
সাভার-আশুলিয়া এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন স্থানীয় থানা থেকে লুট হওয়া অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে প্রকাশ্য দিবালোকে বেপরোয়া ছিনতাই ও ডাকাতি চালাচ্ছে সশস্ত্র অপরাধী চক্র। এই আসনের বাইপাইল মোড়, নবীনগর, আশুলিয়া ও সাভার বাসস্ট্যান্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম স্থানগুলোতে দিনদুপুরে অস্ত্রের মুখে সাধারণ মানুষের সর্বস্ব লুটে নেওয়া হচ্ছে। পুলিশের খোয়া যাওয়া ভারী অস্ত্র দুষ্কৃতকারীদের হাতে থাকায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী, পথচারী এবং তৈরি পোশাক কারখানার লাখ লাখ শ্রমিক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৫ই আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের দিন সাভার মডেল থানা এবং আশুলিয়া থানায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের সুযোগে বিপুল পরিমাণ সরকারি অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।পরবর্তীতে যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান ও তল্লাশিতে বেশ কিছু অস্ত্র উদ্ধার হলেও, সাভার ও আশুলিয়া থানা এলাকার অনেকগুলো আগ্নেয়াস্ত্র এখনো নিখোঁজ রয়েছে। মূলত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোগোযুক্ত এবং সরকারি কাজে ব্যবহৃত এসব চীনা রাইফেল, শটগান ও ৯ এমএম পিস্তল এখন স্থানীয় কিশোর গ্যাং ও সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, আশুলিয়ার নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের জিরানী, বাইপাইল এবং ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাকিজা মোড় এলাকায় প্রায়ই দিনের আলোতেই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। ছিনতাইকারীরা মোটরসাইকেল বা হাইয়েস মাইক্রোবাসে এসে চলন্ত রিকশা বা পথচারীদের গতিরোধ করে। এরপর সরাসরি বুকে বা মাথায় পিস্তল-শটগান ঠেকিয়ে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে নগদ টাকা, মুঠোফোন এবং স্বর্ণালংকার লুটে নিয়ে পালিয়ে যায়। খোয়া যাওয়া অস্ত্রগুলো সাধারণ আগ্নেয়াস্ত্রের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হওয়ায় ভুক্তভোগী বা আশপাশের সাধারণ মানুষ ভয়ে প্রতিরোধ গড়ার সাহস পাচ্ছেন না।
গতকাল ২৫ জুন এমনই একটি ঘটনা ঘটে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাকিজা মোড় এলাকায়। এটি বিএনপি নেতা ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর বাসার খুব নিকটে। মোঃ রেজাউল করিম নামের এক ব্যক্তি অফিস শেষ করে সন্ধ্যা ৬ টার দিকে পাকিজা মোড়ে অফিসের গাড়ি থেকে নামার ৫ মিনিট পর ৩ জন সশস্ত্র যুবক তার কোমরে পিস্তল ও ছুরি ঠেকিয়ে তার মোবাইল, ল্যাপটপ ও নগদ দশ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিতে চায়। সে প্রতিহত করলে তাকে ছুরিকাঘাত করে তার সব লুট করে নিয়ে যায়। এখন মোঃ রেজাউল করিম একটি হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে লরছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, পুলিশ ও যৌথ বাহিনীর টহল আগের চেয়ে বাড়লেও ছিনতাইকারীদের এই বিশেষ সিন্ডিকেটগুলোর তৎপরতা কমছে না। অপরাধীরা অত্যন্ত সুকৌশলে বিভিন্ন মেসে বা অপরাধের ডেরায় সরকারি অস্ত্রগুলো লুকিয়ে রাখছে এবং কেবল ছিনতাইয়ের মিশন চালানোর সময় তা বের করছে। উদ্ধার না হওয়া এই মরণাস্ত্রগুলো যতদিন অপরাধীদের হাতে থাকবে, ততদিন এই শিল্পাঞ্চলের জনজীবন স্বাভাবিক রাখা কঠিন হবে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।
এ বিষয়ে ঢাকা জেলা পুলিশ ও স্থানীয় থানা প্রশাসন জানিয়েছে, ৫ই আগস্ট লুট হওয়া বাকি নিখোঁজ অস্ত্রগুলো উদ্ধার এবং চিহ্নিত ছিনতাইকারীদের দমনে গোয়েন্দা নজরদারি ও চিরুনি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে দিন ও রাতে সমানতালে বিশেষ টহল পরিচালনার পাশাপাশি তথ্যদাতাদের জন্য বিশেষ পুরস্কারের ঘোষণাও কার্যকর রয়েছে।
