ডিএসই-ডিবিএ’র জরুরি বৈঠক | নতুন IPO ও আর্থিক পণ্যের সরবরাহ বাড়ানোকে অগ্রাধিকার | ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত IPO ও Direct Listing-এ প্রথম বছরের Listing Fee ৫০% মওকুফ
নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক অস্থিরতা, বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ এবং বাজারের আস্থা পুনরুদ্ধারে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বাজারকে আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ, দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে ডিএসই, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানসহ সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল ১১টায় ভার্চুয়ালি এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি, বাজারে স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল লেনদেন নিশ্চিত করার করণীয় এবং সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন সমস্যা ও উদ্বেগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও মতবিনিময় হয়।
বৈঠকের শুরুতে ডিবিএ প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম বলেন, পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারী ও বাজার-সংশ্লিষ্টদের মধ্যে তৈরি হওয়া উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি দূর করতে এ ধরনের মতবিনিময় সভা অত্যন্ত সময়োপযোগী।
তিনি বলেন, বর্তমানে অধিকাংশ ব্রোকার ও বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাই বাজারের আস্থা ও কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে ডিএসই, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বাজারকে দমন নয়, বরং একটি কমপ্লায়েন্ট, প্রাণবন্ত, দক্ষ ও বিকাশমান পুঁজিবাজারে রূপান্তর করাই সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত।
বৈঠকে ডিএসই চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় Investor Protection Fund (IPF) নিয়ে বিএসইসির সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বাজারে নতুন IPO এবং বিভিন্ন আর্থিক পণ্যের সরবরাহ বাড়ানো ডিএসইর অন্যতম অগ্রাধিকার। দীর্ঘদিন ধরে বাজারে নতুন IPO না আসা এবং Fixed Income Securities-এর সীমিত উপস্থিতি পুঁজিবাজারের অন্যতম দুর্বলতা।
এ পরিস্থিতিতে নতুন বন্ডের Listing Fee কমানো হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত IPO অথবা Direct Listing-এর জন্য আবেদনকারী কোম্পানির প্রথম বছরের Listing Fee-এর ৫০ শতাংশ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
ব্রোকারেজ হাউসগুলোর ওপর অতিরিক্ত হস্তক্ষেপের বিষয়ে ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ Regulatory Affairs Department-এর দৈনন্দিন কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করে না। বরং পর্ষদ নীতিগত দিকনির্দেশনা প্রদান করে। কোনো নির্দিষ্ট অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বিষয়েই তদন্ত বা অনুসন্ধান করা হবে।
সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে মমিনুল ইসলাম বলেন, CC account, শেয়ার বা অন্যান্য সম্পদে কোনো ঘাটতি থাকলে তা দ্রুত নিজ উদ্যোগে সমাধান করতে হবে। এ ধরনের ঘাটতি শুধু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং পুরো পুঁজিবাজারের ecosystem-এর সুনামকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।
তিনি বলেন, “বাজারকে আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে হলে সব পক্ষকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব।”
ডিএসই চেয়ারম্যান সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যা, উদ্বেগ, পরামর্শ ও নতুন ধারণা ডিএসইর কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানান। সদস্যদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও মতামতের ভিত্তিতেই বাজারের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে ডিএসই আগ্রহী বলেও তিনি জানান।
বৈঠকে জানানো হয়, ২০২৫ সালের কমপ্লায়েন্স ও সার্ভেইল্যান্স সংক্রান্ত কিছু ইন্সপেকশন কার্যক্রম অমীমাংসিত ছিল। এসব বিষয় বিএসইসিতে রিপোর্ট দাখিলের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। ওই ইন্সপেকশনগুলো সম্পন্ন করার ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই সম্প্রতি বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসে ইন্সপেকশন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
এদিকে বৈঠকে বক্তারা অস্বাভাবিক লেনদেনের ক্ষেত্রে আরও সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন। তারা বলেন, কোনো নির্দিষ্ট সময়ে বেশি পরিমাণ শেয়ার লেনদেন হলেই সেটিকে অনিয়ম হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। বরং লেনদেনের ধরন, শেয়ারের দামে এর প্রভাব, বিনিয়োগকারীর সক্ষমতা এবং সংশ্লিষ্ট নির্দেশনাসহ সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে লেনদেন মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
বৈঠকে পুঁজিবাজারের বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা, বাজারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদে একটি শক্তিশালী ও টেকসই পুঁজিবাজার গড়ে তোলার বিষয়ে বিভিন্ন মতামত ও সুপারিশ উঠে আসে।
