স্টক নিউজ বিডি | বিশেষ প্রতিবেদন: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানি সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেডের লোকসান আরও বেড়েছে। ২০২৬ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে কোম্পানিটির নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে ৭৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা। গত বছরের একই প্রান্তিকে লোকসানের পরিমাণ ছিল ৪৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির নিট লোকসান বেড়েছে প্রায় ৬১ শতাংশ।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদনের পর এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচ্য প্রান্তিকে সিঙ্গার বাংলাদেশের শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) হয়েছে ৭ টাকা ৭৪ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এ লোকসানের পরিমাণ ছিল ৪ টাকা ৮১ পয়সা। অর্থাৎ কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসানও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
তবে লোকসানের চাপ বাড়লেও কোম্পানিটির রাজস্ব আয়ে প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে সিঙ্গার বাংলাদেশের রাজস্ব আয় হয়েছে ৪৩৯ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৭ শতাংশ বেশি। রাজস্ব বাড়লেও ব্যয় ও আর্থিক চাপ সামাল দিতে না পারায় মুনাফায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি।
চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) কোম্পানিটির মোট নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে ১১৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এ সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১১ টাকা ৯৮ পয়সা। একই সময়ে কোম্পানিটির মোট রাজস্ব আয় হয়েছে ১ হাজার ৮৫৪ কোটি টাকা।
এদিকে, কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) ঋণাত্মক ১০ টাকা ২৯ পয়সায় নেমে এসেছে। পাশাপাশি পুঞ্জীভূত লোকসান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬৯ কোটি টাকা। পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ পরিশোধিত মূলধনকেও ছাড়িয়ে যাওয়ায় কোম্পানিটির শেয়ার ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তৃতীয় প্রান্তিকে বিক্রয় বা টার্নওভার ৪ দশমিক ০৮ শতাংশ বাড়ার ফলে মোট মুনাফার হার ০ দশমিক ৮৪ শতাংশীয় পয়েন্ট উন্নত হয়েছে। তবে প্রচারমূলক অফার এবং পণ্যের বিক্রয় মিশ্রণের প্রভাবে পণ্যের ব্যয় বেড়েছে। সে অনুযায়ী বিক্রয়মূল্য সমন্বয় করা সম্ভব না হওয়ায় ব্যয়ের চাপ অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে, আলোচ্য সময়ে পরিচালন মুনাফা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও উচ্চ আর্থিক ব্যয় কোম্পানিটির লোকসান বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে কোম্পানিটির নিট আর্থিক ব্যয় হয়েছে ২০৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। এর ফলে কর-পূর্ববর্তী লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০৮ কোটি ৭ লাখ টাকা।
তবে নগদ প্রবাহের ক্ষেত্রে কিছুটা উন্নতির চিত্র পাওয়া গেছে। তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) বেড়ে ১৫ টাকা ১৪ পয়সায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের একই প্রান্তিকে ছিল ১৪ টাকা ৪৮ পয়সা। সরবরাহকারীদের পাওনা পরিশোধ এবং অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনার নেওয়া পদক্ষেপের কারণে নগদ প্রবাহে এ উন্নতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, রাজস্ব আয় ও পরিচালন নগদ প্রবাহে কিছুটা অগ্রগতি থাকলেও সিঙ্গার বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান নিট লোকসান, উচ্চ আর্থিক ব্যয় এবং ঋণাত্মক নিট সম্পদমূল্য কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থার ওপর চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে। লোকসান নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক ব্যয় কমানো এবং আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা কোম্পানিটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


