নতুন পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের উদ্যোগ, বাড়ছে স্বতন্ত্র পরিচালকের সংখ্যা
স্টক নিউজ বিডি | বিশেষ প্রতিবেদন: দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো ফার্মার পরিচালনা পর্ষদ থেকে সরে দাঁড়াতে সম্মত হয়েছেন কোম্পানিটির ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান। তাকে বাদ দিয়ে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি এ বিষয়ে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) চিঠি দিয়েছে বেক্সিমকো ফার্মা। চিঠিতে কোম্পানিটি জানিয়েছে, সালমান এফ রহমান নিজেই পরিচালনা পর্ষদ থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন।
কোম্পানির পক্ষ থেকে বিএসইসিকে বলা হয়েছে, সালমান এফ রহমানের কারণে যাতে কোম্পানির ব্যবসা, সুনাম ও শেয়ারধারীরা ক্ষতির মুখে না পড়েন, সেই বিবেচনায় তিনি পর্ষদ থেকে পদত্যাগে রাজি হয়েছেন।
নতুন পর্ষদে কারা থাকছেন
সালমান এফ রহমানকে বাদ দিয়ে বেক্সিমকো ফার্মার নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রস্তাবিত পর্ষদে উদ্যোক্তাদের মধ্য থেকে তিনজন পরিচালক, চারজন স্বতন্ত্র পরিচালক, আইএফআইসি ব্যাংকের পক্ষ থেকে মনোনীত একজন পরিচালক এবং পদাধিকারবলে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ বিষয়ে বিএসইসির পক্ষ থেকেও কোম্পানিটিকে ইতিবাচক সাড়া দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরও সম্মতি
বেক্সিমকো ফার্মা শুধু বাংলাদেশের শেয়ারবাজারেই নয়, লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট মার্কেটেও (AIM) তালিকাভুক্ত। ফলে পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পাশাপাশি লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের সংশ্লিষ্ট নিয়ম ও প্রক্রিয়াও অনুসরণ করতে হবে।
কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসা ও কোম্পানির সামগ্রিক স্বার্থ বিবেচনায় সালমান এফ রহমানকে পরিচালনা পর্ষদ থেকে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও সম্মতি দিয়েছেন।
বিএসইসি সূত্রে জানা যায়, নতুন পর্ষদ গঠনের সময় বিদেশি শেয়ারধারীদের একজন প্রতিনিধিকে পরিচালনা পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছিল কমিশন। তবে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এতে সম্মত হননি। পরে স্বতন্ত্র পরিচালকের সংখ্যা বাড়িয়ে নতুন পর্ষদ গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
পর্ষদ পুনর্গঠনে সময় লাগবে কয়েক সপ্তাহ
লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার আগে তার বিষয়ে যথাযথ যাচাই-বাছাই বা ‘ডিউ ডিলিজেন্স’ সম্পন্ন করতে হয়। এই যাচাই প্রক্রিয়া শেষ করতে চার থেকে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে বিএসইসিকে দেওয়া বেক্সিমকো ফার্মার চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থাৎ নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠনের ক্ষেত্রে শুধু বিএসইসির অনুমোদনই নয়, আন্তর্জাতিক তালিকাভুক্তির বিধিবিধানও অনুসরণ করতে হবে কোম্পানিটিকে।
সুনাম ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানোর প্রত্যাশা
শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, বেক্সিমকো ফার্মা দেশের ওষুধ খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় কোম্পানি। তবে সালমান এফ রহমানের মালিকানা ও প্রভাবকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে কোম্পানিটির ব্যবসা, সুনাম এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
তাদের মতে, সালমান এফ রহমান পরিচালনা পর্ষদ থেকে সরে দাঁড়ালে কোম্পানিটির পরিচালনা কাঠামোয় পরিবর্তন আসবে। এর ফলে ব্যবসা পুনরুদ্ধার, করপোরেট সুশাসন জোরদার এবং কোম্পানিটির ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
একই সঙ্গে নতুন ও তুলনামূলকভাবে স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ গঠিত হলে বেক্সিমকো ফার্মার প্রতি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরতে পারে বলেও মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
কারাগারে সালমান এফ রহমান
২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সালমান এফ রহমান গ্রেপ্তার হন। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। এর মধ্যেই বেক্সিমকো ফার্মার পরিচালনা পর্ষদ থেকে তার সরে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলো।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন পর্ষদ গঠন ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা কাঠামো প্রতিষ্ঠার পর কোম্পানিটির মূল ব্যবসায়িক সক্ষমতা, করপোরেট সুশাসন এবং শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কতটা পুনরুদ্ধার করা যায়, এখন সেটিই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
