
সাভার: পোস্টার। মাইক। মিছিল। আবারও নির্বাচনের হাওয়া। আর সেই হাওয়ায় ভেসে আসছে পুরনো নাম – ক্ষমতাসীন দলের মনোনিত ও বর্তমান এমপি ডাঃ এনামুর রহমান ।
ডাঃ এনামুর রহমান কে নিয়ে বিগত কয়েক মাস অনুসন্ধান করে যা পেয়েছি তা নিচে তুলে ধরা হলোঃ
১. দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিং
অনুসন্ধানে দেখা যায়, তার আয়ের সাথে সম্পদের বড় অসঙ্গতি রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী ২০১৯-২০২৩ পর্যন্ত বৈধ আয় ২ কোটি টাকা, কিন্তু এই সময়ে তার নামে ৮ কোটি টাকার সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছে। ৫টি ব্যাংক হিসাবে ১২ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন – একই দিনে বড় অঙ্কের জমা ও উত্তোলন – যা মানি লন্ডারিংয়ের লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়।
২. স্ত্রীর নামে ২৮ কোটি টাকার সম্পদ
অনুসন্ধানে দেখা যায়, তার স্ত্রী রওশন আক্তার চৌধুরীর নামে একটি আবাসন প্রকল্পে ২৮ কোটি টাকা মূল্যের ১০টি প্লট ও মেডিকেল কলেজের শেয়ার রয়েছে। স্ত্রীর পেশা গৃহিণী দেখানো হলেও এত সম্পদের উৎস হলফনামায় স্পষ্ট করা হয়নি।
৩. নিয়োগ বাণিজ্য:
২০২২-২০২৩ সালে তার মেডিকেল কলেজে ৩০ জন নার্স ও ১৫ জন কর্মচারী নিয়োগে জনপ্রতি ৩-৫ লাখ টাকা নেওয়ার লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে কলেজের পরিচালনা বোর্ডে। অভিযোগকারী ৫ জন প্রার্থী জানান, টাকা দিতে না পারায় মেধা তালিকায় থেকেও তাদের বাদ দেওয়া হয়।
৪. নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন:
৩ জানুয়ারি ২০২৪, নির্বাচনী প্রচারণার সময় সরকারি স্কুলের মাঠে তার সমর্থকরা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে এবং স্কুলের মাইক ব্যবহার করে প্রচারণা চালায়, যা নির্বাচনী আচরণবিধির ১২(ক) ধারার লঙ্ঘন। এ ঘটনায় সহকারী রিটার্নিং অফিসার তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন।
ডাঃ এনামুর রহমান একজন ডাক্তার, পাশাপাশি সে একজন এমপি। তার দুইটি পেশাই হওয়া উচিৎ ছিলো সেবা। অথচ তিনি ক্ষমতার আসনে বসে অন্যায়, অনিয়মের মাধ্যমে দেশের ও জনগনের অর্থ লুট করেছে। এসব অন্যায়, অনিয়মের জবাব দেওয়া সময় এখন জনগনের হাতেই এসেছে। ৭ জানুয়ারী ব্যালটের হিসাবেই আমরা বুঝতে পারবো জনগণের কি রায়। আগামী ৫ বছর কি আরও অন্যায়, অনিয়মের অন্ধকারে থাকতে চায় নাকি দেখতে চায় নতুন সূর্যের আলো।
