Stock News BD | Latest Online Most Popular Newspaper
  • হোম
  • শেয়ার বাজার
    • আজকের লেনদেন
    • কোম্পানি সংবাদ
    • বোর্ড সভা
    • এজিএম / ইজিএম
    • আইপিও / রাইট
    • লভ্যাংশ
    • উপদেশ
    • পিএসআই
  • অনুসন্ধানী বিশ্লেষণ
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • খেলাধুলা
  • লাইফ স্টাইল
  • ইসলাম
  • বিনোদন
  • আরও
    • বিশেষ প্রতিবেদন
    • আইন-আদালত
    • গণমাধ্যম
    • চাকরি
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • স্বাস্থ্য
    • সংস্কৃতি
    • ভিডিও
    • অন্যান্য
Tag:

শেয়ারবাজার

৪ ব্যাংকের ৩,১০০ কোটি টাকার বন্ড অনুমোদন, বেক্সিমকো ফার্মার নতুন পর্ষদ গঠনে অনাপত্তি

স্টক নিউজ বিডি September 29, 2026

স্টক নিউজ বিডি: বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ১০৩১তম কমিশন সভায় চারটি ব্যাংকের মোট ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের বন্ড ইস্যুর প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। একই সভায় বিনিয়োগকারীদের স্বার্থসহ সার্বিক বিষয় বিবেচনায় বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসির প্রস্তাবিত ৯ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ গঠনে অনাপত্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান-এর সভাপতিত্বে কমিশনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ১০৩১তম কমিশন সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

চার ব্যাংকের ৩,১০০ কোটি টাকার বন্ড অনুমোদন

সভায় One Bank PLC-এর ৪০০ কোটি টাকা মূল্যের Unsecured, Non-convertible, Fully Redeemable, Floating Rate Subordinated Bond-VI অনুমোদন করা হয়। বন্ডটির Coupon Rate হবে Reference Rate + 3%। প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও উচ্চ সম্পদশালী একক বিনিয়োগকারীদের কাছে বন্ডটি ইস্যু করা হবে। প্রতি ইউনিটের অভিহিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ টাকা।

বন্ড থেকে সংগৃহীত অর্থ Basel III-এর আওতায় ব্যাংকটির Tier-2 Capital Base শক্তিশালী করতে ব্যবহার করা হবে। এর Trustee হিসেবে থাকবে Green Delta Capital Limited এবং Issue Manager হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে UCB Investment Limited। বন্ডটি স্টক এক্সচেঞ্জের Main Board-এ তালিকাভুক্ত করতে হবে।

অন্যদিকে Southeast Bank PLC-এর ৮০০ কোটি টাকা মূল্যের ৭ বছর মেয়াদি Fully Redeemable, Non-convertible, Unsecured, Floating Rate Subordinated Bond (6th Issue) অনুমোদন করেছে কমিশন। এর Coupon Rate হবে Reference Rate + 3%। প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তিদের কাছে বন্ডটি ইস্যু করা হবে এবং প্রতি ইউনিটের অভিহিত মূল্য ৫ লাখ টাকা।

এই বন্ডের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ ব্যাংকটির Basel III-এর আওতায় Tier-II Capital Base শক্তিশালী করতে ব্যবহার করা হবে। Trustee হিসেবে থাকবে DBH Finance PLC এবং Issue Manager হিসেবে থাকবে UCB Investment Limited। বন্ডটি স্টক এক্সচেঞ্জের Main Board-এ তালিকাভুক্ত করতে হবে।

BRAC Bank-এর ১,০০০ কোটি টাকার Green Bond

সভায় BRAC Bank PLC-এর ১ হাজার কোটি টাকা মূল্যের ৩ বছর মেয়াদি Unsecured, Non-Convertible, Fully Redeemable, Zero-Coupon Green Bond-এর প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে।

বন্ডটির সম্ভাব্য Discount Rate নির্ধারণ করা হয়েছে ৮.৫ শতাংশ। প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান, প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচুইটি ফান্ড, উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তি এবং অন্যান্য যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কাছে এটি ইস্যু করা হবে। প্রতি ইউনিটের অভিহিত মূল্য ১০ লাখ টাকা।

বিএসইসি জানিয়েছে, বন্ডের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ ব্যাংকটির যোগ্য গ্রাহকদের Low-cost Green Financing দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা হবে। এর Trustee হিসেবে থাকবে Prime Bank Investment PLC এবং Issue Manager হিসেবে কাজ করবে IDLC Investments Limited। বন্ডটি স্টক এক্সচেঞ্জের Main Board-এ তালিকাভুক্ত করতে হবে।

Al-Arafah Islami Bank-এর ৫০০ কোটি টাকার Subordinated Bond

Al-Arafah Islami Bank PLC-এর ৫০০ কোটি টাকা মূল্যের ৭ বছর মেয়াদি Unsecured, Non-Convertible, Redeemable, Floating Rate AIBPLC 5th Subordinated Bond-এর প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে কমিশন।

বন্ডটির Coupon Rate হবে Reference Rate + 3%। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তিদের কাছে প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে এটি ইস্যু করা হবে। প্রতি ইউনিটের অভিহিত মূল্য ৫ লাখ টাকা।

বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ Basel III-এর আওতায় ব্যাংকটির Tier-II Capital Base শক্তিশালী করতে ব্যবহার করা হবে। Trustee হিসেবে থাকবে DBH Finance PLC এবং Issue Manager হিসেবে কাজ করবে UCB Investment Limited।

Bank Asia-এর ৮০০ কোটি টাকার Sustainable Subordinated Bond

এছাড়া Bank Asia PLC-এর ৮০০ কোটি টাকা মূল্যের ৭ বছর মেয়াদি Unsecured, Non-convertible, Fully Redeemable, Floating Rate and Sustainable Subordinated Bond-এর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে বিএসইসি।

বন্ডটির Coupon Rate হবে Reference Rate + 3%। প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তি ও অন্যান্য যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কাছে এটি ইস্যু করা হবে। প্রতি ইউনিটের অভিহিত মূল্য ১০ লাখ টাকা।

বন্ড থেকে সংগৃহীত অর্থ Basel III-এর আওতায় ব্যাংকটির Tier-II Capital Base শক্তিশালী করার পাশাপাশি যোগ্য সবুজ ও টেকসই প্রকল্পে অর্থায়ন ও পুনঃঅর্থায়নে ব্যবহার করা হবে।

এর Trustee হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে DBH Finance PLC এবং Issue Manager হিসেবে কাজ করবে Prime Bank Investment PLC। বন্ডটি স্টক এক্সচেঞ্জের Main Board-এ তালিকাভুক্ত করতে হবে।

বেক্সিমকো ফার্মার ৯ সদস্যের পর্ষদ গঠনে বিএসইসির অনাপত্তি

এদিকে কমিশনের প্যানেলভুক্ত আইনজীবীর পত্রের মাধ্যমে মহামান্য আদালতের মৌখিক নির্দেশনার বিষয়টি অবহিত হওয়ার পর বিনিয়োগকারীদের স্বার্থসহ সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কোম্পানির প্রস্তাবিত ৯ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ গঠনে অনাপত্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি।

এছাড়া একজন নতুন Managing Director নিয়োগের কথা রয়েছে।

পর্ষদে স্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান IFIC Bank PLC থেকে একজন পরিচপ্রস্তাবিত পর্ষদে স্পনসরদের পক্ষ থেকে তিনজন পরিচালক থাকবেন। তারা হলেন— ASF Rahman, Osman Kaiser Chowdhury, Iqbal Ahmed।

পাশাপাশি চারজন Independent Director রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজনকে নতুন করে নিয়োগ দেওয়া হবে এবং একজন নারী Independent Director থাকবেন। Independent Director নিয়োগের ক্ষেত্রে Corporate Governance Code, 2018 অনুসরণ করতে হবে।

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকমের ঋণখেলাপি মামলায় ৫ পরিচালকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

স্টক নিউজ বিডি September 23, 2026

স্টক নিউজ বিডি: মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি’র (এমটিবি) দায়ের করা ঋণ আদায়ের মামলায় প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেডের (পিবিটিএল) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), ভারপ্রাপ্ত প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) এবং তিন পরিচালকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

আদালত ও মামলার নথি অনুযায়ী, প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড (পিবিটিএল) প্রধান ঋণগ্রহীতা ও করপোরেট গ্যারান্টার হিসেবে এবং এর সংশ্লিষ্ট গ্যারান্টার, পরিচালক ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি (এমটিবি) থেকে ঋণসুবিধা গ্রহণ করেন।

পরবর্তীতে ঋণের দায় পরিশোধে পিবিটিএল ব্যর্থ হওয়ায় ব্যাংকটি ২০১৮ সালের ৫ জুলাই অর্থ ঋণ আদালতে ৫২১/২০১৮ নম্বর মামলা দায়ের করে। মামলায় ব্যাংকের পক্ষ থেকে ৬৮ কোটি ৭৬ লাখ ৩০ হাজার ৪৪৮ টাকা ২৩ পয়সা পাওনা দাবি করা হয়।

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০২৬ সালের ১৩ মে অর্থ ঋণ আদালত ব্যাংকের পক্ষে রায় ও ডিক্রি প্রদান করেন। ডিক্রির অর্থ আদায় ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ২৭ জুলাই ব্যাংকটি ৮১০/২০২৬ নম্বর অর্থ ঋণ জারি মামলা দায়ের করে।

জারি কার্যক্রম চলাকালে সংশ্লিষ্ট রায় ও ডিক্রির দায়ে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক। আবেদনের শুনানি শেষে আদালত সংশ্লিষ্ট পাঁচ ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আওতায় থাকা ব্যক্তিরা হলেন—প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মেহবুব চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) মো. ফরিকুল হাসান, পরিচালক নাসরিন খান, পরিচালক মো. মোর্শেদ খান এবং পরিচালক আসগর করিম।

মামলার নথিতে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, ঋণের বকেয়া দায় আদায় এবং আদালতের ডিক্রি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ জারি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

তবে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ, আদালতে তাদের উপস্থিতি এবং পাওনা অর্থ আদায়ের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করবে।

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

রবির তিন মাসেই ১,৫৮০ কোটি টাকা নগদ অর্থ উধাও, স্বল্পমেয়াদি ঋণ বেড়েছে ৩৬০ কোটি টাকা

স্টক নিউজ বিডি September 21, 2026

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন: বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতের অন্যতম বৃহৎ অপারেটর রবি আজিয়াটা পিএলসি-এর সর্বশেষ প্রকাশিত আর্থিক অবস্থার বিবরণী নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে বিনিয়োগকারী মহলে। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ সমাপ্ত প্রান্তিকের সংক্ষিপ্ত আর্থিক প্রতিবেদনে কোম্পানির নগদ অর্থের অস্বাভাবিক পতন, স্বল্পমেয়াদি ঋণের হঠাৎ বৃদ্ধি এবং সম্পদের ধারাবাহিক সংকোচনকে ঘিরে উঠছে নানা প্রশ্ন।

বিশ্লেষকদের মতে, কাগজে-কলমে কিছু সূচক ইতিবাচক দেখালেও বাস্তব নগদ প্রবাহ ও দায় ব্যবস্থাপনার চিত্র বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্ক সংকেত বহন করছে।

তিনা মাসে নগদ অর্থ কমেছে প্রায় ১,৫৮০ কোটি টাকা

রবি আজিয়াটার আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে কোম্পানির Cash and Cash Equivalents ছিল প্রায় ২,৪২১ কোটি টাকা। কিন্তু মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে ২০২৬ সালের মার্চ শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৮৩৮ কোটি টাকায়।

অর্থাৎ, এক প্রান্তিকেই কোম্পানির নগদ অবস্থান কমেছে প্রায় ১,৫৮০ কোটি টাকা।

প্রশ্ন উঠেছে—

এই বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ কোথায় ব্যয় হয়েছে?
এটি কি পরিচালন ব্যয়, ঋণ পরিশোধ, নাকি অন্য কোনো আর্থিক চাপের প্রতিফলন?

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, একটি বড় টেলিকম কোম্পানির ক্ষেত্রে নগদ অর্থের এমন দ্রুত পতন ভবিষ্যৎ তারল্য ঝুঁকির ইঙ্গিত দিতে পারে।

স্বল্পমেয়াদি ঋণে অস্বাভাবিক উল্লম্ফন

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হচ্ছে কোম্পানির Short Term Loans। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে যেখানে স্বল্পমেয়াদি ঋণের পরিমাণ ছিল মাত্র প্রায় ২০ লাখ টাকা, সেখানে ২০২৬ সালের মার্চ শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৬০ কোটি টাকায়।

মাত্র তিন মাসে এমন ঋণ বৃদ্ধি স্বাভাবিক ব্যবসায়িক প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কোম্পানি কি নগদ সংকট মোকাবেলায় জরুরি ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। নাকি পরিচালন ব্যয় সামাল দিতেই বাড়তি ঋণ নিতে হয়েছে?

সম্পদ কমছে ধারাবাহিকভাবে

প্রতিবেদনে দেখা যায়, কোম্পানির মোট সম্পদ (Total Assets) কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ২ হাজার কোটি টাকায়, যা আগের প্রান্তিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

বিশ্লেষকদের মতে, সম্পদের ধারাবাহিক সংকোচন ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করে।

বিশেষ করে টেলিযোগাযোগ খাতে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং অবকাঠামো বিনিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে সম্পদ কমে যাওয়া দীর্ঘমেয়াদে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে দুর্বল করতে পারে।

দায় এখনো বিপজ্জনক উচ্চতায়

রবি আজিয়াটার মোট দায় (Total Liabilities) এখনো প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি অবস্থান করছে।

অন্যদিকে মোট ইকুইটি প্রায় ৭২ হাজার কোটি টাকা।

অর্থাৎ, কোম্পানির আর্থিক কাঠামো এখনো উচ্চমাত্রায় দায়নির্ভর।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ সুদহার ও বৈদেশিক মুদ্রা চাপের সময়ে এমন দায় কাঠামো ভবিষ্যতে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

যদিও কোম্পানির Retained Earnings এবং NAV per Share সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন— শুধুমাত্র হিসাবভিত্তিক মুনাফা দিয়ে বাস্তব নগদ সংকট আড়াল করা যায় না।

কারণ, কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হচ্ছে তার Cash Flow ও Liquidity Position।

আর সেখানেই এখন বড় প্রশ্নের মুখে রবি আজিয়াটা।

দেশের শীর্ষ করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি হিসেবে রবি আজিয়াটা পিএলসি-এর আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বিনিয়োগকারীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমান আর্থিক প্রতিবেদনে উঠে আসা নগদ সংকট, ঋণ বৃদ্ধি এবং সম্পদ হ্রাসের বিষয়গুলো নিয়ে দ্রুত ও স্পষ্ট ব্যাখ্যা না এলে বাজারে আরও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে কোম্পানির বক্তব্য জানার জন্য কোম্পানি সেক্রেটারি শহিদুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি বলে জানানো হয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে বিষয়গুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখন সময়ের দাবি।

0 শেয়ার করুন
2 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail
eastern ins

ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের নিট মুনাফা ১২ কোটি ৪২ লাখ, বেড়েছে ইপিএসও

স্টক নিউজ বিডি September 21, 2026

স্টক নিউজ বিডি বিশেষ প্রতিবেদন: ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ইতিবাচক গতি ধরে রেখে ২০২৫ সালে মুনাফায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সাধারণ বীমা কোম্পানি ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স পিএলসি। কোম্পানিটির সর্বশেষ প্রকাশিত নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কর-পরবর্তী নিট মুনাফা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএসেও শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালে ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের নিট মুনাফা হয়েছে ১২ কোটি ৪২ লাখ ২৪ হাজার ৭৩২ টাকা। ২০২৪ সালে এই মুনাফার পরিমাণ ছিল ১০ কোটি ৪৫ লাখ ৮৪ হাজার ১০৩ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির নিট মুনাফা বেড়েছে প্রায় ১ কোটি ৯৬ লাখ ৪১ হাজার টাকা বা ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ।

মুনাফা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শেয়ারপ্রতি আয়ও বেড়েছে। ২০২৫ সালে কোম্পানিটির ইপিএস দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ৮৮ পয়সা, যা ২০২৪ সালে ছিল ২ টাকা ৪৩ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরে ইপিএস বেড়েছে ৪৫ পয়সা বা প্রায় ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ। বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিতে এটি কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় সক্ষমতার উন্নতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

কর-পূর্ব মুনাফাতেও ছিল ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি। ২০২৫ সালে কোম্পানিটির কর-পূর্ব মুনাফা হয়েছে ১৬ কোটি ২১ লাখ ৭২ হাজার ৬৩১ টাকা, যেখানে ২০২৪ সালে ছিল ১৪ কোটি ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৪৪৯ টাকা। ফলে কর-পূর্ব মুনাফা বেড়েছে প্রায় ২ কোটি ১১ লাখ টাকা বা ১৫ শতাংশ।

আয় বৃদ্ধির পেছনে বিনিয়োগ ও অন্যান্য আয়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ২০২৫ সালে কোম্পানিটির সুদ ও লভ্যাংশ আয় হয়েছে ১৫ কোটি ৬২ লাখ ৩৯ হাজার ৪৪০ টাকা, যা আগের বছর ছিল ১৬ কোটি ৯৭ লাখ ৬৬ হাজার ৬৮৬ টাকা। তবে ফায়ার, মেরিন, মোটর ও বিবিধ বীমা ব্যবসার রেভিনিউ অ্যাকাউন্ট থেকে স্থানান্তরিত মুনাফা এবং শেয়ার ও অন্যান্য সম্পদ বিক্রয়জনিত আয়সহ মোট আয় কাঠামোয় পরিবর্তন দেখা গেছে।

আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫ সালে কোম্পানিটির মোট আয় ১৯ কোটি ২২ লাখ ১৪ হাজার ৯৭০ টাকা, যা ২০২৪ সালের ১৬ কোটি ৮৭ লাখ ১৭ হাজার ৩৬৩ টাকা থেকে প্রায় ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কর-পূর্ব ও কর-পরবর্তী মুনাফায় ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

ব্যয় ব্যবস্থাপনাতেও কোম্পানিটির নিয়ন্ত্রিত অবস্থান লক্ষ করা যায়। ২০২৫ সালে ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ কোটি ২ লাখ টাকা, যেখানে আগের বছর ছিল প্রায় ২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। ব্যয় কিছুটা বাড়লেও আয়ের প্রবৃদ্ধির তুলনায় মুনাফা বৃদ্ধির হার বেশি হওয়ায় কোম্পানিটির সামগ্রিক লাভজনকতায় ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

অন্যদিকে, ২০২৫ সালের শেষে ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের মোট শেয়ারহোল্ডারদের ইক্যুইটি দাঁড়িয়েছে ২০৭ কোটি ৭৭ লাখ ১৮ হাজার ৪৯১ টাকা। ২০২৪ সালের শেষে যা ছিল ২১২ কোটি ৮৮ লাখ ৫৩ হাজার ৪৭ টাকা। একই সময়ে মোট সম্পদের পরিমাণ ২৬৪ কোটি ৯২ লাখ ৭ হাজার ৬১৮ টাকা থেকে কমে ২৬৪ কোটি ৯২ লাখ ৭ হাজার ৬১৮ টাকা? Wait — correction: 2024 total assets ছিল ২৭১ কোটি ৫৬ লাখ ৯৫ হাজার ৯৭১ টাকা, যা ২০২৫ সালে কমে ২৬৪ কোটি ৯২ লাখ ৭ হাজার ৬১৮ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

কোম্পানিটির সম্পদ কাঠামোয় সবচেয়ে বড় অংশ রয়েছে ব্যাংকে স্থায়ী আমানত ও অন্যান্য বিনিয়োগে। ২০২৫ সালের শেষে নগদ ও নগদ সমতুল্য সম্পদের পরিমাণ ছিল ১২৪ কোটি ৫৩ লাখ ১২ হাজার ৬১০ টাকা। এর মধ্যে ব্যাংকে স্থায়ী আমানতের পরিমাণই ছিল ১২২ কোটি ২ লাখ ৯১ হাজার ৪৮৪ টাকা।

তবে বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়—২০২৫ সালে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বা এনএভি কিছুটা কমেছে। ২০২৪ সালের ৫০ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে ২০২৫ সালে এনএভি দাঁড়িয়েছে ৫০ টাকা ১৩ পয়সায়।

এছাড়া শেয়ার ও সিকিউরিটিজে বিনিয়োগের বাজারমূল্য পরিবর্তনের কারণে ২০২৫ সালে ৩ কোটি ২২ লাখ ৫৯ হাজার ১২৩ টাকার ফেয়ার ভ্যালু ক্ষতি হয়েছে। এর প্রভাবে নিট মুনাফা বাড়লেও মোট ব্যাপক আয় বা Total Comprehensive Income ২০২৫ সালে ৯ কোটি ১৯ লাখ ৬৫ হাজার ৯০৯ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যেখানে ২০২৪ সালে তা ছিল ১০ কোটি ৪৫ লাখ ৮৪ হাজার ১০৩ টাকা।

সব মিলিয়ে, ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের ২০২৫ সালের আর্থিক চিত্রে সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো নিট মুনাফা, কর-পূর্ব মুনাফা এবং ইপিএসে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি। বিশেষ করে প্রায় ১৯ শতাংশ নিট মুনাফা বৃদ্ধি এবং ১৮ শতাংশের বেশি ইপিএস প্রবৃদ্ধি কোম্পানিটির মূল আয়ের সক্ষমতায় উন্নতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে একই সঙ্গে এনএভি ও মোট ব্যাপক আয়ের পরিবর্তন এবং বিনিয়োগের ফেয়ার ভ্যালু ক্ষতির বিষয়টিও বিনিয়োগকারীদের জন্য আর্থিক প্রতিবেদন মূল্যায়নের সময় বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

স্টক নিউজ বিডির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আর্থিক প্রতিবেদনে ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের মুনাফা ও শেয়ারপ্রতি আয়ের প্রবৃদ্ধিই কোম্পানিটির পারফরম্যান্সের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক দিক হিসেবে সামনে এসেছে।

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

শীর্ষ ব্রোকারেজ কোম্পানির সঙ্গে ডিএসই’র বৈঠক

স্টক নিউজ বিডি September 15, 2026

স্টক নিউজ বিডি | বিশেষ প্রতিবেদন: স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল লেনদেন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশের শীর্ষ ব্রোকারেজ কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি (ডিএসই)।


আজ মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেমবর ২০২৬ তারিখ ডিএসই বোডরুমে অনুষ্ঠিত এ সভায় ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং শীর্ষ ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

সভায় শরুতেই ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার বলেন, আজকের বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য হলো পুঁজিবাজারের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিয়ে অংশীজনদের মতামত ও বাস্তব অভিজ্ঞতা শোনা। তাদের যৌক্তিক ও গঠনমূলক পরামর্শ গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী ডিএসইর বোর্ড ও বিএসইসিকে অবহিত করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি জানান, ডেরিভেটিভস মার্কেট চালুর প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে এবং সফটওয়্যারসহ প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি সম্পন্ন করে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। সাম্প্রতিক পাঁচটি ব্রোকারেজ-সংক্রান্ত ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের বিষয়েও ডিএসই কাজ করছে৷

ডিবিএ-এর সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, আজকের আলোচনায় আমরা মূলত দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে একত্রিত হয়েছি। প্রথমত, পুঁজিবাজারের কিছু দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয় রয়েছে, যেগুলো সম্পর্কে আমরা সবাই অবগত। দ্বিতীয়ত, বাজার একটি কঠিন ও হতাশাজনক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতির কারণ চিহ্নিত করা এবং তা থেকে উত্তরণের উপায় নির্ধারণ করাই আজকের আলোচনার অন্যতম উদ্দেশ্য। আমরা বিশ্বাস করি, অতীতের অমীমাংসিত বিষয় এবং বর্তমান বাজার পরিস্থিতি নিয়ে সম্মিলিতভাবে আলোচনা করলে কার্যকর সমাধানের পথ বের করা সম্ভব।

তিনি আরো বলেন অতীত ও বর্তমানের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি সেগুলোর বাস্তবসম্মত সমাধানের প্রস্তাবও উপস্থাপন করুন। শুধু সমস্যা চিহ্নিত করাই যথেষ্ট নয়, সমাধানের পথও আমাদের খুঁজে বের করতে হবে।

বৈঠকে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য বক্তারা পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি, বাজারের স্থিতিশীলতা, তারল্য বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরেন। তারা দীর্ঘদিনের অনিষ্পন্ন বিষয়গুলো দ্রুত পর্যালোচনা করে বাস্তবভিত্তিক ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বক্তারা নতুন ট্রেডিং কৌশল ও পণ্য প্রবর্তন এবং দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা প্রি-ওপেনিং সেশন পুনরায় চালুর কারিগরি ও বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা পর্যালোচনার প্রস্তাব দেন।পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ স্কিমের মেয়াদ ও ঋণ পরিশোধের সময়সীমা বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সময় বৃদ্ধির বিষয়টি পর্যালোচনা এবং মেম্বারস মার্জিন নেট-অফের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যয় ও তারল্য ব্যবস্থাপনার চাপ কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়।

ইন্সপেকশন ও সার্ভিলেন্স কার্যক্রমকে আরও নিয়মিত, তথ্যনির্ভর, ঝুঁকিভিত্তিক ও স্বচ্ছ করার ওপর বক্তারা গুরুত্ব দেন। তারা সিস্টেমভিত্তিক তথ্য যাচাইয়ের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্বাভাবিক ট্রেডিং ভলিউমের পরিবর্তে অস্বাভাবিক মূল্য পরিবর্তন ও প্রকৃত অনিয়মের লক্ষণকে অধিক গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন।
বক্তারা পুঁজিবাজারকে ইকুইটিনির্ভরতা থেকে বের করে বন্ডসহ অন্যান্য আর্থিক ইন্সট্রুমেন্টের পরিধি বাড়ানো এবং ডিলারদের ভূমিকা ও দায়িত্ব নির্ধারণে আরও সুস্পষ্ট নিয়ন্ত্রক কাঠামো প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে নীতিগত ও প্রক্রিয়াগত বাধা চিহ্নিত করে তা দূর করা, বিনিয়োগকারী-কেন্দ্রিক সেমিনার ও সংলাপ আয়োজন এবং উচ্চ সম্পদসম্পন্ন বিনিয়োগকারী ও প্রকৃত মার্কেট প্লেয়ারদের সঙ্গে ডিএসইর সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। দেশের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আসতে উত্সাহিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদে শেয়ার বাইব্যাকের সুযোগ চালুর সম্ভাবনা পর্যালোচনার আহ্বান জানানো হয়।

সবশেষে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার বলেন, আইটি ও সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা বোর্ড অনুমোদন করেছে এবং তা বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিনিয়োগকারী সুরক্ষায় ইন্সপেকশন ও সার্ভেইলেন্স কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ এবং তথ্যভিত্তিক সফটওয়্যার উন্নয়নে কাজ চলছে। এতে ইন্সপেকশন প্রক্রিয়া কাঠামোবদ্ধ ও ডেটা রিকনসিলিয়েশন সহজ হবে। বিএসইসি’র উদ্যোগে সিডিবিএল, সিসিবিএল ও আইটি টিমের সমন্বয়ে নিয়মিত সভার বিষয়ে সিদ্ধাত নেওয়া হয়েছে। অনলাইন অ্যাকাউন্ট খোলা, রিটেইল বিনিয়োগকারীদের সেবা সহজ করা ও টি+১ সেটেলমেন্টসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমন্বিতভাবে কাজ চলছে।
নতুন ওয়েবসাইট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে এবং আগামী ২২ সেপ্টেম্বরের প্রেস কনফারেন্সে উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে পুরোনো ওয়েবসাইট আরও দুই থেকে তিন মাস চালু থাকবে এবং ব্যবহারকারীদের মতামতের ভিত্তিতে নতুন ওয়েবসাইটে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন করা হবে।

সবশেষে তিনি বলেন, ডিএসইর কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ, কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি পুরো পুঁজিবাজারের ইকোসিস্টেমের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করা হবে।

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail
pubali bank

পুবালী ব্যাংকের পারপেচুয়াল বন্ডের কুপন রেট ১০ শতাংশ

স্টক নিউজ বিডি September 15, 2026

স্টক নিউজ বিডি | বিশেষ প্রতিবেদন: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত পুবালী ব্যাংক পিএলসির পারপেচুয়াল বন্ডের পরবর্তী ছয় মাসের জন্য কুপন রেট নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ২২ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত সময়ের জন্য এ বন্ডের কুপন রেট হবে বার্ষিক ১০ শতাংশ।

ব্যাংকটির প্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (PSI) অনুযায়ী, অনুমোদিত ট্রাস্ট ডিড ও পুবালী ব্যাংক পারপেচুয়াল বন্ডের ইনফরমেশন মেমোরেন্ডামের বিধান অনুসারে প্রতিটি কুপন পিরিয়ডের জন্য কুপন রেট নির্ধারণ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, কোনো নির্দিষ্ট কুপন পিরিয়ডের কুপন রেট নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট পিরিয়ড শুরুর পাঁচ দিন আগে কোটেশন ডে হিসেবে বিবেচিত হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকেল ৩টায়  বন্ডটির ট্রাস্টি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অনুমোদিত নীতিমালা অনুযায়ী পরবর্তী কুপন পিরিয়ডের জন্য প্রযোজ্য কুপন রেট নির্ধারণ করা হয়।

সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ২২ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত সময়ের জন্য পুবালী ব্যাংক পারপেচুয়াল বন্ডের প্রযোজ্য কুপন রেট বার্ষিক ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

বেক্সিমকো ফার্মার পর্ষদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন সালমান এফ রহমান

স্টক নিউজ বিডি September 15, 2026

নতুন পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের উদ্যোগ, বাড়ছে স্বতন্ত্র পরিচালকের সংখ্যা

স্টক নিউজ বিডি | বিশেষ প্রতিবেদন: দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো ফার্মার পরিচালনা পর্ষদ থেকে সরে দাঁড়াতে সম্মত হয়েছেন কোম্পানিটির ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান। তাকে বাদ দিয়ে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি এ বিষয়ে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) চিঠি দিয়েছে বেক্সিমকো ফার্মা। চিঠিতে কোম্পানিটি জানিয়েছে, সালমান এফ রহমান নিজেই পরিচালনা পর্ষদ থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন।

কোম্পানির পক্ষ থেকে বিএসইসিকে বলা হয়েছে, সালমান এফ রহমানের কারণে যাতে কোম্পানির ব্যবসা, সুনাম ও শেয়ারধারীরা ক্ষতির মুখে না পড়েন, সেই বিবেচনায় তিনি পর্ষদ থেকে পদত্যাগে রাজি হয়েছেন।

নতুন পর্ষদে কারা থাকছেন

সালমান এফ রহমানকে বাদ দিয়ে বেক্সিমকো ফার্মার নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রস্তাবিত পর্ষদে উদ্যোক্তাদের মধ্য থেকে তিনজন পরিচালক, চারজন স্বতন্ত্র পরিচালক, আইএফআইসি ব্যাংকের পক্ষ থেকে মনোনীত একজন পরিচালক এবং পদাধিকারবলে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ বিষয়ে বিএসইসির পক্ষ থেকেও কোম্পানিটিকে ইতিবাচক সাড়া দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরও সম্মতি

বেক্সিমকো ফার্মা শুধু বাংলাদেশের শেয়ারবাজারেই নয়, লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট মার্কেটেও (AIM) তালিকাভুক্ত। ফলে পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পাশাপাশি লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের সংশ্লিষ্ট নিয়ম ও প্রক্রিয়াও অনুসরণ করতে হবে।

কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসা ও কোম্পানির সামগ্রিক স্বার্থ বিবেচনায় সালমান এফ রহমানকে পরিচালনা পর্ষদ থেকে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও সম্মতি দিয়েছেন।

বিএসইসি সূত্রে জানা যায়, নতুন পর্ষদ গঠনের সময় বিদেশি শেয়ারধারীদের একজন প্রতিনিধিকে পরিচালনা পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছিল কমিশন। তবে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এতে সম্মত হননি। পরে স্বতন্ত্র পরিচালকের সংখ্যা বাড়িয়ে নতুন পর্ষদ গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

পর্ষদ পুনর্গঠনে সময় লাগবে কয়েক সপ্তাহ

লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার আগে তার বিষয়ে যথাযথ যাচাই-বাছাই বা ‘ডিউ ডিলিজেন্স’ সম্পন্ন করতে হয়। এই যাচাই প্রক্রিয়া শেষ করতে চার থেকে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে বিএসইসিকে দেওয়া বেক্সিমকো ফার্মার চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থাৎ নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠনের ক্ষেত্রে শুধু বিএসইসির অনুমোদনই নয়, আন্তর্জাতিক তালিকাভুক্তির বিধিবিধানও অনুসরণ করতে হবে কোম্পানিটিকে।

সুনাম ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানোর প্রত্যাশা

শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, বেক্সিমকো ফার্মা দেশের ওষুধ খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় কোম্পানি। তবে সালমান এফ রহমানের মালিকানা ও প্রভাবকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে কোম্পানিটির ব্যবসা, সুনাম এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

তাদের মতে, সালমান এফ রহমান পরিচালনা পর্ষদ থেকে সরে দাঁড়ালে কোম্পানিটির পরিচালনা কাঠামোয় পরিবর্তন আসবে। এর ফলে ব্যবসা পুনরুদ্ধার, করপোরেট সুশাসন জোরদার এবং কোম্পানিটির ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

একই সঙ্গে নতুন ও তুলনামূলকভাবে স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ গঠিত হলে বেক্সিমকো ফার্মার প্রতি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরতে পারে বলেও মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

কারাগারে সালমান এফ রহমান

২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সালমান এফ রহমান গ্রেপ্তার হন। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। এর মধ্যেই বেক্সিমকো ফার্মার পরিচালনা পর্ষদ থেকে তার সরে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলো।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন পর্ষদ গঠন ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা কাঠামো প্রতিষ্ঠার পর কোম্পানিটির মূল ব্যবসায়িক সক্ষমতা, করপোরেট সুশাসন এবং শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কতটা পুনরুদ্ধার করা যায়, এখন সেটিই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

0 শেয়ার করুন
1 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

আল-হাজ টেক্সটাইলের ৩ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ অনুমোদন

স্টক নিউজ বিডি September 14, 2026

শেয়ারহোল্ডারদের ব্যাপক উপস্থিতিতে শান্তিপূর্ণভাবে ৪৩তম এজিএম অনুষ্ঠিত

স্টক নিউজ বিডি | বিশেষ প্রতিবেদন: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আল-হাজ টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের ৪৩তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আর্থিক ফলাফল, শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ঘোষিত লভ্যাংশসহ কোম্পানির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আজ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাজধানীর উত্তরা ক্লাব লিমিটেডের ঢাকা ব্যাংক লাউঞ্জে কোম্পানিটির ৪৩তম এজিএম অনুষ্ঠিত হয়। শেয়ারহোল্ডারদের অংশগ্রহণ সহজ করতে সভাটি হাইব্রিড প্ল্যাটফর্মে আয়োজন করা হয়।

শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৩ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ

সভায় ৩০ জুন ২০২৫ সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ সুপারিশকৃত ৩ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ অনুমোদন করা হয়। লভ্যাংশ সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট ছিল ১৬ আগস্ট ২০২৬।

কোম্পানির পক্ষ থেকে শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে লভ্যাংশ প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়াকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। আর্থিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও শেয়ারহোল্ডারদের জন্য নগদ লভ্যাংশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডারবান্ধব মনোভাবের প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।

শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এজিএম

আল-হাজ টেক্সটাইলের ৪৩তম এজিএম শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শেয়ারহোল্ডার উপস্থিত ছিলেন এবং তারা কোম্পানির আর্থিক ফলাফল, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিয়ে মতামত ও বিভিন্ন প্রশ্ন তুলে ধরেন।

কোম্পানির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ শেয়ারহোল্ডারদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং কোম্পানির ভবিষ্যৎ কার্যক্রম আরও গতিশীল করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে আল-হাজ টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের জন্য ব্যবসায়িক কার্যক্রমে গতি আনা, উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এজিএমে শেয়ারহোল্ডারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং কোম্পানির প্রতি তাদের আগ্রহ ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষা, ব্যবসায়িক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ধারাবাহিকভাবে কোম্পানির মৌলভিত্তি শক্তিশালী করার মাধ্যমে আল-হাজ টেক্সটাইল ভবিষ্যতে আরও ভালো অবস্থানে যাবে—এমন প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

আইপিও ও সরাসরি তালিকাভুক্তিতে প্রাধান্য দিয়ে চট্টগ্রামে আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস ও সিসিসিআই এর যৌথ উদ্যোগে সংলাপ অনুষ্ঠিত

স্টক নিউজ বিডি September 13, 2026

আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড ও চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিসিআই) সম্প্রতি যৌথভাবে ‘ক্যাপিটাল মার্কেট গ্রোথ ডায়ালগ: পাথওয়ে টু লিস্টিং’ শীর্ষক সংলাপের আয়োজন করেছে। চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে অবস্থিত সিসিসিআই কার্যালয়ে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। ডিএসই’র চেয়ারম্যান মোমিনুল ইসলাম এবং সিএসই’র চেয়ারম্যান এ কে এম হাবিবুর রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে যোগ দেন। অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে ছিলেন আইডিএলসি ফাইন্যান্সের চেয়ারম্যান কাজী মাহমুদ সাত্তার; আইডিএলসি ফাইন্যান্সের এমডি ও সিইও এম জামাল উদ্দিন; আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস-এর এমডি মেসবাহ উদ্দীন আহমেদ; আইডিএলসি সিকিউরিটিজ-এর এমডি মোঃ মেজবাউল হক; সিসিসিআই-এর সাবেক সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী; সিসিসিআই-এর সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এম এ ছালাম; সিএসই’র এমডি সাইফুর রহমান মজুমদার; বিএসআরএম’এর চেয়ারম্যান আলী হুসেইন আকবর আলী এবং অন্যান্য সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ।

সংলাপে নিয়ন্ত্রক সংস্থা, স্টক এক্সচেঞ্জ, শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠন, করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও পুঁজিবাজারের বিভিন্ন অংশীজনের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বাংলাদেশে পুঁজিবাজারে করপোরেট প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বাড়াতে বিদ্যমান সুযোগ, চ্যালেঞ্জ ও নিয়ন্ত্রক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তারা আলোচনা করেন। চট্টগ্রামের বড় ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী গ্রুপ ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ী, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) এবং জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরাও আলোচনায় যুক্ত হন।

সংলাপে আইপিও ও সরাসরি তালিকাভুক্তির (ডিরেক্ট লিস্টিং) ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠিত করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহ, মূলধন কাঠামো শক্তিশালী করা, ব্যাংক-নির্ভর অর্থায়নের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসা সম্প্রসারণে এ দুটি পদ্ধতিকে বিকল্প পথ হিসেবে তুলে ধরা হয়। তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে মূল্যায়ন পদ্ধতি, তালিকাভুক্তির শর্ত ও সময়সীমায় সাম্প্রতিক পরিবর্তন এবং চলমান উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়। সম্ভাব্য তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা নিয়ন্ত্রকদের কাছে সরাসরি নিজেদের নানা জিজ্ঞাসা তুলে ধরার পাশাপাশি পরিবর্তনশীল নিয়ন্ত্রক কাঠামো সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা নেওয়ার সুযোগ পান।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেন, “বাংলাদেশে পুঁজিবাজারে কোম্পানিগুলোর তালিকাভুক্তিতে দীর্ঘসূত্রীতার কারণে মানি মার্কেট বা অর্থলগ্নি খাত থেকে টাকা সংগ্রহ করে ব্যবসায়ীরা। এজন্য পুঁজিবাজারে যেমন কাঙ্খিত গতিশীলতা আসে না, তেমনি ব্যবসার টেকসই প্রসার ঘটে না। পুঁজিবাজারে যাতে বড় বড় মানসম্পন্ন কোম্পানিগুলো সহজে সরাসরি তালিকাভুক্ত হয়ে অর্থ সংগ্রহ করতে পারে, সেজন্য সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন স্টেকহোল্ডারদের সাথে আলাপ আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে”।

তিনি আরো বলেন, “বাংলাদেশে গড় ট্রেডিং বর্তমানে মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশনের ০.১৪ শতাংশ। যদি গড় ট্রেডিং মাত্র ১৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়, তাহলে তা ০.৪০ শতাংশে উন্নীত হবে। যার অর্থ, মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশনের তুলনায় গড় ট্রেডিং বেশি। তাই মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন বাড়াতে বড় বড় এবং মানসম্পন্ন কোম্পানিগুলোকে স্টক মার্কেটে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এজন্য সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন”।

সিসিসিআই সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, “তালিকাভুক্ত কোনো প্রতিষ্ঠান লাভ না করলেও লভ্যাংশ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকায় অনেক ব্যবসায়ী পুঁজিবাজারে আসতে চান না। তালিকাভুক্তির পর বিভিন্ন নিয়মের জটিলতায়ও পড়তে হয়। ব্যবসায় লাভ হলে লভ্যাংশ দেওয়া এবং লোকসান হলে না দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত। পুঁজিবাজারকে নিজস্ব গতিতে চলতে দিতে হবে। পুঁজিবাজারের সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও বাংলাদেশ ব্যাংক সম্পৃক্ত। তাই আইন ও নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সমন্বয় ও ঐকমত্য প্রয়োজন।’

আইডিএলসি ফাইন্যান্সের চেয়ারম্যান কাজী মাহমুদ সাত্তার বলেন, “পুঁজিবাজারের মিউচ্যুয়াল ফান্ড মার্কেট এখনো শক্তিশালী নয়। আইপিও’র ক্ষেত্রেও রয়েছে নানা বাধা। এজন্য এনবিআর’কে সাথে নিয়ে ট্যাক্স সংক্রান্ত বিষয়গুলো যাতে পুজিবাজারের সাথে সাংঘর্ষিক না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখে বিএসইসি’কে কাজ করতে হবে”।

আইডিএলসি ফাইন্যান্সের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও এম জামাল উদ্দিন বলেন, “বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এখন প্রথাগত ব্যাংক অর্থায়নের বাইরে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদী তহবিলের নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে পুঁজিবাজারকে বিবেচনা করার সময় এসেছে। আরো উন্নত ও স্বচ্ছ মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোম্পানিগুলো এখন অধিক আস্থার সাথে এই বাজারে প্রবেশ করতে পারবে এবং তাদের ব্যবসার ন্যায্য মান অর্জন করতে পারবে”।

আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস’এর সিইও মেসবাহ উদ্দীন আহমেদ বলেন, “আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টসে আমরা পুঁজিবাজারে কোম্পানির নির্ভরযোগ্য প্রবেশ ও দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ ও দৃঢ় অবস্থান নিশ্চিতের লক্ষে সর্বোতভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছি। এই লক্ষ্যে আপনার প্রতিষ্ঠান পাবলিক মার্কেটে প্রবেশের জন্য কতটুকু প্রস্তুত, সম্ভাব্য কতটুকু মূলধন সংগ্রহ করা যেতে পারে, মালিকানার অংশীদারিত্ব বা শেয়ারের অনুপাত কতটা ডাইলিউট হতে পারে এবং কতটা নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখা সম্ভব, আপনার প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কোন ধরনের মূল্যায়ন পদ্ধতি যৌক্তিক বা গ্রহণযোগ্য হবে, আইপিও, ডাইরেক্ট লিস্টিং নাকি অন্য কোনো অর্থায়নের পদ্ধতি কোনটি আপনার জন্য অধিক উপযুক্ত হবে, এধরণের বিষয়গুলো পূর্ণ গোপনীয়তার সাথে মূল্যায়নে আমরা সহায়তা করতে পারি। এ জন্য আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস’এর সাথে আপনাদের কোনো প্রকার আনুষ্ঠানিক চুক্তির বাধ্যবাধকতাও নেই, আপনার ব্যবসার জন্য সঠিক সিদ্ধান্তটি নিতে সহায়তা করার লক্ষ্যে আমরা আপনাকে কোনো চুক্তি ছাড়াই বিভিন্ন বিকল্প যাচাই-বাছাইয়ে সহযোগিতা করব।” সংলাপে অংশ নিয়ে বিএসইসি, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রতিনিধিরা সম্ভাব্য তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের বিভিন্ন উদ্বেগের বিষয়ে আলোচনা করেন। এর পাশাপাশি তাঁরা বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা প্রদান এবং তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া আরও সহজ করার সম্ভাব্য দিকগুলো নিয়ে নিজেদের মত তুলে ধরেন।

এ সংলাপ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য ছিল পুঁজিবাজারে করপোরেট প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বাড়ানো। এ জন্য তালিকাভুক্তির কৌশলগত ও আর্থিক সুবিধাগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি ব্যাংকনির্ভর অর্থায়নের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে পুঁজিবাজারের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ উদ্যোগের মাধ্যমে চট্টগ্রামের সম্ভাব্য মানসম্পন্ন তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ আরও জোরদার হবে এবং তাদের তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে আরও বৈচিত্র্যময় ও টেকসই পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে এ উদ্যোগ বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

বাজারকে দমন নয়, কমপ্লায়েন্ট ও প্রাণবন্ত পুঁজিবাজার গড়তে হবে: ডিএসই চেয়ারম্যান

স্টক নিউজ বিডি September 8, 2026

ডিএসই-ডিবিএ’র জরুরি বৈঠক | নতুন IPO ও আর্থিক পণ্যের সরবরাহ বাড়ানোকে অগ্রাধিকার | ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত IPO ও Direct Listing-এ প্রথম বছরের Listing Fee ৫০% মওকুফ

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক অস্থিরতা, বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ এবং বাজারের আস্থা পুনরুদ্ধারে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বাজারকে আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ, দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে ডিএসই, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানসহ সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল ১১টায় ভার্চুয়ালি এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি, বাজারে স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল লেনদেন নিশ্চিত করার করণীয় এবং সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন সমস্যা ও উদ্বেগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও মতবিনিময় হয়।

বৈঠকের শুরুতে ডিবিএ প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম বলেন, পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারী ও বাজার-সংশ্লিষ্টদের মধ্যে তৈরি হওয়া উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি দূর করতে এ ধরনের মতবিনিময় সভা অত্যন্ত সময়োপযোগী।

তিনি বলেন, বর্তমানে অধিকাংশ ব্রোকার ও বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাই বাজারের আস্থা ও কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে ডিএসই, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বাজারকে দমন নয়, বরং একটি কমপ্লায়েন্ট, প্রাণবন্ত, দক্ষ ও বিকাশমান পুঁজিবাজারে রূপান্তর করাই সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত।

বৈঠকে ডিএসই চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় Investor Protection Fund (IPF) নিয়ে বিএসইসির সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বাজারে নতুন IPO এবং বিভিন্ন আর্থিক পণ্যের সরবরাহ বাড়ানো ডিএসইর অন্যতম অগ্রাধিকার। দীর্ঘদিন ধরে বাজারে নতুন IPO না আসা এবং Fixed Income Securities-এর সীমিত উপস্থিতি পুঁজিবাজারের অন্যতম দুর্বলতা।

এ পরিস্থিতিতে নতুন বন্ডের Listing Fee কমানো হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত IPO অথবা Direct Listing-এর জন্য আবেদনকারী কোম্পানির প্রথম বছরের Listing Fee-এর ৫০ শতাংশ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

ব্রোকারেজ হাউসগুলোর ওপর অতিরিক্ত হস্তক্ষেপের বিষয়ে ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ Regulatory Affairs Department-এর দৈনন্দিন কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করে না। বরং পর্ষদ নীতিগত দিকনির্দেশনা প্রদান করে। কোনো নির্দিষ্ট অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বিষয়েই তদন্ত বা অনুসন্ধান করা হবে।

সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে মমিনুল ইসলাম বলেন, CC account, শেয়ার বা অন্যান্য সম্পদে কোনো ঘাটতি থাকলে তা দ্রুত নিজ উদ্যোগে সমাধান করতে হবে। এ ধরনের ঘাটতি শুধু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং পুরো পুঁজিবাজারের ecosystem-এর সুনামকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।

তিনি বলেন, “বাজারকে আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে হলে সব পক্ষকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব।”

ডিএসই চেয়ারম্যান সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যা, উদ্বেগ, পরামর্শ ও নতুন ধারণা ডিএসইর কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানান। সদস্যদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও মতামতের ভিত্তিতেই বাজারের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে ডিএসই আগ্রহী বলেও তিনি জানান।

বৈঠকে জানানো হয়, ২০২৫ সালের কমপ্লায়েন্স ও সার্ভেইল্যান্স সংক্রান্ত কিছু ইন্সপেকশন কার্যক্রম অমীমাংসিত ছিল। এসব বিষয় বিএসইসিতে রিপোর্ট দাখিলের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। ওই ইন্সপেকশনগুলো সম্পন্ন করার ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই সম্প্রতি বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসে ইন্সপেকশন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।

এদিকে বৈঠকে বক্তারা অস্বাভাবিক লেনদেনের ক্ষেত্রে আরও সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন। তারা বলেন, কোনো নির্দিষ্ট সময়ে বেশি পরিমাণ শেয়ার লেনদেন হলেই সেটিকে অনিয়ম হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। বরং লেনদেনের ধরন, শেয়ারের দামে এর প্রভাব, বিনিয়োগকারীর সক্ষমতা এবং সংশ্লিষ্ট নির্দেশনাসহ সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে লেনদেন মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

বৈঠকে পুঁজিবাজারের বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা, বাজারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদে একটি শক্তিশালী ও টেকসই পুঁজিবাজার গড়ে তোলার বিষয়ে বিভিন্ন মতামত ও সুপারিশ উঠে আসে।

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail
পরবর্তী সংবাদ
পূর্ববর্তী সংবাদ

সর্বশেষ খবর

  • এমটিবি ও সোনালী ব্যাংকের মধ্যে পেমেন্ট গেটওয়ে চুক্তি স্বাক্ষর

  • বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ-২০২৬

  • আইপিওতে আসছে কনফিডেন্স পাওয়ার, রোড শো ১৮ অক্টোবর

  • পোস্টপেইড বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ সহজ করতে ব্র্যাক ব্যাংক ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চুক্তি

  • বাগাতিপাড়ায় ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধাভোগীদের তথ্য সংগ্রহ বিষয়ে প্রেস কনফারেন্স

সর্বাধিক পঠিত

  • শমরিতা হসপিটালের লভ্যাংশ ঘোষণা

  • আইপিওতে আসছে কনফিডেন্স পাওয়ার, রোড শো ১৮ অক্টোবর

  • পোস্টপেইড বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ সহজ করতে ব্র্যাক ব্যাংক ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চুক্তি

  • জিকিউ বলপেনের মুনাফায় ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত, ১২.৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা

  • বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ-২০২৬

  • বাগাতিপাড়ায় ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধাভোগীদের তথ্য সংগ্রহ বিষয়ে প্রেস কনফারেন্স

  • গোপনীয়তা নীতি
  • নীতিমালা
  • যোগাযোগ

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোঃ শামীম রেজা
মোবাইল নাম্বারঃ ০১৫২১৩৬৫৭২৩
ই-মেইলঃ stocknewsbd24@gmail.com
মোবাইল নাম্বারঃ ০১৫২১৩৬৭৫২২
অফিসঃ হাউজ নংঃ ১০১, রোড নংঃ ৩, সেক্টরঃ ৬, উত্তরা ঢাকা-১২৩০।
স্বত্ব © ২০২৬ স্টক নিউজ বিডি।


Back To Top
Stock News BD | Latest Online Most Popular Newspaper
  • হোম
  • শেয়ার বাজার
    • আজকের লেনদেন
    • কোম্পানি সংবাদ
    • বোর্ড সভা
    • এজিএম / ইজিএম
    • আইপিও / রাইট
    • লভ্যাংশ
    • উপদেশ
    • পিএসআই
  • অনুসন্ধানী বিশ্লেষণ
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • খেলাধুলা
  • লাইফ স্টাইল
  • ইসলাম
  • বিনোদন
  • আরও
    • বিশেষ প্রতিবেদন
    • আইন-আদালত
    • গণমাধ্যম
    • চাকরি
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • স্বাস্থ্য
    • সংস্কৃতি
    • ভিডিও
    • অন্যান্য