স্টক নিউজ বিডি : দেশের প্রধান পুঁজিবাজার প্রতিষ্ঠান ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) দীর্ঘমেয়াদি রিসোর্স অপটিমাইজেশন ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জনবল কাঠামো পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে কয়েকটি পদ বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, প্রযুক্তিনির্ভর ও কার্যকর করার লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে জনবল কাঠামো পর্যালোচনা করা হচ্ছিল। সেই পর্যালোচনার ভিত্তিতে বোর্ডের নীতিগত অনুমোদনক্রমে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছে।
ডিএসই চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, এই সিদ্ধান্ত কোনো ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়া বা কর্মদক্ষতার মূল্যায়নের ভিত্তিতে নেওয়া হয়নি। বরং প্রতিষ্ঠানের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় জনবল কাঠামোকে আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী করার অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি জানান, বিভিন্ন পর্যায়ের মূল্যায়নের মাধ্যমে যেসব পদ বর্তমান কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অপরিহার্য নয় বলে বিবেচিত হয়েছে, সেগুলোই পুনর্গঠনের আওতায় আনা হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়া আইন, বিধিবিধান এবং প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নীতিমালা অনুসরণ করেই সম্পন্ন হয়েছে।
অব্যাহতি পাওয়া কর্মকর্তাদের জন্য ডিএসই উদার আর্থিক সুবিধার ব্যবস্থা করেছে। নোটিশের পরিবর্তে ১২০ দিনের সমপরিমাণ বেতন, চলতি মাসের বেতন, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি, শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের প্রাপ্য অর্থ, অব্যবহৃত ছুটির নগদায়নসহ অন্যান্য সুবিধা প্রদান করা হবে। এছাড়া সদিচ্ছার নিদর্শন হিসেবে অতিরিক্ত দুই মাসের সমপরিমাণ বেতনও দেওয়া হবে।
বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক মানের এক্সচেঞ্জ হিসেবে ডিএসইকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সময়োপযোগী সাংগঠনিক সংস্কার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জনবল ও সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির কার্যকারিতা ও সেবার মান আরও উন্নত হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
ডিএসই কর্তৃপক্ষের মতে, রিসোর্স অপটিমাইজেশনের আওতায় যেসব পদ বিলুপ্ত করা হয়েছে, সেগুলোর পরিবর্তে নতুন নিয়োগের কোনো পরিকল্পনা নেই। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি আরও সুশৃঙ্খল, ব্যয়-সাশ্রয়ী এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার দিকে এগিয়ে যাবে।
