Stock News BD | Latest Online Most Popular Newspaper
  • হোম
  • শেয়ার বাজার
    • আজকের লেনদেন
    • কোম্পানি সংবাদ
    • বোর্ড সভা
    • এজিএম / ইজিএম
    • আইপিও / রাইট
    • লভ্যাংশ
    • উপদেশ
    • পিএসআই
  • অনুসন্ধানী বিশ্লেষণ
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • খেলাধুলা
  • লাইফ স্টাইল
  • ইসলাম
  • বিনোদন
  • আরও
    • বিশেষ প্রতিবেদন
    • আইন-আদালত
    • গণমাধ্যম
    • চাকরি
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • স্বাস্থ্য
    • সংস্কৃতি
    • ভিডিও
    • অন্যান্য
Author

Umme jannat

Umme jannat

১৯৭৫ সালের বিপ্লব ও জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান একই প্রেক্ষাপট থেকে উদ্ভূত : আসিফ মাহমুদ

Umme jannat November 8, 2025

যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া বলেছেন, ১৯৭৫ সালের সিপাহী-জনতার বিপ্লব এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান একই সামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকে সৃষ্টি হয়েছিল।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের প্রেক্ষাপট ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটের সঙ্গে অনেকটাই সাদৃশ্যপূর্ণ। প্রকৃতপক্ষে, এই দুটি গণআন্দোলনের পেছনের পরিস্থিতির মধ্যে খুব সামান্যই পার্থক্য রয়েছে।

শুক্রবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আয়োজনে ‘নভেম্বর থেকে জুলাই : বিপ্লব থেকে বিপ্লবে’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর একটি ন্যায়ভিত্তিক ও কার্যকর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থতা-এই দুই ঘটনার পটভূমি তৈরি করেছিল।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তারা দুর্নীতি ও লুটপাটে জড়িয়ে পড়েন। এর ফলেই ১৯৭৫ সালের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের প্রেক্ষাপট তৈরি হয় এবং প্রায় একই পরিস্থিতি ২০২৪ সালেও পুনরাবৃত্তি ঘটে।

উপদেষ্টা বলেন, ১৯৭৫ সালের পর থেকেই বাংলাদেশ একটি কার্যকর রাষ্ট্র হিসেবে যাত্রা শুরু করে যখন দেশ প্রতিষ্ঠানিক গঠন, সামরিক বাহিনীকে শক্তিশালীকরণ এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে ভূমিকা রাখার মতো কার্যক্রম শুরু করে, এসব বিষয়গুলো আজও প্রাসঙ্গিক।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, জিয়াউর রহমান কল্যাণমুখী রাজনীতির সূচনা করেন এবং একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র কাঠামো গঠনে কাজ করেন। আজও দেশ তাঁর স্থাপিত ভিত্তির ওপর পরিচালিত হচ্ছে, যা আমাদের রাজনৈতিক ও নীতিগত আলোচনায় প্রতিফলিত হয়।

এ সময় জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড নিয়েও আলোচনা হয়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন। আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, কবি ও রাজনৈতিক চিন্তাবিদ ফরহাদ মজহার, ড. আবদুল লতিফ মাসুম এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান।

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

শ্বশুরবাড়ি থেকে জামাইয়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার — হত্যা না আত্মহত্যা?

Umme jannat November 6, 2025

ফজলুর রহমান, নিজস্ব সংবাদদাতা: নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার হাসান মাহমুদ নিরব (২২) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে তার শ্বশুরবাড়ি থেকে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে রহস্য — এটি আত্মহত্যা, নাকি পরিকল্পিত হত্যা?

ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে পার্শ্ববর্তী লালপুর উপজেলার তেনাচুরা কামারহাটি (আব্দুলপুর) এলাকায় শ্বশুর তৈয়ব আলীর বাড়িতে। নিরব বাগাতিপাড়া উপজেলার খাটখৈইড় গ্রামের রবিউল ইসলাম ও রুবিনা বেগম দম্পতির ছেলে। কয়েক মাস আগে তিনি পার্শ্ববর্তী লালপুর উপজেলার তেনাচুরা কামারহাটি এলাকার মীম আক্তার (১৮)-কে বিবাহ করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় শ্বশুর-শাশুড়িসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা এলাকায় বাইরে ছিলেন। বাড়িতে ছিলেন শুধু নিরব ও তার স্ত্রী মীম আক্তার।
স্ত্রী বাড়ির বাইরে কাজ করছিলেন, আর নিরব ছিলেন ঘরের ভেতরে। ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা বন্ধ দেখতে পান। পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা খুলে ভিতরে প্রবেশ করলে দেখা যায় ঘরের তীরের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে নিরব। পরে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ইসমাইল হোসেন তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিরবের পিতা রবিউল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন,
“আমার ছেলের কোনো নেশা বা খারাপ অভ্যাস ছিল না। সকালে কলেজে গিয়েছিল, তারপর দুপুরে বাড়ি এসে শ্বশুরবাড়িতে যায়। বিকেলে হঠাৎ খবর পাই আমার ছেলে নাকি আত্মহত্যা করেছে। এটা আমি কোনোভাবেই বিশ্বাস করি না। আমার ছেলেকে মেরে ফেলে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই এবং আইনের আশ্রয় নেব।”

অন্যদিকে নিরবের শাশুড়ি বলেন, “আমার আত্মীয় (জা) অসুস্থ থাকায় আমরা সবাই আড়ানী গিয়েছিলাম। পরে খবর পাই নিরব আত্মহত্যা করেছে। কীভাবে বা কেন করেছে, তা আমরা জানি না। আমার মেয়ে মীম কিছু বলছে না, সে শোকাহত।”

বাগাতিপাড়া মডেল থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,
“খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় একটি ইউডি মামলা রুজু প্রক্রিয়াধীন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নাটোর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।”

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

এমভি বাংলার প্রগতি’ — বাংলাদেশের সামুদ্রিক বাণিজ্যে এক নতুন দিগন্ত

Umme jannat November 6, 2025

প্রতিবেদন: নিজস্ব প্রতিনিধি: বাংলাদেশের নৌবাণিজ্যে নতুন এক অধ্যায় সূচিত হলো। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি)-এর বহরে যুক্ত হলো আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব নতুন জাহাজ ‘এমভি বাংলার প্রগতি’। চীনের Jingjiang Nanyang Shipbuilding Co., Ltd. শিপইয়ার্ডে ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর (বাংলাদেশ সময় সকাল ১১:৩০ মিনিটে) আনুষ্ঠানিকভাবে জাহাজটির ডেলিভারি গ্রহণ করা হয়।

এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক, নির্বাহী পরিচালক, সচিব, প্রকল্প পরিচালক, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিসহ উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীরা। এছাড়াও ক্লাসিফিকেশন সোসাইটি, বায়ার সুপারভাইজার, জাহাজের মাস্টার, চীফ ইঞ্জিনিয়ার এবং নাবিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ডেলিভারি সম্পন্ন হওয়ার পরপরই জাহাজটিকে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে নিয়োজিত করার উদ্দেশ্যে শিপইয়ার্ড থেকে একটি আন্তর্জাতিক টার্মিনালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ‘Maiden Voyage’-এর জন্য প্রয়োজনীয় সব সার্টিফিকেশন ও পরিদর্শন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।

পরবর্তীতে ২৬ অক্টোবর ২০২৫ থেকে ‘এমভি বাংলার প্রগতি’ প্রতিদিন গড়ে ২০,০০০ মার্কিন ডলার হারে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে পণ্য পরিবহনে অংশ নিচ্ছে। জাহাজটি ইতোমধ্যে অগ্রিমসহ প্রায় ৪,৬৭,০০০ মার্কিন ডলার (প্রায় ৫ কোটি ৭২ লক্ষ টাকারও বেশি) আয় করেছে — যা বিএসসির নিজস্ব আয়ের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন বলে বিবেচিত হচ্ছে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বিএসসি নিজস্ব অর্থায়নে দুটি আধুনিক বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ (প্রতিটি ৫৫,০০০–৬৬,০০০ ডিডব্লিউটি) সংগ্রহের পরিকল্পনা গ্রহণ করে। মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা কর্তৃক সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সুপারিশে অনুমোদনের পর ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে বিএসসি ও Hellenic Dry Bulk Ventures LLC-এর মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

প্রকল্পের ডিপিপি অনুমোদিত হয় ৩ জুন ২০২৫ তারিখে, যার মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ১,১৬,২৯৬.২৪ লক্ষ টাকা। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিটি জাহাজের মূল্য ৩৮.৩৪৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা প্রাক্কলিত মূল্যের তুলনায় প্রায় ৪.৬০৭ শতাংশ কম।

এটি প্রমাণ করে যে বিএসসি কারিগরি ও অর্থনৈতিকভাবে একটি সাশ্রয়ী এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই জাহাজ ক্রয়ের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছে।

চুক্তি অনুযায়ী ক্রয়কৃত দুটি জাহাজের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে —

এমভি বাংলার প্রগতি (পূর্ব নাম: XCL GEMINI)

এমভি বাংলার নবযাত্রা (পূর্ব নাম: XCL LION)

এমভি বাংলার প্রগতি জাহাজটি আধুনিক Green Ship Concept-এর ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। এতে রয়েছে এমন প্রযুক্তিগত সমাধান যা জ্বালানি সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব এবং আন্তর্জাতিক IMO Tier-III মানদণ্ড অনুসারে নির্মিত। সব মিলিয়ে, ‘এমভি বাংলার প্রগতি’ একটি পরিবেশসম্মত, শক্তি-সাশ্রয়ী ও অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক জাহাজ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জাহাজে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বিএসসির বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ নাবিক, ইঞ্জিনিয়ার ও টেকনিক্যাল ক্রুদের। বিএসসির বিশেষায়িত মনিটরিং সেল সার্বক্ষণিকভাবে জাহাজের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে। এছাড়া পণ্য পরিবহনের জন্য নিরাপদ ও লাভজনক রুট নির্বাচনে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।সম্ভাবনা রয়েছে, নভেম্বর ২০২৫-এর শেষ সপ্তাহে জাহাজটি বাংলাদেশে পৌঁছাবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, দ্বিতীয় জাহাজ ‘এমভি বাংলার নবযাত্রা’ ডিসেম্বর ২০২৫-এ বিএসসির কাছে হস্তান্তর করা হবে। দুটি জাহাজ বহরে যুক্ত হলে বিএসসির নিজস্ব পরিবহন সক্ষমতা ১,২০,০০০ ডিডব্লিউটি-তে উন্নীত হবে।এটি বাংলাদেশের সামুদ্রিক পরিবহন খাতে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।

বিএসসির কর্মকর্তারা মনে করেন, এই দুটি নতুন জাহাজ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অংশগ্রহণের সক্ষমতা বহুগুণে বাড়াবে।
এর ফলে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং জাতীয় অর্থনীতিতে স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত হবে।

বিএসসির এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেন, “এমভি বাংলার প্রগতি শুধু একটি জাহাজ নয়, এটি বাংলাদেশের সামুদ্রিক সক্ষমতার প্রতীক। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও আধুনিক নকশায় নির্মিত এই জাহাজ ভবিষ্যতের ‘সবুজ নৌবাণিজ্য’-এর পথ দেখাবে।” বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের নতুন সংযোজন ‘এমভি বাংলার প্রগতি’ দেশীয় নৌপরিবহনে আধুনিকতার প্রতীক হয়ে উঠছে।
পরিবেশবান্ধব, কারিগরি উন্নত ও বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক এই জাহাজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে এবং এক নতুন ‘সামুদ্রিক সমৃদ্ধির যুগ’-এর সূচনা করবে।

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

নন-লাইফ বীমা শিল্পে সংস্কার ও উদ্ভাবনের আহ্বান

Umme jannat November 6, 2025

নন-লাইফ বীমা শিল্পের টেকসই উন্নয়ন ও প্রতিযোগিতামূলক বাজার গড়ে তোলার জন্য কয়েক দফা সুপারিশ করেছেন বাংলাদেশ জেনারেল ইনসিওরেন্স কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আহমেদ সাইফুদ্দীন চৌধুরী। সম্প্রতি বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে তিনি নন-লাইফ বীমা খাতের কাঠামোগত সংস্কার ও নীতিমালা আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

চিঠিতে তিনি বলেন, বীমা শিল্পের পরিধি বাড়াতে হলে নন-লাইফ বীমা খাতের নিয়ম ও নীতিমালা পর্যালোচনা করে যুগোপযোগী করা জরুরি। এতে বীমা খাত দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। বহির্বিশ্বে নন-ট্যারিফ বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে ব্যবসা অর্জন করতে হয়। সেখানে ঝুঁকি অবলিখনের আগে প্রত্যক্ষ ঝুঁকি পরিদর্শন (Pre-inspection of risk) একটি বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া। কিন্তু দেশে ট্যারিফ মার্কেটে সাধারণত ডেস্ক থেকে ঝুঁকি অবলিখন (Desk Underwriting) করা হয়, যা বীমা কোম্পানির জন্য ক্ষতির সময় বড় ধরনের জটিলতা সৃষ্টি করে।

আহমেদ সাইফুদ্দীন চৌধুরী নন-লাইফ বীমা খাতে পণ্যের বৈচিত্র্য আনতে এবং নতুন খাতগুলো বীমার আওতায় আনতে আইডিআরএর নীতিগত সহায়তা কামনা করেন। তিনি মনে করেন, নন-লাইফ বীমা খাতে বাধ্যতামূলক বীমা ক্ষেত্র বাড়ানো হলে প্রিমিয়াম আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

সরকারি ব্যবসার ক্ষেত্রে তিনি প্রস্তাব করেন, রাষ্ট্রায়ত্ত সাধারণ বীমা কর্পোরেশন শতভাগ সরকারি ব্যবসা আন্ডাররাইট করলে খাতটি আরও শক্তিশালী হবে। বর্তমানে সরকারি ব্যবসার অর্ধেক বেসরকারি কোম্পানির মধ্যে বণ্টিত হয়, যা তিনি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।

প্রিমিয়াম হার নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিনি বাংলাদেশে নন-ট্যারিফ মার্কেট প্রবর্তনের সুপারিশ করেন। তার মতে, “বাংলাদেশে ট্যারিফ মার্কেটে প্রিমিয়ামের হার বিশ্ববাজারের তুলনায় বেশি, ফলে অতিরিক্ত কমিশন প্রদানের প্রবণতা দেখা যায়। নন-ট্যারিফ মার্কেট চালু হলে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক বীমা সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।”

পুনঃবীমা নীতিতে পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে ৫০ শতাংশ পুনঃবীমা বাধ্যতামূলকভাবে সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের সঙ্গে করতে হয়, যা ৩০ শতাংশে নামিয়ে আনা যেতে পারে। অবশিষ্ট ৭০ শতাংশ স্থানীয় বা বিদেশি পুনঃবীমাকারীর সঙ্গে চুক্তির সুযোগ দিলে কোম্পানিগুলো বেশি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে। এই পুনঃবীমা অনুপাত ৭০ শতাংশের বেশি করা যাবে না, সে বিষয়ে আইডিআরএ বাধ্যবাধকতা আরোপ করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, “নতুন পণ্য উদ্ভাবনে কোম্পানিগুলোর উৎসাহ দিতে পরীক্ষামূলক সময় নির্ধারণ করা যেতে পারে। সফল হলে পরে আইডিআরএ’র অনুমোদন নেওয়া যাবে।”

বীমা দাবী নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া সহজীকরণ, প্রিমিয়াম পরিশোধে নমনীয়তা আনা এবং দেশি-বিদেশি পুনঃবীমা ব্রোকারদের লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রেও সক্রিয় ভূমিকা নিতে আইডিআরএকে অনুরোধ জানান তিনি।

৩৯ বছরের বীমা পেশাগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আহমেদ সাইফুদ্দীন চৌধুরী বলেন, “বীমা খাতের কাঠামোগত কিছু সীমাবদ্ধতা দূর করা গেলে বাংলাদেশে নন-লাইফ বীমা শিল্প আরও গতিশীল হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান অর্জন করতে পারবে।”

বাংলাদেশের বীমা খাত এখনো ট্যারিফনির্ভর ও আংশিক নিয়ন্ত্রিত এক ব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ। অথচ বিশ্বব্যাপী বীমা খাতের সাফল্যের মূলমন্ত্র হলো উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক বাজারব্যবস্থা। সময় এসেছে বাংলাদেশের বীমা খাতকেও সেই আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে পুনর্গঠন করার।

উন্মুক্ত (Free and Open) বাজার কেবল প্রিমিয়াম রেটের প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করে না—এটি সেবার মান, জনবল দক্ষতা ও গ্রাহক সন্তুষ্টির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। বীমা খাতের জন্য এটি হতে পারে এক ‘গেম চেঞ্জার’ নীতি পরিবর্তন।

উন্নত ও উন্নয়নশীল অধিকাংশ দেশেই বীমা খাতে International Best Practice অনুসরণ করা হয়।
সেখানে ঝুঁকি অবলিখনের (Underwriting) আগে প্রত্যক্ষ ঝুঁকি পরিদর্শন, ঝুঁকি বিশ্লেষণ এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক।

অন্যদিকে, বাংলাদেশে এখনো অনেক ক্ষেত্রে Desk Underwriting প্রক্রিয়া প্রচলিত, যেখানে প্রস্তাবপত্রে বর্ণিত তথ্যের ওপরই সম্পূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে তথ্যের ঘাটতি বা ইচ্ছাকৃত ভুল বর্ণনার কারণে দাবি নিষ্পত্তির সময় কোম্পানিগুলো জটিলতায় পড়ে।

নন-ট্যারিফ মার্কেটে গেলে এসব অনিয়ম বা সীমাবদ্ধতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে হ্রাস পাবে, কারণ প্রতিযোগিতার চাপেই কোম্পানিগুলো সেবার মান বাড়াতে বাধ্য হবে।

ট্যারিফ মার্কেটের সীমাবদ্ধতা

বাংলাদেশের ট্যারিফ মার্কেটে প্রিমিয়াম হার তুলনামূলক বেশি। এই উচ্চ রেটের কারণে বীমা গ্রাহকরা কমিশন নিয়ে নিজেদের খরচ কমায় । আইডিআরএ’র সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী,
বর্তমানে নন-লাইফ বীমা খাতে প্রায় ৩,১৩৫ জন এজেন্ট কাজ করছেন। ২০২৩ সালে বীমা খাতের এজেন্ট নিবন্ধন ফি বাবদ সরকারের আয় হয়েছে ১.২৯ মিলিয়ন টাকা। বছরে প্রতি এজেন্টের নবায়ন ফি বাবদ ১২০০ টাকা সরকারি কোষাগারে দেয়া হয়। ২০২৩ সালে এ খাত থেকে সংগৃহীত গ্রস প্রিমিয়ামের পরিমাণ ছিল ৪,৭৫২.৩৫ কোটি টাকা। সে হিসাবে ১৪.২৫ শতাংশ এজেন্ট কমিশন দিলে মোট কমিশন আসে ৬৭৭,১৬,০০০০০ কোটি টাকা। এই কমিশন থেকে ৫ শতাংশ ট্যাক্স কর্তন বাবদ এনবিআরএ’র রেভিনিউ হয় ৩৩,৮৫,০০, ০০০ কোটি টাকা।
সুতরাং এজেন্ট না থাকলে সরকার এই বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে । অনেক এজেন্টই বেতন নেন না তারা কমিশনের ভিত্তিতেই কাজ করেন । এজেন্ট কমিশন বাদ দেয়া হলে এই বিপুলসংখ্যক জনবলকে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দিতে হবে, যা কোম্পানিগুলোর উপর আর্থিক চাপ তৈরি করবে।

নন-ট্যারিফ মার্কেট: প্রতিযোগিতার নতুন দিগন্ত

নন-ট্যারিফ বাজারে ব্যবসা কোনো প্রতিষ্ঠানের একচ্ছত্র অধিকার নয়। উন্নত গ্রাহক সেবা, দাবি দ্রুত নিষ্পত্তি এবং স্বচ্ছ প্রিমিয়াম কাঠামোই এখানে সাফল্যের চাবিকাঠি।

উন্মুক্ত বাজারে গেলে প্রিমিয়াম রেট বাজার-নির্ধারিত হবে—যেখানে সেবা ও বিশ্বাসযোগ্যতা মুখ্য ভূমিকা রাখবে। এতে বীমা গ্রাহকরা স্বল্প প্রিমিয়ামে আন্তর্জাতিক মানের বীমা সেবা গ্রহণ করতে পারবে।

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো— প্রতিযোগিতা বন্ধ হয়ে খাতে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে।

পুনঃবীমা নীতিতে সংস্কার প্রয়োজন

বর্তমানে নিয়ম অনুযায়ী, নন-লাইফ কোম্পানিগুলোকে ৫০ শতাংশ পুনঃবীমা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের (SBC) সঙ্গে করতে হয়।
এই বিধান পরিবর্তন করে ৩০ শতাংশ দেশীয় ও ৭০ শতাংশ বিদেশি বা বিকল্প প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পুনঃবীমার সুযোগ দিলে বাজারে বৈচিত্র্য ও দক্ষতা বাড়বে।

বিদেশি পুনঃবীমার সুযোগ বাড়লে ঝুঁকি বণ্টন (Risk Diversification) এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ক্ষেত্রও সম্প্রসারিত হবে।

বাধ্যতামূলক বীমা ও নতুন পণ্যের সুযোগ

বাংলাদেশে বীমা সেবার পরিধি এখনো সীমিত। বাধ্যতামূলক বীমার আওতায় নতুন খাত চিহ্নিত করা হলে যেমন বাজার বিস্তৃত হবে, তেমনি জনগণের আর্থিক সুরক্ষাও বাড়বে।

একই সঙ্গে নতুন পণ্য উদ্ভাবনে পরীক্ষামূলক সময়সীমা (Trial Period) নির্ধারণ, দাবি নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং প্রিমিয়াম পরিশোধের সময়সীমা এক মাস পর্যন্ত শিথিল করার প্রস্তাব দেওয়া যেতে পারে।

সলভেন্সি মার্জিন ও আর্থিক সুশাসন

খাতে আর্থিক স্থিতিশীলতা ও গ্রাহকের স্বার্থরক্ষায় Solvency Margin চালু করা জরুরি।
এটি বীমা কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা নির্ধারণের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানদণ্ড।
এই ব্যবস্থা চালু হলে বীমা কোম্পানিগুলোর আর্থিক দায় ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে এবং অতিরিক্ত কমিশন প্রদানে বিরত থাকবে।

বাংলাদেশের বীমা খাত এখন এক সন্ধিক্ষণে। প্রচলিত ট্যারিফ ও নিয়ন্ত্রিত বাজারব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থায় যেতে পারলে এই খাত জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে। নন-লাইফ বীমা শিল্পে সংস্কার ও উদ্ভাবনের আহ্বান

নন-লাইফ বীমা শিল্পের টেকসই উন্নয়ন ও প্রতিযোগিতামূলক বাজার গড়ে তোলার জন্য কয়েক দফা সুপারিশ করেছেন বাংলাদেশ জেনারেল ইনসিওরেন্স কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আহমেদ সাইফুদ্দীন চৌধুরী। সম্প্রতি বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে তিনি নন-লাইফ বীমা খাতের কাঠামোগত সংস্কার ও নীতিমালা আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

চিঠিতে তিনি বলেন, বীমা শিল্পের পরিধি বাড়াতে হলে নন-লাইফ বীমা খাতের নিয়ম ও নীতিমালা পর্যালোচনা করে যুগোপযোগী করা জরুরি। এতে বীমা খাত দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। বহির্বিশ্বে নন-ট্যারিফ বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে ব্যবসা অর্জন করতে হয়। সেখানে ঝুঁকি অবলিখনের আগে প্রত্যক্ষ ঝুঁকি পরিদর্শন (Pre-inspection of risk) একটি বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া। কিন্তু দেশে ট্যারিফ মার্কেটে সাধারণত ডেস্ক থেকে ঝুঁকি অবলিখন (Desk Underwriting) করা হয়, যা বীমা কোম্পানির জন্য ক্ষতির সময় বড় ধরনের জটিলতা সৃষ্টি করে।

আহমেদ সাইফুদ্দীন চৌধুরী নন-লাইফ বীমা খাতে পণ্যের বৈচিত্র্য আনতে এবং নতুন খাতগুলো বীমার আওতায় আনতে আইডিআরএর নীতিগত সহায়তা কামনা করেন। তিনি মনে করেন, নন-লাইফ বীমা খাতে বাধ্যতামূলক বীমা ক্ষেত্র বাড়ানো হলে প্রিমিয়াম আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

সরকারি ব্যবসার ক্ষেত্রে তিনি প্রস্তাব করেন, রাষ্ট্রায়ত্ত সাধারণ বীমা কর্পোরেশন শতভাগ সরকারি ব্যবসা আন্ডাররাইট করলে খাতটি আরও শক্তিশালী হবে। বর্তমানে সরকারি ব্যবসার অর্ধেক বেসরকারি কোম্পানির মধ্যে বণ্টিত হয়, যা তিনি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।

প্রিমিয়াম হার নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিনি বাংলাদেশে নন-ট্যারিফ মার্কেট প্রবর্তনের সুপারিশ করেন। তার মতে, “বাংলাদেশে ট্যারিফ মার্কেটে প্রিমিয়ামের হার বিশ্ববাজারের তুলনায় বেশি, ফলে অতিরিক্ত কমিশন প্রদানের প্রবণতা দেখা যায়। নন-ট্যারিফ মার্কেট চালু হলে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক বীমা সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।”

পুনঃবীমা নীতিতে পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে ৫০ শতাংশ পুনঃবীমা বাধ্যতামূলকভাবে সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের সঙ্গে করতে হয়, যা ৩০ শতাংশে নামিয়ে আনা যেতে পারে। অবশিষ্ট ৭০ শতাংশ স্থানীয় বা বিদেশি পুনঃবীমাকারীর সঙ্গে চুক্তির সুযোগ দিলে কোম্পানিগুলো বেশি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে। এই পুনঃবীমা অনুপাত ৭০ শতাংশের বেশি করা যাবে না, সে বিষয়ে আইডিআরএ বাধ্যবাধকতা আরোপ করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, “নতুন পণ্য উদ্ভাবনে কোম্পানিগুলোর উৎসাহ দিতে পরীক্ষামূলক সময় নির্ধারণ করা যেতে পারে। সফল হলে পরে আইডিআরএ’র অনুমোদন নেওয়া যাবে।”

বীমা দাবী নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া সহজীকরণ, প্রিমিয়াম পরিশোধে নমনীয়তা আনা এবং দেশি-বিদেশি পুনঃবীমা ব্রোকারদের লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রেও সক্রিয় ভূমিকা নিতে আইডিআরএকে অনুরোধ জানান তিনি।

৩৯ বছরের বীমা পেশাগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আহমেদ সাইফুদ্দীন চৌধুরী বলেন, “বীমা খাতের কাঠামোগত কিছু সীমাবদ্ধতা দূর করা গেলে বাংলাদেশে নন-লাইফ বীমা শিল্প আরও গতিশীল হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান অর্জন করতে পারবে।”

বাংলাদেশের বীমা খাত এখনো ট্যারিফনির্ভর ও আংশিক নিয়ন্ত্রিত এক ব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ। অথচ বিশ্বব্যাপী বীমা খাতের সাফল্যের মূলমন্ত্র হলো উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক বাজারব্যবস্থা। সময় এসেছে বাংলাদেশের বীমা খাতকেও সেই আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে পুনর্গঠন করার।

উন্মুক্ত (Free and Open) বাজার কেবল প্রিমিয়াম রেটের প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করে না—এটি সেবার মান, জনবল দক্ষতা ও গ্রাহক সন্তুষ্টির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। বীমা খাতের জন্য এটি হতে পারে এক ‘গেম চেঞ্জার’ নীতি পরিবর্তন।

উন্নত ও উন্নয়নশীল অধিকাংশ দেশেই বীমা খাতে International Best Practice অনুসরণ করা হয়।
সেখানে ঝুঁকি অবলিখনের (Underwriting) আগে প্রত্যক্ষ ঝুঁকি পরিদর্শন, ঝুঁকি বিশ্লেষণ এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক।

অন্যদিকে, বাংলাদেশে এখনো অনেক ক্ষেত্রে Desk Underwriting প্রক্রিয়া প্রচলিত, যেখানে প্রস্তাবপত্রে বর্ণিত তথ্যের ওপরই সম্পূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে তথ্যের ঘাটতি বা ইচ্ছাকৃত ভুল বর্ণনার কারণে দাবি নিষ্পত্তির সময় কোম্পানিগুলো জটিলতায় পড়ে।

নন-ট্যারিফ মার্কেটে গেলে এসব অনিয়ম বা সীমাবদ্ধতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে হ্রাস পাবে, কারণ প্রতিযোগিতার চাপেই কোম্পানিগুলো সেবার মান বাড়াতে বাধ্য হবে।

ট্যারিফ মার্কেটের সীমাবদ্ধতা

বাংলাদেশের ট্যারিফ মার্কেটে প্রিমিয়াম হার তুলনামূলক বেশি। এই উচ্চ রেটের কারণে বীমা গ্রাহকরা কমিশন নিয়ে নিজেদের খরচ কমায় । আইডিআরএ’র সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী,
বর্তমানে নন-লাইফ বীমা খাতে প্রায় ৩,১৩৫ জন এজেন্ট কাজ করছেন। ২০২৩ সালে বীমা খাতের এজেন্ট নিবন্ধন ফি বাবদ সরকারের আয় হয়েছে ১.২৯ মিলিয়ন টাকা। বছরে প্রতি এজেন্টের নবায়ন ফি বাবদ ১২০০ টাকা সরকারি কোষাগারে দেয়া হয়। ২০২৩ সালে এ খাত থেকে সংগৃহীত গ্রস প্রিমিয়ামের পরিমাণ ছিল ৪,৭৫২.৩৫ কোটি টাকা। সে হিসাবে ১৪.২৫ শতাংশ এজেন্ট কমিশন দিলে মোট কমিশন আসে ৬৭৭,১৬,০০০০০ কোটি টাকা। এই কমিশন থেকে ৫ শতাংশ ট্যাক্স কর্তন বাবদ এনবিআরএ’র রেভিনিউ হয় ৩৩,৮৫,০০, ০০০ কোটি টাকা।
সুতরাং এজেন্ট না থাকলে সরকার এই বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে । অনেক এজেন্টই বেতন নেন না তারা কমিশনের ভিত্তিতেই কাজ করেন । এজেন্ট কমিশন বাদ দেয়া হলে এই বিপুলসংখ্যক জনবলকে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দিতে হবে, যা কোম্পানিগুলোর উপর আর্থিক চাপ তৈরি করবে।

নন-ট্যারিফ মার্কেট: প্রতিযোগিতার নতুন দিগন্ত

নন-ট্যারিফ বাজারে ব্যবসা কোনো প্রতিষ্ঠানের একচ্ছত্র অধিকার নয়। উন্নত গ্রাহক সেবা, দাবি দ্রুত নিষ্পত্তি এবং স্বচ্ছ প্রিমিয়াম কাঠামোই এখানে সাফল্যের চাবিকাঠি।

উন্মুক্ত বাজারে গেলে প্রিমিয়াম রেট বাজার-নির্ধারিত হবে—যেখানে সেবা ও বিশ্বাসযোগ্যতা মুখ্য ভূমিকা রাখবে। এতে বীমা গ্রাহকরা স্বল্প প্রিমিয়ামে আন্তর্জাতিক মানের বীমা সেবা গ্রহণ করতে পারবে।

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো— প্রতিযোগিতা বন্ধ হয়ে খাতে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে।

পুনঃবীমা নীতিতে সংস্কার প্রয়োজন

বর্তমানে নিয়ম অনুযায়ী, নন-লাইফ কোম্পানিগুলোকে ৫০ শতাংশ পুনঃবীমা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের (SBC) সঙ্গে করতে হয়।
এই বিধান পরিবর্তন করে ৩০ শতাংশ দেশীয় ও ৭০ শতাংশ বিদেশি বা বিকল্প প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পুনঃবীমার সুযোগ দিলে বাজারে বৈচিত্র্য ও দক্ষতা বাড়বে।

বিদেশি পুনঃবীমার সুযোগ বাড়লে ঝুঁকি বণ্টন (Risk Diversification) এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ক্ষেত্রও সম্প্রসারিত হবে।

বাধ্যতামূলক বীমা ও নতুন পণ্যের সুযোগ

বাংলাদেশে বীমা সেবার পরিধি এখনো সীমিত। বাধ্যতামূলক বীমার আওতায় নতুন খাত চিহ্নিত করা হলে যেমন বাজার বিস্তৃত হবে, তেমনি জনগণের আর্থিক সুরক্ষাও বাড়বে।

একই সঙ্গে নতুন পণ্য উদ্ভাবনে পরীক্ষামূলক সময়সীমা (Trial Period) নির্ধারণ, দাবি নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং প্রিমিয়াম পরিশোধের সময়সীমা এক মাস পর্যন্ত শিথিল করার প্রস্তাব দেওয়া যেতে পারে।

সলভেন্সি মার্জিন ও আর্থিক সুশাসন

খাতে আর্থিক স্থিতিশীলতা ও গ্রাহকের স্বার্থরক্ষায় Solvency Margin চালু করা জরুরি।
এটি বীমা কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা নির্ধারণের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানদণ্ড।
এই ব্যবস্থা চালু হলে বীমা কোম্পানিগুলোর আর্থিক দায় ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে এবং অতিরিক্ত কমিশন প্রদানে বিরত থাকবে।

বাংলাদেশের বীমা খাত এখন এক সন্ধিক্ষণে। প্রচলিত ট্যারিফ ও নিয়ন্ত্রিত বাজারব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থায় যেতে পারলে এই খাত জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন

Umme jannat November 6, 2025

২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকার অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নতুন তালিকা অনুযায়ী, আগামী বছরে মোট ছুটি থাকবে ২৮ দিন। এর মধ্যে ৯ দিন পড়েছে সাপ্তাহিক ছুটির (শুক্র ও শনিবার) সঙ্গে মিলিয়ে। ফলে কার্যত মূল ছুটি থাকবে ১৭ দিন।

প্রেসসচিব শফিকুল আলম বলেন, উপদেষ্টা পরিষদ বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন দিয়েছে। এতে সাধারণ ও নির্বাহী আদেশে ঘোষিত ছুটি মিলিয়ে মোট ২৮ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে গত বছর ১৭ অক্টোবর উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ২০২৫ সালের ছুটির তালিকা অনুমোদন করা হয়েছিল। সেই বছর মোট ছুটি ছিল ২৬ দিন—এর মধ্যে সাধারণ ছুটি ১২ দিন এবং নির্বাহী আদেশে ১৪ দিন। তবে এর মধ্যে নয় দিন সাপ্তাহিক ছুটির (শুক্র ও শনিবার) সঙ্গে মিলে যাওয়ায় কার্যত ছুটি ছিল ১৭ দিন।

২০২৬ সালের ক্ষেত্রেও একইভাবে ৯ দিন সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে পড়ায় প্রকৃত ছুটি থাকবে ১৭ দিন।

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

সূচকের মিশ্র প্রতিক্রিয়ায় কমেছে লেনদেন

Umme jannat November 6, 2025

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার (০৬ নভেম্বর) সূচকের মিশ্র প্রতিক্রিয়া মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। প্রধান সূচক নেমেছে ৫ হাজারেও কম পয়েন্টে। কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানি এবং ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিটদর। কমেছে টাকার অংকে লেনদেনের পরিমাণ।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, এদিন ডিএসইর প্রধান সূচক ‘ডিএসইএক্স’ ১৮ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট কমেছে। বর্তমানে সূচকটি অবস্থান করছে ৪ হাজার ৯৬৭ পয়েন্টে।

এছাড়া, ডিএসইর অপর সূচক ‘ডিএসইএস’ ৫ দশমিক ১৩ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৩৯ পয়েন্ট এবং ‘ডিএস-৩০’ সূচক ০ দশমিক ১১ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯৪০ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

আজ ডিএসইতে ৪১৯ কোটি ৭৮ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছে ৪৮৫ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।

এদিন ডিএসইতে মোট ৩৯০টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। লেনদেনে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ১০২ টি কোম্পানির, বিপরীতে ২৫১টি কোম্পানির দর কমেছে। পাশাপাশি ৩৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, অধ্যাদেশ অনুমোদন

Umme jannat November 6, 2025

‘গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। প্রস্তাবিত আইনে গুম করার অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে গণমাধ্যমে ব্রিফি করেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম।

প্রেস সচিব জানান, এই অধ্যাদেশে গুমকে সজ্ঞায়নের পাশাপাশি চলমান অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। গোপন আটককেন্দ্র স্থাপন যা ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত এবং এর ব্যবহারকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে গুম সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এই অধ্যাদেশে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারের লক্ষ্যে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, অভিযোগ গঠনের ১২০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্নের বাধ্যবাধকতা ভুক্তভোগী ও তথ্য প্রচারকারী এবং সাক্ষীর অধিকার, সুরক্ষা ক্ষতিপূরণ এবং আইনগত সহায়তার নিশ্চয়তা সংক্রান্ত বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও সুরক্ষার উদ্দেশ্যে তহবিল গঠন ও তথ্যভান্ডার প্রতিষ্ঠার বিধানও সংযোজিত হয়েছে।

শফিকুল আলম বলেন, গুম সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশন আছে, সেখানে বাংলাদেশ গত বছরের ২৯ আগস্ট উপদেষ্টা পরিষদ অনুমোদন দিয়েছে এবং বাংলাদেশ এটায় পক্ষভুক্ত হয়েছে। এই পুরো আইন এই কনভেনশনকে অনুসরণ করে এই অধ্যাদেশ তৈরি করা হয়েছে।

প্রেস সচিব বলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক আইন। এর ফলে বাংলাদেশে কোন ফ্যাসিস্ট সরকার এসে দেশে গুমের রাজত্ব চালাতে পারবে না এবং দেশে কোন ‘আয়নাঘর’ তৈরি হবে না।

এসময় সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ ও সুচিস্মিতা তিথি উপস্থিত ছিলেন।

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের ৪৪৩তম পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত

Umme jannat November 6, 2025

আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-এর পরিচালনা পর্ষদের ৪৪৩তম সভা ৬ অক্টোবর, ২০২৫ বৃহস্পতিবার প্রধান কার্যালয় সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। পর্ষদ চেয়ারম্যান খাজা শাহরিয়ারের সভাপতিত্বে সভায় ব্যাংকের সার্বিক ব্যবসা পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা করা হয় এবং বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

সভায় পর্ষদ পরিচালক মোঃ শাহীন উল ইসলাম, মোঃ আবদুল ওয়াদুদ, অধ্যাপক ড. এম আবু ইউসুফ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ রাফাত উল্লা খান, ব্যাংকের কোম্পানি সচিব (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এফসিএ এবং সংশ্লিষ্ট নির্বাহীগণ উপস্থিত ছিলেন।

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

জোহরান মানদানী: নিউইয়র্কের নতুন পরিবর্তনের প্রতীক

Umme jannat November 6, 2025

এক বছর আগেও কেউ জানত না জোহরান মানদানী কে। তার নামও ছিল অচেনা। নিউইয়র্কের ৯৮ শতাংশ মানুষও হয়তো কখনো তার কথা শোনেনি। অথচ আজ সেই জোহরান মানদানীই নিউইয়র্কের নির্বাচিত মেয়র—যাকে এখন চিনে সারা বিশ্ব। প্রশ্ন জাগে, কীভাবে সম্ভব হলো এই বিস্ময়কর পরিবর্তন?

বিশ্বাস করুন, এমনকি স্কুলপড়ুয়া ছেলেমেয়েরাও—যাদের ভোট দেওয়ার অধিকার নেই—দল বেঁধে কাজ করেছে মানদানীর প্রচারণায়। কেন করেছে? কারণ তারা বিশ্বাস করেছে পরিবর্তনের স্বপ্নে। মানদানী শুধু কথা বলেননি, তিনি মানুষকে একটি স্বপ্ন দেখিয়েছেন—একটি নতুন নিউইয়র্কের স্বপ্ন।

এই নির্বাচনে শুধু এশিয়ান বা অভিবাসী সম্প্রদায় নয়, বরং সব ধর্ম, বর্ণ, জাতি ও গোত্রের মানুষ একত্র হয়েছে তার পাশে। কারণ তিনি ছিলেন সবার প্রার্থী—জনগণের প্রার্থী।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বহুবার হুমকি দিয়েছেন, আর অ্যান্ড্রু কুমো তার বিপক্ষে মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছেন। তবুও জনতার মন পরিবর্তন হয়নি। দুই দলের সব শক্তি একত্র হয়েও মানদানীর অগ্রযাত্রা থামাতে পারেনি। কেউ সুষ্ঠু ভোটপ্রক্রিয়া রোধ করতে পারেনি, কারণ জনগণ একবার যখন সিদ্ধান্ত নেয়, তখন কোনো শক্তিই তা বদলাতে পারে না।

গত এক বছরে জোহরান মানদানী মানুষের মাঝে ছিলেন—প্রতিটি ভোটারের দরজায় গেছেন, প্রতিটি মসজিদ, মন্দির, গির্জায় গিয়েছেন। তিনি ঘুরেছেন গ্রোসারি, রেস্টুরেন্ট, কফিশপ—নিউইয়র্কে এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে তার পদচিহ্ন পড়েনি।
মানুষ দেখেছে তার পরিশ্রম, অনুভব করেছে তার আন্তরিকতা—আর তাই তারা তাকে বেছে নিয়েছে।

অ্যান্ড্রু কুমো ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো প্রভাবশালী দুই রাজনীতিককে হারিয়ে মানদানী প্রমাণ করেছেন—ক্ষমতার চাকা ঘুরাতে বেশি সময় লাগে না, যদি মানুষ আপনার পাশে থাকে।
জনগণের ভালোবাসাই রাজনীতির আসল শক্তি। জনগণের কাছে থাকতে হবে, জনগণের পাশে থাকতে হবে—না হলে অ্যান্ড্রু কুমোর মতো ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে যেতে সময় লাগবে না।

লেখক: শামীম রেজা

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail

পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন স্থগিত

Umme jannat November 6, 2025

একীভূতকরণের প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন স্থগিত করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)

বৃহস্পতিবার (০৬ নভেম্বর) দেশের প্রধান দুই স্টক এক্সচেঞ্জে আজ সকালেই লেনদেন শুরুর আগে বিনিয়োগকারীদের এ তথ্য জানানো হয়। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিএসইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংকের শেয়ার আজ থেকে লেনদেনযোগ্য নয়।

গতকাল বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই পাঁচ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর সংবাদ সম্মেলনে জানান, ব্যাংকগুলোর বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতির কারণে শেয়ারধারীরা আর্থিক ক্ষতি এড়াতে পারবেন না এবং শেয়ারের মূল্য শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।

এই ঘোষণার পর থেকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ দেখা দেয়। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিএসইসি লেনদেন স্থগিতের সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব করেছে, ফলে বিনিয়োগকারীরা অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, তারল্য সংকট, বিশাল অঙ্কের শ্রেণকৃত ঋণ, প্রভিশন ঘাটতি এবং মূলধন ঘাটতির কারণে এসব ব্যাংকগুলো কার্যত দেউলিয়া অবস্থায় পৌঁছেছে। অনেকবার তারল্য সহায়তা দেওয়ার পরও এই ব্যাংকগুলোর অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। বরং তাদের শেয়ারবাজার মূল্য মারাত্মকভাবে পড়ে গেছে এবং প্রতিটি ব্যাংকের নিট সম্পদ মূল্য বা নেট অ্যাসেট ভ্যালু (এনএভি) ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে।

0 শেয়ার করুন
0 FacebookTwitterPinterestLinkedinTumblrRedditStumbleuponWhatsappTelegramLINEEmail
পরবর্তী সংবাদ
পূর্ববর্তী সংবাদ

সর্বশেষ খবর

  • প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকমের ঋণখেলাপি মামলায় ৫ পরিচালকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

  • আইসিবি ইসলামি ব্যাংকের বার্ষিক সাধারণ সভা  অনুষ্ঠিত

  • রবির তিন মাসেই ১,৫৮০ কোটি টাকা নগদ অর্থ উধাও, স্বল্পমেয়াদি ঋণ বেড়েছে ৩৬০ কোটি টাকা

  • ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের নিট মুনাফা ১২ কোটি ৪২ লাখ, বেড়েছে ইপিএসও

  • যমুনা ব্যাংকের আয়োজনে পিডিবিএলের ৬৫তম পর্ষদ ও ৮৪তম দ্বিমাসিক সভা অনুষ্ঠিত

সর্বাধিক পঠিত

  • শমরিতা হসপিটালের লভ্যাংশ ঘোষণা

  • রবির তিন মাসেই ১,৫৮০ কোটি টাকা নগদ অর্থ উধাও, স্বল্পমেয়াদি ঋণ বেড়েছে ৩৬০ কোটি টাকা

  • ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের নিট মুনাফা ১২ কোটি ৪২ লাখ, বেড়েছে ইপিএসও

  • প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকমের ঋণখেলাপি মামলায় ৫ পরিচালকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

  • বেক্সিমকো ফার্মার পর্ষদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন সালমান এফ রহমান

  • ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল অর্থায়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৫,০০০ কোটি টাকার তহবিলে যুক্ত হলো এমটিবি

  • গোপনীয়তা নীতি
  • নীতিমালা
  • যোগাযোগ

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোঃ শামীম রেজা
মোবাইল নাম্বারঃ ০১৫২১৩৬৫৭২৩
ই-মেইলঃ stocknewsbd24@gmail.com
মোবাইল নাম্বারঃ ০১৫২১৩৬৭৫২২
অফিসঃ হাউজ নংঃ ১০১, রোড নংঃ ৩, সেক্টরঃ ৬, উত্তরা ঢাকা-১২৩০।
স্বত্ব © ২০২৬ স্টক নিউজ বিডি।


Back To Top
Stock News BD | Latest Online Most Popular Newspaper
  • হোম
  • শেয়ার বাজার
    • আজকের লেনদেন
    • কোম্পানি সংবাদ
    • বোর্ড সভা
    • এজিএম / ইজিএম
    • আইপিও / রাইট
    • লভ্যাংশ
    • উপদেশ
    • পিএসআই
  • অনুসন্ধানী বিশ্লেষণ
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • খেলাধুলা
  • লাইফ স্টাইল
  • ইসলাম
  • বিনোদন
  • আরও
    • বিশেষ প্রতিবেদন
    • আইন-আদালত
    • গণমাধ্যম
    • চাকরি
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • স্বাস্থ্য
    • সংস্কৃতি
    • ভিডিও
    • অন্যান্য