Stock News BD | Latest Online Most Popular Newspaper
  • হোম
  • শেয়ার বাজার
    • আজকের লেনদেন
    • কোম্পানি সংবাদ
    • বোর্ড সভা
    • এজিএম / ইজিএম
    • আইপিও / রাইট
    • লভ্যাংশ
    • উপদেশ
    • পিএসআই
  • অনুসন্ধানী বিশ্লেষণ
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • খেলাধুলা
  • লাইফ স্টাইল
  • ইসলাম
  • বিনোদন
  • আরও
    • বিশেষ প্রতিবেদন
    • আইন-আদালত
    • গণমাধ্যম
    • চাকরি
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • স্বাস্থ্য
    • সংস্কৃতি
    • ভিডিও
    • অন্যান্য
Author

Stock News BD

Stock News BD

সাভারে নিখোঁজ সাংবাদিকের সন্ধানের দাবিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি: ১২০ জন বিশিষ্ট নাগরিকের স্বাক্ষর

Stock News BD April 13, 2026

ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর ‘পরিবারতন্ত্র’ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দখলের অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের জেরে এক ভয়াবহ ও লোমহর্ষক অপরাধের শিকার হয়েছেন স্থানীয় এক নির্ভীক সংবাদকর্মী ও মানবাধিকারকর্মী কে. এম. দিদারুল আলম। রাজনৈতিক ক্যাডারদের হামলা ও প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণে প্রাণভয়ে সাভার থেকে ৪৫০ কিলোমিটার দূরে পঞ্চগড়ে গর্ভবতী স্ত্রীকে নিয়ে আত্মগোপনে গিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি তার। সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় দিয়ে চোখ বেঁধে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে তার কোনো সন্ধান না পেয়ে এবং থানা পুলিশের পক্ষ থেকে আটকের বিষয়টি অস্বীকার করায় চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে সাংবাদিক মহলে। নিখোঁজ সাংবাদিকের সন্ধান ও দ্রুত মুক্তির দাবিতে গত ১৩ই সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি জরুরি স্মারকলিপি ও আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ শামীম রেজা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাভারের অপরাধ সিন্ডিকেট ও রাজনৈতিক অনিয়ম নিয়ে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই ওই প্রতিবেদকের ওপর দফায় দফায় হামলা চালায় স্থানীয় এমপির অনুসারীরা। কোনো আইনি সহায়তা না পেয়ে জীবনের চরম নিরাপত্তাহীনতায় তিনি তার অন্তসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে পঞ্চগড়ে আশ্রয় নেন। সেখান থেকেই বিশ্বস্ত সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে গত ৯ই এপ্রিল “সাভার ও আশুলিয়া কি সালাউদ্দিন বাবুর পারিবারিক সম্পত্তিতে পরিনত হয়েছে?” শীর্ষক একটি চাঞ্চল্যকর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।

এই সংবাদ প্রকাশের ঠিক পরদিনই, অর্থাৎ ১০ই এপ্রিল রাতে ক্ষুব্ধ সন্ত্রাসী বাহিনী পুনরায় সাভারে ওই সাংবাদিকের পৈতৃক বাসায় বর্বরোচিত হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা তাকে বাসায় না পেয়ে তার বৃদ্ধ বাবা ও মাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। দূরে বসে বাবা-মার ওপর এই নৃশংস নির্যাতনের খবর পেয়ে সাংবাদিক দিদারুল আলম আর স্থির থাকতে পারেননি। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই তিনি তৎক্ষণাৎ পঞ্চগড় থেকে গর্ভবতী স্ত্রীকে সাথে নিয়ে সাভারের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ১০ই এপ্রিল সকালে সাভার বাসস্ট্যান্ডে এসে পৌঁছানোর মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর প্রত্যক্ষ নির্দেশে ওত পেতে থাকা একদল সশস্ত্র ক্যাডার সাংবাদিক দিদারুল আলম এবং তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর ওপর অতর্কিত ও নৃশংস হামলা চালায়। হামলা চলাকালীন আকস্মিকভাবে সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি উপস্থিত হয়। তারা ক্ষিপ্ত জনতার সামনেই সাংবাদিকের চোখ বেঁধে একটি মাইক্রোবাসে করে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে চলে যায়।

অপরদিকে সাংবাদিক দিদারুল আলম এর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর ওপর নৃশংস হামলায় তার গর্ভের ২১ সপ্তাহের অনাগত সন্তান মারা যায়।  

ঘটনার পরদিন ওই সাংবাদিকের পরিবার ও সহকর্মীরা স্থানীয় থানায় যোগাযোগ করলে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তা জানান, তাদের কাছে সাংবাদিক দিদারুলকে আটক বা গ্রেফতারের কোনো তথ্য নেই। এই ‘নিখোঁজ’ বা ‘গুম’ হওয়ার ঘটনায় সাভার ও আশুলিয়ার গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। অবিলম্বে সাংবাদিক দিদারুলের অক্ষত সন্ধান ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আজ ১৩ই এপ্রিল একটি মানববন্ধন ও  প্রতিবাদ কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। স্টক নিউজ বিডি অনলাইন পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ শামীম রেজার নেতৃত্বে জমা দেওয়া ওই আবেদনে দেশের বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমের সিনিয়র সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী এবং সাভারের স্থানীয় বাসিন্দাসহ ১২০ জন বিশিষ্ট নাগরিকের যৌথ স্বাক্ষর রয়েছে। স্মারকলিপিতে স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর এই নগ্ন হস্তক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার এবং অপহৃত সাংবাদিক দিদারুলকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

সাভার ও আশুলিয়া কি সালাউদ্দিন বাবুর পারিবারিক সম্পত্তিতে পরিনত হয়েছে?

Stock News BD April 9, 2026
ছবিঃ ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু ও তার স্ত্রী, ভাই ও বোন। (সংগৃহীত)

ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনে জয়লাভের পর থেকেই ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আধাসরকারি প্রতিষ্ঠানে বেআইনি ও জোরপূর্বক ‘পরিবারতন্ত্র’ কায়েমের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির শীর্ষ নেতা ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর বিরুদ্ধে। বিশ্বস্ত সূত্রে এবং অতি গোপনে চালানো এক অনুসন্ধানে জানা গেছে, নির্বাচনী নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে সাভার ও আশুলিয়ার একাধিক নামী স্কুল, কলেজ ও স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ (গভর্নিং বডি) থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিজের পরিবারের সদস্যদের প্রধান হিসেবে বসিয়েছেন তিনি।

অনুসন্ধানের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনী ফল প্রকাশের পর থেকেই সাভার ও আশুলিয়ার বেশ কয়েকটি স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বৈধ পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে অথবা পুনর্গঠনের নামে সালাউদ্দিন বাবুর স্ত্রী, ভাই, বোন এবং শশুড়বাড়ির নিকটাত্মীয়দের সভাপতি বা পরিচালনা পরিষদের প্রধান হিসেবে মনোনীত করতে বাধ্য করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা বোর্ডকে রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে এই বেআইনি নিয়োগ নিশ্চিত করা হচ্ছে বলে গোপন সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের কয়েকজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এই পরিবারতান্ত্রিক আধিপত্য বিস্তারের বিরুদ্ধে কেউ সামান্যতম প্রতিবাদ বা ভিন্নমত পোষণ করলেই তার ওপর নেমে আসছে চরম প্রশাসনিক ও শারীরিক নিপীড়ন। প্রথম দফায় প্রতিবাদী শিক্ষক বা কর্মকর্তাদের অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে। এরপরও যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে স্থানীয় ক্যাডার বাহিনী ও ওত পেতে থাকা সন্ত্রাসী চক্রের মাধ্যমে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

এই চরম ভীতি ও জবরদস্তির কারণে সাভারের শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দীর্ঘদিনের চেইন অব কমান্ড বা প্রশাসনিক শৃঙ্খলা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী যেখানে যোগ্য শিক্ষানুরাগী বা দক্ষ ব্যক্তিদের গভর্নিং বডির প্রধান করার কথা, সেখানে রাজনৈতিক ক্ষমতা খাটিয়ে একটি নির্দিষ্ট পরিবারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাধারণ মানুষ যেখানে একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক সমাজ চেয়েছিল, সেখানে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতার এমন উগ্র ও স্বৈরাচারী আচরণ সাভারের সামাজিক পরিবেশকে চরমভাবে বিষিয়ে তুলছে। মুক্ত গণমাধ্যম ও সচেতন নাগরিক সমাজ অনতিবিলম্বে এই বেআইনি পরিবারতন্ত্র ও শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ওপর চলা নির্যাতন বন্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটির জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করছে।

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

বিশ্বের যুদ্ধ-সংঘাতের প্রভাব: বাংলাদেশের অর্থনীতি কি নতুন ঝুঁকির মুখে?

Stock News BD April 3, 2026

বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্রে যুদ্ধ ও সংঘাত নতুন কিছু নয়, তবে সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিকে নতুনভাবে নাড়া দিচ্ছে—যার সরাসরি অভিঘাত পড়ছে বাংলাদেশের মতো আমদানি-নির্ভর অর্থনীতির ওপর। তেলের দাম, খাদ্যপণ্যের মূল্য, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ—সবকিছুই এখন বৈশ্বিক সংঘাতের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে পড়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে সংঘাতের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালীতে বিঘ্ন ঘটায় তেলের সরবরাহ কমে গেছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ, যা তার জ্বালানির বড় অংশ আমদানি করে, সরাসরি চাপের মুখে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম বাড়লে দেশের আমদানি ব্যয় বাড়ে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ সৃষ্টি হয়।

এরই প্রভাবে দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে নানা পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে—অফিস সময় কমানো, বিদ্যুৎ ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপ এবং জ্বালানি সংরক্ষণে জরুরি নীতিমালা গ্রহণ। এটি শুধু একটি অর্থনৈতিক সংকেত নয়, বরং একটি গভীর কাঠামোগত দুর্বলতার ইঙ্গিত—বাংলাদেশ এখনো জ্বালানি নিরাপত্তায় স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারেনি।

যুদ্ধের আরেকটি বড় প্রভাব পড়ছে খাদ্য বাজারে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক খাদ্যপণ্যের দাম ইতোমধ্যে বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে, বিশেষ করে তেল ও সার পরিবহনে বিঘ্নের কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতির ওপর পড়ছে, যেখানে খাদ্য মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হলো প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স, যার বড় অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে ওই অঞ্চলের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিতে পারে, যা বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। ইতোমধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশ প্রবাসী শ্রমিক মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত, ফলে এই অঞ্চলকেন্দ্রিক অস্থিরতা সরাসরি দেশের বৈদেশিক আয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

শুধু বর্তমান নয়, অতীতের অভিজ্ঞতাও বলে—বিশ্বের বড় যুদ্ধগুলোর প্রভাব বাংলাদেশকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। যেমন, ১৯৭৩ সালের তেল সংকটের সময় বিশ্বব্যাপী তেলের দাম কয়েকগুণ বেড়ে যায়, যার প্রভাব উন্নয়নশীল দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও পড়ে। একইভাবে ২০০৮ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট, যা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক বাজারে শুরু হলেও বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য ও বিনিয়োগে ধস নামায়, বাংলাদেশেও রপ্তানি খাতে ধাক্কা দেয়। এসব অভিজ্ঞতা দেখায়, যুদ্ধ বা সংকট যত দূরেই হোক, তার অর্থনৈতিক ঢেউ বাংলাদেশে পৌঁছাতে সময় লাগে না।

বর্তমান সংঘাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার (supply chain) ব্যাহত হওয়া। যুদ্ধের কারণে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, বীমা খরচ বাড়ছে এবং পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত সময় লাগছে। ফলে আমদানি-রপ্তানি উভয় ক্ষেত্রেই খরচ বাড়ছে, যা দেশের শিল্পখাত বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতা কমিয়ে দিতে পারে।

এছাড়া অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, যদি এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি পর্যন্ত ৩ শতাংশ কমে যেতে পারে। অর্থাৎ এটি শুধুমাত্র স্বল্পমেয়াদি মূল্যস্ফীতির সমস্যা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির জন্যও বড় হুমকি।

বর্তমান বৈশ্বিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও অত্যন্ত জটিল। একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত, অন্যদিকে ইউরোপ ও এশিয়ায় ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা—সব মিলিয়ে বিশ্ব অর্থনীতি একটি অনিশ্চয়তার যুগে প্রবেশ করেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) ইতোমধ্যে সতর্ক করে বলেছে, এই ধরনের সংঘাত বিশ্বব্যাপী প্রবৃদ্ধি কমিয়ে দিতে পারে এবং মূল্যস্ফীতি দীর্ঘস্থায়ী করতে পারে।

এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—কীভাবে বৈশ্বিক ঝুঁকির মধ্যে নিজেদের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি উৎস বহুমুখীকরণ, বৈদেশিক বাণিজ্যের নতুন বাজার খোঁজা এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়।

সবশেষে বলা যায়, বিশ্বের যুদ্ধ হয়তো বাংলাদেশের মাটিতে হচ্ছে না, কিন্তু তার অর্থনৈতিক অভিঘাত প্রতিদিনই দেশের মানুষ অনুভব করছে। এখন প্রশ্ন একটাই—বাংলাদেশ কি শুধু প্রতিক্রিয়া দেখাবে, নাকি আগাম প্রস্তুতি নিয়ে একটি স্থিতিশীল অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলবে?

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

চাপের মুখে বাংলাদেশের ব্যাংক খাত: সংকট, সংস্কার নাকি পুনর্গঠন

Stock News BD March 30, 2026

বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি ব্যাংক খাত আজ এক জটিল বাস্তবতার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। বাইরে থেকে স্থিতিশীলতার একটি আবরণ থাকলেও ভেতরে জমে উঠছে নানা ধরনের চাপ—খেলাপি ঋণের বিস্তার, আস্থার সংকট, তারল্য সমস্যা এবং নীতিনির্ধারণী দুর্বলতা। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এটি কি সাময়িক অস্থিরতা, নাকি একটি গভীর কাঠামোগত সংকট, যা সমাধানের জন্য বড় ধরনের পুনর্গঠন প্রয়োজন?

বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো খেলাপি ঋণের ক্রমবর্ধমান চাপ। ব্যাংকগুলোর আর্থিক প্রতিবেদনে যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দেখা যায়, বাস্তবে তার চেয়েও বড় একটি অংশ ‘পুনঃতফসিল’ ও ‘পুনর্গঠন’-এর আড়ালে লুকিয়ে আছে বলে অর্থনীতিবিদদের ধারণা। বড় কর্পোরেট গ্রুপগুলো বারবার সুবিধা পেলেও ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে দ্রুত খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছেন। এতে ব্যাংকিং খাতে একটি অসম ভারসাম্য তৈরি হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।

একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতে আস্থার সংকট ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে। কিছু ব্যাংকে আমানতকারীদের আচরণে সতর্কতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে—অনেকে দীর্ঘমেয়াদি আমানতের পরিবর্তে স্বল্পমেয়াদি বা তরল বিনিয়োগে ঝুঁকছেন। এটি সরাসরি কোনো আতঙ্ক না হলেও একটি ‘নীরব সতর্কতা’, যা ইঙ্গিত দেয় যে সাধারণ গ্রাহকের মনেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ব্যাংকের মূল ভিত্তি যেহেতু আস্থা, তাই এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে তা বড় ধরনের ঝুঁকিতে রূপ নিতে পারে।

তারল্য সংকটও কিছু ব্যাংকের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে নির্দিষ্ট কিছু ব্যাংকে অতিরিক্ত ঋণ বিতরণ ও দুর্বল ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার কারণে নগদ প্রবাহে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন সময়ে সহায়তা দিলেও এটি স্থায়ী সমাধান নয়। বরং এটি সমস্যাকে সাময়িকভাবে প্রশমিত করে, কিন্তু মূল কারণগুলো থেকে যায়।

এদিকে সুদের হার বৃদ্ধির ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। ঋণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় নতুন বিনিয়োগ কমে যাচ্ছে এবং অনেক উদ্যোক্তা সম্প্রসারণ পরিকল্পনা স্থগিত রাখছেন। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাত এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী, কারণ তাদের বিকল্প অর্থায়নের সুযোগ সীমিত। ফলে ব্যাংক খাতের সমস্যা সরাসরি বাস্তব অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলছে।

নীতিগত দিক থেকে সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা কিছু সংস্কার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে দুর্বল ব্যাংক একীভূতকরণ, ঋণ শ্রেণিকরণে কঠোরতা এবং আর্থিক খাতের নজরদারি বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ রয়েছে। তবে এসব উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কারণ অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, নীতিমালা প্রণয়ন যতটা শক্তিশালী, তার বাস্তবায়ন ততটা কার্যকর নয়। ফলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন অনেক সময় দৃশ্যমান হয় না।

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের এই পরিস্থিতিকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকেও আলাদা করে দেখা যায় না। ডলার সংকট, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিবর্তনশীল ধারা দেশের ব্যাংকিং কার্যক্রমকে সরাসরি প্রভাবিত করছে। বিশেষ করে এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রাক্কালে অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তন ব্যাংকগুলোর উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান সংকট কেবল অর্থনৈতিক নয়; এর পেছনে রয়েছে সুশাসনের ঘাটতি, জবাবদিহিতার অভাব এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা। ব্যাংকিং খাতে রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর প্রভাব কমানো না গেলে কোনো সংস্কারই দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হবে না। অর্থাৎ সমস্যার মূল রয়েছে ব্যবস্থাপনায়, শুধু অর্থে নয়।

এই প্রেক্ষাপটে এখন প্রশ্ন উঠছে—বাংলাদেশ কি শুধুমাত্র সংস্কারের পথে এগোবে, নাকি পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করবে? অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করছেন, আংশিক পরিবর্তন দিয়ে এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। প্রয়োজন একটি সমন্বিত ও কঠোর পুনর্গঠন প্রক্রিয়া, যেখানে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে পুনর্বিন্যাস, শক্তিশালী নজরদারি এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।

সবশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের ব্যাংক খাত এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। সঠিক সময়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এই চাপ আরও গভীর সংকটে রূপ নিতে পারে। আর যদি সঠিকভাবে সংস্কার ও পুনর্গঠন করা যায়, তবে এই খাতই আবার দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির শক্তিশালী ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে। এখন সিদ্ধান্ত নেয়ার সময়—সংকটকে অস্বীকার করা হবে, নাকি বাস্তবতা মেনে নতুন করে পথচলা শুরু করা হবে।

0 শেয়ার করুন
1 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

মানবাধিকার কর্মী ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদকের উপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত

Stock News BD February 16, 2026

সাভারে মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিকদের মানববন্ধন। ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম

ছবিঃ মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিকের উপর হামলার প্রতিবাদে সাভারে মানবন্ধন

সাভার: অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করার “অপরাধে” মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিক কে. এম. দিদারুল আলমের উপর হামলার প্রতিবাদে আজ সাভার-আশুলিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা রাস্তায় নেমেছেন।

আশুলিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটি এর ব্যানারে আজ সকাল ১০ টায় সাভার বাসস্ট্যান্ডে মানবন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। কর্মসূচিতে স্টক নিউজ বিডি এর সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ শামীম রেজা , সাভার প্রেস ক্লাব, আশুলিয়া প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা যোগ দেন।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাভার প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. আব্দুল হান্নান।

বক্তাদের বক্তব্যের সারসংক্ষেপ

সভাপতি মো. আব্দুল হান্নান তার ভাষণে বলেন, “সাংবাদিকতা অপরাধ না। জনগণকে জানানোর দায়িত্ব পালন করায় হামলা মেনে নেওয়া হবে না। প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।”

সাভারের সিনিয়র সাংবাদিক মো. কামাল হোসেন বলেন, ” ১২ তারিখের নির্বাচনের পর থেকেই তাকে ফলো করা হচ্ছিল। এটি পরিকল্পিত হামলা। আমরা এর বিচার চাই।”

আশুলিয়ার তরুণ সাংবাদিক ইকবাল হাসান বলেন, “ভয় দেখিয়ে সত্য চাপা দেওয়া যাবে না। আমরা এক থাকলে কোনো সন্ত্রাসী আমাদের দমানো পারবে না।” বক্তারা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

মানবাধিকার কর্মী ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদকের উপর হামলা

Stock News BD February 15, 2026

ছবিঃ হামলার শিকার মানবাধিকার কর্মী ও স্টক নিউজ বিডি এর নিজস্ব প্রতিবেদক কে. এম. দিদারুল আলম।

সাভার: ঢাকা-১৯ আসন নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর এবার হামলার শিকার মানবাধিকার কর্মী ও স্টক নিউজ বিডি এর নিজস্ব প্রতিবেদক কে. এম. দিদারুল আলম।

জানা গেছে, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ এর জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে বিএনপি প্রার্থী ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই প্রতিবেদকের উপর ক্ষুব্ধ হয় তার কিছু অনুসারী । এরপর থেকে তাকে অনুসরণ করা হচ্ছিল।

জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর গতকাল (১৪ ফেব্রুয়ারী) রাত ০৯ টার দিকে সালাউদ্দিন বাবুর অনুসারীরা প্রথমে কে. এম. দিদারুল আলম এর বাসায় হামলা করে, সেখানে তাকে না পেয়ে সাভারের সিআরপি এলাকায় তাঁর উপর হামলা চালায়। তাকে গুরুতর জখম করে ফেলে রেখে যায়। স্থানীয়রা উদ্ধার করে ইবনে ‍সিনা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

মামলা ও পুলিশ

এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে সাভার থানায় ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টার মামলা করতে গেলে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা অভিযোগ গ্রহণ করেত অস্বীকৃতি জানান। এবিষয়ে জানতে সাভার মডেল থানা গেলে কেউ কোন কথা বলতে সম্মত হননি।

প্রতিবাদ

এই বর্বর হামলার প্রতিবাদে সাভার ও আশুলিয়ার সকল সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীদের নিয়ে আশুলিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটি আগামীকাল ১৬ ফেব্রুয়ারী সকাল ১০টায় সাভার বাসস্ট্যান্ডে মানবন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছে।

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

ঢাকা-১৯ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন: ক্ষমতার লড়াইয়ে বড় দুই শিবির, ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে স্বৈরতন্ত্রের পুনরাবৃত্তি রোধের আহ্বান

Stock News BD January 30, 2026

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিতে সারা দেশের মতো সাভার ও আশুলিয়া নিয়ে গঠিত গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-১৯ আসনেও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। গত ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের পর স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পটভূমিতে এই নির্বাচনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই আসনে মূলত মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে প্রধান দুই রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যে—যার একপক্ষ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং অন্যপক্ষ নবগঠিত জাতীয় নাগরিক কমিটি (এনসিপি) সমর্থিত প্রার্থী।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-১৯ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন হেভিওয়েট নেতা ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। অন্যদিকে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে গঠিত ১১-দলীয় জোটের অন্যতম প্রধান শক্তি জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) পক্ষে ‘শাপলা কলি’ প্রতীক নিয়ে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছেন নারী নেত্রী দিলশানা পারুল।

তবে এই নির্বাচনের আবহে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে গত কয়েক মাসের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বড় অভিযোগ, ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে এক শ্রেণির উগ্র নেতাকর্মী বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বিএনপির স্থানীয় কিছু নেতা ও তাদের সমর্থিত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ফুটপাত দখল, ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, পরিবহন সেক্টরে জোরপূর্বক চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন পোশাক কারখানায় কোটি কোটি টাকা চাঁদা দাবির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ গণমাধ্যমে এসেছে। এমনকি ৫ই আগস্ট থানা থেকে লুট হওয়া অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে প্রকাশ্য দিবালোকে ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে জনমনে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে, যা দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের ভাবমূর্তিকে স্থানীয়ভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

এই প্রেক্ষাপটে নির্বাচনী বিশ্লেষক ও সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করছেন, এবারের ভোট শুধুমাত্র একজন প্রার্থী নির্বাচন করার লড়াই না; বরং এটি দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পরীক্ষা।

এলাকার সাধারণ ভোটারদের প্রতি সচেতন মহলের জোরালো আহ্বান—অতীতের কোনো ফ্যাসিবাদের ভূত যেন নতুন কোনো ছদ্মবেশে ফিরে আসতে না পারে, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সাধারণ জনগণের। কোনো ধরনের ভয়ভীতি, পেশিশক্তি বা আর্থিক প্রলোভনের কাছে মাথা নত না করে ভোটারদের উচিত হবে নিজেদের ভোটাধিকার অত্যন্ত সুচিন্তিতভাবে প্রয়োগ করা। সাভার-আশুলিয়াবাসী এমন কোনো নেতৃত্ব বেছে নিতে চায় না যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে আবারও চাঁদাবাজি ও উগ্র ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করবে। একটি বৈষম্যহীন, চাঁদাবাজমুক্ত এবং শান্তিময় সাভার গড়তে ব্যালটের মাধ্যমে নতুন কোনো স্বৈরশাসক বা জুলুমবাজের উত্থান রোধ করাই হোক এবারের প্রধান অঙ্গীকার।

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

খোলা চিঠি।

Stock News BD December 20, 2025

মাননীয় জাতীয় নেতৃবৃন্দ,
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)

বিষয়: ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনী প্রচারণার কাজে ব্যয় করার জন্য সাভারের তৈরি পোশাক শিল্পে কোটি টাকার চাঁদাবাজি ও উগ্র হয়রানি বন্ধে জরুরি খোলা চিঠি।

শ্রদ্ধা ও বিনীত শুভেচ্ছা নেবেন।

আমরা অত্যন্ত উদ্বেগ ও গভীর পরিতাপের সাথে আপনার নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর তৃণমূল পর্যায়ের কিছু অতি-উৎসাহী এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন নেতার কর্মকাণ্ডের প্রতি আপনার ও কেন্দ্রীয় কমিটির জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচার-প্রচারণা জোরদার হওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, এই প্রচারণাকে পুঁজি করে ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) সংসদীয় আসনের আওতাধীন শিল্পাঞ্চলে এক শ্রেণির অতিলোভী ও সুযোগসন্ধানী নেতা উদ্যোক্তাদের ওপর চরম জুলুম ও চাঁদাবাজি শুরু করেছে।

সম্প্রতি আপনার দলের স্থানীয় শীর্ষ পর্যায়ের নেতা ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু জাতীয় নির্বাচনে তার নির্বচনী প্রচারণের জন্য সাবেক জেলা বিএনপি র নেতা খোরশেদ আলম এবং তার লোকজন কে দিয়ে সাভারের একটি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বৃহৎ তৈরি পোশাক কারখানার (গার্মেন্টস) মালিকের কাছে গিয়ে নির্বাচনী ফান্ড ও প্রচারণার খরচ বাবদ এককালীন ৩ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেছেন। এই বিপুল অঙ্কের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কারখানার স্বাভাবিক উৎপাদন ব্যাহত করা, শ্রমিক অসন্তোষ উসকে দেওয়া এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার মতো প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

আমরা আপনাকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, সাভার ও আশুলিয়া বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের হৃৎপিণ্ড। এমনিতেই বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট এবং কাঁচামালের ঊর্ধ্বগতির কারণে দেশের পোশাক খাত এক কঠিন সময় পার করছে। এর ওপর রাজনৈতিক দলের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে ৩ কোটি টাকার মতো আকাশচুম্বী চাঁদা দাবি করা এবং হুমকি দেওয়া কেবল একটি নির্দিষ্ট ব্যবসায়ী পরিবারের ওপর জুলুম নয়, বরং এটি পুরো জাতীয় অর্থনীতিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়ার শামিল।

মাননীয় নেতৃবৃন্দ, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কঠোর নির্দেশনা সত্ত্বেও তৃণমূলের কিছু নেতার এমন বেপরোয়া চাঁদাবাজি ও উগ্র আচরণ আপনার দলের দীর্ঘদিনের অর্জিত ভাবমূর্তি ও নির্বাচনী প্রচারণাকে সাধারণ মানুষের কাছে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। দেশের সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ী সমাজ এমন কোনো নেতৃত্ব বা রাজনৈতিক সংস্কৃতি দেখতে চায় না, যা ভীতি ও জবরদস্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত।

অতএব, দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি এই পোশাক শিল্পকে রক্ষা করতে এবং সুস্থ রাজনৈতিক ধারা বজায় রাখতে আপনার কাছে আমাদের বিনীত আকুল আবেদন:

১. সাভার-আশুলিয়া এলাকায় নির্বাচনী ফান্ডের নামে ৩ কোটি টাকা চাঁদা দাবির এই সুনির্দিষ্ট ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ অভ্যন্তরীণ তদন্ত নিশ্চিত করুন।
২. এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সাথে জড়িত স্থানীয় নেতাদের অবিলম্বে দল থেকে বহিষ্কার এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।
৩. দেশের প্রধান অর্থনৈতিক খাত তৈরি পোশাক শিল্পের মালিক, কর্মকর্তা ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে স্পষ্ট ও কঠোর বার্তা দিন।

ব্যবসায়ী সমাজ ও সাধারণ জনগণ আশা করে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এই চিঠির মর্মার্থ উপলব্ধি করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন এবং চাঁদাবাজমুক্ত একটি সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ উপহার দেবেন।

বিনীত,

সাভার–আশুলিয়া (ঢাকা-১৯ আসন ) অঞ্চলের এর  সচেতন ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিক সমাজ
(সাভার, ঢাকা)

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

সাভার-আশুলিয়ায় ৫ই আগস্টে থানা লুটের অস্ত্র দিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে বেপরোয়া ছিনতাই

Stock News BD June 26, 2025
আগ্নেয়াস্ত্র। প্রতীকী ছবি

সাভার-আশুলিয়া এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন স্থানীয় থানা থেকে লুট হওয়া অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে প্রকাশ্য দিবালোকে বেপরোয়া ছিনতাই ও ডাকাতি চালাচ্ছে সশস্ত্র অপরাধী চক্র। এই আসনের বাইপাইল মোড়, নবীনগর, আশুলিয়া ও সাভার বাসস্ট্যান্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম স্থানগুলোতে দিনদুপুরে অস্ত্রের মুখে সাধারণ মানুষের সর্বস্ব লুটে নেওয়া হচ্ছে। পুলিশের খোয়া যাওয়া ভারী অস্ত্র দুষ্কৃতকারীদের হাতে থাকায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী, পথচারী এবং তৈরি পোশাক কারখানার লাখ লাখ শ্রমিক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৫ই আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের দিন সাভার মডেল থানা এবং আশুলিয়া থানায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের সুযোগে বিপুল পরিমাণ সরকারি অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।পরবর্তীতে যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান ও তল্লাশিতে বেশ কিছু অস্ত্র উদ্ধার হলেও, সাভার ও আশুলিয়া থানা এলাকার অনেকগুলো আগ্নেয়াস্ত্র এখনো নিখোঁজ রয়েছে। মূলত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোগোযুক্ত এবং সরকারি কাজে ব্যবহৃত এসব চীনা রাইফেল, শটগান ও ৯ এমএম পিস্তল এখন স্থানীয় কিশোর গ্যাং ও সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, আশুলিয়ার নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের জিরানী, বাইপাইল এবং ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাকিজা মোড় এলাকায় প্রায়ই দিনের আলোতেই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। ছিনতাইকারীরা মোটরসাইকেল বা হাইয়েস মাইক্রোবাসে এসে চলন্ত রিকশা বা পথচারীদের গতিরোধ করে। এরপর সরাসরি বুকে বা মাথায় পিস্তল-শটগান ঠেকিয়ে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে নগদ টাকা, মুঠোফোন এবং স্বর্ণালংকার লুটে নিয়ে পালিয়ে যায়। খোয়া যাওয়া অস্ত্রগুলো সাধারণ আগ্নেয়াস্ত্রের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হওয়ায় ভুক্তভোগী বা আশপাশের সাধারণ মানুষ ভয়ে প্রতিরোধ গড়ার সাহস পাচ্ছেন না।

গতকাল ২৫ জুন এমনই একটি ঘটনা ঘটে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাকিজা মোড় এলাকায়। এটি বিএনপি নেতা ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর বাসার খুব নিকটে। মোঃ রেজাউল করিম নামের এক ব্যক্তি অফিস শেষ করে সন্ধ্যা ৬ টার দিকে পাকিজা মোড়ে অফিসের গাড়ি থেকে নামার ৫ মিনিট পর ৩ জন সশস্ত্র যুবক তার কোমরে পিস্তল ও ছুরি ঠেকিয়ে তার মোবাইল, ল্যাপটপ ও নগদ দশ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিতে চায়। সে প্রতিহত করলে তাকে ছুরিকাঘাত করে তার সব লুট করে নিয়ে যায়।  এখন মোঃ রেজাউল করিম একটি হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে লরছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, পুলিশ ও যৌথ বাহিনীর টহল আগের চেয়ে বাড়লেও ছিনতাইকারীদের এই বিশেষ সিন্ডিকেটগুলোর তৎপরতা কমছে না। অপরাধীরা অত্যন্ত সুকৌশলে বিভিন্ন মেসে বা অপরাধের ডেরায় সরকারি অস্ত্রগুলো লুকিয়ে রাখছে এবং কেবল ছিনতাইয়ের মিশন চালানোর সময় তা বের করছে। উদ্ধার না হওয়া এই মরণাস্ত্রগুলো যতদিন অপরাধীদের হাতে থাকবে, ততদিন এই শিল্পাঞ্চলের জনজীবন স্বাভাবিক রাখা কঠিন হবে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।

এ বিষয়ে ঢাকা জেলা পুলিশ ও স্থানীয় থানা প্রশাসন জানিয়েছে, ৫ই আগস্ট লুট হওয়া বাকি নিখোঁজ অস্ত্রগুলো উদ্ধার এবং চিহ্নিত ছিনতাইকারীদের দমনে গোয়েন্দা নজরদারি ও চিরুনি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে দিন ও রাতে সমানতালে বিশেষ টহল পরিচালনার পাশাপাশি তথ্যদাতাদের জন্য বিশেষ পুরস্কারের ঘোষণাও কার্যকর রয়েছে।

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

সাভার-আশুলিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়াদের টার্গেট করে মাদক সিন্ডিকেট: ঝুঁকিতে তরুণ প্রজন্ম

Stock News BD April 30, 2025
বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়াদের টার্গেট করে মাদক সিন্ডিকেট। প্রতীকী ছবি

সাভার-আশুলিয়া এলাকায় মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে মাদক ব্যবসা। এই অঞ্চলের একাধিক সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ-তরুণীদের প্রধান টার্গেট বানিয়ে অত্যন্ত সুকৌশলে জালের মতো বিস্তৃত হয়েছে মাদক সিন্ডিকেট। সস্তা গাজা, ইয়াবা থেকে শুরু করে এলএসডি, ডিএমটি ও আইসের মতো উচ্চমূল্যের নতুন নতুন মাদক সরবরাহ করা হচ্ছে ক্যাম্পাস সংলগ্ন এলাকাগুলোতে। এতে একদিকে যেমন ধ্বংসের মুখে পড়ছে উচ্চশিক্ষার পরিবেশ, অন্যদিকে বাড়ছে খুন ও ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অপরাধ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাভার ও আশুলিয়া এলাকাটি দেশের অন্যতম প্রধান উচ্চশিক্ষা হাবে পরিণত হয়েছে। এখানে ঐতিহ্যবাহী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি আশুলিয়া মডেল টাউন ও দত্তপাড়া সংলগ্ন খাগান এলাকায় গড়ে উঠেছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (DIU), ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (IUBAT), ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি এবং উত্তরা ইউনিভার্সিটি, সিটি ইউনিভার্সিটি-র মতো বড় বড় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজার হাজার শিক্ষার্থী হোস্টেল, ফ্ল্যাট বা মেস ভাড়া করে থাকেন। মূলত পরিবারের নজরদারির বাইরে থাকা এই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকেই ফাঁদে ফেলছে স্থানীয় মাদক কারবারিরা। প্রথমদিকে কৌতুহলবশত কিংবা বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে শিক্ষার্থীরা আসক্ত হচ্ছে এবং পরবর্তীতে অনেকে নিজেই জড়িয়ে পড়ছে খুচরা বিক্রির নেটওয়ার্কে। এলাকাবাসী বলেন এসব মাদক ব্যবসায়ীর অধিকাংশ বিএনপির নেতা ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু ও খোরশেদ আলমের লোক।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, সাভার, রাজাশন, ডেন্ডাবর, বাইপাইল, বিরুলিয়া, চারাবাগ এবং নবীনগর সংলগ্ন ডেইরি ফার্ম এলাকার কিছু মেস ও কটেজকে কেন্দ্র করে এই মাদকের আসর বসে। মাদক চক্রের সদস্যরা শিক্ষার্থীদের হোয়াটসঅ্যাপ বা মেসেঞ্জার গ্রুপের মাধ্যমে হোম ডেলিভারি পদ্ধতিতে সিন্ডিকেট পরিচালনা করছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর নিয়মিত অভিযানে সম্প্রতি সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন স্পট থেকে নারী কারবারিসহ একাধিক মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার হলেও এক বা দুই দিন পর তারা আবার জেল থেকে ছাড়া পেয়ে যায়।

মাদকের এই ভয়াবহ বিস্তারের কারণে এলাকায় অপরাধের হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মাদক সেবনের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে চুরি, ছিনতাই এবং গ্যাং কালচারের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে কিশোর ও যুবকরা। এমনকি বিরুলিয়া ও আশুলিয়া এলাকায় মাদকাসক্ত চক্রের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীদের হেনস্থা ও ধর্ষণের মতো নৃশংস অপরাধের ঘটনাও রেকর্ড করা হয়েছে, যা সচেতন মহলে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাদকের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে যৌথ সমন্বিত উদ্যোগ ও বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তবে কেবল পুলিশ-ই অভিযান চালিয়ে এই চক্রকে পুরোপুরি দমন করা সম্ভব নয় সকল রাজনৈতিক দলের নেতাদের কেও সহায়তা করতে হবে।

 বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্যাম্পাস এবং আশপাশের মেসগুলোতে নিয়মিত তদারকি বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবার ও সমাজকে মাদকের এই ভয়াল থাবার বিরুদ্ধে সচেতন প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা।

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail
পরবর্তী সংবাদ
পূর্ববর্তী সংবাদ

সর্বশেষ খবর

  • সাবেক রাষ্ট্রপতি ডা. বি. চৌধুরীর ২য় মৃত্যুবার্ষিকী ৫ অক্টোবর

  • সামুদা এডিবল অয়েলকে ডিজিটাল ক্যাশ ম্যানেজমেন্ট সল্যুশন দেবে ব্র্যাক ব্যাংক

  • রাজধানীর বনানী কাঁচা বাজারে বাংলা কিউআর লেনদেন বিষয়ক প্রচারণামূলক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত

  • মশিহর সিকিউরিটিজের বিনিয়োগকারীদের চেক বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত

  • পুঁজিবাজারে লেনদেন সহজ করতে ব্র্যাক ব্যাংক ও মিডওয়ে সিকিউরিটিজের চুক্তি

সর্বাধিক পঠিত

  • শমরিতা হসপিটালের লভ্যাংশ ঘোষণা

  • সাবেক রাষ্ট্রপতি ডা. বি. চৌধুরীর ২য় মৃত্যুবার্ষিকী ৫ অক্টোবর

  • সামুদা এডিবল অয়েলকে ডিজিটাল ক্যাশ ম্যানেজমেন্ট সল্যুশন দেবে ব্র্যাক ব্যাংক

  • ঢাকা-১৯ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন: ক্ষমতার লড়াইয়ে বড় দুই শিবির, ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে স্বৈরতন্ত্রের পুনরাবৃত্তি রোধের আহ্বান

  • পরিবেশ রক্ষা ও তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর অবাধ পানি প্রবাহের দাবীতে গণ-সমাবেশ ও বিক্ষোভ প্রকাশ অনুষ্ঠিত হয়

  • ডা. এনামের অঢেল অবৈধ সম্পদ, নিয়ন্ত্রণ করার কেউ নাই।

  • গোপনীয়তা নীতি
  • নীতিমালা
  • যোগাযোগ

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোঃ শামীম রেজা
মোবাইল নাম্বারঃ ০১৫২১৩৬৫৭২৩
ই-মেইলঃ stocknewsbd24@gmail.com
মোবাইল নাম্বারঃ ০১৫২১৩৬৭৫২২
অফিসঃ হাউজ নংঃ ১০১, রোড নংঃ ৩, সেক্টরঃ ৬, উত্তরা ঢাকা-১২৩০।
স্বত্ব © ২০২৬ স্টক নিউজ বিডি।


Back To Top
Stock News BD | Latest Online Most Popular Newspaper
  • হোম
  • শেয়ার বাজার
    • আজকের লেনদেন
    • কোম্পানি সংবাদ
    • বোর্ড সভা
    • এজিএম / ইজিএম
    • আইপিও / রাইট
    • লভ্যাংশ
    • উপদেশ
    • পিএসআই
  • অনুসন্ধানী বিশ্লেষণ
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • খেলাধুলা
  • লাইফ স্টাইল
  • ইসলাম
  • বিনোদন
  • আরও
    • বিশেষ প্রতিবেদন
    • আইন-আদালত
    • গণমাধ্যম
    • চাকরি
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • স্বাস্থ্য
    • সংস্কৃতি
    • ভিডিও
    • অন্যান্য