেশের বাইরে পাচার করে চলেছিল। ফলে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে অর্থনৈতিকভাবে ভীষণ নাজুক অবস্থায় চলে গিয়েছিল। দেশের মানুষ হাঁপিয়ে ওঠেছিল।
শেখ হাসিনা এতোটাই নীচে নেমে গিয়েছিল যে, তার প্রায় প্রতিটি বক্তৃতায় দেশবাসী আহত হতো। মানুষ হতাশ হয়ে পড়ে। তারুণ্য কখনো অন্যায় মানে না। তরুণ-যুবোশক্তি কোটা সংস্কারের দাবি নিয়ে রাজপথে আন্দোলন শুরু করে। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও তার অপকর্মের লাভবান নেতা , আমলা, পুলিশ প্রশাসন, সেনাবাহিনীর কিছু কর্মকর্তা ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে অবজ্ঞা করতে থাকে। তারা ‘আয়না ঘর’ তৈরি করে। যেখানে নিজেকে ছাড়া আর কাউকে দেখা যেতো না।শেখ হাসিনা সহ অন্যরা এই আন্দোলনকে গুরুত্ব না দিয়ে বরং তুচ্ছ তাচ্ছিল্য বলে মন্তব্য করতে থাকে। সর্বোচ্চ আদালতও কোটা নিয়ে রায়ে সরাকারের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘাটায়। একজন বিচারপতি নিজেদের ‘শপথবদ্ধ’ রাজনৈতিক কর্মী বলে দম্ভ প্রকাশ করে। সরকার দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে।
ছাত্র-জনতা আরও বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। আন্দোলনের এক পর্যায়ে ১৬ জুলাই ২০২৪ তারিখে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে নিহত হন। পুলিশের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়ানোর সেই ছবি-ভিডিও সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। এটাই ছিল আন্দোলনের প্রথম মৃত্যুর ঘটনা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ। সেদিনে সারাদেশে সহিংসতায় দেশব্যাপী সংঘর্ষে অন্তত ৬ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে ৩ জন শিক্ষার্থী। আবু সাঈদের হত্যার পর ছাত্র-জনতা জীবন বাজি রাখে শেখ হাসিনার পতনের একদফা দাবিতে।
জন রোষে পড়ে শেখ হাসিনার সামনে একে একে সব পথ বন্ধ হতে থাকে। নিরুপায় শেখ হাসিনা তার রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়দের নিরাপদে দেশ ত্যাগের ব্যবস্থা করে ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে নিজের ছোট বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। পতন হয় বিশ্ব রাজনীতির কলঙ্ক ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার। এদিকে আওয়ামী লীগের লক্ষ লক্ষ সাধারণ নেতাকর্মীরা সীমাহীন বিপদে পড়ে। তাদের অভিভাবক শেখ হাসিনা তাদেরকে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে হেলিকপ্টারে চড়ে বোনকে সাথে নিয়ে ভারতে পালিয়ে যায়।
দুর্নীতিমুক্ত নতুন বাংলাদেশে শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে যা যা করা দরকার সরকার সবই করবে এই আশাবাদ ব্যক্ত করি। রংপুরে আবু সাঈদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কথা সেটাও বাস্তবায়িত হবে। শহীদ ও আহত পরিবারের প্রয়োজনীয় পুনর্বাসনে অগ্রাধিকার দিতে হবে।জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুযায়ী জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে মোট ১৪০০ জনের বেশি মানুষ শহীদ হয়েছে। শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে পারে না। সরকারকে জাতির আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে দৃঢ়তার সাথে কাজ করে যেতে হবে। বিরোধী দলগুলো সরকারকে সহযোগিতার জন্য সমালোচনা করবে। সরকার ফেলে দেয়া যেন বিরোধী দলের অন্যতম উদ্দেশ্য না হয়। আমরা অবগত আছি যে, দেশের অর্থনীতি, জ্বালানি ও শিল্প উৎপাদন খাত কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
বিকল্পধারা বাংলাদেশ জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করছে এবং আহতদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা পুনর্ব্যক্ত করছে। বিপ্লবের কখনো মৃত্যু হয় না। বিপ্লব একটি চিরন্তন বিষয়। ফলে বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লব ব্যর্থ হবে না বলেই আমাদের বিশ্বাস। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা স্থায়ী রূপ পাবে। মানুষ গণতান্ত্রিক অধিকার সমানভাবে চর্চা করতে পারবে। আমাদেরও উচিত সরকারের কাজের গঠনমূলক সমালোচনা করে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করা।
