স্টক নিউজ বিডি অনলাইন ডেস্কঃ বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সম্প্রতি একাধিক নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। তবে সরকারি এসব নির্দেশনা মানা হচ্ছে না খোদ সরকারি প্রতিষ্ঠানেই। অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি পর্যায়েও এসব নির্দেশনা মানতে দেখা গেছে অনীহা। সরকারি জীবন বীমা করপোরেশন চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয় এমন একটি প্রতিষ্ঠান। যেখানে সরেজমিনে গিয়ে বিদ্যুতের যথেচ্ছা ব্যবহার করতে দেখা গেছে।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুতের ব্যবহার কমপক্ষে ২৫ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দেন। এসির ব্যবহার নিয়েও রয়েছে নির্দেশনা। তবে এসব নির্দেশনা তোয়াক্কা না করে বিদ্যুতের যথেচ্ছা ব্যবহার করতে দেখা যায় জীবন বীমা করপোরেশনের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ে। অভিযোগ রয়েছে, কার্যালয়ে যখন কর্মকর্তারা থাকেন না তখনও ঘুরতে থাকে বৈদ্যুতিক পাখাগুলো, নেভে না বৈদ্যুতিক বাতি।
সোমবার (১ আগস্ট) দুপুরে মহানগরীর আগ্রাবাদ এলাকার শেখ মুজিব সড়কের জীবন বীমা করপোরেশনের আঞ্চলিক কার্যালয়ের চতুর্থ তলায় গিয়ে দেখা যায়, ঋণ পলিসি বিভাগের একাধিক ডেপুটি ম্যানেজারসহ বেশিরভাগ কর্মকর্তা অনুপস্থিত, কর্মচারীরা ছিলেন বাইরে। কাঙ্ক্ষিত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে কয়েকজন গ্রাহক দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছেন।

আরও দেখা যায়, সরকারি দপ্তরটিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে নথিপত্র। ওই কক্ষে তখন কর্মকর্তা ও গ্রাহক মিলে ১৩ জন ব্যক্তি অবস্থান করছেন। তখন ওই ফ্লোরে ফ্যান ঘুরছিল ১৪টি। জ্বলছিল ২০টির বেশি বৈদ্যুতিক বাতি, যার মধ্যে চারটি ছিল টিউব লাইট।
একই চিত্র পাশের পলিসি সেবা বিভাগে। ওই সময় পলিসি সেবা বিভাগের কক্ষে ফ্যান চলছিল ১০টি, জ্বলছিল ১৪টির মতো বৈদ্যুতিক বাতি। ভবনটির তৃতীয় তলায় মহাব্যবস্থাপকের দপ্তরের চিত্র আরও আয়েশি। ওই ফ্লোরে তখন ঘুরছিল ৩০টি বৈদ্যুতিক পাখা, জ্বলছিল ৫০টির মতো বৈদ্যুতিক বাতি। বাতিগুলোর মধ্যে ১৯টি ছিল টিউব লাইট। প্রতি তিন থেকে চার ফুটের ব্যবধানে লাগানো হয়েছে এসব বাতি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মো. আবদুল বাসেত খান মঙ্গলবার (২ আগস্ট) বিকেলে জাগো নিউজকে বলেন, গতকাল (সোমবার) আমাদের নতুন মহাব্যবস্থাপক (জিএম) যোগদান করেছেন। তাকে আমরা পুরো কার্যালয় ঘুরিয়ে দেখাই। বিদ্যুৎ ব্যবহার ও সাশ্রয়ে আমরা অনেক কঠোর অবস্থানে আছি।
অফিসে কর্মকর্তারা অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, লাঞ্চের সময় অনেকেই চেয়ারে থাকেন না। সে সময় তারা হয়তো বৈদ্যুতিক বাতি-পাখা বন্ধ করার বিষয়টি খেয়াল করেন না।
বিদ্যুৎ ব্যবহার সাশ্রয়ে সরকারি নির্দেশনাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো- কার্যালয়ে অবস্থান না করলে কক্ষের বৈদ্যুতিক পাখা, বাতি, এসি, টেলিভিশনসহ অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র বন্ধ নিশ্চিত করা, বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহারে সর্বোচ্চ মিতব্যয়িতা নিশ্চিত করা, অফিস কক্ষ, করিডোর, সম্মেলনকক্ষসহ অন্যান্য স্থানে অনাবশ্যক বাতি না জ্বালানো, এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে না রাখা, অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা পরিহার করা, জ্বালানি খরচ কমানোর জন্য গাড়িতে এসির নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার, গাড়ির অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার না করা, গাড়ির জ্বালানি বাবদ খরচ বিদ্যমান খরচ থেকে ২০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্যে কার্যালয় প্রধানের নিয়মিত তদারকি, সব সভা-সেমিনার যত দ্রুত সম্ভব অনলাইন প্ল্যাটফর্মে করা।
স্টক নিউজ বিডি.কম/এসএম
আরও পড়তে পারেন……
