বিশেষ প্রতিবেদনঃ সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস বুধবার (২৯ মে) দেশের প্রধান শেয়ার বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মূল্যসূচকের বড় দরপতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। এক দিনেই প্রধান সূচক কমেছে ৫০ পয়েন্ট। লেনদেনে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ৬৪ টি, দর কমেছে ২৮৬টি কোম্পানির। এক দিন সূচক বাড়ছে তো পরের দিনই আবার কমছে। কিন্তু কেন এ অবস্থা দেশের শেয়ার বাজারের?
আস্থার সংকট:
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, বাজারে আস্থার সংকট প্রকট। ব্যাংকে সুদের হার বাড়ায় সাধারণ বিনিয়োগকারী থেকে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী অনেকেই সেখানে ছুটছেন টাকা রাখতে। বিনিয়োগকারীরা তাদের হাতে থাকা সব শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন। এ সব কারণে শেয়ার বাজার তারল্যসংকটে পড়েছে। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলেন, বাজারের এ সংকটময় সময়ে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সাপোর্ট দিলে বাজার ঘুরে দাঁড়াত।
বাজার পর্যালোচনা:
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, এদিন ডিএসইর প্রধান সূচক ‘ডিএসইএক্স’ ৫০ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট কমেছে। বর্তমানে সূচকটি অবস্থান করছে ৫ হাজার ২২৮ পয়েন্টে। এছাড়াও, ডিএসইর অপর সূচক ‘ডিএসইএস’ ১৩ দশমিক ৫৯ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৩৮ পয়েন্ট এবং ‘ডিএস-৩০’ সূচক ১৬ দশমিক ৭৯ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৮৬৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
ডিএসইতে ৩০৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছে ৪৪০ কোটি ৭২ লাখ টাকা।
ডিএসইতে মোট ৩৯৪টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। লেনদেনে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ৬৪ টি কোম্পানির, বিপরীতে ২৮৬টি কোম্পানির দর কমেছে। পাশাপাশি ৪৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর অপরিবর্তিত রয়েছে। এদিকে আস্থার সংকটে শেয়ার বাজার ছাড়ছেন বিনিয়োগকারীরা।
বাজারের বর্তমান অবস্থা:
বাজারের বর্তমান অবস্থা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট রয়েছে। তাই এক দিন শেয়ারের দাম বাড়লে পরের দিনই আবার বিক্রি করে দিচ্ছেন। ব্যাংকে সুদের হার বাড়ার কারণে বিনিয়োগকারীরা সেখানে যাচ্ছেন। এছাড়া বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রির চাপ রয়েছে। সবমিলিয়ে বাজারের এ অবস্থা। বাজারে যদি এখন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সাপোর্ট থাকত তাহলে বাজার ঘুরে দাঁড়াত। এছাড়াও বাজারে ব্যাপক তারল্য সংকট রয়েছে। একদিন বাজার বাড়লে পরেরদিনই আবার বাজারে দরপতন হচ্ছে।
দরপতন ঠেকাতে নানা উদ্যোগ:
টানা দরপতনের কারণে বাজারে যাতে ফোর্সড সেল বা জোর করে বিক্রির চাপ না বাড়ে, সে জন্য ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নীতি ছাড়ের মেয়াদ বাড়িয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। শেয়ার বাজারে ঋণদাতা ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে বিনিয়োগকারীদের দেওয়া ঋণের অনাদায়ি অংশের জন্য নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশনিংয়ের মেয়াদ বাড়িয়ে আগামী বছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে তারল্য ও নীতিসহায়তায় বাংলাদেশ ব্যাংকও এ ব্যাপারে ইতিবাচক বলে জানা গেছে।
স্টক নিউজ বিডি/ শামীম রেজা
