
সাভার-আশুলিয়া এলাকায় মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে মাদক ব্যবসা। এই অঞ্চলের একাধিক সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ-তরুণীদের প্রধান টার্গেট বানিয়ে অত্যন্ত সুকৌশলে জালের মতো বিস্তৃত হয়েছে মাদক সিন্ডিকেট। সস্তা গাজা, ইয়াবা থেকে শুরু করে এলএসডি, ডিএমটি ও আইসের মতো উচ্চমূল্যের নতুন নতুন মাদক সরবরাহ করা হচ্ছে ক্যাম্পাস সংলগ্ন এলাকাগুলোতে। এতে একদিকে যেমন ধ্বংসের মুখে পড়ছে উচ্চশিক্ষার পরিবেশ, অন্যদিকে বাড়ছে খুন ও ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অপরাধ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাভার ও আশুলিয়া এলাকাটি দেশের অন্যতম প্রধান উচ্চশিক্ষা হাবে পরিণত হয়েছে। এখানে ঐতিহ্যবাহী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি আশুলিয়া মডেল টাউন ও দত্তপাড়া সংলগ্ন খাগান এলাকায় গড়ে উঠেছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (DIU), ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (IUBAT), ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি এবং উত্তরা ইউনিভার্সিটি, সিটি ইউনিভার্সিটি-র মতো বড় বড় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজার হাজার শিক্ষার্থী হোস্টেল, ফ্ল্যাট বা মেস ভাড়া করে থাকেন। মূলত পরিবারের নজরদারির বাইরে থাকা এই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকেই ফাঁদে ফেলছে স্থানীয় মাদক কারবারিরা। প্রথমদিকে কৌতুহলবশত কিংবা বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে শিক্ষার্থীরা আসক্ত হচ্ছে এবং পরবর্তীতে অনেকে নিজেই জড়িয়ে পড়ছে খুচরা বিক্রির নেটওয়ার্কে। এলাকাবাসী বলেন এসব মাদক ব্যবসায়ীর অধিকাংশ বিএনপির নেতা ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু ও খোরশেদ আলমের লোক।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, সাভার, রাজাশন, ডেন্ডাবর, বাইপাইল, বিরুলিয়া, চারাবাগ এবং নবীনগর সংলগ্ন ডেইরি ফার্ম এলাকার কিছু মেস ও কটেজকে কেন্দ্র করে এই মাদকের আসর বসে। মাদক চক্রের সদস্যরা শিক্ষার্থীদের হোয়াটসঅ্যাপ বা মেসেঞ্জার গ্রুপের মাধ্যমে হোম ডেলিভারি পদ্ধতিতে সিন্ডিকেট পরিচালনা করছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর নিয়মিত অভিযানে সম্প্রতি সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন স্পট থেকে নারী কারবারিসহ একাধিক মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার হলেও এক বা দুই দিন পর তারা আবার জেল থেকে ছাড়া পেয়ে যায়।
মাদকের এই ভয়াবহ বিস্তারের কারণে এলাকায় অপরাধের হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মাদক সেবনের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে চুরি, ছিনতাই এবং গ্যাং কালচারের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে কিশোর ও যুবকরা। এমনকি বিরুলিয়া ও আশুলিয়া এলাকায় মাদকাসক্ত চক্রের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীদের হেনস্থা ও ধর্ষণের মতো নৃশংস অপরাধের ঘটনাও রেকর্ড করা হয়েছে, যা সচেতন মহলে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাদকের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে যৌথ সমন্বিত উদ্যোগ ও বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তবে কেবল পুলিশ-ই অভিযান চালিয়ে এই চক্রকে পুরোপুরি দমন করা সম্ভব নয় সকল রাজনৈতিক দলের নেতাদের কেও সহায়তা করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্যাম্পাস এবং আশপাশের মেসগুলোতে নিয়মিত তদারকি বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবার ও সমাজকে মাদকের এই ভয়াল থাবার বিরুদ্ধে সচেতন প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা।
