টানা ৫ বারের মতো ৩০% নগদ লভ্যাংশ দিচ্ছে জেএমআই সিরিঞ্জ
স্টক নিউজ বিডি অনলাইন ডেস্ক: দেশে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সার্বক্ষনিক সরকারের পাশে আছে জেএমআই গ্রুপ। করোনা মোকাবিলায় কার্যক্রমের শুরু থেকেই শিল্প গ্রুপটির বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে ভাইরাসপ্রতিরোধি মাস্ক, গ্লোভসসহ অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবারহ করেছে। এমনকি চলমান কোভিড-১৯ প্রতারোধি গণটিকাদান কর্মসূচিতেও দেশের একমাত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে অটো-ডিজেবল সিরিঞ্জ সরবারহ করেছে জেএমআই।
বুধবার বিকেলে গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে এসব কথা জানান জেএমআই গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুর রাজ্জাক এর আগে তিনি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত শিল্প গ্রুপটির অঙ্গ প্রতিষ্ঠান জেএমআই সিরিঞ্জেস অ্যান্ড মেডিক্যাল ডিভাইসেস লিমিটেডের বোর্ড সভায় অংশগ্রহন করেন।
মো. অবদুর রাজ্জাক জানান, জেএমই কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নয়, এই শিল্পগ্রুপের অধীনে রয়েছে ২০টিরও বেশি উৎপাদনমুখী শিল্প-কারখানা। এসব কারখানায় সাড় সাত হাজারের বেশি কর্মী নিয়োজিত আছেন। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তুরস্ক,থাইল্যান্ড এবং চীনের সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আছে জেএমআই গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠানে। এসব প্রতিষ্ঠানে উৎপাদিত জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামসহ বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি হচ্ছে ইউরোপ, দক্ষিণ আমেরিকাসহ বিশ্বের ৩৬টি দেশে। করোনর সময় যখন সারাদেশ খারাপ সময় পার করেছে, তখনও একদিনের জন্য বন্ধ হয়নি জেএমআই গ্রুপের শিল্প-কারখানা। চাকুরিচ্যতে করা হয়নি কোন শ্রমিককে।
এক প্রশ্নের জবাবে জেএমআই গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুর রাজ্জাক বলেন, করোনার টিকা দিতে লাগে এডি সিরিঞ্জ। বর্তমানে এই পণ্যের বিশ্বব্যাপী তীব্র সংকট চলছে। কোথাও মিললে পরিবহন খরচ অনেক বেশি। এজন্য অনেক উন্নত দেশেও টিকাদান কার্যকম ব্যাহত হচ্ছে। অথচ বাংলাদেশে একমাত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমাদের কারগরি সক্ষমতা রয়েছে এডি সিরিঞ্জ উৎপাদনে। তাই সিরিঞ্জ নিয়ে অনেকটাই নিশ্চিন্ত সরকার। আমাদের সরবারহ করা সিরিঞ্জ দিয়ে এখন পর্যন্ত সারাদেশে সুষ্ঠভাবে এগিয়ে চলছে গণটিকাদান কার্যক্রম। বর্তমানে মাসে দুই কোটি পিস এডি সিরিঞ্জ সরবারহ করছি আমরা। “
মো. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ”গত ২৮ সেপ্টেম্বর, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে ৮০ লাখের বেশি মানুষকে কোভিড-১৯ প্রতিরোধী টিকিদান কর্মসূচিতেও সরকারের পাশে সার্বক্ষণিক উপস্থিতি আমাদের। প্রথম ডোজ দেওয়ার সময় মাত্র ৪৮ ঘন্টার মধ্য়ে দেশের ৬৪ জেলায় নির্ধারিত কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সিরিঞ্জ পৌঁছে দিয়েছি আমরা। ২৮ অক্টোবরের দ্বিতীয় ডোজ টিকাদানের জন্য় এক কোটি সিরিঞ্জ সরবারহ করেছি।”
জেএমআই গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুর রাজ্জাক আরও জানান, ”এডি সিরিঞ্জ অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদনে আমাদের সক্ষমতা থাকায় সরকার ও দেশ তিনভাবে উপকৃত হচ্ছে। প্রথমত আমাদের শিল্প-কারখানায় কর্মসংস্থান হয়েছে কয়েক হাজার মানুষের, দ্বিতীয়ত আমদানি বিকল্প পণ্য উৎপাদন হওয়ায় করোনার মতো মহামারির সময়ও নির্ভার থেকে বিদেশি মুদ্রা সাশ্রয় করেছে সরকার এবং তৃতীয়ত সরকারের হতের নাগালে পণ্য পৌঁছে দিচ্ছি আমরা।”
এদিকে বুধবার বিকেলে অনুষ্ঠিত জেএমআই সিরিঞ্জেস অ্যান্ড মেডিক্যাল ডিভাইসেস লিমিটেড-এর পরিচালনা বোর্ড সভায় টানা পঞ্চম বছরের মতো বিনিয়োগকারীদের জন্য় ৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছর থেকে প্রতিবছর ৩০ শতাংশ করে নগদ লভ্যাংশ দিয়ে আসছে জেএমআই সিরিঞ্জ।
বুধবার সভায় প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদন দেওয়া হয়। এসময় জানানো হয়, ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪ টাকা শূন্য পয়সা। আগের অর্থবছরে যা ছিলো ৪ টাকা ৩৫ পয়সা। গত ৩০ জুন ২০২১ তারিখে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মুল্য ( এনএভিপিএস ) ছিলো ১২২ টাকা ৭০ পয়সা।
ভার্চুয়্যাল মাধ্যমে অনুষ্ঠিত বোর্ড সভায় অন্যান্যদের মধ্য উপস্থিত ছিলেন জেএমআই গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. জাবেদ ইকবাল পাঠান, জেএমআই সিরিঞ্জেস অ্যান্ড মেডিক্যাল ডিভাইসেস লিমিটেডের স্বতন্ত্র পরিচালক আব্দুল হক, এটিএম সেরাজুল সালেকিন চৌধুরী এবং মুস্তাফিজুর রহমান, জেএমআই গ্রুপের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম, জেএমআই সিরিঞ্জেস অ্যান্ড মেডিক্যাল ডিভাইসেস লিমিটেডের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা রনজিৎ চক্রবর্তী এবং সচিব মোহাম্মাদ তারেক হোসেন খান।
স্টক নিউজ বিডি.কম
আরও খবর পড়ুন…
