
ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর ‘পরিবারতন্ত্র’ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দখলের অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের জেরে এক ভয়াবহ ও লোমহর্ষক অপরাধের শিকার হয়েছেন স্থানীয় এক নির্ভীক সংবাদকর্মী ও মানবাধিকারকর্মী কে. এম. দিদারুল আলম। রাজনৈতিক ক্যাডারদের হামলা ও প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণে প্রাণভয়ে সাভার থেকে ৪৫০ কিলোমিটার দূরে পঞ্চগড়ে গর্ভবতী স্ত্রীকে নিয়ে আত্মগোপনে গিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি তার। সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় দিয়ে চোখ বেঁধে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে তার কোনো সন্ধান না পেয়ে এবং থানা পুলিশের পক্ষ থেকে আটকের বিষয়টি অস্বীকার করায় চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে সাংবাদিক মহলে। নিখোঁজ সাংবাদিকের সন্ধান ও দ্রুত মুক্তির দাবিতে গত ১৩ই সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি জরুরি স্মারকলিপি ও আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ শামীম রেজা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাভারের অপরাধ সিন্ডিকেট ও রাজনৈতিক অনিয়ম নিয়ে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই ওই প্রতিবেদকের ওপর দফায় দফায় হামলা চালায় স্থানীয় এমপির অনুসারীরা। কোনো আইনি সহায়তা না পেয়ে জীবনের চরম নিরাপত্তাহীনতায় তিনি তার অন্তসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে পঞ্চগড়ে আশ্রয় নেন। সেখান থেকেই বিশ্বস্ত সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে গত ৯ই এপ্রিল “সাভার ও আশুলিয়া কি সালাউদ্দিন বাবুর পারিবারিক সম্পত্তিতে পরিনত হয়েছে?” শীর্ষক একটি চাঞ্চল্যকর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।
এই সংবাদ প্রকাশের ঠিক পরদিনই, অর্থাৎ ১০ই এপ্রিল রাতে ক্ষুব্ধ সন্ত্রাসী বাহিনী পুনরায় সাভারে ওই সাংবাদিকের পৈতৃক বাসায় বর্বরোচিত হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা তাকে বাসায় না পেয়ে তার বৃদ্ধ বাবা ও মাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। দূরে বসে বাবা-মার ওপর এই নৃশংস নির্যাতনের খবর পেয়ে সাংবাদিক দিদারুল আলম আর স্থির থাকতে পারেননি। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই তিনি তৎক্ষণাৎ পঞ্চগড় থেকে গর্ভবতী স্ত্রীকে সাথে নিয়ে সাভারের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ১০ই এপ্রিল সকালে সাভার বাসস্ট্যান্ডে এসে পৌঁছানোর মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর প্রত্যক্ষ নির্দেশে ওত পেতে থাকা একদল সশস্ত্র ক্যাডার সাংবাদিক দিদারুল আলম এবং তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর ওপর অতর্কিত ও নৃশংস হামলা চালায়। হামলা চলাকালীন আকস্মিকভাবে সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি উপস্থিত হয়। তারা ক্ষিপ্ত জনতার সামনেই সাংবাদিকের চোখ বেঁধে একটি মাইক্রোবাসে করে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে চলে যায়।
অপরদিকে সাংবাদিক দিদারুল আলম এর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর ওপর নৃশংস হামলায় তার গর্ভের ২১ সপ্তাহের অনাগত সন্তান মারা যায়।
ঘটনার পরদিন ওই সাংবাদিকের পরিবার ও সহকর্মীরা স্থানীয় থানায় যোগাযোগ করলে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তা জানান, তাদের কাছে সাংবাদিক দিদারুলকে আটক বা গ্রেফতারের কোনো তথ্য নেই। এই ‘নিখোঁজ’ বা ‘গুম’ হওয়ার ঘটনায় সাভার ও আশুলিয়ার গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। অবিলম্বে সাংবাদিক দিদারুলের অক্ষত সন্ধান ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আজ ১৩ই এপ্রিল একটি মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। স্টক নিউজ বিডি অনলাইন পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ শামীম রেজার নেতৃত্বে জমা দেওয়া ওই আবেদনে দেশের বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমের সিনিয়র সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী এবং সাভারের স্থানীয় বাসিন্দাসহ ১২০ জন বিশিষ্ট নাগরিকের যৌথ স্বাক্ষর রয়েছে। স্মারকলিপিতে স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর এই নগ্ন হস্তক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার এবং অপহৃত সাংবাদিক দিদারুলকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।





