এক বছরের জন্য স্থগিত সব অর্থঋণ ও অর্থজারি মামলা, নতুন মামলা করতে আদালতের অনুমতি বাধ্যতামূলক
স্টাফ রিপোর্টার | ঢাকা | বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড (PLFSL)-এর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অর্থঋণ ও অর্থজারি মামলার কার্যক্রম এক বছরের জন্য স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে কোনো মামলা দায়েরের আগে আদালতের পূর্বানুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক বলে আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বিচারপতি আহমেদ সোহেল বুধবার (২০ আগস্ট ২০২৫) কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ধারা ২৪৮ ও ২৫০ অনুযায়ী দায়ের করা এক আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
২০১৯ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক ১৯৯৩ সালের আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইনের ২৯ ধারার অধীনে পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের অবসানের আবেদন করে। পরবর্তীতে বিষয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত মামলা নং-০১/২০১৯ হিসেবে হাইকোর্টে বিচারাধীন থাকে।
আবেদনকারী পক্ষের আইনজীবী হিন্দোল নন্দী ও মোঃ কাজী এরশাদুল আলম আদালতে যুক্তি তুলে ধরেন যে, কোম্পানিটি বর্তমানে পুনরুজ্জীবন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে এবং এ অবস্থায় একাধিক অর্থঋণ মামলা চলমান থাকলে প্রতিষ্ঠানটির পুনর্গঠন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও পূর্ববর্তী নির্দেশনা
আদালত উল্লেখ করেন, এর আগে ২০২১ সালের ১২ জুলাই (আদেশ নং-৯৬) কোম্পানিটির অবসান প্রক্রিয়া স্থগিত করে পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদ গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএসইসি ও দুর্নীতি দমন কমিশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে পুনরুজ্জীবন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
আদালত তখন মত দেন, “কোম্পানিটি পূর্ণমাত্রায় বাণিজ্যিকভাবে চালু করা গেলে শেয়ারহোল্ডার, আমানতকারী, ঋণদাতা ও কর্মচারীসহ সব স্টেকহোল্ডারের স্বার্থ সুরক্ষিত হবে।”
এছাড়া আমানতকারীদের ৬ মাসের মধ্যে অর্থ ফেরতের জন্য চাপ না দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়, যা সর্বশেষ ৭ জুলাই ২০২৫ তারিখে আরও ছয় মাসের জন্য বাড়ানো হয়।
তীব্র তারল্য সংকট ও অর্থঋণ মামলার ঝুঁকি
আদালতে জানানো হয়, কিছু পাওনাদার ব্যাংক আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে অর্থঋণ মামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং কয়েকটি মামলায় ডিক্রিও পেয়েছে। এসব মামলায় আপিল করতে হলে ডিক্রিকৃত অর্থের ৫০ শতাংশ জমা দিতে হয়, যা বর্তমানে কোম্পানিটির পক্ষে অসম্ভব।
এতে করে কোম্পানির স্থাবর সম্পদ ও নগদ অর্থ ক্রোকের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা পুনরুজ্জীবন প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
হাইকোর্টের চূড়ান্ত আদেশ
সব পক্ষের বক্তব্য ও আইনি বিধান পর্যালোচনা করে আদালত আবেদনটির সারবস্তু গ্রহণ করেন এবং আদেশ দেন—
পরিশিষ্ট ‘গ’-তে উল্লেখিত সব অর্থঋণ ও অর্থজারি মামলার কার্যক্রম এক বছরের জন্য স্থগিত থাকবে
২০২৩ সালের দেওয়ানি বিধি নং ৫৭৮ (এফএম) ও ১৪৩ (এফএম) মামলাসমূহ এই স্থগিতাদেশের বাইরে থাকবে
ভবিষ্যতে PLFSL-এর বিরুদ্ধে কোনো মামলা দায়ের করতে হলে কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ধারা ২৫০ অনুযায়ী হাইকোর্টের পূর্বানুমতি নিতে হবে
আদালত সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবিলম্বে আদেশটি জানাতে নির্দেশ দেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আদেশ পিপলস লিজিংয়ের পুনরুজ্জীবন প্রক্রিয়ায় একটি বড় স্বস্তি এনে দেবে এবং আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষায় নজির হিসেবে কাজ করবে।
