আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিতে সারা দেশের মতো সাভার ও আশুলিয়া নিয়ে গঠিত গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-১৯ আসনেও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। গত ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের পর স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পটভূমিতে এই নির্বাচনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই আসনে মূলত মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে প্রধান দুই রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যে—যার একপক্ষ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং অন্যপক্ষ নবগঠিত জাতীয় নাগরিক কমিটি (এনসিপি) সমর্থিত প্রার্থী।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-১৯ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন হেভিওয়েট নেতা ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। অন্যদিকে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে গঠিত ১১-দলীয় জোটের অন্যতম প্রধান শক্তি জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) পক্ষে ‘শাপলা কলি’ প্রতীক নিয়ে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছেন নারী নেত্রী দিলশানা পারুল।
তবে এই নির্বাচনের আবহে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে গত কয়েক মাসের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বড় অভিযোগ, ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে এক শ্রেণির উগ্র নেতাকর্মী বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বিএনপির স্থানীয় কিছু নেতা ও তাদের সমর্থিত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ফুটপাত দখল, ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, পরিবহন সেক্টরে জোরপূর্বক চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন পোশাক কারখানায় কোটি কোটি টাকা চাঁদা দাবির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ গণমাধ্যমে এসেছে। এমনকি ৫ই আগস্ট থানা থেকে লুট হওয়া অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে প্রকাশ্য দিবালোকে ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে জনমনে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে, যা দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের ভাবমূর্তিকে স্থানীয়ভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে নির্বাচনী বিশ্লেষক ও সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করছেন, এবারের ভোট শুধুমাত্র একজন প্রার্থী নির্বাচন করার লড়াই না; বরং এটি দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পরীক্ষা।
এলাকার সাধারণ ভোটারদের প্রতি সচেতন মহলের জোরালো আহ্বান—অতীতের কোনো ফ্যাসিবাদের ভূত যেন নতুন কোনো ছদ্মবেশে ফিরে আসতে না পারে, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সাধারণ জনগণের। কোনো ধরনের ভয়ভীতি, পেশিশক্তি বা আর্থিক প্রলোভনের কাছে মাথা নত না করে ভোটারদের উচিত হবে নিজেদের ভোটাধিকার অত্যন্ত সুচিন্তিতভাবে প্রয়োগ করা। সাভার-আশুলিয়াবাসী এমন কোনো নেতৃত্ব বেছে নিতে চায় না যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে আবারও চাঁদাবাজি ও উগ্র ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করবে। একটি বৈষম্যহীন, চাঁদাবাজমুক্ত এবং শান্তিময় সাভার গড়তে ব্যালটের মাধ্যমে নতুন কোনো স্বৈরশাসক বা জুলুমবাজের উত্থান রোধ করাই হোক এবারের প্রধান অঙ্গীকার।
