
ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনে জয়লাভের পর থেকেই ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আধাসরকারি প্রতিষ্ঠানে বেআইনি ও জোরপূর্বক ‘পরিবারতন্ত্র’ কায়েমের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির শীর্ষ নেতা ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর বিরুদ্ধে। বিশ্বস্ত সূত্রে এবং অতি গোপনে চালানো এক অনুসন্ধানে জানা গেছে, নির্বাচনী নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে সাভার ও আশুলিয়ার একাধিক নামী স্কুল, কলেজ ও স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ (গভর্নিং বডি) থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিজের পরিবারের সদস্যদের প্রধান হিসেবে বসিয়েছেন তিনি।
অনুসন্ধানের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনী ফল প্রকাশের পর থেকেই সাভার ও আশুলিয়ার বেশ কয়েকটি স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বৈধ পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে অথবা পুনর্গঠনের নামে সালাউদ্দিন বাবুর স্ত্রী, ভাই, বোন এবং শশুড়বাড়ির নিকটাত্মীয়দের সভাপতি বা পরিচালনা পরিষদের প্রধান হিসেবে মনোনীত করতে বাধ্য করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা বোর্ডকে রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে এই বেআইনি নিয়োগ নিশ্চিত করা হচ্ছে বলে গোপন সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের কয়েকজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এই পরিবারতান্ত্রিক আধিপত্য বিস্তারের বিরুদ্ধে কেউ সামান্যতম প্রতিবাদ বা ভিন্নমত পোষণ করলেই তার ওপর নেমে আসছে চরম প্রশাসনিক ও শারীরিক নিপীড়ন। প্রথম দফায় প্রতিবাদী শিক্ষক বা কর্মকর্তাদের অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে। এরপরও যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে স্থানীয় ক্যাডার বাহিনী ও ওত পেতে থাকা সন্ত্রাসী চক্রের মাধ্যমে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
এই চরম ভীতি ও জবরদস্তির কারণে সাভারের শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দীর্ঘদিনের চেইন অব কমান্ড বা প্রশাসনিক শৃঙ্খলা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী যেখানে যোগ্য শিক্ষানুরাগী বা দক্ষ ব্যক্তিদের গভর্নিং বডির প্রধান করার কথা, সেখানে রাজনৈতিক ক্ষমতা খাটিয়ে একটি নির্দিষ্ট পরিবারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাধারণ মানুষ যেখানে একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক সমাজ চেয়েছিল, সেখানে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতার এমন উগ্র ও স্বৈরাচারী আচরণ সাভারের সামাজিক পরিবেশকে চরমভাবে বিষিয়ে তুলছে। মুক্ত গণমাধ্যম ও সচেতন নাগরিক সমাজ অনতিবিলম্বে এই বেআইনি পরিবারতন্ত্র ও শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ওপর চলা নির্যাতন বন্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটির জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করছে।
