ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) সংসদীয় আসনের আওতাধীন প্রধান সড়ক ও ফুটপাতগুলো দখল করে চলছে স্মরণকালের সবচেয়ে বেপরোয়া চাঁদাবাজি। স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ও কিছু অসাধু লাইনম্যানের যোগসাজশে মহাসড়ক ও ফুটপাত এখন হকারদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। ফলে তীব্র যানজটের পাশাপাশি প্রতিদিন লাখ লাখ সাধারণ পোশাক শ্রমিক ও পথচারীদের চলাচলের চরম বিঘ্ন ঘটছে।
সরেজমিনে অনুসন্ধান ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা-১৯ আসনের অন্তর্ভুক্ত সাভার বাসস্ট্যান্ডের পাকিজা মোড়, বাইপাইল মোড়, নবীনগর ত্রিমোড় এবং আশুলিয়ার জামগড়া ও ডেন্ডাবর এলাকায় ফুটপাতের পুরোটা এবং প্রধান সড়কের একাংশ দখল করে হাজার হাজার অস্থায়ী দোকান বসানো হয়েছে। এসব দোকান থেকে প্রতিদিন সুনির্দিষ্ট হারে চাঁদা তোলা হয়। চাঁদা না দিলে দোকানদারদের উচ্ছেদ বা মারধরের শিকার হতে হয়। ৫ই আগষ্টের আগে এসব নিয়ন্ত্রণ করতো আওয়ামী লীগের নেতারা আর এখন করছে বিএনপির নেতারা। সম্প্রতি নতুন লাইনম্যানদের মাধ্যমে আবারও রমরমা হয়ে উঠেছে এই অবৈধ বাণিজ্য।
ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রতিদিন দোকান ভেদে ১০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয় লাইনম্যানদের। চাঁদা তোলার এই বিশাল অঙ্কের টাকার একটি বড় অংশ চলে যায় স্থানীয় প্রভাবশালী বিএনপি নেতা ও তাদের তৈরি সিন্ডিকেটের পকেটে। এই অবৈধ দখলের কারণে শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত সাভার ও আশুলিয়ার সড়কগুলোতে দিন-রাত চব্বিশ ঘণ্টাই স্থবিরতা লেগে থাকে।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন বিভিন্ন সময় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে। পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় সাড়াঁশি অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজন চাঁদাবাজকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছেন, কিন্তু ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু নিজে চাঁদাবাজদের মুক্ত করার জন্য সুপারিশ করছে। তবে হকারদের দাবি, স্থায়ী পুনর্বাসন না করে এভাবে উচ্ছেদ করলে তারা পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়বেন। অন্যদিকে উচ্ছেদ অভিযানের কয়েক ঘণ্টা পরই আবারও সড়ক ও ফুটপাত আগের অবস্থায় ফিরে যায় বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। সাধারণ পথচারী ও পোশাক কারখানার শ্রমিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ফুটপাত দিয়ে হাঁটার কোনো উপায় নেই। বাধ্য হয়ে মহাসড়ক দিয়ে হাঁটতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে। সাভার ও আশুলিয়ার সড়কগুলোকে চিরতরে চাঁদাবাজ ও দখলদার মুক্ত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত কঠোর স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল।
