আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কার্যক্রমকে আরও সহজ, দ্রুত ও দক্ষ করতে হোলসেল ব্যাংকিং গ্রাহকদের জন্য ‘কর্পনেটে’ ডিজিটাল ট্রেড সল্যুশনস চালু করেছে ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি। নতুন এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে করপোরেট গ্রাহকেরা একই চ্যানেলে গুরুত্বপূর্ণ ট্রেড সেবা গ্রহণ, লেনদেনের নির্দেশনা জমা এবং কার্যক্রমের অগ্রগতি তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।
গত ১৮ অক্টোবর রাজধানীর রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্ল্যাটফর্মটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ব্র্যাক ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান। অনুষ্ঠানে ব্যাংকের হোলসেল ব্যাংকিংয়ের গ্রাহক, অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড হেড অব হোলসেল ব্যাংকিং মো. শাহীন ইকবাল, সিএফএ এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ক্রমবর্ধমান গ্রাহক চাহিদা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ট্রেড ব্যাংকিং কার্যক্রম আধুনিকায়নে কাজ করছে ব্র্যাক ব্যাংক। নতুন এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কাগজপত্রনির্ভর প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর পাশাপাশি ব্যাংকের শাখা বা কাউন্টারে সরাসরি যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা হ্রাস পাবে।
প্ল্যাটফর্মটিতে রয়েছে তাৎক্ষণিক লেনদেন পর্যবেক্ষণ, কাস্টমাইজড ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) রিপোর্ট এবং এআই-সক্ষম প্রক্রিয়াকরণ সুবিধা। এসব প্রযুক্তি করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নগদ প্রবাহের পরিকল্পনা, কার্যকরী মূলধন ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে।
ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিভিন্ন ট্রেড সেবা একীভূত হওয়ায় গ্রাহকেরা তাঁদের বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে পারবেন। একই সঙ্গে লেনদেনের স্বচ্ছতা, কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণ এবং সেবার গতি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
কর্পনেটে প্ল্যাটফর্মে আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রমের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের ব্যাংকিং সেবা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঋণপত্র (এলসি), শিপিং গ্যারান্টি, আমদানি মূল্য পরিশোধ, রপ্তানি-সংক্রান্ত নথিপত্র ব্যবস্থাপনা, পণ্য জাহাজীকরণের আগে ও পরে অর্থায়ন এবং ব্যাংক গ্যারান্টি।
এ ছাড়া গ্রাহকেরা কাস্টমাইজড রিপোর্ট, ইন্টারঅ্যাকটিভ ড্যাশবোর্ড, সুইফট কপি, তাৎক্ষণিকভাবে হালনাগাদ ব্যালেন্স ও ঋণসীমার তথ্য এবং ব্যাংকের সঙ্গে নিরাপদ যোগাযোগের সুবিধা পাবেন।
বিশেষ করে আমদানি-রপ্তানিনির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এসব সুবিধা বাণিজ্যিক লেনদেনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ, প্রয়োজনীয় নথিপত্র ব্যবস্থাপনা এবং অর্থায়ন-সংক্রান্ত পরিকল্পনা আরও সহজ করতে পারে।
ডিজিটাল ট্রেড কার্যক্রমে তথ্যের সুরক্ষা ও লেনদেনের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে প্ল্যাটফর্মটিতে দুটি পৃথক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রথম স্তরে রয়েছে কর্পনেটে প্ল্যাটফর্মের নিজস্ব নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং দ্বিতীয় স্তরে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংকের ট্রেড মডিউল পার্টনারের সঙ্গে সংযুক্ত অ্যাপ্লিকেশন পর্যায়ের নিরাপত্তাব্যবস্থা।
ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, কর্পনেটের নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে রয়েছে আইএসও ২৭০০১ সনদপ্রাপ্ত তথ্যনিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, সপ্তাহের সাত দিন ২৪ ঘণ্টা পরিচালিত সিকিউরিটি অপারেশনস সেন্টার, পেনিট্রেশন টেস্টিং, রেড-টিম অনুশীলন এবং স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের মূল্যায়ন।
অন্যদিকে, ট্রেড মডিউলে ভূমিকা-ভিত্তিক প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এনক্রিপশন, অপরিবর্তনীয় অডিট ট্রেইল এবং এআই-সক্ষম জালিয়াতি শনাক্তকরণ ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্ল্যাটফর্মটি আইএসও ২০০২২ মান এবং সুইফট এসআর২০২৬-এর সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে জানিয়েছে ব্যাংক।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, বিশ্বমানের ডিজিটাল ট্রেড সল্যুশনস গ্রহণ ব্যাংকের ট্রেড ফাইন্যান্স কার্যক্রম রূপান্তরের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ট্রেড কার্যক্রম ডিজিটাল করা এবং প্রক্রিয়াগুলো সহজ ও গতিশীল করার মাধ্যমে ব্যাংক স্বচ্ছতা, নিয়ন্ত্রণ ও দক্ষতা বাড়াচ্ছে। এর ফলে করপোরেট গ্রাহকদের আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, গ্রাহকদের ধারাবাহিকভাবে উন্নত সেবা দেওয়ার এই অগ্রগতি বাংলাদেশের সবচেয়ে পছন্দের বাণিজ্যিক ব্যাংক হয়ে ওঠার লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সময়মতো নথিপত্র প্রক্রিয়াকরণ, অর্থায়ন ব্যবস্থাপনা এবং লেনদেনের তথ্য পাওয়া ব্যবসায়িক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনাগত দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়।
ব্র্যাক ব্যাংকের নতুন এই উদ্যোগ দেশের করপোরেট ট্রেড ব্যাংকিংয়ে ডিজিটাল সেবার পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানিকারকদের জন্য আরও সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এর কার্যকর প্রভাব নির্ভর করবে প্ল্যাটফর্মটির ব্যবহার, সেবার ধারাবাহিকতা এবং গ্রাহকদের বাস্তব চাহিদা পূরণের সক্ষমতার ওপর।


