বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার সুপারিশ করেছে। একই সঙ্গে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দ্বিগুণের বেশি বেড়ে ৮ টাকা ৪১ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি ক্যানসার চিকিৎসার ওষুধ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে নতুন উৎপাদন স্থাপনায় ২৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের ২৫৫তম সভায় ৩০ জুন ২০২৬ সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কোম্পানির মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) অনুযায়ী, আগামী ১৩ ডিসেম্বর ২০২৬, রোববার সকাল ১১টায় কোম্পানিটির ২৫তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। সভাটি বিএসইসির অনুমোদন সাপেক্ষে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত হবে। এজিএমের রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১০ নভেম্বর।
ইপিএস বেড়েছে ১০৫ শতাংশ
প্রকাশিত আর্থিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বীকন ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৮ টাকা ৪১ পয়সা, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৪ টাকা ১০ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ইপিএস বেড়েছে প্রায় ১০৫.১৯ শতাংশ।
কোম্পানিটির ভাষ্য অনুযায়ী, মূলত বিক্রয় ৩০.৯৬ শতাংশ বৃদ্ধির কারণে মুনাফায় এ প্রবৃদ্ধি এসেছে।
এদিকে, আলোচ্য অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ টাকা ৮৩ পয়সা, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২৮ টাকা ৮৬ পয়সা। সে হিসাবে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বেড়েছে ২৪.১৪ শতাংশ।
অন্যদিকে, শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) ৬ টাকা ৯৩ পয়সা থেকে বেড়ে ৯ টাকা ৬৮ পয়সায় উন্নীত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৯.৭৬ শতাংশ। গ্রাহক ও অন্যান্য উৎস থেকে নগদ অর্থ প্রাপ্তি বৃদ্ধিকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে কোম্পানিটি।
ক্যানসার ওষুধ উৎপাদনে ২৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ
বীকন ফার্মাসিউটিক্যালস ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়াতে দ্বিতীয় অনকোলজি উৎপাদন স্থাপনায় ২৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে।
কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, নতুন স্থাপনাটি চালু হলে বছরে অতিরিক্ত ৩৭.৯৭ কোটি ট্যাবলেট, ২১.১০ কোটি ক্যাপসুল, ২.৫৩ কোটি ব্লিস্টার এবং ২ কোটি ভায়াল ইনজেকটেবল উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হবে। এ বিনিয়োগ ভবিষ্যতে কোম্পানিটির রাজস্ব বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
আন্তর্জাতিক বাজারে সম্প্রসারণে গবেষণা ও উন্নয়নে জোর
কোম্পানিটি আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের ওষুধের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) কার্যক্রম জোরদার করার পরিকল্পনাও জানিয়েছে। বিশেষ করে এসআরএ (স্ট্রিংজেন্ট রেগুলেটরি অথরিটি) নিয়ন্ত্রিত বাজারগুলোর জন্য নিজস্ব ওষুধের নিয়ন্ত্রক অনুমোদন পাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হবে।
এ লক্ষ্যে পণ্যের গুণগত মান উন্নয়ন, গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেবে প্রতিষ্ঠানটি। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বিদেশি বাজারে প্রবেশের সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর প্রত্যাশা করছে কোম্পানি।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের আর্থিক সূচকগুলোতে প্রবৃদ্ধি এবং নতুন উৎপাদন সক্ষমতা তৈরির পরিকল্পনা বীকন ফার্মাসিউটিক্যালসের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে।

