পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি রেনউইক যজ্ঞেশ্বর অ্যান্ড কোং (বিডি) লিমিটেড চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (জুলাই–ডিসেম্বর ২০২৫) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন দেওয়া হয়।
প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, কোম্পানিটি এখনো লোকসানে থাকলেও আগের বছরের তুলনায় লোকসানের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, যা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ধীরে ধীরে উন্নতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
২০২৫ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর সময়ে কোম্পানিটির আর্নিংস পার শেয়ার (EPS) দাঁড়িয়েছে মাইনাস ৫.৪২ টাকা, যেখানে আগের বছর একই সময়ে তা ছিল মাইনাস ৭.৫৬ টাকা। অর্থাৎ, লোকসান কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে কোম্পানি অগ্রগতি অর্জন করেছে। একইভাবে, শুধু দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫) EPS উন্নীত হয়ে দাঁড়িয়েছে মাইনাস ২.৫২ টাকা, যা আগের বছরের মাইনাস ৫.৬৭ টাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি।
কোম্পানির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বিক্রয় পরিমাণ বৃদ্ধিই এই উন্নতির প্রধান চালিকাশক্তি। বাজারে চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রয় কার্যক্রম শক্তিশালী হওয়ায় আয় কাঠামোতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
এদিকে, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত কোম্পানির নেট অ্যাসেট ভ্যালু (NAV) প্রতি শেয়ার মাইনাস ১১১.০১ টাকা দাঁড়ালেও, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এটিকে চলমান দায় বৃদ্ধি-জনিত সাময়িক চাপ হিসেবে দেখছে এবং ভবিষ্যতে দায় ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে।
নগদ প্রবাহের ক্ষেত্রেও কোম্পানি স্বচ্ছতা বজায় রেখেছে। আলোচ্য সময়ে নেট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো পার শেয়ার (NOCFPS) মাইনাস ৪.০১ টাকা হলেও, কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে—উৎপাদন ব্যয় ও পরিচালন ব্যয় পরিশোধে অতিরিক্ত নগদ ব্যবহারের কারণেই এই অবস্থান তৈরি হয়েছে, যা কার্যক্রম সচল থাকারই প্রতিফলন।
বিশ্লেষকদের মতে, টানা লোকসানের মধ্যেও EPS-এর ধারাবাহিক উন্নতি ও বিক্রয় বৃদ্ধির প্রবণতা প্রমাণ করে যে কোম্পানিটি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ানোর পথে রয়েছে। সঠিক ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও দায় ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে লাভজনক অবস্থানে ফেরার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সব মিলিয়ে, বর্তমান আর্থিক প্রতিবেদন রেনউইক যজ্ঞেশ্বর অ্যান্ড কোং (বিডি) লিমিটেডের জন্য একটি রিকভারি ফেজে প্রবেশের ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
