Stock News BD | Latest Online Most Popular Newspaper
  • হোম
  • শেয়ার বাজার
    • আজকের লেনদেন
    • কোম্পানি সংবাদ
    • বোর্ড সভা
    • এজিএম / ইজিএম
    • আইপিও / রাইট
    • লভ্যাংশ
    • উপদেশ
    • পিএসআই
  • অনুসন্ধানী বিশ্লেষণ
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • খেলাধুলা
  • লাইফ স্টাইল
  • ইসলাম
  • বিনোদন
  • আরও
    • বিশেষ প্রতিবেদন
    • আইন-আদালত
    • গণমাধ্যম
    • চাকরি
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • স্বাস্থ্য
    • সংস্কৃতি
    • ভিডিও
    • অন্যান্য
Tag:

বিশেষ প্রতিবেদন

বায়ুদূষণে আজও শীর্ষে ঢাকা

স্টক নিউজ বিডি February 18, 2023

স্টক নিউজ বিডি অনলাইন ডেস্ক: সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুদূষণ পরিমাপকারী সংস্থা আইকিউ এয়ার ইনডেক্সের তথ্য অনুসারে বিশ্বের দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় টানা দ্বিতীয় দিনের মতো আজও শীর্ষে অবস্থান করছে রাজধানী ঢাকা।

৩২৯ স্কোর নিয়ে আইকিউ এয়ারের দূষিত শহরের তালিকার বিপজ্জনক শ্রেণিতে রয়েছে ঢাকা।

শনিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টায় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর ৩২৯ নিয়ে রাজধানীর বাতাসের মান ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ শ্রেণিতে ছিলো। ২৬৬ স্কোর নিয়ে এ তালিকায় পরের স্থানে রয়েছে ঘানার আক্রা। এরপরই রয়েছে চীনের বেইজিং, যার স্কোর ২২৩।

একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ ভালো হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়। আর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। ২০১ থেকে ৩০০ হলে খুবই অস্বাস্থ্যকর। আর ৩০১-এর বেশি হলে তা ‘বিপজ্জনক’ বলে বিবেচিত হয় যা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে এবং অন্যদের বাড়ির বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে।

সাধারণত একিউআই নির্ধারণ করা হয় দূষণের পাঁচটি ধরনকে ভিত্তি করে। যেমন- বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২ দশমিক ৫), এনও২, সিও, এসও২ ও ওজোন (ও৩)।

২০১৯ সালের মার্চ মাসে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, ঢাকার বায়ুদূষণের তিনটি প্রধান উৎস হলো: ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণ সাইটের ধুলা। বাংলাদেশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মতে, বায়ুদূষণের কারণে বাংলাদেশে প্রতি বছর ৮০ হাজার মানুষ মারা যাচ্ছেন।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, বিশ্বব্যাপী প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৯ জন দূষিত বাতাসে শ্বাস নেন এবং বায়ুদূষণের কারণে প্রতিবছর প্রধানত নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশে আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু ঘটে।

এর আগে পুরো শীতকালজুড়ে (ডিসেম্বর ও জানুয়ারি) ঢাকার বায়ু ছিল ‘অস্বাস্থ্যকর’ বা ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ অবস্থায়। প্রায় প্রতিদিনই দূষিত বায়ুর তালিকায় শীর্ষে ছিল বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। বসন্তকালে এসে তা আরও খারাপ অবস্থায় গিয়েছে।

স্টক নিউজ বিডি.কম/এসএম

আরও পড়তে পারেন…

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

ভালোবাসায় শরীরের যত লাভ

স্টক নিউজ বিডি February 14, 2023

স্টক নিউজ বিডি অনলাইন ডেস্ক: আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। এ দিনে সারা বিশ্বের মানুষ তাদের প্রিয়জনদের সান্নিধ্যে পালন করবে জীবনের অনিন্দ সুন্দর এই সম্পর্কটি।

বিজ্ঞানীদের মতে, ভালোবাসা শুধু মানসিক আবেগের বহিঃপ্রকাশ নয়। এর সঙ্গে শারীরিক অনেক কিছু জড়িত। কারো প্রেমে পড়লে বা কাউকে ভালোবাসলে শরীরের বিভিন্ন হরমোন একসঙ্গে কাজ করে। এতে শরীর উপকৃত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রেম-ভালোবাসার জাদুকরী শক্তি শরীরে বিস্ময়কর প্রভাব ফেলে।

রক্তচাপ কমে: প্রেম-ভালোবাসা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য ভালো। ভালোবাসায় রক্তচাপ কমে। ভালোবাসলে অক্সিটোসিন নামক লাভ হরমোন উৎপন্ন হয়। এই হরমোন রক্তচাপ কমাতে ভূমিকা রাখে। হরমোনটি রক্তনালী শিথিল করে রক্তচাপের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকে: শুনতে অদ্ভুত মনে হলেও সত্য যে, প্রেম-ভালোবাসা কোলেস্টেরলের জন্যও ভালো। গবেষণায় দেখা গেছে, যে সব দম্পতি একসঙ্গে সুখে দিন অতিবাহিত করেন তাদের শরীরে স্ট্রেস হরমোনের সমান্তরালে কোলেস্টেরলের মাত্রাও কমেছে। গবেষকরা জানান, নারী-পুরুষের ভালো সম্পর্ক পরস্পরকে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের পরামর্শ প্রদানে উদ্বুদ্ধ করে। এটি কোলেস্টেরলের মাত্রাকে প্রভাবিত করে। এছাড়া প্রেমিক-প্রেমিকা নিজেরাই বুঝতে পারেন যে, স্বাস্থ্যের উন্নতি প্রয়োজন, তাই তারা এ সময় নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার খান ও শরীরচর্চা করেন। এটি মূলত একে অপরের চোখে সুন্দর হয়ে ওঠার প্রতিযোগিতা।

জীবনের আয়ু বাড়ে: গবেষণায় দেখা গেছে, নারী-পুরুষের সুখী সম্পর্ক বেশিদিন বাঁচতে সাহায্য করতে পারে। যারা একা থাকেন তাদের মধ্যে বিষণ্নতা ও অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার ঝোঁক বেশি। এতে শরীরে রোগ সৃষ্টির আশঙ্কা থাকে। শরীরে রোগ বাসা বাঁধলে জীবনের দৈর্ঘ্য কমতে থাকে। একা ছিলেন এমন নারীদের আয়ু গড়ে ২ বছর কমে এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার ৬-৭ বছর- বলছে গবেষণা।

সুখের হরমোন নিঃসৃত হয়: প্রেমে পড়লে অথবা ভালোবাসার সম্পর্কে জড়ালে মস্তিষ্কে লাভ হরমোন উৎপন্ন হয়। যেমন ডোপামিন, এন্ডোরফিনস ও সেরোটোনিন। এসব হরমোন মনে সুখের জোয়ার বইয়ে বিষণ্নতার মাত্রা কমায়। এভাবে হার্টের রক্তনালী বিষণ্নতার ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে রক্ষা পায়।

হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়: যারা একা থাকেন তাদের অনেকেই বিষণ্নতায় ভোগেন। জীবনের কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলার ক্ষেত্রে তারা মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন। তাদের শরীরে স্ট্রেস হরমোন করটিসোলের উৎপাদন বেড়ে যায়। গবেষণা বলছে, উচ্চ মাত্রার কোলেস্টেরল রক্তে ট্রাইগ্লাইসেরাইড, সুগার ও প্রেসার বাড়াতে পারে। এগুলো হলো হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাকের প্রচলিত ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়।

রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে: প্রেমে পড়লে মানুষ যে সুখী হয় তার অন্যতম লক্ষণ হলো গুনগুন করে গান গাওয়া। শরীরের ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করতে তথা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সুখে থাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ইমিউন সিস্টেম সবল থাকলে চেস্ট ইনফেকশন বা শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ থেকে মারাত্মক পরিণতির ঝুঁকি হ্রাস পায়। কেবল এটা নয়, সার্বিক সুস্বাস্থ্যের জন্য শক্তিশালী ইমিউন সিস্টেমের প্রয়োজন রয়েছে।

ব্যথা কমায়: নারী-পুরুষের আবেগপূর্ণ সুসম্পর্ক কেবল মনের জ্বালা দূর করে না, শরীরের ব্যথা কমাতে ওষুধের মতো কাজও করতে পারে। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের গবেষণা বলছে, নারী-পুরুষের ভালো সম্পর্কে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা কিছু না কিছু কমতে পারে। কীভাবে? এ প্রসঙ্গে গবেষকরা জানান, ভালোবাসার পরম অনুভূতি মস্তিষ্কের সেই অংশকে সক্রিয় করে যা ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করলে সক্রিয় হয়।

স্টক নিউজ বিডি.কম/এসএম

আরও পড়তে পারেন…

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

আজ সুন্দরবন দিবস

স্টক নিউজ বিডি February 14, 2023

স্টক নিউজ বিডি অনলাইন ডেস্ক: আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি, সুন্দরবন দিবস। প্রতিবারের ন্যায় এবারো উদযাপন করা হচ্ছে দিবসটি। বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনকে রক্ষায় খুলনাসহ উপকূলীয় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দুই দশক ধরে দিনটি উদযাপন হয়ে আসছে।

২০০১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের আওতায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রূপান্তর ও পরশ-এর উদ্যোগে এবং দেশের আরও ৭০টি পরিবেশবাদী সংগঠনের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় সুন্দরবন সম্মেলনে ১৪ ফেব্রুয়ারিকে ‘সুন্দরবন দিবস’ ঘোষণা করে প্রতিবছর পালন করা হয়। সে হিসেবে এবার পালিত হচ্ছে ২৩তম সুন্দরবন দিবস। দিবসটি উপলক্ষে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

২০০১ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় সুন্দরবন সম্মেলনে গৃহীত ১৮ দফার মধ্যে রয়েছে সুন্দরবন ও বনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে হবে, জাতীর প্রতীক হিসাবে চিহ্নিত রয়েল বেঙ্গল টাইগার রক্ষার জন্য বাঘ-হরিণসহ সুন্দরবনের সব ধরনের জীবজন্তু হত্যা বন্ধসহ যাবতীয় বেআইনি কার্যকলাপ বন্ধ করতে হবে, সুন্দরবনের পার্শ্ববর্তী এলাকাসমূহের উন্নয়ন প্রকল্পে যে কোনো পদক্ষেপ নেয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ এবং স্থানীয় জনগণের মতামত নিতে হবে এবং তেল-গ্যাস আবিষ্কারের জন্য অনুসন্ধানী উদ্যোগ বন্ধ করতে হবে।

সুন্দরবনে ৫ হাজার প্রজাতির সম্পূরক উদ্ভিদ, ১৯৮ প্রজাতির উভচর প্রাণী, ১২৪ প্রজাতির সরীসৃপ, ৫৭৯ প্রজাতির পাখি, ১২৫ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী ও ৩০ প্রজাতির চিংড়ি মাছ রয়েছে।

সুন্দরবনের প্রতি মমত্ববোধের জায়গা থেকে সুন্দরবন দিবস পালন করা হচ্ছে। এ দিবসটি সরকারিভাবে পালনের জন্য বিভিন্ন সময়ে সরকারের নীতি নির্ধারণী মহল ও প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন পর্যায়ে দাবী জানিয়ে আসছে সুন্দরবন একাডেমিসহ পরিবেশ আন্দোলনের সংগঠনগুলো।

স্টক নিউজ বিডি.কম/এসএম

আরও পড়তে পারেন…

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

বসন্ত-ভালোবাসা দিবস রাঙাবে সাভারের গোলাপ গ্রাম

স্টক নিউজ বিডি February 13, 2023

স্টক নিউজ বিডি অনলাইন ডেস্ক: মাঘের শেষে রুক্ষ প্রকৃতিতে রং ছড়িয়ে ফুটে আছে লাল টুকটুকে রক্তিম গোলাপ। প্রকৃতিতে এ যেন স্রষ্টার তুলিতে আঁকা ভালোবাসার রং। আর একদিন পরেই ১৪ ফেব্রুয়ারী বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী এদিন পহেলা ফাল্গুন বসন্তের প্রথম দিন। একই সঙ্গে সারা বিশ্বে ভালোবাসার দিবস হিসেবেও পালিত হবে এই দিনটি। আর এই খুশিতেই সাভারের গোলাপ চাষিদের মুখে ফুটেছে স্ফীত একগাল হাসি।

ঢাকার অদূরে সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়ন দেশব্যাপী খ্যাতি এখন গোলাপ চাষের জন্য। দাপ্তরিক কাগজপত্রে গোলাপ নামে কোনো গ্রাম নেই কিন্তু এখানকার সাধারণ মানুষের মুখের কথায় ও দোকানের সাইনবোর্ডসহ সবখানে আছে গোলাপ গ্রাম।

এই ইউনিয়নে শ্যামপুর, সাদুল্লাহপুর, মৈস্তাপাড়া, বাগ্নিবাড়ি, বাটুলিয়া, কমলাপুর, আউকপাড়া উচুঁ লাল মাটির এই গ্রামগুলো এক নামে পরিচিত গোলাপ গ্রাম নামে। এই গ্রামে যতদূর চোখ যায় গোলাপের বাগান। এ যেন স্বপ্নের গ্রাম। সাভারের এই গোলাপ গ্রাম পর্যটকদের আনাগোনায় মুখরিত। প্রতিদিন সদ্য ফোটা গোলাপের সৌন্দর্য ও গন্ধ নিতে চলে আসে হাজারো সৌন্দর্য পিপাসু।

১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস, পহেলা ফাল্গুন, ভালোবাসা দিবস, শহিদ দিবস ও স্বাধীনতা দিবস ঘিরে এসময় ফুল বিক্রি বাড়ে কয়েকগুণ। সরকারি হিসাব মতে বিরুলিয়ার গ্রামগুলোয় ৩৫০ হেক্টর জমিতে ফুলের চাষ হয়। আর এই ফুল চাষের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে প্রায় দেড় হাজার চাষি। গোলাপ বিক্রির জন্য মৈস্তাপাড়া ও শ্যামপুর বড় দুটি পাইকারি বাজার রয়েছে এখানে।

এছাড়াও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে পাইকাররা এসে সরাসরি গোলাপ গ্রাম থেকে তাজা ফুল সংগ্রহ করে। এই দুটি বাজারে প্রতিদিন রাত ৮টা থেকে ১১টা পযর্ন্ত চলে ফুল বেচাকেনা। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পাইকাররা এই ফুল নিয়ে ঢাকাসহ সারাদেশে ফুল বিক্রি করেন।

তিন বিঘা জমিতে গোলাপ চাষি কৃষক ফরিদ একুশে টেলিভিশনকে বলেন, ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত করোনা আর ২০২২ সালে ছত্রাক রোগের আক্রমণের কারণে বিগত বছরগুলোতে যে লোকসান গুণতে হয়েছে আমাদের তা এবারের বেচা কেনাতে পুষিয়ে নিতে পারব। আমাদের গোলাপ গ্রামে প্রায় ১৫’শ ফুল চাষি রয়েছে, ফুল আগের তুলনায় বেশি উৎপাদন হয়েছে। তাই এবার কৃষকের মুখে হাসি।

স্থানীয় ফুল বিক্রেতা শফিকুল বলেন, প্রতিদিন যে পর্যটকদের আনাগোনায় মুখরিত হয় এই গোলাপ গ্রাম, ঢাকাসহ আশপাশের ভ্রমণ পিপাসু লোকের আগমন ঘটে তা থেকেই প্রচুর ফুল বিক্রি হয়, ফুলের চাহিদাও আছে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দর্শনার্থীরা যারা এখানে ঘুরতে আসে তাদের কাছে খুচরা মূল্যে ফুল বিক্রি করে থাকি।

তিনি আরও বলেন, আমরা চাষিরা মূলত সারা বছর কয়েকটি বিশেষ দিবসের অপেক্ষায় থাকি– পহেলা ফাল্গুন, ২১শে ফেব্রুয়ারি, ভাষা দিবস, ভালোবাসা দিবস ও ২৬ মার্চ এই দিনগুলো। আর এই সময়ে বাগান ভর্তি ফুল থাকায় এবার বিগত বছরের লোকসান কাটিয়ে তুলতে পারবো ইনশাআল্লাহ।

এদিকে ঢাকা মিরপুর থেকে বেড়াতে আসা চুমকি বলেন, সরাসরি বাগানে এসে ফুল কেনার মজাই আলাদা। তবে আগের তুলনায় ফুলের দাম অনেক চড়া। একটি ফুল ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকা বিক্রি হচ্ছে, তারপরেও খুব ভালো লাগছে যে সরাসরি বাগানে এসে সৌন্দর্য উপভোগ করতে পেরেছি।

অস্থায়ী ফুলের দোকানদার মাসুদ বলেন, আমি মাত্র ১ বিঘা জমিতে গোলাপের চাষ করেছি, তাতে এবার আমার যে ফলন হয়েছে আমি বেশি দামে বিক্রি করতে পারায় খুবই খুশি হয়েছি। আর প্রতিদিনই যে কাস্টমার গোলাপ গ্রাম দেখতে আসে তারাই এখান থেকে ফুল সরাসরি ক্রয় করেন। তবে ইদানিং কাঁচা ফুলের বাজারে বিদেশ থেকে আমদানি করা প্লাষ্টিকের ফুল ঢুকে পড়ছে এতে বাজারে কাঁচা ফুলের কদর কিছুটা কমছে এবং যতদিন যাচ্ছে প্লাষ্টিক ফুলের বাজার ততই বড় হচ্ছে। তাই তিনি সরকারের কাছে এই প্লাষ্টিকের ফুল আমদানিকে নিরুৎসাহিত করার আহবান জানান।

সাভার উপজেলা কর্মকর্তা নাজিয়াত আহমেদ বলেন, এবছর বিগত বছরের তুলনায় কৃষক গোলাপের দাম পাচ্ছে, আমরা কৃষি অফিস সঠিক সময়ে তদারকি করেছি, ছত্রাক রোগের আক্রমণ হয়নি যার কারণে কৃষকের ফলন বৃদ্ধি পয়েছে।

স্টক নিউজ বিডি.কম/এসএম

আরও পড়তে পারেন…

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

আসছে রোমো রোমিও ফিচারিং এফ মাইনর ব্যান্ডের নতুন গান

স্টক নিউজ বিডি January 24, 2023

স্টক নিউজ বিডি অনলাইন ডেস্ক: জনপ্রিয় গিটারিষ্ট,গিটার বই লেখক, গিটার শিক্ষক ও কম্পোজার রোমো রোমিওর লেখা,সুর ও কম্পোজিশনে আসছে নতুন গান “কত কষ্টে বেচে আছি” । গানটি রোমিওর সাথে ফিচারিং করছে এসময়ের জনপ্রিয় ব্যান্ড এফ মাইনর ।

এফ মাইনর ব্যান্ডের ভোকালিষ্ট পিঙ্কি জানান সামনের সপ্তাহে গানটি মুক্তি পেতে যাচ্ছে । আশা করছি ভক্তদের ভিন্নধারার এই রোমান্টিক গানটি ভালো লাগবে । গানটি ইউটিউবে ও ফেইসবুকে রোমো রোমিও অফিসিয়াল পেজে ও এফ মাইনর এর অফিসিয়াল পেজে পাওয়া যাবে ।

স্টক নিউজ বিডি.কম/এসএম

আরও পড়তে পারেন…

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

অসাম্প্রদায়িক চেতনার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত নেতাজী ও বঙ্গবন্ধু: ঢাবি উপাচার্য

স্টক নিউজ বিডি January 24, 2023

স্টক নিউজ বিডি অনলাইন ডেস্ক: দেশপ্রেমের অমলিন চেতনায় নেতাজী ও বঙ্গবন্ধু অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়ার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। এমন মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান। অখণ্ড ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের পুরোধা নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর ১২৬তম জন্মবর্ষ উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) ‘দেশপ্রেমের অমলিন চেতনায় নেতাজী ও বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা কথা বলেন।

দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ড. আখতারুজ্জামান বলেন, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়ে পরাধীন ভারতবর্ষকে মুক্ত করার সংগ্রাম করেছিলেন। আর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের আপামর জনসাধারণকে মুক্তি সংগ্রামের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে পেরেছিলেন। উপাচার্য আরও জানান, মহান এই দুই নেতার সংগ্রামের অজানা নানা অধ্যায় তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এ ধরনের আলোচনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের পক্ষে ‘বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের ঐতিহ্যিক পরম্পরায় দুই মহান স্বাধীনতা সংগ্রামীর প্রভাব’ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন বরেণ্য নেতাজী বিশেষজ্ঞ ড. জয়ন্ত চৌধুরী। তিনি বলেন, নেতাজী-নজরুল-রবীন্দ্রনাথ ও বঙ্গবন্ধু অখণ্ড বাঙালির গৌরব। সমকালীন জাতপাতের সংকট দূও করতে হলে এই চিরস্মরণীয় বাঙালিদের আদর্শেও যুগপৎ চর্চা অত্যন্ত জরুরি। আর এধ রনের চর্চার মধ্যদিয়েই বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক পদ্মা নদীতে নির্মিত সেতুর মতোই সুদৃঢ় হবে বলে আমার বিশ্বস ।’

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, সংসদ সদস্য জনাব ইকবাল হোসেন সবুজ ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের মেয়র জনাব ইকরামুল হক টিটু এবং বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের পরিচালক ড. মো. মোফাকখারুল ইকবাল।

এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৬তম জন্মবর্ষ উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব এবং পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম। অনুষ্ঠান আহ্বায়কের বক্তব্য রাখবেন পরিষদের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. উত্তম কুমার বড়ুয়া। সবশেষে বরেণ্য রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা এবং তার দল সুরের ধারার শিল্পীরা সঙ্গীত পরিবেশন করেন।

স্টক নিউজ বিডি.কম/এসএম

আরও পড়তে পারেন…

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail
এক নজরে আলোচিত ২০২২ খবর

এক নজরে আলোচিত ২০২২ খবর

স্টক নিউজ বিডি December 31, 2022

করোনার ধাক্কা সামলে অর্থনীতি যখন ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল তখনই খড়গ হয়ে নামে ইউক্রেন যুদ্ধ। অস্থির হয়ে ওঠে খাদ্যপণ্য ও জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজার। এতে দেশের বাজারে বেড়ে যায় মূল্যস্ফীতির চাপ। আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ডলারের মূল্যবৃদ্ধি ও রির্জাভ সংকট দেখা দেয়।

কয়েক দফায় টাকার অবমূল্যায়ন করা হয়। খেলাপি ঋণে ভোগে আর্থিক খাত।

ফেডারেল রিজার্ভ দফায় দফায় সুদহার বাড়ানোয় বিশ্বজুড়ে ডলারের দামে উল্লম্ফন ঘটে। এর সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে দেশেও বাড়তে থাকে ডলারের দাম। ডলারের বাজার স্থিতিশীল করতে টাকার অবমূল্যায়ন করে বাংলাদেশ ব্যাংক

নতুন গভর্নর

ডলার সংকট, রিজার্ভ কমে যাওয়াসহ নানা সংকটে ব্যাংক খাতে যখন অস্থিরতা, তখনই কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নতুন গভর্নর নিয়োগ করে সরকার। নতুন গভর্নর হন আবদুর রউফ তালুকদার। তিনি দেশের ১২তম গভর্নর হিসেবে আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান হিসেবে যোগ দেন

বাণিজ্য ঘাটতি

চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এক হাজার ৯৩৫ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করা হয়। বিপরীতে রপ্তানি করা হয়েছে এক হাজার ১৮০ কোটি ডলারের পণ্য। এতে ৭৫৫ কোটি (৭.৫৫ বিলিয়ন) ডলারের বাণিজ্য ঘাটতিতে পড়েছে দেশ

প্রবাস আয়

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই ও আগস্ট) টানা দুই বিলিয়ন ডলার করে রেমিট্যান্স এসেছিল দেশে। এর পরের মাস সেপ্টেম্বর থেকে টানা তিন মাস দেড় বিলিয়ন ডলারের ঘরে নেমে আসে রেমিট্যান্স। সর্বশেষ নভেম্বর মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ১৫৯ কোটি ৪৭ লাখ ডলার

মূল্যস্ফীতি

এপ্রিলেই দেশে মূল্যস্ফীতির অঙ্ক ৬ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। ক্রমাগতভাবে বেড়ে আগস্ট মাসে গিয়ে পৌঁছায় ৯.৫২ শতাংশে, যা ছিল গত ১১ বছরের মধ্যে দেশের সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি। তবে অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে এই মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে

রিজার্ভ ঘাটতি

বছরজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে রিজার্ভ সংকট। গত বছরের আগস্টে বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৪৮ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মোট রিজার্ভের পরিমাণ ৩৪ বিলিয়ন ডলার

নতুন উচ্চতায় সোনার দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় এ বছর দেশের বাজারেও দফায় দফায় বেড়েছে সোনার দাম। সব থেকে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার দাম বেড়ে হয়েছে ৮৮ হাজার ৪১৩ টাকা, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দাম

খেলাপি ঋণ

ব্যাংক খাতে এক বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩৩ হাজার কোটি টাকা। সেপ্টেম্বর প্রান্তিক শেষে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৩৪ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকায়। সেপ্টেম্বর মাস শেষে ব্যাংক খাতের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি

সবুজ কারখানা

২০২২ সালে বাংলাদেশের ৩০টি নতুন সবুজ কারখানা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ফলে দেশে সবুজ কারখানা বেড়ে হয়েছে ১৮৩টি। এর মধ্যে প্লাটিনাম ক্যাটাগরির ৬০টি, গোল্ড ১০৯টি, সিলভার ১০টি ও সার্টিফায়েড চারটি।

ভোজ্য তেল

এক বছরে কয়েক দফায় বেড়েছে ভোজ্য তেলের দাম, বছরের মাঝামাঝি ভোজ্য তেলের সংকট তৈরি হয়েছিল। এক বছরে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ২৬.৬৬ শতাংশ

আইএমএফের ঋণ

আলোচনায় ছিল আইএমএফের ঋণ। রিজার্ভ সংকট কাটাতে গত ২৪ জুলাই আইএমএফের এমডির কাছে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ চেয়ে চিঠি দিয়েছে অর্থ বিভাগ। তিন বছরের জন্য ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ চায় সরকার। লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা এবং বাজেট সহায়তা বাবদ এই ঋণপ্রাপ্তির বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে

শক্তিশালী ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ দফায় দফায় সুদের হার বাড়ানোর ফলে শক্তিশালী হয় মার্কিন ডলার। বৈশ্বিক অন্যান্য মুদ্রার বিপরীতে এ বছর ডলারের দাম বাড়ে প্রায় ১৪ শতাংশ

জ্বালানির উচ্চমূল্য

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্য ও জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১৩৫ ডলারে উঠে যায়। বছর শেষে কিছুটা স্থিতিশীলতায় ফিরেছে

২০তম অর্থনীতি হবে দেশ

২০৩৭ সালে বিশ্বের ২০তম অর্থনৈতিক দেশে পরিণত হবে বাংলাদেশ। ২০২২ সালে অবস্থান ছিল ৩৪তম। ফলে বৈশ্বিক র্যাংকিংয়ে ১৪ ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। এক পূর্বাভাসে এ তথ্য দিয়েছে ব্রিটিশ অর্থনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সিবর

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

লেভেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা: ১২ বছরে চার রিট

স্টক নিউজ বিডি August 26, 2022

স্টক নিউজ বিডি অনলাইন ডেস্ক: চলতি বছরের ২৯ জুলাই। চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের খৈয়াছড়া এলাকায় রেললাইনে উঠে যাওয়া মাইক্রোবাসকে ধাক্কা দেয় ট্রেন। এতে মাইক্রোবাসের ১১ যাত্রী নিহত হন। ২১ জুলাই রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসের ধাক্কায় পাঁচ নির্মাণশ্রমিক নিহত হন গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার কাগদী লেভেল ক্রসিংয়ে। দুই ঘটনায়ই আহত হন বেশ কয়েকজন।

২০০৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি জয়পুরহাটে গেটম্যানবিহীন লেভেল ক্রসিংয়ে ট্রেন ও ট্রাকের সংঘর্ষে মর্মান্তিক মৃত্যু হয় ১৪ জনের। একইভাবে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় লেভেল ক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের বর-কনেসহ ১১ জন নিহত হন ২০১৯ সালে।

সারাদেশে রেললাইনে বৈধ ও অবৈধ লেভেল ক্রসিং আছে ২ হাজার ৮৬৫টি। এর মধ্যে এক হাজার ৩৬১টির কোনো অনুমোদন নেই। আবার এক হাজার ৪৯৫টি বৈধ ক্রসিংয়ের মধ্যে ৬৩২টির গেটম্যান নেই। এসব বৈধ ও অবৈধ লেভেল ক্রসিংয়ে নিয়মিতই ঘটছে দুর্ঘটনা। নিহত ও আহত হচ্ছে মানুষ।

এ কারণে লেভেল ক্রসিংয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও গেটম্যান নিয়োগ, দুর্ঘটনার কারণ ও জড়িতদের খুঁজে বের করা এবং নিহত ও আহতদের ক্ষতিপূরণ নিয়ে গত ১২ বছরে হাইকোর্টে পৃথক রিট হয়েছে। সবগুলো রিটই রয়েছে শুনানির অপেক্ষায়।

তিন বছর আগে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় লেভেল ক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের বর-কনেসহ ১১ জন নিহতের ঘটনায় রিট হয়েছিল। সেই রিটে লেভেল ক্রসিংয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও গেটম্যান নিয়োগের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল। রিট আবেদন করেছিলেন অ্যাডভোকেট একলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া।

রিটকারী অ্যাডভোকেট একলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া এ বিষয়ে বলেন, ২০১৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর রুল জারি করার বেশ কিছুদিন পর রুলটি শুনানির জন্য উত্থাপন করা হয়েছিল। হাইকোর্ট অবৈধ লেভেল ক্রসিং বন্ধ, লেভেল ক্রসিং নিরাপদ করতে পদক্ষেপ নিয়ে তিনমাসের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত এই অগ্রগতি প্রতিবেদন কেউ দাখিল করেনি।

তবে তার পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে রুল শুনানি করা যায়নি। এই রুল দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

২০০৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি জয়পুরহাটে লেভেল ক্রসিংয়ে ১৪ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় রিট করা হয়েছিল গেটম্যান নিয়োগের নির্দেশনা চেয়ে। রিটের পরে রুলও জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। ওই রুলের বিষয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশে প্রতিবেদন এসেছিল। কিন্তু সেই প্রতিবেদন ও রুলের শুনানি এখনো হয়নি।

সেই রিটটি করেছিলেন মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইট অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকট মনজিল মোরসেদ।

ওই রিটের শুনানি নিয়ে রুল জারির পাশাপাশি রেলপথে কতগুলো ক্রসিং, বৈধ কত এবং অবৈধ কত, ক্রসিংয়ে গেটম্যান আছে কি না- এসব বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য বলেছিলেন হাইকোর্ট। কিন্তু লেভেল ক্রসিংয়ের এই দুর্ঘটনা রোধে প্রায় ১২ বছরের বেশি সময় আগে হাইকোর্টের জারি করা রুল আজও নিষ্পত্তি হয়নি।

এ নিয়ে অ্যাডভোকট মনজিল মোরসেদ বলেন, প্রায়ই রেল দুর্ঘটনা হয়। অনেক ক্রসিং আছে যেগুলোতে লোকবলও নাই, কোনো ধরনের ব্যারিকেডও নাই। আমাদের রিটটি ছিল যে, সব জায়গাগুলোতে (লেভেল ক্রসিং) যেন লোকবল নিয়োগ দেওয়া হয়। হাইকোর্টের নির্দেশনায় সারাদেশের রেলপথে কতগুলো ক্রসিং আছে সেই তালিকা চাওয়া হয়েছিল। তালিকাও প্রস্তুত করেছিল রেলওয়ে।

তিনি বলেন, আমাদের রিটটি সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের বেঞ্চে শুনানি ও আদেশ হয়েছিল। পরে তিনি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুলের ওপর শুনানি করতে চাইলে রেলওয়ের আইনজীবী সময় নিলেন। উনারা বললেন ক্রসিং কতগুলো এবং লোকবল নিয়োগ দিতে অনেক ফান্ডের দরকার, প্রস্তুতিও দরকার। পরবর্তীসময়ে হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন আপিল বিভাগে চলে যাওয়ার কারণে সেই বেঞ্চ ভেঙে গেলো। এসব কারণে আর মামলাটি শুনানি হয়নি।

ওই রিটের বিষয়ে আবার শুনানির উদ্যোগ নেবেন বলে জানান অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ।

এদিকে গত ২৯ জুলাই চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে রেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনার পরে সারাদেশের ক্রসিংগুলোতে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট হয়েছে।

গত ৩ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনির পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার তাপস কান্তি বল এ রিট করেন। রিটের বিষয়ে গত ৪ আগস্ট শুনানি করতে গেলে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ তাতে অপারগতা প্রকাশ করে ফিরিয়ে দেন। পরে এ বিষয়ে আর শুনানি হয়নি।

এ নিয়ে রিটকারী আইনজীবী তাপস কান্তি বল বলেন, রিটটি আমরা হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে শুনানির জন্য উপস্থাপন করেছিলাম। আদালত সেটি ‘আউট অব লিস্ট’ করেছেন। এখন আমরা রিটটি শুনানির জন্য অন্য কোনো হাইকোর্ট বেঞ্চে আর্জি জানাবো।

এছাড়া গত ২১ জুলাই রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসের ধাক্কায় পাঁচ নির্মাণশ্রমিক নিহত হন। এরপর ৩১ জুলাই আইনজীবী তাপস কান্তি বল এ দুর্ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং নিহত-আহতদের ক্ষতিপূরণের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টের স্বতঃপ্রণোদিত আদেশ চেয়েছিলেন। পরে আদালত তাকে রিট করার পরামর্শ দেন। তার ধারাবাহিকতায় রিট হলেও সেটি শুনানি হয়নি।

এসব লেভেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা এবং রিট নিয়ে ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর পল্লব বলেন, রেল দুর্ঘটনায় নিহত যাত্রীদের বিষয়ে কোনো ইন্স্যুরেন্স আইন করা যায় কি না সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ ও আলোচনা করে উদ্যোগ নেবো। এমন না যে রেল দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করার সুযোগ রেল কর্তৃপক্ষের নেই। রেল কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলার কারণেই প্রতি বছর শত শত মানুষ মারা যাচ্ছে। যেভাবে ক্রসিংয়ের দুর্ঘটনায় মানুষ জীবন দিচ্ছে, তাতে কোনো প্রতিকার নেই। একটা সভ্য সমাজে এ ধরনের একটা পরিস্থিতি, এ ধরনের দুর্ঘটনা চলতে পারে না।

তিনি বলেন, আইনে বলা হচ্ছে যে, রেল অথরিটি অর্থাৎ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোথাও ক্রসিং করা যাবে না। অনুমতি লাগবে, অনুমোদন নিতে হবে। কিন্তু স্থানীয় সরকার মন্ত্রণলয় সারাদেশের বিভিন্ন জায়গায় রেললাইনের জায়গায় ক্রসিংগুলো নিজের ইচ্ছেমতো করছে। এটার কোনো অনুমোদন নেই এবং সেখানে কোনো গেটম্যান নেই। পুরোটাই হচ্ছে আইনকে পাস কাটিয়ে। এসব আমাদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের, বিশেষ করে রেল কর্তৃপক্ষের অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে। দেখতে হবে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

এটা অন্যান্য দেশে কল্পনাও করা যায় না বলে মন্তব্য করেন এই আইনজীবী।

স্টক নিউজ বিডি.কম/এসএম

আরও পড়তে পারেন…

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

স্থানীয়দের বিষফোড়া হয়ে উঠছে রোহিঙ্গারা

স্টক নিউজ বিডি August 25, 2022

স্টক নিউজ বিডি অনলাইন ডেস্ক: নিজ দেশে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে মানবিক আশ্রয় পাওয়া রোহিঙ্গারা স্থানীয়দের বিষফোড়া হয়ে উঠছে। কক্সবাজারে ইয়াবা, মানবপাচার ও হাটবাজার নিয়ন্ত্রণসহ ১৪ ধরনের অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছে রোহিঙ্গারা। শিবিরের অভ্যন্তরে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে একাধিক রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। আধিপত্য বিস্তারে বাড়ছে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা। চলছে অস্ত্রের মহড়া, ঘটছে একের পর এক হত্যাকাণ্ড।

গত পাঁচ বছরে রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা মুহিবুল্লাহসহ শতাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। যদিও বিভিন্ন সংস্থা ও বেসরকারি তথ্যমতে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে ১২০টির বেশি। গত দুই মাসে দুই রোহিঙ্গা নেতাসহ ১০টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। সামনের দিনে আরো হত্যাকাণ্ড ও ক্যাম্পে বিভিন্ন ধরনের নাশকতার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এসব ঘটনায় সাধারণ রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি স্থানীয়রাও উদ্বিগ্ন।

রোহিঙ্গা ঢলের পাঁচ বছর উপলক্ষে ক্যাম্পে পৃথকভাবে সমাবেশ করার উদ্যোগ নিয়েছে রোহিঙ্গারা। নিজেদের মতো করে প্লেকার্ড, ব্যানার নিয়ে তারা প্রত্যাবাসনের দাবি জানাবেন বলে জানিয়েছে রোহিঙ্গা সূত্র।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রত্যাবাসন ছাড়া রোহিঙ্গাদের অপরাধী কার্যক্রম থেকে মুক্তির উপায় নেই। তবে পরিকল্পিত ও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া গেলে রোহিঙ্গারা সন্ত্রাসীদের অপতৎপরতা কমানো সম্ভব।

গোয়েন্দা সংস্থা সতর্ক করেছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগামীতে আরো বড় ধরনের নাশকতার ঘটনা ঘটতে পারে। সাম্প্রতিক প্রায় সকল হত্যাকাণ্ডে আলোচিত রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নবী হোসেন গ্রুপের হাত রয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে তারা।

রোহিঙ্গা নেতাদের তথ্যমতে, মূলত রোহিঙ্গাদের জনপ্রিয় নেতা মুহিব্বুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের পর ক্যাম্পের সাধারণ রোহিঙ্গাদের আস্থা হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়ে কথিত রোহিঙ্গা সংগঠন আরকান সালভেশন আর্মি (আরসা)। এ সুযোগে আরসার সন্ত্রাসীসহ ক্যাম্পের বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্যদের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা এবং নগদ টাকা দিয়ে নিজ দলের পরিধি ও আধিপত্য বাড়ানোর চেষ্টা করছে সন্ত্রাসীগ্রুপগুলো। যাদের ক্ষমতা বেশি তারাই সিংহভাগ ক্যাম্পে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করে। এটা করতে গিয়ে যারা সেই গ্রুপের কথার বাইরে যান, তাদেরকে টার্গেট করে হত্যা করা হয়। যারা অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন তাদের সঙ্গে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও সেদেশের সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সরাসরি যোগাযোগ হয়।

চলমান সময়ে সন্ত্রাসী নবী হোসেনের সঙ্গেই মিয়ানমার সরকারের যোগাযোগ বেশি। মাস দুয়েক আগে বিজিবি রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নবী হোসেনকে ধরতে পুরস্কারও ঘোষণা করেছিল।

গোয়েন্দা তথ্যমতে, আলোচিত মাস্টার মুন্না গ্রুপ, ডাকাত হাকিম গ্রুপ, জাবু গ্রুপ, ইসলাম গ্রুপসহ অন্তত দু’ডজনাধিক ছোট বড় সন্ত্রাসী গ্রুপ রয়েছে। ইয়াবাসহ সব ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সম্প্রতি নবী হোসেন সব গ্রুপকে নিয়ে জোট বেঁধেছেন। এখন সব গ্রুপ নবী হোসেনের নির্দেশনায় কাজ করছে। তাদের হাতে বিপুল সংখ্যক দেশি-বিদেশি অস্ত্রের মজুতও রয়েছে।

বিশ্বে মানবতার অনন্য নজির স্থাপন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছেন। কিন্তু সেই মানবতাবোধ এবং স্থানীয়দের সৌহার্দ্যকে পদদলিত করে, সন্ত্রাসীসুলভ কর্মকাণ্ডে স্থানীয়দের অতিষ্ঠ করে তুলেছে রোহিঙ্গারা। স্থানীয়দের ওপর আক্রমণ, নির্যাতন, অপহরণ ও হত্যাও করছে তারা। অথচ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে গিয়ে অনেক স্থানীয় সহায়-সম্বল, ফসলি জমি, এমনকি ভিটে বাড়ির উঠানও হারিয়েছেন। নিজ দেশে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য চোখের পানি ফেলা স্থানীয় বাসিন্দারা আজ বড় অসহায়। রোহিঙ্গারা এখন স্থানীয়দের কাছে বিষফোড়া হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, তাদের স্কুলপড়ুয়া শিশুদের পর্যন্ত কারণে-অকারণে রোহিঙ্গারা দলবেঁধে এসে মারধর করে। ক্যাম্পের নিকটস্থ খোলা মাঠে ঠিকমতো খেলতে পারে না স্থানীয় শিশুরা। ক্যাম্পের পাশের মাঠে খেলতে দেখলে তেড়ে এসে মারধর করে তাড়িয়ে দেওয়াটা রোহিঙ্গাদের নিত্যকর্ম। তাদের মাঝে দখলদারিত্বের মনোভাব এখন স্পষ্ট। রোহিঙ্গারা নয়, কক্সবাজারের স্থানীয়রাই তাদের দয়া দাক্ষিণ্যের ওপর যেন বেঁচে আছে!

বাংলাদেশে স্থায়ী হওয়া কিংবা ভিন্ন কোনো রাষ্ট্রে পাড়ি দেওয়ার চেষ্টায় অনেক রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ প্রতিদিন ক্যাম্প ছাড়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। মঙ্গলবারও (২৩ আগস্ট) কক্সবাজার বিমানবন্দরে নারীসহ ১১ রোহিঙ্গাকে আটক করে শৃংখলাবাহিনী। এভাবে ক্যাম্প ত্যাগ করে নানাভাবে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত বা জেলার চেকপোস্টগুলোতে আটক হয়ে গত পাঁচ বছরে অর্ধলক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে ক্যাম্পে ফেরত আনা হয়েছে বলে দাবি কক্সবাজার জেলা পুলিশের। রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্প এলাকায় কাঁটাতারের সীমানা বেষ্টনী থাকার পরও রোহিঙ্গারা নানা কৌশলে ক্যাম্প থেকে বের হচ্ছেন।

স্থানীয় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম পরিষদ নেতাদের ভাষ্য, মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন বিলম্বিত ও ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর বাধাগ্রস্ত করতে পরিকল্পিতভাবে শিবিরগুলোকে অস্থিতিশীল করে তোলা হয়।

পালংখালীর তাজনিমার খোলার বাসিন্দা সাবেক সেনা সদস্য আবুল কালাম বলেন, ‘রোহিঙ্গারা চরম অকৃতজ্ঞ জাতি। ১৯৯২ সালের পর রোহিঙ্গারা প্রথম দলবেঁধে স্থানীয়দের উপর পাকহানাদার বাহিনীর মতো ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। সে সময় রোহিঙ্গারা উখিয়া-টেকনাফকে আরাকানের অংশ ও তাদের রাজ্য দাবি করে স্থানীয়দের ৩ দিনের মধ্যে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে আল্টিমেটাম দিয়েছিল। এখন আশ্রিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখের অধিক। গত পাঁচ বছরে রোহিঙ্গারা অনেককে হত্যা করেছে। আহত করেছে অনেককে। তাদের অত্যাচারে স্থানীয়রা একদিন পালিয়ে যেতে বাধ্য হবে বলে মনে হচ্ছে।’

বালুখালীর স্থানীয় গৃহবধূ আমেনা খাতুন বলেন, ‘অসহায়ের সহায় হলে আল্লাহপাক খুশি হবেন সেই ধর্মীয় ভাবনায় সহায়-সম্বল যা ছিলো তার সবই রোহিঙ্গাদের জন্য দান করেছি। এখন আমাকে ভিটেবাড়ি ছাড়া করতে তারা একমুহূর্তও ভাবে না। মনে হচ্ছে তাদের আশ্রয় দিয়ে চরম ভুল করেছি। তারা অকৃতজ্ঞ।’

স্থানীয় মুদিদোকানি আবু নোমান বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের আচরণ দেখে বুঝলাম, মিয়ানমার সরকার কেন অতিষ্ঠ হয়েছিল। রোহিঙ্গারা আশ্রিত দেশ ধ্বংসে কুণ্ঠাবোধ করে না। স্থানীয়দের সঙ্গে মারামারি ছাড়াও, নিজেদের মাঝেও প্রতিদিন মারামারি করে। স্থানীয় অনেকে সন্তানদের মানুষ করতে এলাকা ত্যাগ করে স্বপরিবারে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার চলে এসেছেন।’

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গা ঢলের পর গত পাঁচ বছরে থানায় ১ হাজার ৯০৮টি মামলা হয়েছে। খুনের মামলা হয়েছে ৯৯টি। খুন, অপহরণ, ধর্ষণ, মাদক, চাঁদাবাজি, মানবপাচার, অগ্নিসংযোগসহ ১৪ ধরনের অপরাধের কারণে এসব মামলা হয়েছে। যদিও বিভিন্ন সংস্থা ও স্থানীয় তথ্যমতে অনন্তপক্ষে ১২০টির বেশি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

তিনি জানান, রোহিঙ্গাদের সবধরনের অপরাধ ও বিশৃঙ্খল আচরণ কঠোর হাতে রোধ করা হচ্ছে। ক্যাম্পে এপিবিএন ও বাইরে থানা পুলিশ নিরবিচ্ছিন্ন নিরাপত্তা বজায় রাখার চেষ্টা করে। স্থানীয়রা যেভাবে রোহিঙ্গা বিষয়ে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করেছেন তাতে রোহিঙ্গা কর্তৃক স্থানীয়দের উপর হামলা ও সংঘর্ষ এখন অনেকাংশে রদ করা সম্ভব হয়েছে। আশা করি সামনেও তা অব্যাহত থাকবে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ জানান, রোহিঙ্গা সমস্যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। স্থানীয়দের সমস্যা গুরুত্ব দিয়ে সমাধানের চেষ্টা করা হয়।

কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার শাহ রেজওয়ান হায়াত বলেন, উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি আশ্রয় শিবিরে পুরোনো-নতুন মিলিয়ে রোহিঙ্গার সংখ্যা সোয়া ১১ লাখ। তালিকাভুক্ত প্রতিটি রোহিঙ্গা পরিবারে পর্যাপ্ত পরিমাণে জীবনধারণ পণ্য সরবরাহ করা হয়। রোহিঙ্গাদের দেওয়া অনেক পণ্য তারা বাজারে বিক্রিও করে দিচ্ছে। এরপরও গোপনে বা কৌশলে ক্যাম্প ছাড়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে রোহিঙ্গারা। মানবিক আশ্রয় দেওয়ার কারণে সরকার তাদের সঙ্গে নম্র আচরণ করছে। এটার সুযোগ নিলে প্রশাসনকে আরও কঠোরতা দেখাতে হয়।

স্টক নিউজ বিডি.কম/এসএম

আরও পড়তে পারেন…

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

ইয়াসমিনের দিনাজপুরে মাসে ১০৮টি নারী নির্যাতনের মামলা হয় আদালতে

স্টক নিউজ বিডি August 24, 2022

স্টক নিউজ বিডি অনলাইন ডেস্ক: আজ ২৪ আগস্ট, দেশে ইয়াসমিন ট্র্যাজেডি দিবস পালিত হচ্ছে। ১৯৯৫ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বিপথগামী পুলিশ কর্তৃক ১৬ বছরের কিশোরী ইয়াসমিন ধর্ষণ ও হত্যার ২৭ বছর কেটে গেলেও জেলায় নারীর প্রতি সহিংসতা কমেনি, বরং বেড়েই চলেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রিতা ও সঠিক বিচার না হওয়ায় ধর্ষণ ও নির্যাতন বন্ধ হচ্ছে না।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে সাড়ে ৪ হাজারের অধিক মামলা ঝুলে আছে। ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এই আদালতে মামলা হয় ১ হাজার ২৭৬টি। সেই হিসেবে মাসে গড়ে মামলা হয়েছে ১০৬টি। আর এ বছরের জানুয়ারি থেকে চলতি মাসের ২২ আগস্ট পর্যন্ত দিনাজপুর আদালতে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ মামলা হয়েছে ৮৭১টি। সেই হিসেবে প্রতিমাসে গড়ে মামলা হয়েছে ১০৮টি। যা গত বছরের চেয়ে মাসে দুটি বেশি।

আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তৈয়বা বেগম বলেন, দিনাজপুরের আদালতে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা জট রয়েছে। মামলার সাক্ষীরা সঠিক সময়ে উপস্থিত না হওয়ায় মামলাগুলোর কার্যক্রম বেশি দিন ধরে চলছে। সাক্ষীদের সঠিক সময়ে হাজির করা গেলে মামলার জট কমে আসবে।

ইয়াসমিনকে নিয়ে আন্দোলনের প্রথম প্রতিবাদকারী নেতা দিনাজপুর-১ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল বলেন, সে সময় তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিনাজপুরবাসীর পাশে থেকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। বর্তমান সরকার নারী ধর্ষণ ও নির্যাতন প্রতিরোধে কাজ করলেও এ ঘটনা কমছে না। নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা প্রতিরোধে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। একইসঙ্গে নারী নির্যাতনের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে।

ইয়াসমিনের দিনাজপুরে মাসে ১০৮টি নারী নির্যাতনের মামলা হয় আদালতে

বেসরকারি সাহায্য সংস্থা ‘পল্লী শ্রী’ নারী নির্যাতন প্রতিরোধে কাজ করে আসছে। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক শামীম আরা বেগম জানান, হিসাবে চলতি বছরের জানুয়ারি মাস শেষে জুন মাস পর্যন্ত সারা দেশে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৪ হাজার ৭৬৯ জন নারী ও শিশু। এর মধ্যে ধর্ষণের পর মৃত্যু হয়েছে ২৪ জনের। ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে ৭২ জন নারীকে। আত্মহত্যা করেছে ৬ জন নারী। আইন সংক্রান্ত মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের এবং স্বামী কর্তৃক হত্যার শিকার হয়েছে ৯৪ জন নারী।

তিনি বলেন, নারীদের প্রতি নির্যাতন প্রতিরোধে পুরুষদের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টানো এবং আইনের সঠিক প্রয়োগ প্রয়োজন।

২৭ বছর আগে ১৯৯৫ সালের ২৪ আগস্ট দিনাজপুরে কয়েকজন বিপথগামী পুলিশের হাতে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয় ১৬ বছরের কিশোরী ইয়াসমিন। ওই ঘটনার প্রতিবাদে দিনাজপুরবাসী যা করেছিল, তাতে কেঁপে গিয়েছিল পুরো বাংলাদেশ। টানা কয়েক দিন পুরো দিনাজপুর জেলা কার্যত অচল করে দেয় বিক্ষোভকারীরা। কারফিউ-গুলি কোনো কিছুই তাদের দমাতে পারেনি সেদিন।

ক্ষোভ সামাল দিতে দিনাজপুর পুলিশ সুপারকে বদলি করা হয়। প্রত্যাহার করা হয় তৎকালীন জেলা প্রশাসক এটিএম জব্বার ফারুকীকে। আরও ১০৫ পুলিশ কর্মকর্তা এবং সদস্যকেও বদলি করা হয় অন্যান্য জেলায়। অভিযুক্ত তিন পুলিশ সদস্যকে আটক করে মাইকিং করে জানিয়ে দেওয়া হয়। প্রবল বিক্ষোভের মুখে পাঁচ দিন পর ময়নাতদন্ত এবং সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির জন্য ইয়াসমিনের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়। ময়নাতদন্তের পর অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

বিচারের মাধ্যমে তারা আদালতে দোষী সাব্যস্ত হন। ঘটনার ৯ বছর পর ২০০৪ সালে সেই তিন পুলিশ সদস্যকে ফাঁসি দেওয়া হয়। সেই থেকে ২৪ আগস্ট দেশব্যাপী পালিত হচ্ছে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস।

স্টক নিউজ বিডি.কম/এসএম

আরও পড়তে পারেন…

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail
পরবর্তী সংবাদ
পূর্ববর্তী সংবাদ

সর্বশেষ খবর

  • সরকার বিরোধী দলের সহযোগিতা নিতে ব্যর্থ হয়েছে: জামায়াত আমির

  • নিম গাছের যত উপকারিতা: ঔষধি গুণ, ব্যবহার ও সতর্কতা

  • রাশিয়ায় ইউক্রেনের ভয়াবহ ড্রোন হামলা

  • দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের পর্ষদ সভা ২৮ অক্টোবর

  • সোনালী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের এমডির নিয়োগ বাতিল

সর্বাধিক পঠিত

  • শমরিতা হসপিটালের লভ্যাংশ ঘোষণা

  • ৪০০ মেগাওয়াট সক্ষমতা নিয়ে আইপিওতে কনফিডেন্স পাওয়ার, লক্ষ্য ২ হাজার

  • ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্সের ৯ মাসে মুনাফা বেড়েছে ২৭%, ইপিএস ২.০৫ টাকা

  • তৃতীয় প্রান্তিকে বিজিআইসির শেয়ারপ্রতি আয় ১.৭৪ টাকা, সম্পদমূল্য বেড়ে ২১.১৯ টাকা

  • আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে ব্র্যাক ব্যাংকের ‘কর্পনেটে’ ডিজিটাল ট্রেড সল্যুশনস চালু

  • সিঙ্গার বাংলাদেশের পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা

  • গোপনীয়তা নীতি
  • নীতিমালা
  • যোগাযোগ

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোঃ শামীম রেজা
মোবাইল নাম্বারঃ ০১৫২১৩৬৫৭২৩
ই-মেইলঃ stocknewsbd24@gmail.com
মোবাইল নাম্বারঃ ০১৫২১৩৬৭৫২২
অফিসঃ হাউজ নংঃ ১০১, রোড নংঃ ৩, সেক্টরঃ ৬, উত্তরা ঢাকা-১২৩০।
স্বত্ব © ২০২৬ স্টক নিউজ বিডি।


Back To Top
Stock News BD | Latest Online Most Popular Newspaper
  • হোম
  • শেয়ার বাজার
    • আজকের লেনদেন
    • কোম্পানি সংবাদ
    • বোর্ড সভা
    • এজিএম / ইজিএম
    • আইপিও / রাইট
    • লভ্যাংশ
    • উপদেশ
    • পিএসআই
  • অনুসন্ধানী বিশ্লেষণ
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • খেলাধুলা
  • লাইফ স্টাইল
  • ইসলাম
  • বিনোদন
  • আরও
    • বিশেষ প্রতিবেদন
    • আইন-আদালত
    • গণমাধ্যম
    • চাকরি
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • স্বাস্থ্য
    • সংস্কৃতি
    • ভিডিও
    • অন্যান্য