Stock News BD | Latest Online Most Popular Newspaper
  • হোম
  • শেয়ার বাজার
    • আজকের লেনদেন
    • কোম্পানি সংবাদ
    • বোর্ড সভা
    • এজিএম / ইজিএম
    • আইপিও / রাইট
    • লভ্যাংশ
    • উপদেশ
    • পিএসআই
  • অনুসন্ধানী বিশ্লেষণ
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • খেলাধুলা
  • লাইফ স্টাইল
  • ইসলাম
  • বিনোদন
  • আরও
    • বিশেষ প্রতিবেদন
    • আইন-আদালত
    • গণমাধ্যম
    • চাকরি
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • স্বাস্থ্য
    • সংস্কৃতি
    • ভিডিও
    • অন্যান্য
Tag:

শেয়ারবাজার

ওয়ালটনের সোলার ইকোসিস্টেম উন্মোচন করলেন অর্থ মন্ত্রী

স্টক নিউজ বিডি October 10, 2026

শিল্পখাতে নবায়নযোগ্যন জ্বালানি শক্তির ব্যলবহার বৃদ্ধি, বিদ্যুচৎ সাশ্রয়, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যয়বস্থা গড়ে তোলার মাধ্যকমে টেকসই উন্নয়নের পথে এক নতুন মাইল ফলক ও দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে টেক জায়ান্ট ওয়ালটন। সূর্যের আলো বা সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে শতভাগ পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুনৎ উৎপাদন, সঞ্চয়, জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালনের পাশাপাশি বাসাবাড়িতে ব্যলবহৃত দৈনন্দিন ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক পণ্যদ পরিচালনায় এক সমন্বিত ‘সোলার ইকো-সিস্টেম‘ প্রযুক্তি ব্যহবস্থা উন্মোচন করেছে ওয়ালটন।

এই সোলার ইকোসিস্টেম ব্যাবস্থায় নিজস্ব কারখানায় রূফটপ, ফ্লোটিং বা ভাসমান সোলার পাওয়ার প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যকমে ৩২ মেগাওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুিত উৎপাদন করছে ওয়ালটন। যা দেশের বড় এক জেলা শহরের মোট বিদ্যুেত চাহিদার সমান। ওয়ালটনের উৎপাদিত সৌরবিদ্যুরতের বড় অংশ নিজস্ব উৎপাদন কার্যক্রমে ব্য্বহারের মাধ্যযমে কারখনার জ্বালানি সাশ্রয় করার পাশাপাশি নেট মিটারিং ব্যছবস্থার মাধ্যৎমে জাতীয় গ্রিডেও বছরে গড়ে প্রায় ১১৫০ মেগাওয়াট-ঘন্টা সৌরবিদ্যুুৎ সরবরাহ করছে।

সোলার ইকোসিস্টেম ব্যরবস্থায় ওয়ালটন শুধু শতভাগ পরিববেশবান্ধব সৌরবিদ্যুরত উৎপাদনই করছে না; বাসাবাড়ির শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যতবস্থা, খাদ্যন সংরক্ষণ, বিনোদন, রান্নাবান্না, আলোকসজ্জ্বা, কাপড় ধোয়া ইত্যাাদি দৈনন্দিন কাজে জ্বালানি সাশ্রয়ী সোলার প্যা নেল, ইনভার্টার, ব্যা টারিসহ সৌরশক্তি নির্ভর পণ্যরও উৎপাদন করছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর, ২০২৬) রাজধানীর বসুন্ধরায় ওয়ালটন করপোরেট অফিসে এক জমকালো আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে ‘ওয়ালটন সোলার ইকো-সিস্টেম’ এর উন্মোচন করেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ।

সেসময় উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি‘র চেয়ারম্যাযন এস এম শামছুল আলম, ভাইস-চেয়ারম্যােন এস এম আশরাফুল আলমম, ম্যা নেজিং ডিরেক্টর এস এম মাহবুবুল আলম, পরিচালক এস এম রেজাউল আলম, এস এম মঞ্জুরুল আলম অভি এবং তাহমিনা আফরোজ তান্না। উদ্বোধনের পরে ওয়ালটনের সোলার ইকোসিস্টেমের সৌরবিদ্যুত উৎপাদন প্যা নেল, সোলার পাওয়ার ক্যা বলস, স্টোরেজ ইনভার্টার ব্যা টারি, সোলার হাই-ব্রিড প্রযুক্তিনির্ভর ফ্রিজ, এসি ও স্মার্ট টিভিসহ সৌরবিদ্যুসত চালিত ওয়াশিং মেশিন, ইলেকট্রিক কুকার, ওভেন, রাইস কুকার, বিএলডিসি ফ্যা ন, সোলার বেজড প্যা ডেস্টাল ও টেবিল ফ্যা ন, বাল্ব, স্ট্রিট লাইটসহ ইত্যালদি পণ্যে র সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও জ্বালানি সাশ্রয় সম্পর্কে জেনে সন্তোষ প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি সোলার হাইব্রিড প্রযুক্তিনির্ভর এয়ার কন্ডিশনার, রেফ্রিজারেটর ও স্মার্ট টেলিভিশনে সৌরবিদ্যুৎ ও প্রচলিত গ্রিড বিদ্যুতের সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যয়মে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে নতুন সুযোগ তৈরি করায় ওয়ালটনের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সোলার পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ। সোলারের মাধ্যমে ওয়ালটন যেটা করছে, সেটা সারা বাংলাদেশে হতে যাচ্ছে। সোলারের মাধ্যমে আগামি এক দুই বছরে দেশে বড় অংকের বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। এরফলে কম খরচে জনগণের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। বিদেশ থেকে জ্বালানি আমদানি কমবে। ফলে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে। পর নির্ভরশীলতা কমে যাবে। সোলারের মাধ্যমে শুধু বাতি নয়, ফ্রিজ, এসি, ওয়াশিং মেশিন, ওভেন থেকে শুরু করে সব ধরনের ইলেকট্রনিক্স পণ্য ব্যবহার করা যাবে। আমরা আশা করছি দেশের সব মানুষ সৌরশক্তি ব্যবহারের বিষয়ে এগিয়ে আসবেন।

ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির চেয়ারম্যান এস এম শামসুল আলম বলেন, ওয়ালটন সোলার ইকোসিস্টেম’ গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয়, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, কার্বন নিঃস্বরণ হ্রাস এবং সবুজ ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির ভাইস-চেয়ারম্যান এস এম আশরাফুল আলম বলেন, ওয়ালটন সোলার ইকোসিস্টেম পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুমত উৎপাদন, সঞ্চয় ও জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালনের পাশাপাশি গৃহস্থালির দৈনন্দিন কাজে সৌরশক্তি নির্ভর অ্যা প্লায়েন্স উৎপাদন সক্ষমতার এক সমন্বিত প্রযুক্তি ব্যসবস্থা। সোলার ইকোসিস্টেম আমাদের ব্যবসায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। এর মাধ্যমে কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা ও মৌলভিত্তি আরও শক্তিশালী করে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি মূল্য সৃষ্টিই আমাদের লক্ষ্য।

ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির ম্যানেজিং ডিরেক্টর এস এম মাহবুবুল আলম বলেন, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও কার্যকর ব্যবহারের সমন্বিত প্রযুক্তিব্যবস্থা হলো ওয়ালটন সোলার ইকোসিস্টেম। আমাদের লক্ষ্য শুধু ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নয়; বরং বাংলাদেশেই প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও উন্নয়ন ঘটিয়ে বিশ্ববাজারে দেশের সক্ষমতা তুলে ধরা।
ওয়ালটনের সোলার ইকোসিস্টমে আওতায় নবায়নযোগ্যন জ্বালানি নির্ভর শতভাগ পরিবেশান্ধব প্রযুক্তিপণ্যস পণ্যে উৎপাদনের মাধ্যংমে ওয়ালটন বাংলাদেশের হাই-টেক শিল্পখাতের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা, অগ্রগতি ও সক্ষমতাকে এক অনন্যা উচ্চতায় নিয়ে গেছে বলে মনে করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ওয়ালটনের সোলার ইকোসিস্টেম ব্যনবস্থায় হাইব্রিড প্রযুক্তিতে চলবে এসি, ফ্রিজ ও টিভি। পর্যাপ্ত সূর্যালোক থাকলে ব্যাটারি ছাড়াই সরাসরি সৌরবিদ্যুতে চলবে হাইব্রিড প্রযুক্তি নির্ভর ওয়ালটনের সোলার ফ্রিজ, এসি ও স্মার্ট টিভি। সৌরবিদ্যুতের সরবরাহ প্রয়োজনের তুলনায় কম হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিড থেকে ঘাটতি বিদ্যুৎ গ্রহণের মাধ্যামে চালু থাকবে হাইব্রিড ফ্রিজ, এসি ও টিভি। ফলে সৌরবিদ্যুতের প্রাপ্যতা অনুযায়ী গ্রিড বিদ্যুতের ব্যবহার কমানো সম্ভব।

এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম বা ইএসএস প্রযুক্তির সমন্বয়ে ওয়ালটন সোলার ইকোসিস্টেম ব্যেবস্থায় সৌরবিদ্যু্ত নির্ভর নতুন মডেলের ওয়াশিং মেশিন, কুকার ও ওভেন যুক্ত করা হয়েছে। দিনের বেলায় সৌর প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যাটারিতে সংরক্ষণ করে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন গৃহস্থালি কাজে ব্যবহার করা যায়। এই ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে ওয়াশিং মেশিন, ইলেকট্রিক কুকার, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, রাইস কুকার এবং বিএলডিসি ফ্যানের মতো পণ্যও পরিচালনা করা যাবে।

ওয়ালটনের ইনভার্টার ব্যা টারিত সোলার চার্জার ও এসি চার্জার সমন্বিত থাকায় সৌরবিদ্যুৎ ও গ্রিড—উভয় উৎস থেকে ব্যাটারি চার্জ করা যায়।

ওয়ালটনের সোলার ইকোসিস্টেমের আওতায় নতুন মডেলের তাকিওন ই-বাইকে সংযুক্ত করা হয়েছে ইন্টেলিজেন্ট ব্যাকআপ পাওয়ার সাপ্লাই সিস্টেম স্মার্ট, পরিবেশবান্ধব ও বহুমুখী এনার্জি সল্যুশন সমৃদ্ধ ব্যাটারি। এই প্রযুক্তির ব্যাটারি ই-বাইককে একটি মোবাইল এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেমে রূপান্তর করে, যা পরিবহন, সৌরশক্তি সংরক্ষণ ও জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহের সুবিধা একসঙ্গে প্রদান করে।

এছাড়া সোলার ইকোসিস্টের সমন্বিত ব্য্বস্থায় সৌরবিদ্যুুতের নিরাপদ ও স্বাভাবিক সঞ্চালনের বিষয়টি মাথায় রেখে ওয়ালটন এনেছে ফটোভোলটাইক বা সোলার ক্যা বল। UV রশ্মি, আর্দ্রতা ও বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশে ব্যবহারের উপযোগী ওয়ালটন সোলার ক্যা বলসে নমনীয় টিনড কপার কন্ডাক্টর এবং বিশেষ ইনসুলেশন ব্যবহৃত হয়েছে। এর মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ সংযোগের সুবিধা পাওয়া যায়।

0 শেয়ার করুন
1 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

আইডিএলসি ক্যাপিটাল মার্কেট কনক্লেভে পুঁজিবাজারে করপোরেট অংশগ্রহণ বাড়ানোর তাগিদ

স্টক নিউজ বিডি October 10, 2026

আইডিএলসি ফাইন্যান্স পিএলসি’র সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড এর উদ্যোগে সম্প্রতি ‘আইডিএলসি ক্যাপিটাল মার্কেট কনক্লেভ ২০২৬’ শীর্ষক এক আলোচনার আয়োজন করা হয়। রাজধানীর রেনেসাঁ ঢাকা গুলশান হোটেলে এ শনিবার (অক্টোবর ১০) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের ভবিষ্যৎ এবং টেকসই আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রসঙ্গে এই খাতের বিশেষজ্ঞরা মূল্যবান বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের পরিসর বৃদ্ধি করা এবং আরো উন্নত ভারসাম্যপূর্ণ একটি আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে করনীয় নিয়ে আর্থিক খাতের সম্মানিত নীতিনির্ধারক, নিয়ন্ত্রক, ব্যাংক সহ বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা, অর্থনীতিবিদ ও পুঁজিবাজারের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তি, করপোরেট সুশাসন, ও ব্যবসায়িক সাফল্যের ধারাবাহিক রেকর্ড রয়েছে – এমন বড় প্রতিষ্ঠান এবং স্বনামধন্য ব্র্যান্ডগুলোর পুঁজিবাজারে অংশগ্রহণ বাড়িয়ে একে আরও সমৃদ্ধ করে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং (আইপিও) ও সরাসরি তালিকাভুক্তি (ডিরেক্ট লিস্টিং)-এর মাধ্যমে পুঁজিবাজারে নতুন প্রতিষ্ঠান যুক্ত করা, বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানো, বাজারে তারল্য বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা জোরদারের বিষয়েও আলোকপাত করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ইমাম আবু সাঈদ, আইডিএলসি ফাইন্যান্স পিএলসি’র চেয়ারম্যান কাজী মাহমুদ সাত্তার, আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের চেয়ারম্যান এম জামাল উদ্দিন, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ, বিএসইসি কমিশনার তানভীর হাবিব রহমান, এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন ব্যাংক ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।

স্বাগত বক্তব্যে আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের চেয়ারম্যান এম জামাল উদ্দিন বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনীতি যত এগিয়ে যাচ্ছে, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থায়নের চাহিদাও তত বাড়ছে। এই ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে অর্থায়নের বিকল্প উৎসের গুরুত্বও বাড়ছে। এই বাস্তবতায় একটি শক্তিশালী ও কার্যকর পুঁজিবাজার গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। দেশের আর্থিক ব্যবস্থায় ব্যাংক খাত সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি করপোরেট অর্থায়নের জন্য পুঁজিবাজারকে আরও কার্যকর বিকল্প হিসেবে গড়ে তোলা গেলে ব্যাংক খাতের ওপর ক্রমবর্ধমান অর্থায়নের চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে”।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান মাসুদ খান। তিনি বলেন, “আমরা চাই, কোম্পানিগুলো বাধ্যবাধকতা ছাড়া স্বপ্রণোদিত হয়ে পুঁজিবাজারে আসুক এবং এর সুফল ভোগ করুক। আমরা ইতিমধ্যে বেশ কিছু দেশি-বিদেশি ও বহুজাতিক কোম্পানির সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছি। শেয়ারবাজারে আসার বিষয়টি বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের গুরুত্ব দিয়ে চিন্তা করা উচিত”।

আইডিএলসি ফাইন্যান্স পিএলসির চেয়ারম্যান কাজী মাহমুদ সাত্তার বলেন, “ব্যক্তিপর্যায়ে সঞ্চয় করেন, কিন্তু পুঁজিবাজার সম্পর্কে ধারণা ও বিশ্বাস কম – বিশ্বের অন্যান্য দেশে এ ধরণের সঞ্চয়কারীরা মিউচুয়াল ফান্ডের ওপর নির্ভর করেন। দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের দেশে মিউচুয়াল ফান্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে ভালো চর্চা গড়ে ওঠেনি। বাংলাদেশে তারা ফিক্সড ডিপোজিটের দিকে ঝোঁকেন, কিন্তু এখন সেখানেও মুনাফার হার এক অঙ্কের ঘরে নেমে এসেছে। এই শ্রেণীর সঞ্চয়কারীদের জন্য আমাদের শেয়ারবাজার খাতটির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। শেয়ারবাজারে সব বিনিয়োগকারীই যে ঝুঁকি নিতে চান, তা কিন্তু নয়। অনেক মানুষই নিরাপদ মুনাফা চান, যা ব্যাংকের স্থায়ী আমানতের সুদের হারের চেয়ে কিছুটা বেশি হতে পারে। শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সেই আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।

“আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “অর্থায়নের তিনটি মূল উৎস বন্ড, ইক্যুইটি এবং ব্যাংকঋণ এর মধ্যে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় প্রায় ৭৫ শতাংশ, অর্থাৎ সম্পূর্ণভাবে ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরশীল। ভারতে এই নির্ভরতার হার প্রায় ৫৩ শতাংশ, এবং উন্নত বাজারগুলোতে ব্যাংকনির্ভরতার হার কেবলমাত্র ১৫ থেকে ২০ শতাংশ। একই সময়ে, প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের বাজারমূলধনও সবচেয়ে কম। আমরা বলছি না যে ব্যাংকনির্ভরতা খারাপ। ব্যাংক খাতের অর্থায়নের মাধ্যমেই আমাদের অর্থনীতির ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন, এমনকি জিডিপি বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান এসেছে। তবে আমাদের একটি আরো নির্ভরযোগ্য ও ভারসাম্যপূর্ণ আর্থিক কাঠামো গড়ার লক্ষ্যে কাজ করা প্রয়োজন”।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, “বর্তমানে আমাদের বাজার মূলধন জিডিপির ৭ দশমিক ৪ শতাংশ বা তারও কম। ২০৩০ সালের মধ্যে আমরা এটা জিডিপির ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা হাতে নিয়েছি। ফলে বন্ড ও সরকারি সিকিউরিটিজসহ আমাদের বাজারের আকার বর্তমানের ৩০ বিলিয়ন ডলার (ইকুইটি) থেকে ২০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। এশিয়ার অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা করলে এটা অবশ্যই সম্ভব। তবে এর জন্য সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ, আস্থা ও বিশ্বাস প্রয়োজন।’
এছাড়াও অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার, ডিবিএল গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান এম এ রহিম, আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের হেড অব ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং মো. রাশিদুজ্জামান এবং সৌদি-বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচারাল ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (সাবিনকো) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. মারুফুর রহমান মজুমদার মূল্যবান মতামত তুলে ধরেন।

আয়োজনের অন্যতম প্রধান অংশ ছিল ‘রিথিংকিং দ্য ব্যালান্স শিট: ডাইভার্সিফাইং করপোরেট ফাইন্যান্সিং’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনা। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে তাদের অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা মোকাবিলা করতে পারে এবং বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের মাধ্যমে উপযুক্ত অর্থায়ন কাঠামো তৈরি করতে পারে, তা নিয়ে প্যানেলে তথ্যসমৃদ্ধ আলোচনা হয়। দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসার মূল্য বাড়াতে করপোরেট সুশাসন, নিয়ন্ত্রক কাঠামো ও কার্যকর আর্থিক কাঠামোর গুরুত্বও আলোচনায় উঠে আসে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও পুঁজিবাজারের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়িয়ে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে কনক্লেভটি শেষ হয়।

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

যমুনা ব্যাংক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মুন্সিগঞ্জে বিনামূল্যে প্লাস্টিক সার্জারি ক্যাম্প

স্টক নিউজ বিডি October 8, 2026

স্টক নিউজ বিডি: যমুনা ব্যাংক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ ও অর্থায়নে এবং নেদারল্যান্ডসভিত্তিক স্টিচিং ইন্টারপ্লাস্ট হল্যান্ডের সহযোগিতায় মুন্সিগঞ্জে প্রায় দুই সপ্তাহব্যাপী বিনামূল্যে বিশেষায়িত প্লাস্টিক সার্জারি ক্যাম্প সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে অনুষ্ঠিত এ ক্যাম্পে ঠোঁটকাটা, তালুকাটা ও পোড়াজনিত সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার সেবা দেওয়া হয়।

ক্যাম্পে মোট ৩২৬ জন রোগীকে চিকিৎসাসেবার আওতায় আনা হয়। এর মধ্যে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা মূল্যায়ন শেষে ১৩৫ জন রোগীকে বিনামূল্যে বিশেষায়িত চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার সেবা প্রদান করা হয়েছে।

ক্যাম্পের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি উপলক্ষে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যমুনা ব্যাংক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, যমুনা ব্যাংক পিএলসি’র পরিচালক ও নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নূর মোহাম্মদ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যমুনা ব্যাংক ফাউন্ডেশনের সিইও এবং যমুনা ব্যাংক পিএলসি’র উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিআরও মোঃ শাহিদুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্টিচিং ইন্টারপ্লাস্ট হল্যান্ডের টিম লিডার ও প্লাস্টিক সার্জন ডা. মেনো হুইকেশোভেন এবং তাঁর নেতৃত্বাধীন চিকিৎসক দলের সদস্যরা। এছাড়াও যমুনা ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

ক্যাম্পের মাধ্যমে ঠোঁটকাটা, তালুকাটা ও পোড়াজনিত শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার সেবা প্রদানের পাশাপাশি তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরে আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

যমুনা ব্যাংক ফাউন্ডেশনের এ উদ্যোগকে ব্যাংকের সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR) কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত ও অসচ্ছল রোগীদের চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে এ ধরনের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

রাজধানীর বনানী কাঁচা বাজারে বাংলা কিউআর লেনদেন বিষয়ক প্রচারণামূলক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত

স্টক নিউজ বিডি October 1, 2026

ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহার বাড়ানো এবং বাংলা কিউআর সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে রাজধানীর বনানী কাঁচা বাজারে “ক্যাশলেস বাংলাদেশ” প্রচারণামূলক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মো. এহতেশামুল হক খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন। মাননীয় মন্ত্রী ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের অ্যাপ ব্যবহার করে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে এ সময় একটি পণ্য ক্রয় করেন। বাংলাদেশ ব্যাংক -এর উদ্যোগে এবং ডাচ্-বাংলা ব্যাংক-এর সহযোগিতায় এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

মাননীয় মন্ত্রী বাংলা কিউআরকে সম্পূর্ণ নিরাপদ পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উল্লেখ করে “ক্যাশলেস বাংলাদেশ” গড়ার সরকারের লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই উদ্যোগের আওতায় কিউআর কোডের মাধ্যমে সব ধরনের লেনদেন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা যাবে। তিনি আরও বলেন, মানুষকে আর সঙ্গে করে নগদ টাকা বহন করতে হবে না। এর ফলে পেমেন্টের প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত হবে।

সরকারের ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে বাংলা কিউআর-এর ব্যবহার উৎসাহিত করতে সারা দেশে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন সচেতনতামূলক ও প্রচারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে।

ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের অ্যাপ নেক্সাসপে এবং রকেটের মাধ্যমে বাংলা কিউআর ব্যবহার করে তাৎক্ষণিকভাবে ক্যাশবিহীন লেনদেন করা যায়। ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহার আরও বাড়াতে এবং বাংলাদেশে আরও সহজ, দ্রুত ও ক্যাশলেস পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে।

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

ইবনে সিনা ফার্মার আর্থিক সূচকে শক্তিশালী অগ্রগতি, ৭৭% নগদ লভ্যাংশের সুপারিশ

স্টক নিউজ বিডি September 30, 2026

স্টক নিউজ বিডি: ঔষধ ও স্বাস্থ্যসেবা খাতের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান দি ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি পিএলসি-র আর্থিক পারফরম্যান্সে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কোম্পানিটির সম্পদমূল্য, শেয়ারপ্রতি আয় (EPS) এবং পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ প্রবাহ—সবকটি গুরুত্বপূর্ণ সূচকেই আগের অর্থবছরের তুলনায় শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৭৭ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার সুপারিশ করেছে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ।

কোম্পানির ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (PSI) অনুযায়ী, ৩৪২তম বোর্ড সভায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আর্থিক ফলাফল পর্যালোচনা করে এ লভ্যাংশের সুপারিশ করা হয়।

EPS বেড়েছে ২৫ শতাংশের বেশি

সমন্বিত (Consolidated) আর্থিক হিসাবে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দি ইবনে সিনা ফার্মার শেয়ারপ্রতি আয় (EPS) দাঁড়িয়েছে ২৫ টাকা ৪৩ পয়সা, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২০ টাকা ২৭ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরে EPS বেড়েছে প্রায় ২৫.৫ শতাংশ।

অন্যদিকে কোম্পানির একক (Standalone) আর্থিক হিসাবে EPS হয়েছে ২৫ টাকা ৩৭ পয়সা, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ছিল ২১ টাকা ১৩ পয়সা। এ হিসাবে EPS বেড়েছে প্রায় ২০.১ শতাংশ।

EPS-এর এই ধারাবাহিক উন্নতি কোম্পানিটির মুনাফা অর্জন সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

নেট অ্যাসেট ভ্যালুতেও ইতিবাচক অগ্রগতি

২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে সমন্বিত হিসাবে কোম্পানিটির মোট নেট অ্যাসেট ভ্যালু (NAV) দাঁড়িয়েছে ৪৬৫ কোটি ৫৮ লাখ ৪৮ হাজার ৯৭০ টাকা, যা আগের অর্থবছরে ছিল প্রায় ৩৯৯ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ২৬০ টাকা। অর্থাৎ এক বছরে মোট NAV বেড়েছে প্রায় ১৬.৫ শতাংশ।

শেয়ারপ্রতি NAV-ও বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি NAV দাঁড়িয়েছে ১৪৪ টাকা ৫৬ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ১২৫ টাকা ৬৯ পয়সা। অর্থাৎ শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য বেড়েছে প্রায় ১৫ শতাংশ।

একক আর্থিক হিসাবেও একই ধরনের ইতিবাচক চিত্র দেখা গেছে। কোম্পানিটির মোট NAV বেড়ে হয়েছে ৪৫২ কোটি ১ লাখ ৪৩ হাজার ২৬৩ টাকা, যা আগের বছর ছিল ৩৯৩ কোটি ২৩ লাখ ৮৩ হাজার ৫৬ টাকা। শেয়ারপ্রতি NAV বেড়ে হয়েছে ১৪৪ টাকা ৬৭ পয়সা, আগের বছর যা ছিল ১২৫ টাকা ৮৬ পয়সা।

অপারেটিং ক্যাশ ফ্লোতে বড় উল্লম্ফন

দি ইবনে সিনা ফার্মার আর্থিক সক্ষমতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ প্রবাহ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সমন্বিত হিসাবে শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ (NOCFPS) হয়েছে ৩৭ টাকা ৯৫ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ২৩ টাকা ১৬ পয়সা।

অর্থাৎ NOCFPS এক বছরে বেড়েছে প্রায় ৬৩.৯ শতাংশ। একক হিসাবেও NOCFPS বেড়ে ৩৭ টাকা ৬৬ পয়সা হয়েছে, যা আগের বছর ছিল ২২ টাকা ৭৮ পয়সা। এ হিসাবে প্রবৃদ্ধি প্রায় ৬৫.৩ শতাংশ।

ক্যাশ ফ্লোতে এই উল্লেখযোগ্য উন্নতি কোম্পানিটির মূল ব্যবসায়িক কার্যক্রম থেকে নগদ অর্থ সৃষ্টির সক্ষমতা বৃদ্ধির দিকটি তুলে ধরে।

শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৭৭% নগদ লভ্যাংশ

আর্থিক সূচকের উন্নতির পাশাপাশি শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৭৭ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ সুপারিশ করেছে দি ইবনে সিনা ফার্মার পরিচালনা পর্ষদ। কোম্পানির আর্থিক কর্মদক্ষতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য নগদ রিটার্ন দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত বাজারে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

লভ্যাংশ পাওয়ার যোগ্য শেয়ারহোল্ডার নির্ধারণে ২৬ অক্টোবর ২০২৬ রেকর্ড/বুক ক্লোজার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

২৩ নভেম্বর ৪২তম বার্ষিক সাধারণ সভা

কোম্পানির ৪২তম বার্ষিক সাধারণ সভা (AGM) অনুষ্ঠিত হবে ২৩ নভেম্বর ২০২৬, সোমবার সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে। AGM ডিজিটাল/ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত হবে।

কোম্পানির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রেকর্ড তারিখে শেয়ার রেজিস্টার বা CDBL-এ যাদের নাম থাকবে, তারাই AGM-এ অংশগ্রহণ, ভোটদান এবং ঘোষিত লভ্যাংশ পাওয়ার জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন।

প্রবৃদ্ধির সঙ্গে আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী

দি ইবনে সিনা ফার্মার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আর্থিক চিত্রে তিনটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয়—EPS বৃদ্ধি, NAV বৃদ্ধি এবং অপারেটিং ক্যাশ ফ্লোতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি। বিশেষ করে EPS-এর পাশাপাশি NOCFPS-এর শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি কোম্পানিটির পরিচালন সক্ষমতা ও নগদ অর্থ সৃষ্টির ধারাবাহিক উন্নতির ইঙ্গিত দেয়।

একই সময়ে সম্পদমূল্য বৃদ্ধির ফলে কোম্পানিটির ব্যালান্সশিটের ভিত্তিও আগের বছরের তুলনায় শক্তিশালী হয়েছে। এর সঙ্গে ৭৭ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের সুপারিশ যুক্ত হওয়ায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরটি কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বছর হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে।

তবে কোনো বিনিয়োগ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে শুধু লভ্যাংশ বা একটি অর্থবছরের আর্থিক সূচক নয়—কোম্পানির ভবিষ্যৎ আয়, ব্যবসা সম্প্রসারণ, ঋণ ও দায়, নগদ প্রবাহের স্থায়িত্ব এবং বাজারমূল্যসহ সামগ্রিক বিষয় বিবেচনা করা প্রয়োজন।

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

৪ ব্যাংকের ৩,১০০ কোটি টাকার বন্ড অনুমোদন, বেক্সিমকো ফার্মার নতুন পর্ষদ গঠনে অনাপত্তি

স্টক নিউজ বিডি September 29, 2026

স্টক নিউজ বিডি: বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ১০৩১তম কমিশন সভায় চারটি ব্যাংকের মোট ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের বন্ড ইস্যুর প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। একই সভায় বিনিয়োগকারীদের স্বার্থসহ সার্বিক বিষয় বিবেচনায় বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসির প্রস্তাবিত ৯ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ গঠনে অনাপত্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান-এর সভাপতিত্বে কমিশনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ১০৩১তম কমিশন সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

চার ব্যাংকের ৩,১০০ কোটি টাকার বন্ড অনুমোদন

সভায় One Bank PLC-এর ৪০০ কোটি টাকা মূল্যের Unsecured, Non-convertible, Fully Redeemable, Floating Rate Subordinated Bond-VI অনুমোদন করা হয়। বন্ডটির Coupon Rate হবে Reference Rate + 3%। প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও উচ্চ সম্পদশালী একক বিনিয়োগকারীদের কাছে বন্ডটি ইস্যু করা হবে। প্রতি ইউনিটের অভিহিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ টাকা।

বন্ড থেকে সংগৃহীত অর্থ Basel III-এর আওতায় ব্যাংকটির Tier-2 Capital Base শক্তিশালী করতে ব্যবহার করা হবে। এর Trustee হিসেবে থাকবে Green Delta Capital Limited এবং Issue Manager হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে UCB Investment Limited। বন্ডটি স্টক এক্সচেঞ্জের Main Board-এ তালিকাভুক্ত করতে হবে।

অন্যদিকে Southeast Bank PLC-এর ৮০০ কোটি টাকা মূল্যের ৭ বছর মেয়াদি Fully Redeemable, Non-convertible, Unsecured, Floating Rate Subordinated Bond (6th Issue) অনুমোদন করেছে কমিশন। এর Coupon Rate হবে Reference Rate + 3%। প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তিদের কাছে বন্ডটি ইস্যু করা হবে এবং প্রতি ইউনিটের অভিহিত মূল্য ৫ লাখ টাকা।

এই বন্ডের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ ব্যাংকটির Basel III-এর আওতায় Tier-II Capital Base শক্তিশালী করতে ব্যবহার করা হবে। Trustee হিসেবে থাকবে DBH Finance PLC এবং Issue Manager হিসেবে থাকবে UCB Investment Limited। বন্ডটি স্টক এক্সচেঞ্জের Main Board-এ তালিকাভুক্ত করতে হবে।

BRAC Bank-এর ১,০০০ কোটি টাকার Green Bond

সভায় BRAC Bank PLC-এর ১ হাজার কোটি টাকা মূল্যের ৩ বছর মেয়াদি Unsecured, Non-Convertible, Fully Redeemable, Zero-Coupon Green Bond-এর প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে।

বন্ডটির সম্ভাব্য Discount Rate নির্ধারণ করা হয়েছে ৮.৫ শতাংশ। প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান, প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচুইটি ফান্ড, উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তি এবং অন্যান্য যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কাছে এটি ইস্যু করা হবে। প্রতি ইউনিটের অভিহিত মূল্য ১০ লাখ টাকা।

বিএসইসি জানিয়েছে, বন্ডের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ ব্যাংকটির যোগ্য গ্রাহকদের Low-cost Green Financing দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা হবে। এর Trustee হিসেবে থাকবে Prime Bank Investment PLC এবং Issue Manager হিসেবে কাজ করবে IDLC Investments Limited। বন্ডটি স্টক এক্সচেঞ্জের Main Board-এ তালিকাভুক্ত করতে হবে।

Al-Arafah Islami Bank-এর ৫০০ কোটি টাকার Subordinated Bond

Al-Arafah Islami Bank PLC-এর ৫০০ কোটি টাকা মূল্যের ৭ বছর মেয়াদি Unsecured, Non-Convertible, Redeemable, Floating Rate AIBPLC 5th Subordinated Bond-এর প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে কমিশন।

বন্ডটির Coupon Rate হবে Reference Rate + 3%। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তিদের কাছে প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে এটি ইস্যু করা হবে। প্রতি ইউনিটের অভিহিত মূল্য ৫ লাখ টাকা।

বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ Basel III-এর আওতায় ব্যাংকটির Tier-II Capital Base শক্তিশালী করতে ব্যবহার করা হবে। Trustee হিসেবে থাকবে DBH Finance PLC এবং Issue Manager হিসেবে কাজ করবে UCB Investment Limited।

Bank Asia-এর ৮০০ কোটি টাকার Sustainable Subordinated Bond

এছাড়া Bank Asia PLC-এর ৮০০ কোটি টাকা মূল্যের ৭ বছর মেয়াদি Unsecured, Non-convertible, Fully Redeemable, Floating Rate and Sustainable Subordinated Bond-এর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে বিএসইসি।

বন্ডটির Coupon Rate হবে Reference Rate + 3%। প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তি ও অন্যান্য যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কাছে এটি ইস্যু করা হবে। প্রতি ইউনিটের অভিহিত মূল্য ১০ লাখ টাকা।

বন্ড থেকে সংগৃহীত অর্থ Basel III-এর আওতায় ব্যাংকটির Tier-II Capital Base শক্তিশালী করার পাশাপাশি যোগ্য সবুজ ও টেকসই প্রকল্পে অর্থায়ন ও পুনঃঅর্থায়নে ব্যবহার করা হবে।

এর Trustee হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে DBH Finance PLC এবং Issue Manager হিসেবে কাজ করবে Prime Bank Investment PLC। বন্ডটি স্টক এক্সচেঞ্জের Main Board-এ তালিকাভুক্ত করতে হবে।

বেক্সিমকো ফার্মার ৯ সদস্যের পর্ষদ গঠনে বিএসইসির অনাপত্তি

এদিকে কমিশনের প্যানেলভুক্ত আইনজীবীর পত্রের মাধ্যমে মহামান্য আদালতের মৌখিক নির্দেশনার বিষয়টি অবহিত হওয়ার পর বিনিয়োগকারীদের স্বার্থসহ সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কোম্পানির প্রস্তাবিত ৯ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ গঠনে অনাপত্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি।

এছাড়া একজন নতুন Managing Director নিয়োগের কথা রয়েছে।

পর্ষদে স্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান IFIC Bank PLC থেকে একজন পরিচপ্রস্তাবিত পর্ষদে স্পনসরদের পক্ষ থেকে তিনজন পরিচালক থাকবেন। তারা হলেন— ASF Rahman, Osman Kaiser Chowdhury, Iqbal Ahmed।

পাশাপাশি চারজন Independent Director রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজনকে নতুন করে নিয়োগ দেওয়া হবে এবং একজন নারী Independent Director থাকবেন। Independent Director নিয়োগের ক্ষেত্রে Corporate Governance Code, 2018 অনুসরণ করতে হবে।

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকমের ঋণখেলাপি মামলায় ৫ পরিচালকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

স্টক নিউজ বিডি September 23, 2026

স্টক নিউজ বিডি: মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি’র (এমটিবি) দায়ের করা ঋণ আদায়ের মামলায় প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেডের (পিবিটিএল) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), ভারপ্রাপ্ত প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) এবং তিন পরিচালকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

আদালত ও মামলার নথি অনুযায়ী, প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড (পিবিটিএল) প্রধান ঋণগ্রহীতা ও করপোরেট গ্যারান্টার হিসেবে এবং এর সংশ্লিষ্ট গ্যারান্টার, পরিচালক ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি (এমটিবি) থেকে ঋণসুবিধা গ্রহণ করেন।

পরবর্তীতে ঋণের দায় পরিশোধে পিবিটিএল ব্যর্থ হওয়ায় ব্যাংকটি ২০১৮ সালের ৫ জুলাই অর্থ ঋণ আদালতে ৫২১/২০১৮ নম্বর মামলা দায়ের করে। মামলায় ব্যাংকের পক্ষ থেকে ৬৮ কোটি ৭৬ লাখ ৩০ হাজার ৪৪৮ টাকা ২৩ পয়সা পাওনা দাবি করা হয়।

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০২৬ সালের ১৩ মে অর্থ ঋণ আদালত ব্যাংকের পক্ষে রায় ও ডিক্রি প্রদান করেন। ডিক্রির অর্থ আদায় ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ২৭ জুলাই ব্যাংকটি ৮১০/২০২৬ নম্বর অর্থ ঋণ জারি মামলা দায়ের করে।

জারি কার্যক্রম চলাকালে সংশ্লিষ্ট রায় ও ডিক্রির দায়ে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক। আবেদনের শুনানি শেষে আদালত সংশ্লিষ্ট পাঁচ ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আওতায় থাকা ব্যক্তিরা হলেন—প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মেহবুব চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) মো. ফরিকুল হাসান, পরিচালক নাসরিন খান, পরিচালক মো. মোর্শেদ খান এবং পরিচালক আসগর করিম।

মামলার নথিতে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, ঋণের বকেয়া দায় আদায় এবং আদালতের ডিক্রি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ জারি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

তবে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ, আদালতে তাদের উপস্থিতি এবং পাওনা অর্থ আদায়ের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করবে।

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

রবির তিন মাসেই ১,৫৮০ কোটি টাকা নগদ অর্থ উধাও, স্বল্পমেয়াদি ঋণ বেড়েছে ৩৬০ কোটি টাকা

স্টক নিউজ বিডি September 21, 2026

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন: বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতের অন্যতম বৃহৎ অপারেটর রবি আজিয়াটা পিএলসি-এর সর্বশেষ প্রকাশিত আর্থিক অবস্থার বিবরণী নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে বিনিয়োগকারী মহলে। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ সমাপ্ত প্রান্তিকের সংক্ষিপ্ত আর্থিক প্রতিবেদনে কোম্পানির নগদ অর্থের অস্বাভাবিক পতন, স্বল্পমেয়াদি ঋণের হঠাৎ বৃদ্ধি এবং সম্পদের ধারাবাহিক সংকোচনকে ঘিরে উঠছে নানা প্রশ্ন।

বিশ্লেষকদের মতে, কাগজে-কলমে কিছু সূচক ইতিবাচক দেখালেও বাস্তব নগদ প্রবাহ ও দায় ব্যবস্থাপনার চিত্র বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্ক সংকেত বহন করছে।

তিনা মাসে নগদ অর্থ কমেছে প্রায় ১,৫৮০ কোটি টাকা

রবি আজিয়াটার আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে কোম্পানির Cash and Cash Equivalents ছিল প্রায় ২,৪২১ কোটি টাকা। কিন্তু মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে ২০২৬ সালের মার্চ শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৮৩৮ কোটি টাকায়।

অর্থাৎ, এক প্রান্তিকেই কোম্পানির নগদ অবস্থান কমেছে প্রায় ১,৫৮০ কোটি টাকা।

প্রশ্ন উঠেছে—

এই বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ কোথায় ব্যয় হয়েছে?
এটি কি পরিচালন ব্যয়, ঋণ পরিশোধ, নাকি অন্য কোনো আর্থিক চাপের প্রতিফলন?

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, একটি বড় টেলিকম কোম্পানির ক্ষেত্রে নগদ অর্থের এমন দ্রুত পতন ভবিষ্যৎ তারল্য ঝুঁকির ইঙ্গিত দিতে পারে।

স্বল্পমেয়াদি ঋণে অস্বাভাবিক উল্লম্ফন

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হচ্ছে কোম্পানির Short Term Loans। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে যেখানে স্বল্পমেয়াদি ঋণের পরিমাণ ছিল মাত্র প্রায় ২০ লাখ টাকা, সেখানে ২০২৬ সালের মার্চ শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৬০ কোটি টাকায়।

মাত্র তিন মাসে এমন ঋণ বৃদ্ধি স্বাভাবিক ব্যবসায়িক প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কোম্পানি কি নগদ সংকট মোকাবেলায় জরুরি ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। নাকি পরিচালন ব্যয় সামাল দিতেই বাড়তি ঋণ নিতে হয়েছে?

সম্পদ কমছে ধারাবাহিকভাবে

প্রতিবেদনে দেখা যায়, কোম্পানির মোট সম্পদ (Total Assets) কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ২ হাজার কোটি টাকায়, যা আগের প্রান্তিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

বিশ্লেষকদের মতে, সম্পদের ধারাবাহিক সংকোচন ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করে।

বিশেষ করে টেলিযোগাযোগ খাতে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং অবকাঠামো বিনিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে সম্পদ কমে যাওয়া দীর্ঘমেয়াদে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে দুর্বল করতে পারে।

দায় এখনো বিপজ্জনক উচ্চতায়

রবি আজিয়াটার মোট দায় (Total Liabilities) এখনো প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি অবস্থান করছে।

অন্যদিকে মোট ইকুইটি প্রায় ৭২ হাজার কোটি টাকা।

অর্থাৎ, কোম্পানির আর্থিক কাঠামো এখনো উচ্চমাত্রায় দায়নির্ভর।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ সুদহার ও বৈদেশিক মুদ্রা চাপের সময়ে এমন দায় কাঠামো ভবিষ্যতে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

যদিও কোম্পানির Retained Earnings এবং NAV per Share সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন— শুধুমাত্র হিসাবভিত্তিক মুনাফা দিয়ে বাস্তব নগদ সংকট আড়াল করা যায় না।

কারণ, কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হচ্ছে তার Cash Flow ও Liquidity Position।

আর সেখানেই এখন বড় প্রশ্নের মুখে রবি আজিয়াটা।

দেশের শীর্ষ করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি হিসেবে রবি আজিয়াটা পিএলসি-এর আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বিনিয়োগকারীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমান আর্থিক প্রতিবেদনে উঠে আসা নগদ সংকট, ঋণ বৃদ্ধি এবং সম্পদ হ্রাসের বিষয়গুলো নিয়ে দ্রুত ও স্পষ্ট ব্যাখ্যা না এলে বাজারে আরও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে কোম্পানির বক্তব্য জানার জন্য কোম্পানি সেক্রেটারি শহিদুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি বলে জানানো হয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে বিষয়গুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখন সময়ের দাবি।

0 শেয়ার করুন
2 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail
eastern ins

ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের নিট মুনাফা ১২ কোটি ৪২ লাখ, বেড়েছে ইপিএসও

স্টক নিউজ বিডি September 21, 2026

স্টক নিউজ বিডি বিশেষ প্রতিবেদন: ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ইতিবাচক গতি ধরে রেখে ২০২৫ সালে মুনাফায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সাধারণ বীমা কোম্পানি ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স পিএলসি। কোম্পানিটির সর্বশেষ প্রকাশিত নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কর-পরবর্তী নিট মুনাফা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএসেও শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালে ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের নিট মুনাফা হয়েছে ১২ কোটি ৪২ লাখ ২৪ হাজার ৭৩২ টাকা। ২০২৪ সালে এই মুনাফার পরিমাণ ছিল ১০ কোটি ৪৫ লাখ ৮৪ হাজার ১০৩ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির নিট মুনাফা বেড়েছে প্রায় ১ কোটি ৯৬ লাখ ৪১ হাজার টাকা বা ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ।

মুনাফা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শেয়ারপ্রতি আয়ও বেড়েছে। ২০২৫ সালে কোম্পানিটির ইপিএস দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ৮৮ পয়সা, যা ২০২৪ সালে ছিল ২ টাকা ৪৩ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরে ইপিএস বেড়েছে ৪৫ পয়সা বা প্রায় ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ। বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিতে এটি কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় সক্ষমতার উন্নতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

কর-পূর্ব মুনাফাতেও ছিল ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি। ২০২৫ সালে কোম্পানিটির কর-পূর্ব মুনাফা হয়েছে ১৬ কোটি ২১ লাখ ৭২ হাজার ৬৩১ টাকা, যেখানে ২০২৪ সালে ছিল ১৪ কোটি ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৪৪৯ টাকা। ফলে কর-পূর্ব মুনাফা বেড়েছে প্রায় ২ কোটি ১১ লাখ টাকা বা ১৫ শতাংশ।

আয় বৃদ্ধির পেছনে বিনিয়োগ ও অন্যান্য আয়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ২০২৫ সালে কোম্পানিটির সুদ ও লভ্যাংশ আয় হয়েছে ১৫ কোটি ৬২ লাখ ৩৯ হাজার ৪৪০ টাকা, যা আগের বছর ছিল ১৬ কোটি ৯৭ লাখ ৬৬ হাজার ৬৮৬ টাকা। তবে ফায়ার, মেরিন, মোটর ও বিবিধ বীমা ব্যবসার রেভিনিউ অ্যাকাউন্ট থেকে স্থানান্তরিত মুনাফা এবং শেয়ার ও অন্যান্য সম্পদ বিক্রয়জনিত আয়সহ মোট আয় কাঠামোয় পরিবর্তন দেখা গেছে।

আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫ সালে কোম্পানিটির মোট আয় ১৯ কোটি ২২ লাখ ১৪ হাজার ৯৭০ টাকা, যা ২০২৪ সালের ১৬ কোটি ৮৭ লাখ ১৭ হাজার ৩৬৩ টাকা থেকে প্রায় ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কর-পূর্ব ও কর-পরবর্তী মুনাফায় ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

ব্যয় ব্যবস্থাপনাতেও কোম্পানিটির নিয়ন্ত্রিত অবস্থান লক্ষ করা যায়। ২০২৫ সালে ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ কোটি ২ লাখ টাকা, যেখানে আগের বছর ছিল প্রায় ২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। ব্যয় কিছুটা বাড়লেও আয়ের প্রবৃদ্ধির তুলনায় মুনাফা বৃদ্ধির হার বেশি হওয়ায় কোম্পানিটির সামগ্রিক লাভজনকতায় ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

অন্যদিকে, ২০২৫ সালের শেষে ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের মোট শেয়ারহোল্ডারদের ইক্যুইটি দাঁড়িয়েছে ২০৭ কোটি ৭৭ লাখ ১৮ হাজার ৪৯১ টাকা। ২০২৪ সালের শেষে যা ছিল ২১২ কোটি ৮৮ লাখ ৫৩ হাজার ৪৭ টাকা। একই সময়ে মোট সম্পদের পরিমাণ ২৬৪ কোটি ৯২ লাখ ৭ হাজার ৬১৮ টাকা থেকে কমে ২৬৪ কোটি ৯২ লাখ ৭ হাজার ৬১৮ টাকা? Wait — correction: 2024 total assets ছিল ২৭১ কোটি ৫৬ লাখ ৯৫ হাজার ৯৭১ টাকা, যা ২০২৫ সালে কমে ২৬৪ কোটি ৯২ লাখ ৭ হাজার ৬১৮ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

কোম্পানিটির সম্পদ কাঠামোয় সবচেয়ে বড় অংশ রয়েছে ব্যাংকে স্থায়ী আমানত ও অন্যান্য বিনিয়োগে। ২০২৫ সালের শেষে নগদ ও নগদ সমতুল্য সম্পদের পরিমাণ ছিল ১২৪ কোটি ৫৩ লাখ ১২ হাজার ৬১০ টাকা। এর মধ্যে ব্যাংকে স্থায়ী আমানতের পরিমাণই ছিল ১২২ কোটি ২ লাখ ৯১ হাজার ৪৮৪ টাকা।

তবে বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়—২০২৫ সালে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বা এনএভি কিছুটা কমেছে। ২০২৪ সালের ৫০ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে ২০২৫ সালে এনএভি দাঁড়িয়েছে ৫০ টাকা ১৩ পয়সায়।

এছাড়া শেয়ার ও সিকিউরিটিজে বিনিয়োগের বাজারমূল্য পরিবর্তনের কারণে ২০২৫ সালে ৩ কোটি ২২ লাখ ৫৯ হাজার ১২৩ টাকার ফেয়ার ভ্যালু ক্ষতি হয়েছে। এর প্রভাবে নিট মুনাফা বাড়লেও মোট ব্যাপক আয় বা Total Comprehensive Income ২০২৫ সালে ৯ কোটি ১৯ লাখ ৬৫ হাজার ৯০৯ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যেখানে ২০২৪ সালে তা ছিল ১০ কোটি ৪৫ লাখ ৮৪ হাজার ১০৩ টাকা।

সব মিলিয়ে, ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের ২০২৫ সালের আর্থিক চিত্রে সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো নিট মুনাফা, কর-পূর্ব মুনাফা এবং ইপিএসে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি। বিশেষ করে প্রায় ১৯ শতাংশ নিট মুনাফা বৃদ্ধি এবং ১৮ শতাংশের বেশি ইপিএস প্রবৃদ্ধি কোম্পানিটির মূল আয়ের সক্ষমতায় উন্নতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে একই সঙ্গে এনএভি ও মোট ব্যাপক আয়ের পরিবর্তন এবং বিনিয়োগের ফেয়ার ভ্যালু ক্ষতির বিষয়টিও বিনিয়োগকারীদের জন্য আর্থিক প্রতিবেদন মূল্যায়নের সময় বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

স্টক নিউজ বিডির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আর্থিক প্রতিবেদনে ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের মুনাফা ও শেয়ারপ্রতি আয়ের প্রবৃদ্ধিই কোম্পানিটির পারফরম্যান্সের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক দিক হিসেবে সামনে এসেছে।

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

শীর্ষ ব্রোকারেজ কোম্পানির সঙ্গে ডিএসই’র বৈঠক

স্টক নিউজ বিডি September 15, 2026

স্টক নিউজ বিডি | বিশেষ প্রতিবেদন: স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল লেনদেন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশের শীর্ষ ব্রোকারেজ কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি (ডিএসই)।


আজ মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেমবর ২০২৬ তারিখ ডিএসই বোডরুমে অনুষ্ঠিত এ সভায় ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং শীর্ষ ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

সভায় শরুতেই ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার বলেন, আজকের বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য হলো পুঁজিবাজারের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিয়ে অংশীজনদের মতামত ও বাস্তব অভিজ্ঞতা শোনা। তাদের যৌক্তিক ও গঠনমূলক পরামর্শ গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী ডিএসইর বোর্ড ও বিএসইসিকে অবহিত করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি জানান, ডেরিভেটিভস মার্কেট চালুর প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে এবং সফটওয়্যারসহ প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি সম্পন্ন করে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। সাম্প্রতিক পাঁচটি ব্রোকারেজ-সংক্রান্ত ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের বিষয়েও ডিএসই কাজ করছে৷

ডিবিএ-এর সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, আজকের আলোচনায় আমরা মূলত দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে একত্রিত হয়েছি। প্রথমত, পুঁজিবাজারের কিছু দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয় রয়েছে, যেগুলো সম্পর্কে আমরা সবাই অবগত। দ্বিতীয়ত, বাজার একটি কঠিন ও হতাশাজনক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতির কারণ চিহ্নিত করা এবং তা থেকে উত্তরণের উপায় নির্ধারণ করাই আজকের আলোচনার অন্যতম উদ্দেশ্য। আমরা বিশ্বাস করি, অতীতের অমীমাংসিত বিষয় এবং বর্তমান বাজার পরিস্থিতি নিয়ে সম্মিলিতভাবে আলোচনা করলে কার্যকর সমাধানের পথ বের করা সম্ভব।

তিনি আরো বলেন অতীত ও বর্তমানের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি সেগুলোর বাস্তবসম্মত সমাধানের প্রস্তাবও উপস্থাপন করুন। শুধু সমস্যা চিহ্নিত করাই যথেষ্ট নয়, সমাধানের পথও আমাদের খুঁজে বের করতে হবে।

বৈঠকে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য বক্তারা পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি, বাজারের স্থিতিশীলতা, তারল্য বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরেন। তারা দীর্ঘদিনের অনিষ্পন্ন বিষয়গুলো দ্রুত পর্যালোচনা করে বাস্তবভিত্তিক ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বক্তারা নতুন ট্রেডিং কৌশল ও পণ্য প্রবর্তন এবং দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা প্রি-ওপেনিং সেশন পুনরায় চালুর কারিগরি ও বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা পর্যালোচনার প্রস্তাব দেন।পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ স্কিমের মেয়াদ ও ঋণ পরিশোধের সময়সীমা বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সময় বৃদ্ধির বিষয়টি পর্যালোচনা এবং মেম্বারস মার্জিন নেট-অফের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যয় ও তারল্য ব্যবস্থাপনার চাপ কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়।

ইন্সপেকশন ও সার্ভিলেন্স কার্যক্রমকে আরও নিয়মিত, তথ্যনির্ভর, ঝুঁকিভিত্তিক ও স্বচ্ছ করার ওপর বক্তারা গুরুত্ব দেন। তারা সিস্টেমভিত্তিক তথ্য যাচাইয়ের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্বাভাবিক ট্রেডিং ভলিউমের পরিবর্তে অস্বাভাবিক মূল্য পরিবর্তন ও প্রকৃত অনিয়মের লক্ষণকে অধিক গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন।
বক্তারা পুঁজিবাজারকে ইকুইটিনির্ভরতা থেকে বের করে বন্ডসহ অন্যান্য আর্থিক ইন্সট্রুমেন্টের পরিধি বাড়ানো এবং ডিলারদের ভূমিকা ও দায়িত্ব নির্ধারণে আরও সুস্পষ্ট নিয়ন্ত্রক কাঠামো প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে নীতিগত ও প্রক্রিয়াগত বাধা চিহ্নিত করে তা দূর করা, বিনিয়োগকারী-কেন্দ্রিক সেমিনার ও সংলাপ আয়োজন এবং উচ্চ সম্পদসম্পন্ন বিনিয়োগকারী ও প্রকৃত মার্কেট প্লেয়ারদের সঙ্গে ডিএসইর সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। দেশের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আসতে উত্সাহিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদে শেয়ার বাইব্যাকের সুযোগ চালুর সম্ভাবনা পর্যালোচনার আহ্বান জানানো হয়।

সবশেষে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার বলেন, আইটি ও সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা বোর্ড অনুমোদন করেছে এবং তা বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিনিয়োগকারী সুরক্ষায় ইন্সপেকশন ও সার্ভেইলেন্স কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ এবং তথ্যভিত্তিক সফটওয়্যার উন্নয়নে কাজ চলছে। এতে ইন্সপেকশন প্রক্রিয়া কাঠামোবদ্ধ ও ডেটা রিকনসিলিয়েশন সহজ হবে। বিএসইসি’র উদ্যোগে সিডিবিএল, সিসিবিএল ও আইটি টিমের সমন্বয়ে নিয়মিত সভার বিষয়ে সিদ্ধাত নেওয়া হয়েছে। অনলাইন অ্যাকাউন্ট খোলা, রিটেইল বিনিয়োগকারীদের সেবা সহজ করা ও টি+১ সেটেলমেন্টসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমন্বিতভাবে কাজ চলছে।
নতুন ওয়েবসাইট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে এবং আগামী ২২ সেপ্টেম্বরের প্রেস কনফারেন্সে উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে পুরোনো ওয়েবসাইট আরও দুই থেকে তিন মাস চালু থাকবে এবং ব্যবহারকারীদের মতামতের ভিত্তিতে নতুন ওয়েবসাইটে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন করা হবে।

সবশেষে তিনি বলেন, ডিএসইর কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ, কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি পুরো পুঁজিবাজারের ইকোসিস্টেমের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করা হবে।

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail
পরবর্তী সংবাদ
পূর্ববর্তী সংবাদ

সর্বশেষ খবর

  • সূচকের উত্থানে লেনদেন শেষ

  • তথ্য অধিদফতরের বিভিন্ন পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

  • বিয়ের খরচ সামাল দিতে এবার ব্যাংক দিচ্ছে ‘বিবাহ ঋণ’

  • সদস্য দেশগুলোকে ৬৩৫ কোটি ডলার দিচ্ছে ফিফা

  • বাংলাদেশের আন্দোলন আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে: নেহা বোরা

সর্বাধিক পঠিত

  • শমরিতা হসপিটালের লভ্যাংশ ঘোষণা

  • রেনউইক যজ্ঞেশ্বরের সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন: বেড়েছে ১,২২৮ কোটি টাকার বেশি

  • বিএসআরএম স্টিলসের মুনাফা বেড়ে ৭১৫ কোটি টাকা, ৬০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের সুপারিশ

  • আইপিওতে আসছে কনফিডেন্স পাওয়ার, রোড শো ১৮ অক্টোবর

  • এমটিবি ও সোনালী ব্যাংকের মধ্যে পেমেন্ট গেটওয়ে চুক্তি স্বাক্ষর

  • বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ-২০২৬

  • গোপনীয়তা নীতি
  • নীতিমালা
  • যোগাযোগ

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোঃ শামীম রেজা
মোবাইল নাম্বারঃ ০১৫২১৩৬৫৭২৩
ই-মেইলঃ stocknewsbd24@gmail.com
মোবাইল নাম্বারঃ ০১৫২১৩৬৭৫২২
অফিসঃ হাউজ নংঃ ১০১, রোড নংঃ ৩, সেক্টরঃ ৬, উত্তরা ঢাকা-১২৩০।
স্বত্ব © ২০২৬ স্টক নিউজ বিডি।


Back To Top
Stock News BD | Latest Online Most Popular Newspaper
  • হোম
  • শেয়ার বাজার
    • আজকের লেনদেন
    • কোম্পানি সংবাদ
    • বোর্ড সভা
    • এজিএম / ইজিএম
    • আইপিও / রাইট
    • লভ্যাংশ
    • উপদেশ
    • পিএসআই
  • অনুসন্ধানী বিশ্লেষণ
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • খেলাধুলা
  • লাইফ স্টাইল
  • ইসলাম
  • বিনোদন
  • আরও
    • বিশেষ প্রতিবেদন
    • আইন-আদালত
    • গণমাধ্যম
    • চাকরি
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • স্বাস্থ্য
    • সংস্কৃতি
    • ভিডিও
    • অন্যান্য